Thursday, October 30, 2025

31.10.2025 BENGALI MURLI

 "মিষ্টি বাচ্চারা - এখন তোমাদের অতি সাধারণ হতে হবে, ফ্যাশানেবেল দামী পোশাক পরিধানেও দেহ-অভিমান আসে"

প্রশ্নঃ -ভাগ্যে উচ্চপদ না থাকলে তখন কোন্ কথায় বাচ্চাদের আলস্য আসে?

উত্তরঃ  বাবা বলেন - বাচ্চারা, নিজেদের শোধরানোর জন্য চার্ট রাখো। স্মরণের চার্ট রাখায় অনেক লাভ রয়েছে। নোটবই যেন সদা হাতে থাকে। চেক্ করো যে, কতটা সময় বাবাকে স্মরণ করেছি? আমাদের রেজিস্টার কেমন? চরিত্র দৈবী-গুণসম্পন্ন হয়েছে কি? কর্মের মাঝেও বাবার স্মরণ থাকে কি? স্মরণের দ্বারাই খাদ দূর হবে, ভাগ্যও উচ্চ(শ্রেষ্ঠ) হবে।

গীতঃ-ভোলানাথের থেকেও অনুপম....

ওম্ শান্তি ।

মিষ্টি-মিষ্টি বাচ্চাদের কাছে এই লক্ষ্মী-নারায়ণের চিত্র ঘরে অবশ্যই থাকা উচিত। এনাদের(লক্ষ্মী-নারায়ণ) দেখে অত্যন্ত খুশী হওয়া উচিত, কারণ এ হলো তোমাদের অধ্যয়নের এইম অবজেক্ট । তোমরা জানো যে - আমরা স্টুডেন্ট আর ঈশ্বর পড়ান। ঈশ্বরীয় স্টুডেন্ট বা বিদ্যার্থী, আমরা এ'সব পড়ছি। সকলের উদ্দেশ্যই এক। এঁদের দেখে অত্যন্ত খুশী হওয়া উচিত। বাচ্চারা গানও শুনেছে। তিনি অত্যন্ত ভোলা অর্থাৎ সরল। কেউ-কেউ শঙ্করকে ভোলানাথ মনে করে, আবার শিব আর শঙ্করকে মিলিয়ে ফেলে। এখন তোমরা জানো যে, শিব হলেন সর্বোচ্চ ভগবান আর শঙ্কর দেবতা তাহলে দু'জনে এক কিভাবে হতে পারে? এই গানও শুনেছো যে, ভক্তদের রক্ষাকারী, তাহলে ভক্তদের কোনো বিপর্যয় অবশ্যই আছে। ৫ বিকারের বিপর্যয় সকলের উপরেই রয়েছে। ভক্ত তো সকলেই। জ্ঞানী কাউকেই বলা যাবে না। জ্ঞান আর ভক্তি সম্পূর্ণ পৃথক জিনিস। যেমন শিব আর শঙ্কর আলাদা। যখন জ্ঞান প্রাপ্ত হয় তখন ভক্তি থাকে না। তোমরা সুখধামের মালিক হয়ে যাও। আধাকল্পের জন্য সদ্গতি পেয়ে যাও। এক ইশারাতেই তোমরা আধাকল্পের উত্তরাধিকার প্রাপ্ত করে নাও। দেখো, ভক্তদের কত কষ্ট।  জ্ঞানের দ্বারা তোমরা দেবতা হয়ে যাও, পরে যখন ভক্তদের ভীড় হয় অর্থাৎ দুঃখ হয় তখন বাবা আসেন। বাবা বোঝান যে, ড্রামানুসারে যা অতিবাহিত হয়ে গেছে তা পুনরায় রিপীট হবে। পুনরায় যখন ভক্তি শুরু হয় তখন থেকে বাম-মার্গ শুরু হয় অর্থাৎ অপবিত্র হওয়ার পথ। সেখানেও প্রথম স্থানে রয়েছে কাম-বিকার, যার জন্যই বলা হয়, কাম-বিকারের উপর বিজয়প্রাপ্ত করলে তোমরা জগতজীত হয়ে যাবে। ওরা কি কোনো বিজয় প্রাপ্ত করে, না করে না। রাবণ-রাজ্যে বিকার ব্যতীত কারোর শরীরের জন্ম হয় না, সত্যযুগে রাবণ-রাজ্য হয় না। ওখানেও যদি রাবণ-রাজ্য হতো তবে ভগবান রাম-রাজ্য স্থাপন করে কি আর এমন করেন? বাবার কত আশা থাকে যে, আমার বাচ্চারা যেন সুখী থাকে। (লৌকিকে) ধন একত্রিত করে বাচ্চাদের দিয়ে দেয় যাতে তারা সুখী থাকে। কিন্তু এখানে এমন হতে পারে না। এটা হলোই দুঃখের দুনিয়া। অসীম জগতের এই পিতা বলেন - তোমরা ওখানে জন্ম-জন্মান্তর (প্রতি জন্ম) ধরে সুখ ভোগ করবে। অগাধ ধনসম্পত্তি পেয়ে যাও, ২১ জন্ম ওখানে কোনো দুঃখ থাকবে না। দেউলিয়া হবে না। এই কথাগুলো বুদ্ধিতে রেখে অন্তরে অত্যন্ত খুশী থাকা উচিত। তোমাদের জ্ঞান এবং যোগ সম্পূর্ণ গুপ্ত। স্থূল অস্ত্র-শস্ত্রাদি কিছুই নেই। বাবা বোঝান, এ হলো জ্ঞানের তলোয়ার। তারাই (অজ্ঞানীরা) আবার স্থূল অস্ত্র-শস্ত্রের প্রতীকচিহ্ন দেবীদের দিয়েছে। যারা শাস্ত্রাদি পড়ে তারা কখনও এমনভাবে বলে না যে, এ হলো জ্ঞান-তলোয়ার বা এ হলো জ্ঞান-খর্গ। একথা অসীম জগতের পিতাই বসে বোঝান। তারা মনে করে যে, শক্তিসেনারাই বিজয়লাভ করেছে তাহলে অবশ্যই কোনো অস্ত্র-শস্ত্রাদি আছে। বাবা এসে এ'সব ভুলভ্রান্তিগুলো বলে দেন। তোমাদের এ'সব কথা অনেক মানুষ শুনবে। বিদ্বজনেরাও (পন্ডিত) একদিন আসবে। তিনি তো অসীম জগতের পিতা, তাই না! বাচ্চারা, শ্রীমতানুসারে চলার মধ্যেই তোমাদের কল্যাণ নিহিত কারণ তবেই দেহ-অভিমান ছিন্ন হবে, তাই ধনশালীরা আসে না। বাবা বলেন - দেহ-অভিমান পরিত্যাগ করো। ভাল-ভাল পোশাকাদিরও নেশা থাকে। তোমরা এখন বনবাসে রয়েছো, তাই না! তোমরা এখন যাবে শ্বশুড়বাড়ী। ওখানে তোমাদের প্রচুর অলঙ্কারাদি পড়ানো হবে। দামি দামি পোশাক পড়বে না। বাবা বলেন - অতি সাধারণভাবে থাকতে হবে। যেমন কর্ম আমি করি, বাচ্চাদেরও তেমন সাধারণভাবে থাকতে হবে। তা নাহলে দেহ-অভিমান চলে আসে। সে (দেহ-অভিমান) সবকিছুর অনেক ক্ষতি করে দেয়। তোমরা জানো যে, আমরা শ্বশুড়বাড়ীতে যাচ্ছি। সেখানে আমরা প্রচুর অলঙ্কার পাবো। এখানে তোমাদের অলঙ্কারাদি পড়তে হবে না। আজকাল চুরি-ডাকাতি কত হয়। রাস্তাতেই ডাকাত লুটমার করে সব নিয়ে নেয়। দিনে-দিনে এই বিশৃঙ্খলতা ইত্যাদি অধিকমাত্রায় বৃদ্ধি পেতেই থাকবে সেইজন্য বাবা বলেন - নিজেকে আত্মা নিশ্চয় করে আমায় স্মরণ করো। দেহ-অভিমানে এলে বাবাকে ভুলে যাবে। এই পরিশ্রম করার সময় এখনই পাওয়া যায়। পুনরায় কখনও ভক্তিমার্গে এরকম পরিশ্রম করা পারবে না।


এখন তোমরা সঙ্গমে রয়েছো। তোমরা জানো যে, বাবা আসেনই পুরুষোত্তম সঙ্গমযুগে। লড়াইও অবশ্যই হবে। প্রচুর পরিমাণে পরমানু বোমা তৈরী করে। যতই মাথা চাপড়াও যে এসব যেন বন্ধ হয়ে যায় কিন্ত এমনটা হতে পারে না। ড্রামায় নির্ধারিত। বোঝালেও বোঝে না। মৃত্যু তো হতেই হবে, তা বন্ধ হবে কিভাবে? বোঝেও তবুও বন্ধ করে না। কারণ ড্রামায় নির্ধারিত রয়েছে। যাদব আর কৌরবদের বিনাশ হবেই। ইউরোপের অধিবাসীরা হলো যাদব। ওদের হলো সায়েন্সের অহঙ্কার, যার দ্বারা বিনাশ হয়। পুনরায় বিজয়প্রাপ্ত করে সাইলেন্সের শক্তি। তোমাদের শান্ত-স্বরূপে থাকা শেখানো হয়। বাবাকে স্মরণ করো - ডেড সাইলেন্স (মৃত্যুর ন্যায় নিস্তব্ধতা)। আমরা আত্মারা শরীর থেকে পৃথক । শরীর ত্যাগ করার জন্য যে'রকম আমরা পুরুষার্থ করি, তেমনভাবে শরীর পরিত্যাগ করার জন্য আর কেউ কি পুরুষার্থ করে? সমগ্র দুনিয়া খুঁজে এসো, যদি কেউ বলে -- হে আত্মা, এখন তোমায় শরীর ত্যাগ করে যেতে হবে। পবিত্র হও। তা নাহলে পুনরায় সাজা ভোগ করতে হবে ! সাজাভোগ কে করে? আত্মা। সেইসময় সাক্ষাৎকার হয়। তোমরা এই-এই পাপ করেছো, শাস্তিভোগ করো। সে'সময় অনুভব হয়। যেন জন্ম-জন্মান্তরের জন্য সাজা পায়। এত দুঃখ ভোগ করা তাহলে সুখের ব্যালেন্স কি রইলো। বাবা বলেন - এখন আর পাপকর্ম কোরো না। নিজের রেজিস্টার রাখো। প্রত্যেক স্কুলে ম্যানার্সের রেজিস্টার রাখা হয়, তাই না! শিক্ষামন্ত্রীও বলবে যে, ভারতের ক্যারেক্টার ঠিক নয়। তাদের বলো যে - আমরা এনাদের (লক্ষ্মী-নারায়ণ) মতন আচার-আচরণ শিখছি। এই লক্ষ্মী-নারায়ণের চিত্র সদা সঙ্গে থাকা উচিত। এ হলো এইম অবজেক্ট। আমরা এরকম হই। আমরা শ্রীমতানুসারে এই আদি সনাতন দেবী-দেবতা ধর্মের স্থাপনা করছি। এখানে চাল-চলন সংশোধন করা হয়। তোমাদের এখানে বিচারও হয়। সব সেন্টারেই বাচ্চাদের কাছারি থাকা উচিত। রোজ বলো, চার্ট রাখো তবেই (নিজেকে) সংশোধন হবে। কারোর ভাগ্যে না থাকলে তখন অলস হয়ে পড়ে। চার্ট রাখা অত্যন্ত ভাল।


তোমরা জানো যে - আমরা এই ৮৪-র চক্রকে জানলেই চক্রবর্তী রাজা হয়ে যাবো। কত সহজ আর পবিত্রও হতে হবে। স্মরণের চার্ট রাখো এতে তোমাদের অত্যন্ত লাভ আছে। নোটবুক না বের করলে বুঝবে যে - বাবাকে স্মরণ করে না। নোকবুক সদা সঙ্গে রাখো। নিজের চার্ট দেখো - কতখানি সময় বাবাকে স্মরণ করেছো। স্মরণ ব্যতীত জং পরিস্কার হতে পারে না। জং সাফ করার জন্য কেরোসিন ঢালে, তাই না! কর্ম করতে-করতেও বাবাকে স্মরণ করো তবেই পুরুষার্থের ফল প্রাপ্ত হবে। পরিশ্রম আছে, তাই না! এমনি-এমনিই কি মাথায় মুকুট পরিয়ে দেবে, না তা দেবে না। বাবা এত উচ্চপদ দেন, কিছু পরিশ্রম তো করতেই হবে। এখানে হাত-পা ইত্যাদি কিছু চালনা করার প্রয়োজনই নেই। পড়া তো অতি সহজ। বুদ্ধিতে রয়েছে যে, শিববাবার কাছ থেকে ব্রহ্মার দ্বারা আমরা এরকম হতে চলেছি। কোথাও গেলে ব্যাজ যেন পড়া থাকে। বলো, বাস্তবে কোট অফ আর্মস্ (রাজ্য-প্রতীক) হলো এটা। বোঝানোর জন্য রয়্যালিটি চাই। অতি মধুরভাবে বোঝাতে হবে। কোট অফ আর্মসের উপরেও বোঝাতে হবে। প্রীত-বুদ্ধি আর বিপরীত-বুদ্ধি কাকে বলা হয়? তোমরা কি বাবাকে জানো? লৌকিক পিতাকে তো গড বলবে না। সেই অসীম জগতের পিতাই পতিত-পাবন, সুখের সাগর। ওনার কাছ থেকেই গভীর সুখ প্রাপ্ত হয়। যেসময় অজ্ঞানী ছিলাম তখন ভাবতাম সুখ মা-বাবা দেন। তারা তো শ্বশুরবাড়ি পাঠিয়ে দেয়। এখন তোমাদের হলো অসীম জগতের শ্বশুড়বাড়ী। ওটা হলো সসীম (হদ) জগতের। লৌকিক মাতা-পিতা ৫-৭ লক্ষ বা কোটি দেবে। বাবা তোমাদের নাম রেখেছেন পদ্মাপদমপতি বাচ্চা। ওখানে পয়সার কোন কথাই নেই। সবকিছুই পাওয়া যায়। অত্যন্ত ভালো ভালো অট্টালিকা (মহল) থাকে। জন্ম-জন্মান্তরের জন্য তোমরা মহল পেয়ে যাও। সুদামার উদাহরণ, তাই না! এক মুঠো চাল শুনেছে তাই এখানেও ওরা(বাচ্চারা) নিয়ে আসে। এখন চাল কি শুধু-শুধু খাবে, না তা খাবে না। তাই তার সঙ্গে কিছু মশলাপাতিও নিয়ে আসে। কত ভালবেসে নিয়ে আসে। বাবা আমাদের জন্ম-জন্মান্তরের জন্য দেবেন সেইজন্যই তাঁকে বলা হয় দাতা। ভক্তিমার্গে তোমরা ঈশ্বরের উদ্দেশ্যে দান করো তাই পরের জন্মে অল্পসময়ের জন্য তা প্রাপ্ত হয়। কেউ দরিদ্রকে দান করে, কলেজ নির্মাণ করে তখন পরজন্মে পড়াশোনার দান প্রাপ্ত হয়। ধর্মশালা নির্মাণ করলে ঘর-বাড়ী প্রাপ্ত হয় কারণ ধর্মশালায় অনেকেই এসে আরামবোধ (সুখ পায়) করে। আর এ হলো জন্ম-জন্মান্তরের কথা। তোমরা জানো যে - তোমরা শিববাবাকে যাকিছু দাও তা সব আমাদেরই কার্যে ব্যবহার করেন। শিববাবা নিজের কাছে তো কিছু রাখেন না। এনাকেও বলেছেন - সবকিছু দিয়ে দাও তবেই বিশ্বের মালিক হয়ে যাবে। বিনাশের সাক্ষাৎকার করান, রাজত্বের সাক্ষাৎকার করান। ব্যস্, নেশা চড়ে যায়। বাবা আমায় বিশ্বের মালিক করে দেবেন। গীতাতেও অর্জুনকে সাক্ষাৎকার করিয়েছেন। আমায় স্মরণ করো তবেই তুমি এরকম হবে। বিনাশ এবং স্থাপনার সাক্ষাৎকার করিয়েছেন। এনারও (ব্রহ্মা) শুরুতে খুশীর পারদ ঊর্ধমুখী (চড়ে ছিল ) হয়েছিল। ড্রামায় এই পার্ট ছিল। ভগীরথ কে কেউ কি জানে? না জানে না। বাচ্চারা, তাই তোমাদের এই এইম অবজেক্ট বুদ্ধিতে রাখা উচিত। আমরা এমন হবো। যত পুরুষার্থ করবে ততই উচ্চপদ লাভ করবে। বলাও হয়, ফলো ফাদার। এই সময়ের কথা। অসীম জগতের পিতা বলেন - আমি যে পরামর্শ দিই তা ফলো করো। ইনি (ব্রহ্মা) কি করেছেন তাও বলি। ওনাকে সওদাগর, রত্নাকর, জাদুকরও বলা হয়, তাই না! বাবা হঠাৎই সব ছেড়ে দিয়েছেন। প্রথমে সেই(স্থূল) রত্নের জহুরী ছিলেন, এখন অবিনাশী জ্ঞান-রত্নের জহুরী হয়েছেন। নরককে স্বর্গে পরিণত করাও তো অনেক বড় ম্যাজিক (জাদু)। তিনি আবার সওদাগরও। বাচ্চাদের সঙ্গে কত ভাল সওদা করেন। অবগুণ বা বিকার-রূপী এক মুঠো চাল নিয়ে পরিবর্তে মহল দিয়ে দেন। কত ভাল রোজগারের ব্যবস্থা করেন তিনি। জহরতের ব্যবসাতেও এরকমই হয়। যখন কোন আমেরিকান গ্রাহক আসে তখন তাদের থেকে একশো টাকা মূল্যের জিনিসের পাঁচশো, হাজারও নিয়ে নেয়। তাদের থেকে অনেক পয়সা নিয়ে নেয়। তোমাদের কাছে সর্বাপেক্ষা প্রাচীন জিনিস রয়েছে - প্রাচীন যোগ।


তোমরা এখন ভোলানাথ বাবাকে পেয়েছো। কত ভোলাভালা। তোমাদের কিসে পরিনত করেন। অবগুণের পরির্বতে তোমাদের ২১ জন্মের জন্য কিসে পরিনত করে দেন। মানুষের তো কিছুই জানা নেই। কখনো বলবে ভোলানাথ এই দিয়েছেন, কখনো বলবে অম্বা দিয়েছেন, গুরু দিয়েছেন। এখানে হলো অধ্যয়ন। তোমরা ঈশ্বরীয় পাঠশালায় বসে রয়েছো। ঈশ্বরীয় পাঠশালা বলবে গীতা-কে। গীতাতেই রয়েছে ভগবানুবাচ। কিন্তু এও কারোর জানা নেই যে, ভগবান কাকে বলে। কাউকে জিজ্ঞাসা কর যে - পরমপিতা পরমাত্মাকে জানো কি? বাবা হলেন উদ্যান-পরিচারক। তোমাদের কাঁটা থেকে ফুলে পরিণত করছেন। ওটাকে গার্ডেন অফ আল্লাহ্ অর্থাৎ ঈশ্বরের বাগিচা বলা হয়। ইউরোপিয়ানরাও প্যারাডাইজ বলে। বরাবরই ভারত পরিস্তান ছিল, এখন কবরস্থান হয়েছে। এখন পুনরায় তোমরা পরিস্তানের মালিক হচ্ছো। বাবা এসে শায়িতদের জাগিয়ে তোলেন। এও তোমরা জানো পুরুষার্থের নম্বরের ক্রমানুসারে। যে নিজে থেকেই জেগে যায় সে অন্যদেরও জাগরিত করে। যদি না জাগায় তবে তো সেও জাগেনি। তাই বাবা বোঝান যে, এই গীতাদিও ড্রামায় পূর্ব-নির্ধারিত। কোনো গান অত্যন্ত ভাল দেয়। যখন তোমরা উদাস হয়ে যাও তখন এই গান চালাও তাহলে ভাল লাগবে। 'রাতের পথিক ক্লান্ত হয়ো না' - এও ভাল। এখন রাত শেষ হতে চলেছে। মানুষ মনে করে যত ভক্তি করবে তত শীঘ্রই ঈশ্বরকে পাওয়া যাবে। হনুমানাদির সাক্ষাৎকার হলেও মনে করে ঈশ্বরলাভ হয়েছে। বাবা বলেন - এই সাক্ষাৎকারাদির পার্টও ড্রামায় পূর্ব-নির্ধারিত। যে ভাবনা রাখে তার সাক্ষাৎকার হয়ে যায়। এছাড়া এমন কোনকিছু হয় না। বাবা বলেন - এই ব্যাজ সকলেরই সর্বদা পড়ে থাকা উচিত। অনেক ধরণের তৈরী হয়। বোঝানোর জন্য এ অত্যন্ত ভালো।


তোমরা তো আধ্যাত্মিক (রুহানী) মিলিটারি, তাই না! মিলিটারিদের সর্বদা লক্ষ্য থাকে। বাচ্চারা, তোমাদেরও এমন হলে নেশা থাকবে - আমরা এমন হতে চলেছি। আমরা স্টুডেন্ট। বাবা আমাদের মানুষ থেকে দেবতায় পরিনত করছেন। মানুষ দেবতাদের পূজা করে। দেবতারা তো দেবতাদের পূজা করবে না। এখানে মানুষ দেবতাদের পূজা করে কারণ তারা শ্রেষ্ঠ। আচ্ছা!


মিষ্টি-মিষ্টি হারানিধি বাচ্চাদের প্রতি মাতা-পিতা বাপদাদার স্মরণের স্নেহ-সুমন আর সুপ্রভাত। আত্মাদের পিতা তাঁর আত্মা-রূপী বাচ্চাদেরকে জানাচ্ছেন নমস্কার।

ধারণার জন্য মুখ্য সার :-

১ ) বুদ্ধির দ্বারা সদা নিজের এইম অবজেক্টকে স্মরণে রাখতে হবে। লক্ষ্মী-নারায়ণের চিত্র যেন সদা সঙ্গে থাকে, এই খুশিতেই থাকো যে, আমরা এইরকম হওয়ার জন্য পড়ছি, এখন আমরা গডলী স্টুডেন্ট।


২ ) নিজেদের পুরানো অবগুণ অর্থাৎ একমুঠো চাল দিয়ে মহল নিয়ে নিতে হবে। ব্রহ্মাবাবাকে ফলো করে অবিনাশী জ্ঞান-রত্নের জহুরী হতে হবে।


বরদান:-নিশ্চয়ের আধারে বিজয়ী রত্ন হয়ে সকলের প্রতি মাস্টার আশ্রয় দাতা ভব

নিশ্চয় বুদ্ধি বাচ্চারা বিজয়ী হওয়ার কারণে সদা খুশীতে নাচতে থাকে। তারা নিজেদের বিজয়ের বর্ণনা করে না কিন্তু বিজয়ী হওয়ার কারণে তারা অন্যদেরকেও সাহস প্রদান করে। কাউকে ছোটো করার চেষ্টা করে না, কিন্তু বাবার সমান মাস্টার আশ্রয় দাতা হয় অর্থাৎ আত্মাদের স্থিতি নিচের থেকে উপরে ওঠায়। তারা ব্যর্থ থেকে সদা দূরে থাকে। ব্যর্থ থেকে দূরে থাকাই হল বিজয়ী হওয়া। এইরকম বিজয়ী বাচ্চারা সকলের জন্য মাস্টার আশ্রয়দাতা হয়ে যায়।

স্লোগান:-নিঃস্বার্থ আর নির্বিকল্প স্থিতির দ্বারা সেবা করাই হলো সফলতার মূর্তি হওয়া।

অব্যক্ত ঈশারা :- স্বয়ং আর সকলের প্রতি মন্সা দ্বারা যোগের শক্তিগুলির প্রয়োগ করো

যোগের প্রয়োগ করার জন্য দৃষ্টি-বৃত্তিতেও পবিত্রতাকে আরও আন্ডারলাইন করো। মূল ফাউন্ডেশন - নিজের সংকল্পকে শুদ্ধ, জ্ঞান স্বরূপ, শক্তি স্বরূপ বানাও। কেউ যতই উদ্ভ্রান্ত হয়ে, দুঃখী, অশান্ত হয়ে আসে, খুশীতে থাকা অসম্ভব মনে করে কিন্তু তোমাদের সামনে আসতেই তোমাদের মূর্তি, তোমাদের বৃত্তি, তোমাদের দৃষ্টি আত্মাকে পরিবর্তন করে দেয়। এটাই হলো যোগের প্রয়োগ।


30.10.2025 Bengali Murli

30.10.2025 প্রাত: মুরলী ওম শান্তি "বাপদাদা" মধুবন

"মিষ্টি বাচ্চারা - এখন তোমাদের অতি সাধারণ হতে হবে, ফ্যাশানেবেল দামী পোশাক পরিধানেও দেহ-অভিমান আসে"

প্রশ্নঃ -ভাগ্যে উচ্চপদ না থাকলে তখন কোন্ কথায় বাচ্চাদের আলস্য আসে?

উত্তরঃ  বাবা বলেন - বাচ্চারা, নিজেদের শোধরানোর জন্য চার্ট রাখো। স্মরণের চার্ট রাখায় অনেক লাভ রয়েছে। নোটবই যেন সদা হাতে থাকে। চেক্ করো যে, কতটা সময় বাবাকে স্মরণ করেছি? আমাদের রেজিস্টার কেমন? চরিত্র দৈবী-গুণসম্পন্ন হয়েছে কি? কর্মের মাঝেও বাবার স্মরণ থাকে কি? স্মরণের দ্বারাই খাদ দূর হবে, ভাগ্যও উচ্চ(শ্রেষ্ঠ) হবে।

গীতঃ-ভোলানাথের থেকেও অনুপম....

ওম্ শান্তি ।

মিষ্টি-মিষ্টি বাচ্চাদের কাছে এই লক্ষ্মী-নারায়ণের চিত্র ঘরে অবশ্যই থাকা উচিত। এনাদের(লক্ষ্মী-নারায়ণ) দেখে অত্যন্ত খুশী হওয়া উচিত, কারণ এ হলো তোমাদের অধ্যয়নের এইম অবজেক্ট । তোমরা জানো যে - আমরা স্টুডেন্ট আর ঈশ্বর পড়ান। ঈশ্বরীয় স্টুডেন্ট বা বিদ্যার্থী, আমরা এ'সব পড়ছি। সকলের উদ্দেশ্যই এক। এঁদের দেখে অত্যন্ত খুশী হওয়া উচিত। বাচ্চারা গানও শুনেছে। তিনি অত্যন্ত ভোলা অর্থাৎ সরল। কেউ-কেউ শঙ্করকে ভোলানাথ মনে করে, আবার শিব আর শঙ্করকে মিলিয়ে ফেলে। এখন তোমরা জানো যে, শিব হলেন সর্বোচ্চ ভগবান আর শঙ্কর দেবতা তাহলে দু'জনে এক কিভাবে হতে পারে? এই গানও শুনেছো যে, ভক্তদের রক্ষাকারী, তাহলে ভক্তদের কোনো বিপর্যয় অবশ্যই আছে। ৫ বিকারের বিপর্যয় সকলের উপরেই রয়েছে। ভক্ত তো সকলেই। জ্ঞানী কাউকেই বলা যাবে না। জ্ঞান আর ভক্তি সম্পূর্ণ পৃথক জিনিস। যেমন শিব আর শঙ্কর আলাদা। যখন জ্ঞান প্রাপ্ত হয় তখন ভক্তি থাকে না। তোমরা সুখধামের মালিক হয়ে যাও। আধাকল্পের জন্য সদ্গতি পেয়ে যাও। এক ইশারাতেই তোমরা আধাকল্পের উত্তরাধিকার প্রাপ্ত করে নাও। দেখো, ভক্তদের কত কষ্ট।


জ্ঞানের দ্বারা তোমরা দেবতা হয়ে যাও, পরে যখন ভক্তদের ভীড় হয় অর্থাৎ দুঃখ হয় তখন বাবা আসেন। বাবা বোঝান যে, ড্রামানুসারে যা অতিবাহিত হয়ে গেছে তা পুনরায় রিপীট হবে। পুনরায় যখন ভক্তি শুরু হয় তখন থেকে বাম-মার্গ শুরু হয় অর্থাৎ অপবিত্র হওয়ার পথ। সেখানেও প্রথম স্থানে রয়েছে কাম-বিকার, যার জন্যই বলা হয়, কাম-বিকারের উপর বিজয়প্রাপ্ত করলে তোমরা জগতজীত হয়ে যাবে। ওরা কি কোনো বিজয় প্রাপ্ত করে, না করে না। রাবণ-রাজ্যে বিকার ব্যতীত কারোর শরীরের জন্ম হয় না, সত্যযুগে রাবণ-রাজ্য হয় না। ওখানেও যদি রাবণ-রাজ্য হতো তবে ভগবান রাম-রাজ্য স্থাপন করে কি আর এমন করেন? বাবার কত আশা থাকে যে, আমার বাচ্চারা যেন সুখী থাকে। (লৌকিকে) ধন একত্রিত করে বাচ্চাদের দিয়ে দেয় যাতে তারা সুখী থাকে। কিন্তু এখানে এমন হতে পারে না। এটা হলোই দুঃখের দুনিয়া। অসীম জগতের এই পিতা বলেন - তোমরা ওখানে জন্ম-জন্মান্তর (প্রতি জন্ম) ধরে সুখ ভোগ করবে। অগাধ ধনসম্পত্তি পেয়ে যাও, ২১ জন্ম ওখানে কোনো দুঃখ থাকবে না। দেউলিয়া হবে না। এই কথাগুলো বুদ্ধিতে রেখে অন্তরে অত্যন্ত খুশী থাকা উচিত। তোমাদের জ্ঞান এবং যোগ সম্পূর্ণ গুপ্ত। স্থূল অস্ত্র-শস্ত্রাদি কিছুই নেই। বাবা বোঝান, এ হলো জ্ঞানের তলোয়ার। তারাই (অজ্ঞানীরা) আবার স্থূল অস্ত্র-শস্ত্রের প্রতীকচিহ্ন দেবীদের দিয়েছে। যারা শাস্ত্রাদি পড়ে তারা কখনও এমনভাবে বলে না যে, এ হলো জ্ঞান-তলোয়ার বা এ হলো জ্ঞান-খর্গ। একথা অসীম জগতের পিতাই বসে বোঝান। তারা মনে করে যে, শক্তিসেনারাই বিজয়লাভ করেছে তাহলে অবশ্যই কোনো অস্ত্র-শস্ত্রাদি আছে। বাবা এসে এ'সব ভুলভ্রান্তিগুলো বলে দেন। তোমাদের এ'সব কথা অনেক মানুষ শুনবে। বিদ্বজনেরাও (পন্ডিত) একদিন আসবে। তিনি তো অসীম জগতের পিতা, তাই না! বাচ্চারা, শ্রীমতানুসারে চলার মধ্যেই তোমাদের কল্যাণ নিহিত কারণ তবেই দেহ-অভিমান ছিন্ন হবে, তাই ধনশালীরা আসে না। বাবা বলেন - দেহ-অভিমান পরিত্যাগ করো। ভাল-ভাল পোশাকাদিরও নেশা থাকে। তোমরা এখন বনবাসে রয়েছো, তাই না! তোমরা এখন যাবে শ্বশুড়বাড়ী। ওখানে তোমাদের প্রচুর অলঙ্কারাদি পড়ানো হবে। দামি দামি পোশাক পড়বে না। বাবা বলেন - অতি সাধারণভাবে থাকতে হবে। যেমন কর্ম আমি করি, বাচ্চাদেরও তেমন সাধারণভাবে থাকতে হবে। তা নাহলে দেহ-অভিমান চলে আসে। সে (দেহ-অভিমান) সবকিছুর অনেক ক্ষতি করে দেয়। তোমরা জানো যে, আমরা শ্বশুড়বাড়ীতে যাচ্ছি। সেখানে আমরা প্রচুর অলঙ্কার পাবো। এখানে তোমাদের অলঙ্কারাদি পড়তে হবে না। আজকাল চুরি-ডাকাতি কত হয়। রাস্তাতেই ডাকাত লুটমার করে সব নিয়ে নেয়। দিনে-দিনে এই বিশৃঙ্খলতা ইত্যাদি অধিকমাত্রায় বৃদ্ধি পেতেই থাকবে সেইজন্য বাবা বলেন - নিজেকে আত্মা নিশ্চয় করে আমায় স্মরণ করো। দেহ-অভিমানে এলে বাবাকে ভুলে যাবে। এই পরিশ্রম করার সময় এখনই পাওয়া যায়। পুনরায় কখনও ভক্তিমার্গে এরকম পরিশ্রম করা পারবে না।


এখন তোমরা সঙ্গমে রয়েছো। তোমরা জানো যে, বাবা আসেনই পুরুষোত্তম সঙ্গমযুগে। লড়াইও অবশ্যই হবে। প্রচুর পরিমাণে পরমানু বোমা তৈরী করে। যতই মাথা চাপড়াও যে এসব যেন বন্ধ হয়ে যায় কিন্ত এমনটা হতে পারে না। ড্রামায় নির্ধারিত। বোঝালেও বোঝে না। মৃত্যু তো হতেই হবে, তা বন্ধ হবে কিভাবে? বোঝেও তবুও বন্ধ করে না। কারণ ড্রামায় নির্ধারিত রয়েছে। যাদব আর কৌরবদের বিনাশ হবেই। ইউরোপের অধিবাসীরা হলো যাদব। ওদের হলো সায়েন্সের অহঙ্কার, যার দ্বারা বিনাশ হয়। পুনরায় বিজয়প্রাপ্ত করে সাইলেন্সের শক্তি। তোমাদের শান্ত-স্বরূপে থাকা শেখানো হয়। বাবাকে স্মরণ করো - ডেড সাইলেন্স (মৃত্যুর ন্যায় নিস্তব্ধতা)। আমরা আত্মারা শরীর থেকে পৃথক । শরীর ত্যাগ করার জন্য যে'রকম আমরা পুরুষার্থ করি, তেমনভাবে শরীর পরিত্যাগ করার জন্য আর কেউ কি পুরুষার্থ করে? সমগ্র দুনিয়া খুঁজে এসো, যদি কেউ বলে -- হে আত্মা, এখন তোমায় শরীর ত্যাগ করে যেতে হবে। পবিত্র হও। তা নাহলে পুনরায় সাজা ভোগ করতে হবে ! সাজাভোগ কে করে? আত্মা। সেইসময় সাক্ষাৎকার হয়। তোমরা এই-এই পাপ করেছো, শাস্তিভোগ করো। সে'সময় অনুভব হয়। যেন জন্ম-জন্মান্তরের জন্য সাজা পায়। এত দুঃখ ভোগ করা তাহলে সুখের ব্যালেন্স কি রইলো। বাবা বলেন - এখন আর পাপকর্ম কোরো না। নিজের রেজিস্টার রাখো। প্রত্যেক স্কুলে ম্যানার্সের রেজিস্টার রাখা হয়, তাই না! শিক্ষামন্ত্রীও বলবে যে, ভারতের ক্যারেক্টার ঠিক নয়। তাদের বলো যে - আমরা এনাদের (লক্ষ্মী-নারায়ণ) মতন আচার-আচরণ শিখছি। এই লক্ষ্মী-নারায়ণের চিত্র সদা সঙ্গে থাকা উচিত। এ হলো এইম অবজেক্ট। আমরা এরকম হই। আমরা শ্রীমতানুসারে এই আদি সনাতন দেবী-দেবতা ধর্মের স্থাপনা করছি। এখানে চাল-চলন সংশোধন করা হয়। তোমাদের এখানে বিচারও হয়। সব সেন্টারেই বাচ্চাদের কাছারি থাকা উচিত। রোজ বলো, চার্ট রাখো তবেই (নিজেকে) সংশোধন হবে। কারোর ভাগ্যে না থাকলে তখন অলস হয়ে পড়ে। চার্ট রাখা অত্যন্ত ভাল।


তোমরা জানো যে - আমরা এই ৮৪-র চক্রকে জানলেই চক্রবর্তী রাজা হয়ে যাবো। কত সহজ আর পবিত্রও হতে হবে। স্মরণের চার্ট রাখো এতে তোমাদের অত্যন্ত লাভ আছে। নোটবুক না বের করলে বুঝবে যে - বাবাকে স্মরণ করে না। নোকবুক সদা সঙ্গে রাখো। নিজের চার্ট দেখো - কতখানি সময় বাবাকে স্মরণ করেছো। স্মরণ ব্যতীত জং পরিস্কার হতে পারে না। জং সাফ করার জন্য কেরোসিন ঢালে, তাই না! কর্ম করতে-করতেও বাবাকে স্মরণ করো তবেই পুরুষার্থের ফল প্রাপ্ত হবে। পরিশ্রম আছে, তাই না! এমনি-এমনিই কি মাথায় মুকুট পরিয়ে দেবে, না তা দেবে না। বাবা এত উচ্চপদ দেন, কিছু পরিশ্রম তো করতেই হবে। এখানে হাত-পা ইত্যাদি কিছু চালনা করার প্রয়োজনই নেই। পড়া তো অতি সহজ। বুদ্ধিতে রয়েছে যে, শিববাবার কাছ থেকে ব্রহ্মার দ্বারা আমরা এরকম হতে চলেছি। কোথাও গেলে ব্যাজ যেন পড়া থাকে। বলো, বাস্তবে কোট অফ আর্মস্ (রাজ্য-প্রতীক) হলো এটা। বোঝানোর জন্য রয়্যালিটি চাই। অতি মধুরভাবে বোঝাতে হবে। কোট অফ আর্মসের উপরেও বোঝাতে হবে। প্রীত-বুদ্ধি আর বিপরীত-বুদ্ধি কাকে বলা হয়? তোমরা কি বাবাকে জানো? লৌকিক পিতাকে তো গড বলবে না। সেই অসীম জগতের পিতাই পতিত-পাবন, সুখের সাগর। ওনার কাছ থেকেই গভীর সুখ প্রাপ্ত হয়। যেসময় অজ্ঞানী ছিলাম তখন ভাবতাম সুখ মা-বাবা দেন। তারা তো শ্বশুরবাড়ি পাঠিয়ে দেয়। এখন তোমাদের হলো অসীম জগতের শ্বশুড়বাড়ী। ওটা হলো সসীম (হদ) জগতের। লৌকিক মাতা-পিতা ৫-৭ লক্ষ বা কোটি দেবে। বাবা তোমাদের নাম রেখেছেন পদ্মাপদমপতি বাচ্চা। ওখানে পয়সার কোন কথাই নেই। সবকিছুই পাওয়া যায়। অত্যন্ত ভালো ভালো অট্টালিকা (মহল) থাকে। জন্ম-জন্মান্তরের জন্য তোমরা মহল পেয়ে যাও। সুদামার উদাহরণ, তাই না! এক মুঠো চাল শুনেছে তাই এখানেও ওরা(বাচ্চারা) নিয়ে আসে। এখন চাল কি শুধু-শুধু খাবে, না তা খাবে না। তাই তার সঙ্গে কিছু মশলাপাতিও নিয়ে আসে। কত ভালবেসে নিয়ে আসে। বাবা আমাদের জন্ম-জন্মান্তরের জন্য দেবেন সেইজন্যই তাঁকে বলা হয় দাতা। ভক্তিমার্গে তোমরা ঈশ্বরের উদ্দেশ্যে দান করো তাই পরের জন্মে অল্পসময়ের জন্য তা প্রাপ্ত হয়। কেউ দরিদ্রকে দান করে, কলেজ নির্মাণ করে তখন পরজন্মে পড়াশোনার দান প্রাপ্ত হয়। ধর্মশালা নির্মাণ করলে ঘর-বাড়ী প্রাপ্ত হয় কারণ ধর্মশালায় অনেকেই এসে আরামবোধ (সুখ পায়) করে। আর এ হলো জন্ম-জন্মান্তরের কথা। তোমরা জানো যে - তোমরা শিববাবাকে যাকিছু দাও তা সব আমাদেরই কার্যে ব্যবহার করেন। শিববাবা নিজের কাছে তো কিছু রাখেন না। এনাকেও বলেছেন - সবকিছু দিয়ে দাও তবেই বিশ্বের মালিক হয়ে যাবে। বিনাশের সাক্ষাৎকার করান, রাজত্বের সাক্ষাৎকার করান। ব্যস্, নেশা চড়ে যায়। বাবা আমায় বিশ্বের মালিক করে দেবেন। গীতাতেও অর্জুনকে সাক্ষাৎকার করিয়েছেন। আমায় স্মরণ করো তবেই তুমি এরকম হবে। বিনাশ এবং স্থাপনার সাক্ষাৎকার করিয়েছেন। এনারও (ব্রহ্মা) শুরুতে খুশীর পারদ ঊর্ধমুখী (চড়ে ছিল ) হয়েছিল। ড্রামায় এই পার্ট ছিল। ভগীরথ কে কেউ কি জানে? না জানে না। বাচ্চারা, তাই তোমাদের এই এইম অবজেক্ট বুদ্ধিতে রাখা উচিত। আমরা এমন হবো। যত পুরুষার্থ করবে ততই উচ্চপদ লাভ করবে। বলাও হয়, ফলো ফাদার। এই সময়ের কথা। অসীম জগতের পিতা বলেন - আমি যে পরামর্শ দিই তা ফলো করো। ইনি (ব্রহ্মা) কি করেছেন তাও বলি। ওনাকে সওদাগর, রত্নাকর, জাদুকরও বলা হয়, তাই না! বাবা হঠাৎই সব ছেড়ে দিয়েছেন। প্রথমে সেই(স্থূল) রত্নের জহুরী ছিলেন, এখন অবিনাশী জ্ঞান-রত্নের জহুরী হয়েছেন। নরককে স্বর্গে পরিণত করাও তো অনেক বড় ম্যাজিক (জাদু)। তিনি আবার সওদাগরও। বাচ্চাদের সঙ্গে কত ভাল সওদা করেন। অবগুণ বা বিকার-রূপী এক মুঠো চাল নিয়ে পরিবর্তে মহল দিয়ে দেন। কত ভাল রোজগারের ব্যবস্থা করেন তিনি। জহরতের ব্যবসাতেও এরকমই হয়। যখন কোন আমেরিকান গ্রাহক আসে তখন তাদের থেকে একশো টাকা মূল্যের জিনিসের পাঁচশো, হাজারও নিয়ে নেয়। তাদের থেকে অনেক পয়সা নিয়ে নেয়। তোমাদের কাছে সর্বাপেক্ষা প্রাচীন জিনিস রয়েছে - প্রাচীন যোগ।


তোমরা এখন ভোলানাথ বাবাকে পেয়েছো। কত ভোলাভালা। তোমাদের কিসে পরিনত করেন। অবগুণের পরির্বতে তোমাদের ২১ জন্মের জন্য কিসে পরিনত করে দেন। মানুষের তো কিছুই জানা নেই। কখনো বলবে ভোলানাথ এই দিয়েছেন, কখনো বলবে অম্বা দিয়েছেন, গুরু দিয়েছেন। এখানে হলো অধ্যয়ন। তোমরা ঈশ্বরীয় পাঠশালায় বসে রয়েছো। ঈশ্বরীয় পাঠশালা বলবে গীতা-কে। গীতাতেই রয়েছে ভগবানুবাচ। কিন্তু এও কারোর জানা নেই যে, ভগবান কাকে বলে। কাউকে জিজ্ঞাসা কর যে - পরমপিতা পরমাত্মাকে জানো কি? বাবা হলেন উদ্যান-পরিচারক। তোমাদের কাঁটা থেকে ফুলে পরিণত করছেন। ওটাকে গার্ডেন অফ আল্লাহ্ অর্থাৎ ঈশ্বরের বাগিচা বলা হয়। ইউরোপিয়ানরাও প্যারাডাইজ বলে। বরাবরই ভারত পরিস্তান ছিল, এখন কবরস্থান হয়েছে। এখন পুনরায় তোমরা পরিস্তানের মালিক হচ্ছো। বাবা এসে শায়িতদের জাগিয়ে তোলেন। এও তোমরা জানো পুরুষার্থের নম্বরের ক্রমানুসারে। যে নিজে থেকেই জেগে যায় সে অন্যদেরও জাগরিত করে। যদি না জাগায় তবে তো সেও জাগেনি। তাই বাবা বোঝান যে, এই গীতাদিও ড্রামায় পূর্ব-নির্ধারিত। কোনো গান অত্যন্ত ভাল দেয়। যখন তোমরা উদাস হয়ে যাও তখন এই গান চালাও তাহলে ভাল লাগবে। 'রাতের পথিক ক্লান্ত হয়ো না' - এও ভাল। এখন রাত শেষ হতে চলেছে। মানুষ মনে করে যত ভক্তি করবে তত শীঘ্রই ঈশ্বরকে পাওয়া যাবে। হনুমানাদির সাক্ষাৎকার হলেও মনে করে ঈশ্বরলাভ হয়েছে। বাবা বলেন - এই সাক্ষাৎকারাদির পার্টও ড্রামায় পূর্ব-নির্ধারিত। যে ভাবনা রাখে তার সাক্ষাৎকার হয়ে যায়। এছাড়া এমন কোনকিছু হয় না। বাবা বলেন - এই ব্যাজ সকলেরই সর্বদা পড়ে থাকা উচিত। অনেক ধরণের তৈরী হয়। বোঝানোর জন্য এ অত্যন্ত ভালো।


তোমরা তো আধ্যাত্মিক (রুহানী) মিলিটারি, তাই না! মিলিটারিদের সর্বদা লক্ষ্য থাকে। বাচ্চারা, তোমাদেরও এমন হলে নেশা থাকবে - আমরা এমন হতে চলেছি। আমরা স্টুডেন্ট। বাবা আমাদের মানুষ থেকে দেবতায় পরিনত করছেন। মানুষ দেবতাদের পূজা করে। দেবতারা তো দেবতাদের পূজা করবে না। এখানে মানুষ দেবতাদের পূজা করে কারণ তারা শ্রেষ্ঠ। আচ্ছা!

মিষ্টি-মিষ্টি হারানিধি বাচ্চাদের প্রতি মাতা-পিতা বাপদাদার স্মরণের স্নেহ-সুমন আর সুপ্রভাত। আত্মাদের পিতা তাঁর আত্মা-রূপী বাচ্চাদেরকে জানাচ্ছেন নমস্কার।

ধারণার জন্য মুখ্য সার :-

১ ) বুদ্ধির দ্বারা সদা নিজের এইম অবজেক্টকে স্মরণে রাখতে হবে। লক্ষ্মী-নারায়ণের চিত্র যেন সদা সঙ্গে থাকে, এই খুশিতেই থাকো যে, আমরা এইরকম হওয়ার জন্য পড়ছি, এখন আমরা গডলী স্টুডেন্ট।

২ ) নিজেদের পুরানো অবগুণ অর্থাৎ একমুঠো চাল দিয়ে মহল নিয়ে নিতে হবে। ব্রহ্মাবাবাকে ফলো করে অবিনাশী জ্ঞান-রত্নের জহুরী হতে হবে।

বরদান:-নিশ্চয়ের আধারে বিজয়ী রত্ন হয়ে সকলের প্রতি মাস্টার আশ্রয় দাতা ভব

নিশ্চয় বুদ্ধি বাচ্চারা বিজয়ী হওয়ার কারণে সদা খুশীতে নাচতে থাকে। তারা নিজেদের বিজয়ের বর্ণনা করে না কিন্তু বিজয়ী হওয়ার কারণে তারা অন্যদেরকেও সাহস প্রদান করে। কাউকে ছোটো করার চেষ্টা করে না, কিন্তু বাবার সমান মাস্টার আশ্রয় দাতা হয় অর্থাৎ আত্মাদের স্থিতি নিচের থেকে উপরে ওঠায়। তারা ব্যর্থ থেকে সদা দূরে থাকে। ব্যর্থ থেকে দূরে থাকাই হল বিজয়ী হওয়া। এইরকম বিজয়ী বাচ্চারা সকলের জন্য মাস্টার আশ্রয়দাতা হয়ে যায়।

স্লোগান:-নিঃস্বার্থ আর নির্বিকল্প স্থিতির দ্বারা সেবা করাই হলো সফলতার মূর্তি হওয়া।

অব্যক্ত ঈশারা :- স্বয়ং আর সকলের প্রতি মন্সা দ্বারা যোগের শক্তিগুলির প্রয়োগ করো

যোগের প্রয়োগ করার জন্য দৃষ্টি-বৃত্তিতেও পবিত্রতাকে আরও আন্ডারলাইন করো। মূল ফাউন্ডেশন - নিজের সংকল্পকে শুদ্ধ, জ্ঞান স্বরূপ, শক্তি স্বরূপ বানাও। কেউ যতই উদ্ভ্রান্ত হয়ে, দুঃখী, অশান্ত হয়ে আসে, খুশীতে থাকা অসম্ভব মনে করে কিন্তু তোমাদের সামনে আসতেই তোমাদের মূর্তি, তোমাদের বৃত্তি, তোমাদের দৃষ্টি আত্মাকে পরিবর্তন করে দেয়। এটাই হলো যোগের প্রয়োগ।

Tuesday, October 28, 2025

29.10.2025 BENGALI MURLI

"মিষ্টি বাচ্চারা - তোমাদের এক একজনকে পরিস্তানী হতে হবে। তোমরা সকলের কল্যাণ করে থাকো, তোমাদের কর্তব্য হলো গরীবকে বিত্তশালী বানানো"

প্রশ্নঃ -বাবার কোন্ নামটি সাধারণ হলেও, কর্তব্য অত্যন্ত মহান?

উত্তরঃ  বাবাকে বলা হয় বাগিচার মালিক (বাগাবান) , নৌকার মাঝি। এই নাম কতো সাধারণ, কিন্তু যারা ডুবে যাচ্ছে তাদের পারে নিয়ে যাওয়া, এটা কতো মহান কর্তব্য হলো। যে রকম সাঁতারুরা সাঁতরে এক দুই জনকে হাতে হাত ধরে তীরে নিয়ে যায়, এরকমই বাবার হাত প্রাপ্ত হয়ে যাওয়াতে তোমরা স্বর্গবাসী হয়ে যাও। এখন তোমরাও হলে মাস্টার পাটনী বা মাঝি। তোমরা প্রত্যেকের নৌকাকে তীরে তোলার রাস্তা বলে দাও।

ওম্ শান্তি । স্মরণে তো বাচ্চারা বসেই থাকো। নিজেকে আত্মা মনে করতে হবে, দেহও আছে। এমন না যে দেহ ছাড়া বসে আছো। কিন্তু বাবা বলেন দেহ অভিমান ছেড়ে দেহী- অভিমানী হয়ে বসো। দেহী - অভিমান হলো শুদ্ধ, দেহ অভিমান হলো অশুদ্ধ। তোমরা জানো যে দেহ- অভিমানী হওয়ার কারণে অশুদ্ধ, অপবিত্র হয়ে গিয়েছিলাম। ডাকতেও থাকে পতিত-পাবন এসো। পবিত্র দুনিয়া ছিলো। এখন হলো পতিত, আবার অবশ্যই পবিত্র দুনিয়া হবে। সৃষ্টির চক্র আবর্তিত হবে। যারা এই সৃষ্টি চক্রকে জানে তাদেরকে বলা হয় স্বদর্শন চক্রধারী। তোমরা প্রত্যেকে হলে স্বদর্শন চক্রধারী। স্ব-আত্মার সৃষ্টি চক্রের জ্ঞান প্রাপ্ত হয়েছে। জ্ঞান কে দিয়েছেন? তিনিও অবশ্যই স্বদর্শন চক্রধারী হবেন । বাবা ব্যাতীত দ্বিতীয় কোনো মানুষ শেখাতে পারে না। বাবা অর্থাৎ সুপ্রিম আত্মাই বাচ্চাদের শেখান। তিনি বলেন বাচ্চারা, তোমরা দেহী - অভিমানী হও। সত্যযুগে এই জ্ঞান বা শিক্ষা দেওয়ার প্রয়োজন পড়বে না। না, সেখানে ভক্তি নেই। জ্ঞানের দ্বারা উত্তরাধিকার প্রাপ্ত হয়। বাবা শ্রীমৎ দেন, এই ভাবে তোমরা শ্রেষ্ঠ হয়ে উঠবে। তোমরা জানো যে আমরা কবরস্থানের বসবাসকারী ছিলাম, এখন বাবা শ্রেষ্ঠ পরিস্তানী করে তোলেন। এই পুরানো দুনিয়া হলো কবরখানা । মৃত্যুলোককে কবরখানাই বলা হবে। পরীস্থান নতুন দুনিয়াকে বলা হবে। ড্রামার রহস্য বাবা বোঝান। এই সমগ্র সৃষ্টিকে খড়ের গাদা বলা হয়।


বাবা বুঝিয়েছেন, সমগ্র সৃষ্টির উপরে এই সময় হলো রাবণে রাজ্য। দশহরাও পালিত হয়, কতো খুশী হয়। বাবা বলেন সব বাচ্চাদের দুঃখ থেকে ছাড়ানোর জন্য আমাকেও পুরানো রাবণের দুনিয়াতে আসতে হয়। একটা কথা শোনানো হয়। কেউ প্রথমে জিজ্ঞাসা করে যে তোমার সুখ চাই না দুঃখ? তখন বলবে সুখ চাই। সুখের দিকে গেলে সেখানে কোনো যমদূত ইত্যাদি আসতে পারে না। এটাও একটা গল্প । বাবা বলে দেন, সুখধামে কখনো মৃত্যু আসে না, অমরপুরী হয়ে যায়। তোমরা মৃত্যুর উপর বিজয় প্রাপ্ত করো। তোমরা সর্বশক্তিমান হয়ে ওঠো। সেখানে (সত্যযুগে) কখনো এমন বলবে না যে, অমুকে মরে গেছে, মরণের নামও নেই। এক পোশাক পরিবর্তন করে দ্বিতীয় ধারণ করে। সাপ যেমন খোলস পরিবর্তন করে, তোমরাও পুরানো খোলস ত্যাগ করে নতুন খোলস অর্থাৎ শরীরে প্রবেশ করবে। সেখানে ৫ তত্ত্বও সতোপ্রধান হয়ে যাবে। সব কিছু সতোপ্রধান হয়ে যাবে। প্রতিটা জিনিস ফল ইত্যাদি দ্য বেস্ট (খুব ভালো) হয়ে যায়। সত্যযুগকে বলা হয় স্বর্গ। সেখানে অনেক ধনবান ছিলো। এইরকম ধরনের সুখী বিশ্বের মালিক কেউ হতে পারে না। এখন তোমরা জানো যে আমরাই এমনটা ছিলাম, তো কতো খুশী হওয়া উচিত। একেক জনকে পরীর দেশের বাসিন্দা করে তুলতে হবে, অনেকের কল্যাণ করতে হবে। তোমরা খুবই বিত্তশালী হয়ে উঠবে। তারা সকলে হলো গরীব। যতক্ষণ না তোমাদের হাতে হাত মিলবে ততক্ষণ স্বর্গবাসী হতে পারবে না। বাবার হাত তো সকলের প্রাপ্ত হয় না। বাবার হাত প্রাপ্তি হয় তোমাদের। তোমাদের হাত আবার প্রাপ্তি হয় অন্যান্যদের। অন্যান্যদের হাত আবার প্রাপ্ত হয় আরো কারোর। যেমন কোনো সাঁতারু একেক জনকে অন্য পারে নিয়ে যায়। তোমরাও হলে মাস্টার মাঝি। অনেক মাঝি তৈরী হচ্ছে। তোমাদের ধান্ধাই হলো এটা। আমরা প্রত্যেকের নৌকাকে তটে ভিড়িয়ে দেওয়ার রাস্তা বলে দিই। মাঝির সন্তান মাঝি হয়। নাম কতো হালকা- মালী, মাঝি। এখন তোমরা প্র্যাকটিক্যালে দেখো। তোমরা পরীস্তানের (স্বর্গের) স্থাপনা করছো। তোমাদের স্মৃতি সামনে দাঁড়িয়ে আছে। নীচে রাজযোগের তপস্যা, উপরে রাজত্ব দাঁড়ানো। নামও দিলওয়ারা খুব সুন্দর। বাবা সকলের হৃদয় অধিকার করেন। সকলের সদ্গতি করেন। হৃদয় নিতে পারার মতো কে আছে, এটা কি আর কারোর জানা আছে ! ব্রহ্মার বাবাও হলেন শিববাবা। সকলের হৃদয় অধিকার করার অসীম জগতের বাবা। তত্ত্ব ইত্যাদি সকলের কল্যাণ করেন, এটাও বাচ্চাদের বুঝিয়েছেন। বিভিন্ন ধর্মের লোকেদের শাস্ত্র ইত্যাদি চলছে। তোমাদের জ্ঞান প্রাপ্ত হয়ই সঙ্গমে, আবার বিনাশ হলে তো কোনো শাস্ত্র থাকবে না। শাস্ত্র হলো ভক্তি মার্গের চিহ্ন। এটা হলো জ্ঞান। পার্থক্য দেখলে তো ! ভক্তি হলো অপার, দেবদেবীদের পূজাতে কতো খরচা করে। বাবা বলেন, অল্প সময়ের সুখ থাকে। যেমন-যেমন ভাবনা রাখে সেটা সম্পূর্ণ হয়। দেবীদের সাজাতে সাজাতে কারোর সাক্ষাৎকার হলে, ব্যাস্ - খুব খুশী হয়ে যায়। লাভ কিছুই নেই। মীরারও নাম করা হয়। ভক্ত মালা হয় । ফিমেলদের মধ্যে মীরা, মেলদের মধ্যে নারদকে ভক্ত শিরোমণি মান্য করা হয়। বাচ্চারা, তোমাদের মধ্যেও নম্বর অনুযায়ী হয়। মালার দানা গুলিও খুব সুন্দর । উপরে বাবা হলেন ফুল, তারপর হলো যুগল মেরু । ফুলকে সবাই নমস্কার করে। এক-এক দানাকে নমস্কার করে। রুদ্র যজ্ঞ রচনা করলে তখন ওখানেও বেশী রকম পূজা শিবের করে। শালিগ্রামকে এতো করে না। সমস্ত ভাবনা শিবের দিকে থাকে, কারণ শিববাবার দ্বারাই শালগ্রাম এই রকম তীক্ষ্মতা পেয়েছে, যেরকম এখন তোমরা পবিত্র হচ্ছো। পতিত পাবন বাবার বাচ্চারা তোমরাও হলে মাস্টার পতিত পাবন। যদি কাউকে রাস্তা না বলো, তবে পাই পয়সার পদ প্রাপ্ত হবে। তবুও অন্তত বাবার সাথে মিলিত হবে ! সকলের ফাদার হলেন সেই এক। কৃষ্ণের জন্য কী আর এ'কথা বলবে ! কৃষ্ণ কার ফাদার হবে? কৃষ্ণকে ফাদার বলা হবে না। বাচ্চাকে কি আর ফাদার বলা যায়? ফাদার তখন বলা যাবে, যখন যুগল হবে, বাচ্চার জন্ম দেবে। সেই বাচ্চা ফাদার বলবে। দ্বিতীয় কেউ বলতে পারে না। এছাড়া তো যে কোনোই বৃদ্ধকে বাপুজী বলে দেয়। এই শিববাবা তো হলেন সকলের বাবা। গাওয়াও হয় ব্রাদরহুড। ঈশ্বরকে সর্বব্যাপী বললে তো ফাদারহুড হয়ে যায়। বাচ্চারা, তোমাদের বড়-বড় সভাতে বোঝাতে হবে। সবসময়ই যেখানেই বক্তৃতার জন্য যাও না কেন, যেই টপিকের উপর বক্তৃতা করতে হবে, তার উপর বিচার সাগর মন্থন করে লেখা উচিত। বাবাকে তো বিচার সাগর মন্থন করতে হয় না, পূর্ব-কল্পে যা শুনিয়েছিলেন, সেইটাই শুনিয়ে দেবেন। তোমাদের তো টপিকের উপর বোঝাতে হবে। প্রথমে লিখে নিয়ে তারপর পড়তে হবে। বক্তৃতা করার পরে আবার মনে পড়ে, এই-এই পয়েন্টস্ বলা হয়নি। এটা বোঝাতাম তো ভালো হতো। এইরকম হয়ে থাকে, কোনো না কোনো পয়েন্টস্ ভুলে যায়। সর্বপ্রথমে তো বলা উচিত-যে ভাই - বোন আত্ম - অভিমানী হয়ে বসো। এটা তো কখনো ভুলে যাওয়া উচিত নয়। এরকম কোনো সংবাদ লেখে না। সবার প্রথমে সবাইকে বলতে হবে আত্ম- অভিমানী হয়ে বসো। তোমরা আত্মারা হলে অবিনাশী। এখন বাবা এসে জ্ঞান প্রদান করছেন। বাবা বলেন আমাকে স্মরণ করলে বিকর্ম বিনাশ হবে। কোনো দেহধারীকেই স্মরণ ক'রো না। নিজেকে আত্মা মনে করো, আমি হলাম সেখানকার বাসিন্দা। আমাদের পিতা হলেন কল্যাণকারী শিব, আমরা অর্থাৎ আত্মারা হলাম ওঁনার সন্তান । বাবা বলেন, আত্ম - অভিমানী হও। আমি হলাম আত্মা। বাবার স্মরণে বিকর্ম বিনাশ হবে। গঙ্গায় স্নান ইত্যাদিতে বিকর্ম বিনাশ হবে না। বাবার ডায়রেক্শন হলো তোমরা আমাকে স্মরণ করো। মানুষ গীতা পড়ে - "যদা যদাহি ধর্মস্য..." বলে, কিন্তু অর্থ কিছুই জানে না। তাই বাবা সার্ভিসের রায় দেন- শিববাবা বলেন, নিজেকে আত্মা মনে করে শিববাবাকে স্মরণ করো। মানুষ সেটাকে মনে করে কৃষ্ণ বলেছে। তোমরা বলবে যে, শিববাবা আমাদের অর্থাৎ বাচ্চাদের বলেন - আমাকে স্মরণ করো। যত আমাকে স্মরণ করবে ততই সতোপ্রধান হয়ে উচ্চ পদ প্রাপ্ত করবে। এইম্- অবজেক্টও সামনেই। পুরুষার্থের দ্বারা উচ্চ পদ প্রাপ্ত করতে হবে। বিভিন্ন ধর্মালম্বীরা নিজেদের ধর্মের মধ্যে উচ্চ পদ প্রাপ্ত করবে, আমরা অন্য ধর্মে যাই না (পরমধামে প্রত্যেক ধর্মের আলাদা সারি) । তারা তো আসেই পরবর্তী সময়ে। তারা সেটাও জানে, এর পূর্বে প্যারাডাইস ছিলো। ভারত হল সবচেয়ে প্রাচীন। কিন্তু কবে ছিলো, সেটা কেউ জানে না। তাঁদেরকে ভগবান ভগবতীও বলে। কিন্তু বাবা বলেন, ভগবান ভগবতী বলতে পারবে না। ভগবান তো হলাম একমাত্র আমি। আমরা হলাম ব্রাহ্মণ। বাবাকে তো ব্রাহ্মণ বলা হবে না। তিনি হলেন উচ্চতমের চেয়েও উচ্চ, ওঁনার শরীরের নাম নেই। তোমাদের সবার শরীরের নাম হয়। আত্মা তো হলো আত্মাই। তিনিও হলেন পরমাত্মা। সেই আত্মার নাম হলো শিব, তিনি হলেন নিরাকার। না সূক্ষ্ম না স্থূল শরীর আছে। এমন না যে তাঁর আকার নেই। যার নাম আছে, আকারও অবশ্যই আছে। নাম-রূপ ব্যাতীত কোনো জিনিস হয়ই না। পরমাত্মা বাবাকে নাম রূপের থেকে পৃথক বলা কত বড় অজ্ঞানতা। বাবাও নাম- রূপের থেকে পৃথক, বাচ্চারাও নাম রূপ থেকে পৃথক - তবে তো কোনো সৃষ্টি হবে না। তোমরা এখন ভালো ভাবে বোঝাতে পারো। যারা গুরু, তারা পরে বুঝবে। এখন হলো তাদের বাদশাহী (রাজত্ব) । তোমরা এখন ডবল অহিংস হয়েছো। অহিংসা পরম দেবী- দেবতা ধর্ম, ডবল অহিংসক গাওয়া হয়েছে। কারোর উপর হাত তোলা, দুঃখ দেওয়া সেটাও সেটাও হিংসা হয়ে গেল। বাবা প্রতিদিন বোঝাতে থাকেন- মনসা-বাচা-কর্মণা কাউকেই দুঃখ দিতে নেই। মনসাতে আসবে অবশ্যই। সত্যযুগে মনসাতেও আসে না। এখানে তো মন্সা - বাচা - কর্মণা আসে। এই শব্দ তোমরা সেখানে শুনবেও না। না সেখানে কোনো সৎসঙ্গ ইত্যাদি হয়। সৎসঙ্গ হয়ই সৎ দ্বারা, সৎ হওয়ার জন্য। সত্য হলেন একমাত্র বাবা। বাবা বসে নর থেকে নারায়ণ হওয়ার কথা শোনান, যার দ্বারা তোমরা নারায়ণ হয়ে ওঠো। আবার ভক্তি মার্গে সত্য নারায়ণের কথা খুবই প্রেম পূর্বক শোনে। তোমাদের স্মরণিক রূপে দিলওয়ারা মন্দির দেখো কতো সুন্দর। অবশ্যই সঙ্গমযুগে দিল অর্থাৎ হৃদয় নিয়ে থাকবে। আদি দেব আর দেবী আর বাচ্চারা বসে আছে। এটা হলো রিয়েল স্মৃতি চিহ্ন। তাদের হিস্ট্রি - জিওগ্রাফী কেউ জানে না তোমরা ছাড়া। তোমাদেরই স্মৃতি চিহ্ন। এটাও হলো ওয়ান্ডার । লক্ষ্মী-নারায়ণের মন্দিরে গেলে তোমরা বলবে, এরূপ আমরা হতে চলেছি। খ্রাইস্টও (খ্রাইস্টের আত্মা) এখানে আছে। অনেকে বলে ক্রাইস্ট বেগর (ভিক্ষুক) রূপে আছে। তমোপ্রধান অর্থাৎ বেগারই হল তাই না! পুনর্জন্ম তো অবশ্যই ধারণ করবে ! শ্রীকৃষ্ণ প্রিন্স, তিনিই হলেন এখন বেগর। সুন্দর আর অসুন্দর। তোমরাও জানো - ভারত কি ছিলো, এখন কি হয়েছে। বাবা তো হলেন দীন-দয়াল। মানুষ গরীবকে দান-পূণ্যও করে ঈশ্বরের নামে। অনেকেরই চাল-ডাল পাওয়া হয় না। তোমরা ক্রমশ দেখবে বড়-বড় বিত্তশালীদেরও চাল-ডাল-আটা-ময়দা ইত্যাদির প্রাপ্তি হবে না। গ্রামে-গ্রামেও বিত্তশালী লোক থাকে ! যাদের আবার ডাকাতরা লুটে নেয়। লক্ষ্যে পার্থক্য তো থাকে। বাবা বলেন, পুরুষার্থ এমন করো যেন নম্বর ওয়ানে যেতে পারো। টিচারের কাজ হলো সাবধান করা। পাশ উইথ অনার হতে হবে। এটা হলো অসীম জগতের পাঠশালা। এটা হলোই রাজত্ব স্থাপন করার জন্য রাজযোগ। তবুও পুরানো দুনিয়ার বিনাশ হতে হবে। তা না হলে রাজত্ব কোথায় করবে! এটা তো হলোই পতিত ধরনী। মানুষ বলে - গঙ্গা হলো পতিত-পাবনী। বাবা বলেন এই সময় ৫ তত্ত্ব সব হলো তমোপ্রধান পতিত। সমস্ত নোংরা আবর্জনা ইত্যাদি সেখানে গিয়ে পড়ে। মাছ ইত্যাদি সেখানে থাকে। জলেরও এক ধরনের যেন দুনিয়া আছে। জলে কতো জীব থাকে। বড়-বড় সাগর থেকেও কতো খাদ্য পাওয়া যায়। গ্রামই বলা যায় ! গ্রামকে আবার পতিত-পাবন কি করে বলবে! বাবা বোঝান, মিষ্টি মিষ্টি বাচ্চারা, পতিত-পাবন হলেন একমাত্র বাবা। তোমাদের আত্মা আর শরীর পতিত হয়ে গেছে, এখন আমাকে স্মরণ করলে পবিত্র হয়ে যাবে। তোমরা বিশ্বের মালিক-দেখতে খুব সুন্দর হয়ে যাও। সেখানে আর দ্বিতীয় কোনো ভূ-খন্ড নেই। ভারতেরই অলরাউন্ডার পার্ট আছে। তোমরা সবাই হলে অলরাউন্ডার। নাটকে নম্বর অনুযায়ী অ্যাক্টর্স আসতে-যেতে থাকে। এটাও সেই রকম। বাবা বলেন, তোমরা মনে করো ভগবান আমাদের পড়াচ্ছেন। আমরা হলাম পতিত - পাবন গড ফাদারলী স্টুডেন্ট, এর মধ্যে সব এসে গেল। পতিত - পাবনও হয়ে গেল, গুরু - টিচারও হয়ে গেল। ফাদারও হয়ে গেল। তাও আবার হলো নিরাকার। এটা হলো ইন-কর্পোরিয়াল গড ফাদারলী ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি। কতো সুন্দর নাম । ঈশ্বরের মহিমার কতো সুখ্যাতি করে। যখন বিন্দু শোনে, তখন অবাক হয়ে যায় । ঈশ্বরের মহিমা এতো করে আর তিনি কিনা "বিন্দু" ! বিন্দুর মধ্যে কতো পার্ট ভরা হয়ে আছে। এখন বাবা বলেন, দেহ থাকা সত্ত্বেও, গার্হস্থ্য জীবন শৈলীর মধ্যে থেকেও মামেকম্ স্মরণ করো। ভক্তি মার্গে যারা নৌধা ভক্তি (নয়টি পর্যায়ে সম্পূর্ণ ভক্তি) করে, সেটাকে বলা হয়- সতোপ্রধান নৌধা ভক্তি। কতো জোরালো ভক্তি হয়। এখন আবার জোরালো গতি-বেগ চাই - স্মরণের। জোরালো স্মরণ করে যারা, তাদেরই নাম উচ্চ পর্যায়ের হবে। বিজয় মালার দানা হবে। আচ্ছা !

মিষ্টি-মিষ্টি হারানিধি বাচ্চাদের প্রতি মাতা-পিতা বাপদাদার স্মরণের স্নেহ-সুমন আর সুপ্রভাত। আত্মাদের পিতা তাঁর আত্মা রূপী বাচ্চাদেরকে জানাচ্ছেন নমস্কার।

ধারণার জন্য মুখ্য সার :-

১ ) নর থেকে নারায়ণ হওয়ার জন্য প্রতিদিন সত্য বাবার থেকে শুনতে হবে। সৎসঙ্গ করতে হবে। কখনো মনসা-বাচা-কর্মণা কাউকে দুঃখ দিতে নেই।

২ ) বিজয় মালার দানা হতে গেলে বা পাশ উইথ অনার হতে গেলে স্মরণের গতি-বেগ জোরালো করতে হবে। মাস্টার পতিত-পাবন হয়ে সবাইকে পবিত্র করে তোলার সেবা করতে হবে।

বরদান:-পরমাত্মার স্মরণের ক্রোড়ে সমাহিত হয়ে থাকা সঙ্গমযুগী শ্রেষ্ঠ ভাগ্যবান আত্মা ভব

সঙ্গম যুগ হলো সত্যযুগী স্বর্গের থেকেও শ্রেষ্ঠ, কেননা এখনকার গায়ন হলো অপ্রাপ্ত নেই কোনও বস্তু ব্রাহ্মণদের সংসারে। এক বাবাকে পেয়েছি মানে সবকিছু পেয়ে গেছি। এখন তোমরা বাচ্চারা কখনও অতীন্দ্রিয় সুখের দোলনায় দুলছো, কখনও খুশী, কখনও শান্তি, কখনও জ্ঞান, কখনও আনন্দ, আবার কখনও পরমাত্ম ক্রোড়ের দোলায় দুলছো। পরমাত্ম ক্রোড় হলো - স্মরণের লাভলীন অবস্থা। এই ক্রোড় সেকেন্ডে অনেক জন্মের দুঃখ যন্ত্রণা ভুলিয়ে দেয়। তো এই শ্রেষ্ঠ সংসারকে সদা স্মৃতিতে রেখে ভাগ্যবান আত্মা হও।

স্লোগান:-এমন সুপুত্র হও যে বাবা তোমাদের গায়ন করবেন আর তোমরা বাবার গায়ন করবে।

অব্যক্ত ঈশারা :- স্বয়ং এবং সকলের প্রতি মন্সা দ্বারা যোগের শক্তিগুলির প্রয়োগ করো

প্রথমে নিজের উপর যোগের প্রয়োগ করে দেখো। প্রত্যেক মাস বা প্রত্যেক ১৫ দিনের জন্য কোনও না কোনও বিশেষ গুণ বা কোনও না কোনও বিশেষ শক্তি নিজের প্রতি প্রয়োগ করে দেখো কেননা সংগঠনে বা সম্বন্ধ সম্পর্কে পেপার তো আসেই, তো প্রথমে নিজের উপর প্রয়োগ করে চেক করো, কোনও পেপার এলে তো কোন্ গুণ বা শক্তির প্রয়োগ করলে কত সময়ে সফলতা প্রাপ্ত হবে? যখন নিজের প্রতি সফল হবে তখন অন্যদের প্রতিও প্রয়োগ করার উৎসাহ উদ্দীপনা স্বতঃই বৃদ্ধি হতে থাকবে।

Monday, October 27, 2025

28.10.2025 BENGALI MURLI

28.10.2025 প্রাত: মুরলী ওম শান্তি "বাপদাদা" মধুবন

“মিষ্টি বাচ্চারা - এই সঙ্গমযুগে সেবা করে তোমাদেরকে গায়ন যোগ্য হতে হবে, এরপর ভবিষ্যতে পুরুষোত্তম হলে তোমরা পূজনীয় হয়ে যাবে”

প্রশ্নঃ -কোন্ রোগের সমূলে বিনাশ হলেই বাবার হৃদয়ে বসতে পারবে?

উত্তরঃ  

দেহ অভিমানের রোগ। এই দেহ অভিমান থাকার জন্যই অন্যান্য সকল বিকারগুলির উৎপত্তি । মহারোগী বানিয়ে দিয়েছে। এই দেহ অভিমান সমাপ্ত হলেই বাবার অন্তরে জায়গা পাবে। ২) অন্তরে স্থান পাওয়ার জন্য বুদ্ধিকে সুবিশাল বানাও। জ্ঞান চিতার ওপর বসো। আধ্যাত্মিক সেবাতে লেগে যাও এবং জ্ঞান শোনানোর সঙ্গে সঙ্গে বাবাকে ভালো করে স্মরণ করো।

গীতঃ-

জাগো রে সজনীরা জাগো…

ওম্ শান্তি ।

মিষ্টি মিষ্টি আত্মিক বাচ্চারা গান শুনলো - আত্মিক পিতা এই পুরানো তন এর দ্বারা কথা বলেন। বাবা বলেন, আমাকে পুরাতন শরীরে এবং পুরাতন রাজধানীতে আসতে হয়েছে। এটা এখন রাবণের রাজধানী। শরীরটাও পরের। কারণ এই শরীরে তো আগে থেকেই আত্মা ছিল। আমি পরের শরীরে এসে প্রবেশ করি। নিজের শরীর হলে তো সেই শরীরের একটা নাম থাকতো। কিন্তু আমার নাম কখনোই পাল্টায় না। আমাকে এর পরেও শিববাবা বলা হয়। বাচ্চারা প্রতিদিনই গান শোনে। নুতন যুগ বা সত্যযুগ আসছে। এক্ষেত্রে কাকে জাগাতে হবে? আত্মাদেরকে। কারণ আত্মারাই ঘোর অন্ধকারে নিমজ্জিত রয়েছে । কিছুই বোঝে না। নিজের বাবাকেই চেনে না। এখন বাবা সবাইকে জাগাতে এসেছেন। তোমরা এখন অসীম জগতের পিতাকে জেনেছ। ওনার কাছ থেকে নতুন যুগের জন্য সুখ পাওয়া যায়। সত্যযুগকে বলা হয় নতুন যুগ আর কলিযুগকে বলা হয় পুরাতন যুগ। এইসব কথা বিদ্বান, পন্ডিত কেউই জানে না। যদি কাউকে জিজ্ঞেস করো যে নতুন যুগ কিভাবে পুরাতন হয়ে যায়? তাহলে কেউই বলতে পারবে না। বলবে যে এগুলো তো লাখ লাখ বছরের কথা। তোমরা এখন জেনেছ যে আমরা কিভাবে নতুন যুগ থেকে পুরাতন যুগে এসে পৌঁছেছি অর্থাৎ স্বর্গবাসী থেকে নরকবাসী হয়েছি। মানুষ তো কিছুই জানে না। যার পূজা করছে, তার বায়োগ্রাফি জানে না। যেমন জগদম্বার পূজা করে, এখন জগদম্বা কে, সেটা জানে না। অম্বা বাস্তবে মাতা'দেরকে বলা হয়। কিন্তু পূজা এক-এরই হওয়া উচিত। শিববাবারও একটিই অব্যভিচারী স্মরণিক রয়েছে। অম্বাও একজনই। কিন্তু জগৎ অম্বাকে মানুষ জানে না। ইনি হলেন জগৎ অম্বা আর লক্ষ্মী হলেন জগতের মহারানী। তোমরা জান যে, জগৎ অম্বা কে আর জগতের মহারানী কে? এই সব কথা কারোরই জানা সম্ভব নয়। লক্ষ্মীকে দেবী আর অম্বাকে ব্রাহ্মণী বলা হবে। ব্রাহ্মণ সঙ্গমযুগেই হয়ে থাকে। এই সঙ্গমযুগকে কেউই জানে না। প্রজাপিতা ব্রহ্মার দ্বারা নতুন পুরুষোত্তম সৃষ্টি রচিত হয়ে থাকে। পুরুষোত্তম তোমরা ওখানে (সত্যযুগে) দেখতে পাবে। এই সময় তোমরা ব্রাহ্মণরা হলে গায়নযোগ্য। এখন তোমরা সেবা করছো, এরপর তোমরা পূজার যোগ্য হবে। ব্রহ্মার এত গুলো হাত দেখিয়ে থাকে, তাহলে অম্বার কেন দেবে না। সবাই তো তার সন্তান, তাই না ! মা - বাবা'ই তো প্রজাপিতা হবেন। বাচ্চাদেরকে তো প্রজাপিতা বলা হবে না। লক্ষ্মী - নারায়ণকে কখনো সত্যযুগে জগৎ পিতা জগৎ মাতা বলা হবে না। প্রজাপিতা নামই বিখ্যাত। জগৎ পিতা আর জগৎ মাতা একই। বাকিরা হল তাদের সন্তান। আজমেরে প্রজাপিতা ব্রহ্মার মন্দিরে গেলে বলবে-"বাবা", কেননা তিনি তো প্রজাপিতা । সসীম জগতের পিতারা সন্তানের জন্ম দেয়, তাহলে তাদের বলা হবে সসীম জগতের পিতা । ইনি হলেন অসীম জগতের ।শিববাবা তো সব আত্মাদের অসীম জগতের পিতা । এই কনট্রাস্টও বাচ্চারা, তোমাদের লিখতে হবে। জগৎ অম্বা সরস্বতী একই। কত কত নাম রেখে দিয়েছে - দুর্গা, কালী ইত্যাদি। তোমরা সবাই হলে অম্বা আর বাবার সন্তান। এরা তো হলো রচনা, তাই না ! প্রজাপিতা ব্রহ্মার কন্যা হল সরস্বতী, তাকেই অম্বা বলা হয়। বাকিরা হলো পুত্র আর কন্যা। সবাই হলো অ্যাডপ্টেড। এতো এতো বাচ্চা নাহলে কোথা থেকে আসতে পারে ! এরা সবাই হল মুখ বংশাবলী। মুখের দ্বারা স্ত্রীকে ক্রিয়েট করেছেন তো রচনা হয়ে গেল। তিনি বলেন এরা সবাই হল আমার। আমি এনার দ্বারা বাচ্চাদের জন্ম দিয়েছি। এ সবই হলো অ্যাডপশন। তখন এরা হয়ে গেল ঈশ্বরীয়, মুখ দ্বারা রচিত। আত্মাই তো অবশ্যই। তাকে অ্যাডপ্ট করতে হয় না। বাবা বলেন, তোমরা সর্বদা হলে আমার সন্তান। এরপর আমি এসে প্রজাপিতা ব্রহ্মার দ্বারা বাচ্চাদেরকে অ্যাডপ্ট করি। বাচ্চাদেরকে (আত্মাদেরকে) অ্যাডপ্ট করি না, পুত্র আর কন্যাদেরকে করে থাকি। ও খুবই সূক্ষ্ম বোঝার মতো বিষয়। এই কথা গুলিকে বুঝতে পারলে তোমরা লক্ষ্মী - নারায়ণ হয়ে যাও। কীভাবে হবে, এটা এখন আমরা বুঝতে পারি। এমন কী কর্ম তারা করেছিলেন যে এরা বিশ্বের মালিক হলেন। তোমরা প্রদর্শনী ইত্যাদিতে এ'সব কথা জিজ্ঞাসা করতে পার। তোমরা জানো যে, এরা স্বর্গের রাজধানী কীভাবে নিয়েছিলেন। তোমাদের মধ্যেও সবাই যথার্থ ভাবে এ' সব কথা বোঝাতে পারে না। যার মধ্যে দৈবী গুণ থাকবে, এই আধ্যাত্মিক সার্ভিসে লেগে থাকবে, সে'ই বোঝাতে পারবে। বাকিরা তো মায়ার অসুখে ফেঁসে থাকবে। অনেক প্রকারের রোগ রয়েছে। দেহ অভিমানের রোগ ও রয়েছে। এই বিকার গুলোই তোমাদেরকে রোগী বানিয়েছে।


বাবা বলেন, তোমাদেরকে পবিত্র দেবতা বানাই। তোমরা সর্ব গুণ সম্পন্ন... পবিত্র ছিলে। এখন পতিত হয়ে গেছো। অসীম জগতের বাবা'ই এ' কথা বলবেন। এতে নিন্দার কিছু নেই, এ হলো বোঝার বিষয়। ভারতবাসীদেরকে অসীম জগতের পিতা বলেন, আমি ভারতেই আসি। ভারতের মহিমা হলো অপরম অপার। এখানে এসে নরককে স্বর্গ বানাই। সবাইকে শান্তি দিই। তাই এমন বাবার মহিমা হলো অপরম অপার। কোনো পারাবার নেই। জগৎ অম্বা আর ওনার মহিমাও কেউ জানে না। সেই কনট্রাস্টও তোমরা অন্যদেরকে বলতে পার। ওটা হল জগৎ অম্বার বায়োগ্রাফি আর এটা হল লক্ষ্মীর। এই জগৎ অম্বাই তারপর লক্ষ্মী হন। তারপর লক্ষ্মী তথা ৮৪ জন্মের পরে জগৎ অম্বা হবেন। উভয়ের চিত্রও আলাদা আলাদা রাখতে হবে। দেখানো হয় লক্ষ্মী কলস পেল, তারপর লক্ষ্মী কীভাবে সঙ্গমে এলো? তিনি তো সত্যযুগের। এ সব কথা বাবা বুঝিয়ে থাকেন। চিত্র বানানোর সময় যে বিষয়ের চিত্র, তার উপরে বিচার সাগর মন্থন করা উচিত। তখন বোঝা সহজ হবে। এতখানি বিশাল বুদ্ধি চাই, তবেই বাবার হৃদয়ে বসতে পারবে। যখন বাবাকে খুব ভালো ভাবে স্মরণ করবে জ্ঞান চিতাতে বসবে তখনই হৃদয়ে বসতে পারবে এমন নয় যে, তোমরা ভালো প্রবচন করো, তখনই হৃদয়ে বসতে পারো, না তা নয়। বাবা বলেন, হৃদয়ে অন্তিম সময়ে চড়বে। নম্বর অনুযায়ী পুরুষার্থ অনুসারে যখন দেহ-অভিমান সমাপ্ত হয়ে যাবে ।


বাবা বোঝান, ব্রহ্ম জ্ঞানী ব্রহ্মতে লীন হয়ে যাওয়ার পরিশ্রম করে। কিন্তু কেউই তাতে লীন হতে পারে না (সম্ভব নয়)। বাকি পরিশ্রম করে উত্তম পদ প্রাপ্ত করে।এমন এমন মহাত্মা হয়ে ওঠেন এক একজন যে, তাদেরকে প্ল্যাটেনিয়ামের সাথে ওজন করে থাকে। ব্রহ্মতে লীন হওয়ার পরিশ্রম করেন যে। তো পরিশ্রমের ফল তো অন্তত পাওয়া যায়। বাকি মুক্তি জীবনমুক্তি প্রাপ্ত হতে পারে না। বাচ্চারা, তোমরা জানো, এই পুরানো দুনিয়া এখন শেষ হল কী হল। এত এত বম্ব বানিয়েছে, রেখে দেওয়ার জন্য কী বানিয়েছে থোড়াই। তোমরা জানো, পুরানো দুনিয়ার বিনাশের জন্য এই বম্ব গুলি কাজে আসবে। অনেক প্রকারের বম্ব রয়েছে। বাবা জ্ঞান আর যোগ শেখান, তার দ্বারা এরপর রাজ রাজেশ্বর দ্বিমুকুটধারী দেবী দেবতা হবে। কোন্ সেই উঁচু পদ? ব্রাহ্মণ শিখি (টিকি) হলো উপরে। শিখি হল সবার ওপরে। এখন বাচ্চারা, তোমাদেরকে পতিত থেকে পবিত্র বানাতে বাবা এসেছেন ।এরপর তোমরাও পতিত - পাবনী হয়ে যাও - এই নেশা তোমাদের রয়েছে? আমরা সবাইকে পবিত্র বানিয়ে রাজ-রাজেশ্বর বানাচ্ছি।নেশা যদি থাকে, তবে তোমরা খুশীতে আছো। নিজের মনকে জিজ্ঞাসা করো, আমরা কতজনকে বাবা সম বানিয়েছি? প্রজাপিতা ব্রহ্মা আর জগৎ অম্বা দু'জনেই এক রকম। ব্রাহ্মণদের রচনা রচিত করেন। শূদ্র থেকে ব্রাহ্মণ হওয়ার যুক্তি বাবা'ই বলে দেন। কোনো শাস্ত্রে এ'সব নেই। এটা হলি গীতার যুগ। মহাভারতের যুদ্ধ অবশ্যই হয়েছিল। রাজযোগ কী কেবল একজনকেই শিখিয়েছিলেন? মানুষের বুদ্ধিতে কেবল অর্জুন আর কৃষ্ণই রয়েছে। এখানে তো অনেকে পড়ে (রাজযোগ শেখে)। তোমরা বসে আছোও তো কত সাধারণ ভাবে। ছোট বাচ্চারা অল্ফ আর বে পড়ে, তাই না (অ, আ, ক, খ)। তোমরা এখন বসে আছো, তোমাদেরকেও আমি অল্ফ (আল্লাহ), বে (বাদশাহী) পড়াচ্ছি। অল্ফ আর বে, এটাই হল অবিনাশী উত্তরাধিকার।বাবা বলেন, আমিকে স্মরণ করো তো বিশ্বের মালিক হয়ে যাবে । কোনো রকমের আসুরিক কর্ম করবে না। দৈবীগুণ ধারণ করতে হবে। দেখতে হবে আমাদের মধ্যে কোনও অবগুণ নেই তো? "আমি তো নির্গুণ, কোনো গুণ নেই আমার"। এখন নির্গুণ আশ্রমও রয়েছে, কিন্তু মানুষ কোনো অর্থই জানে না। নির্গুণ মানে আমার মধ্যে কোনো গুণই নেই। এখন গুণবান বানানো তো বাবারই কাজ। বাবার টাইটেল এর টুপি নিজেদের ওপরেই রেখে দিয়েছে। বাবা তো কত কথা বোঝান। ডাইরেকশনও দেন। জগৎ অম্বা আর লক্ষ্মীর কনট্রাস্ট লোকেদেরকে বলো। ব্রহ্মা - সরস্বতী হলেন সঙ্গমের, লক্ষ্মী - নারায়ণ সত্যযুগের। এই চিত্রটি রয়েছে বোঝার জন্য। সরস্বতী হল ব্রহ্মার পুত্রী। এখানে বাচ্চারা পড়ে মনুষ্য থেকে দেবতা হওয়ার জন্য। এখন তোমরা হলে ব্রাহ্মণ । সত্যযুগী দেবতাও মানুষ, তাদেরকে দেবতা বলা হবে। তাদেরকে মানুষ বলা হলে তাদের ইনসাল্ট করা হবে। সেইজন্য দেবী দেবতা বা ভগবান ভগবান বলে দেয়। যদি রাজা - রানীকে ভগবান ভগবতী বলা হলে প্রজাদেরকেও বলতে হয়। সেইজন্য দেবী - দেবতা বলা হয়। ত্রিমূর্তির চিত্রও রয়েছে। সত্যযুগে এত কম মানুষ, কলিযুগে এত এত মানুষ, সেটাকে কীভাবে বোঝাবে ? তার জন্য গোলাও (সৃষ্টিচক্রের চিত্র) অবশ্যই চাই। প্রদর্শনীতে এত এত মানুষকে ডাকা হয়। কাস্টম কালেক্টরকে তো কেউ কখনো নিমন্ত্রণ দেয়নি। তো এই রকম চিন্তা ভাবনা করতে হয়। এতে অনেক বিশাল বুদ্ধির প্রয়োজন।


বাবার তো রিগার্ড রাখা উচিত। হুসেনের ঘোড়াকে কত সুন্দর করে সাজায়। লাগাম কত ছোট, ঘোড়া কত বড় হয়ে থাকে। আত্মাও তো কত ছোট বিন্দু, তার শৃঙ্গার কত বড় । এটা যে অকালমূর্তির সিংহাসন। সর্বব্যাপীর কথাও গীতার থেকে নিয়েছে। বাবা বলেন, আমি আত্মাদেরকে রাজযোগ শেখাই, তাহলে সর্বব্যাপী কীকরে হতে পারি। বাবা - টিচার - গুরু সর্বব্যাপী কিকরে হবেন? বাবা বলেন, আমি তো তোমাদের বাবা, তার উপরে জ্ঞান সাগরও। তোমাদেরকে অসীম জগতের হিস্ট্রি - জিওগ্রাফি বোঝানোর ফলে অসীম জগতের রাজ্য লাভ হবে। দৈবীগুণও ধারণ করা উচিত। মায়া একদম নাক টিপে ধরে। আচরণ নোংরা হয়ে যায়, তারপর লেখে এই এই ভুল হয়ে গেছে আমার দ্বারা। আমি নিজের মুখেই কালিমা লিপ্ত করেছি। এখানে তো পবিত্রতা শেখানো হয়। তাহলে কারো যদি পতন হয়, তাতে বাবার কী করার আছে ! বাড়িতে যদি কোনো বাচ্চা খারাপ কাজ করে বসে, মুখে কালি লাগায়, তখন তার বাবা বলে, এর চেয়ে তুমি মরে গেলেও ভালো ছিল। অসীম জগতের পিতা যদিও ড্রামাকে জানেন, তবুও তো বলবেন, তাই না ! তোমরা অন্যদেরকে পাঠ পড়িয়ে যদি নিজের পতন ঘটাও, তবে হাজার গুণ পাপ চড়ে যায়। বলা হয় মায়া থাপ্পর মেরে দিয়েছে। মায়া এমন ঘুষি মারে যে বুদ্ধি শুদ্ধিকে একেবারে লোপ পাইয়ে দেয়।


বাবা বাচ্চাদেরকে বোঝান, চোখ হল বড়ই ধোঁকাবাজ। কখনোই কোনো বিকর্ম কোরো না। ঝড় ঝাপটা অনেক আসবে। কেননা তোমরা যুদ্ধের ময়দানে আছো যে। বুঝতেও পারবে না যে কী হচ্ছে। মায়া বুঝে ওঠার আগেই থাপ্পর কষিয়ে দেয়। এখন তোমরা কতো বোধ-বুদ্ধি সম্পন্ন হয়ে উঠছো। আত্মাই তো বোধ-বুদ্ধি সম্পন্ন হয়ে ওঠে, তাই না ! আত্মাই বোধহীন ছিল। এখন বাবা বোধ-বুদ্ধি সম্পন্ন (সমঝদার) বানাচ্ছেন। মানুষ অনেক বেশি দেহ অভিমানে রয়েছে। বোঝেই না যে, আমরা হলাম আত্মা । বাবা আমাদের অর্থাৎ আত্মাদেরকে পড়াচ্ছেন।আমরা আত্মারা এই কান দিয়ে শুনছি। এখন বাবা বলছেন কোনো প্রকারেরই বিকারের কথা এই কান দিয়ে শুনবে না। বাবা তোমাদেরকে বিশ্বের মালিক বানাচ্ছেন । তোমাদের লক্ষ্য অনেক বড়। মৃত্যু যখন নিকটে আসবে তখন তোমাদের ভয় হবে। মৃত্যু পথযাত্রী মানুষকেও তো বলা হয় ভগবান স্মরণ করতে কিম্বা নিজের গুরু আদিকে স্মরণ করতে। দেহধারীকে স্মরণ করতে শেখায়। বাবা তো বলেন "মামেকম্ স্মরণ করো", এটা বাচ্চারা তোমাদের বুদ্ধিতে রয়েছে। বাবা আদেশ করছেন - "মামেকম্ স্মরণ করো"। দেহধারীদের স্মরণ করবে না। মা বাবাও তো দেহধারী, তাই না ! আমি তো হলাম বিচিত্র, আমি বিদেহী, এনার (ব্রহ্মা বাবা) মধ্যে বসে তোমাদেরকে জ্ঞান প্রদান করি। তোমরা এখন জ্ঞান আর যোগ শিখে থাকো রাজ - রাজেশ্বরী হওয়ার জন্য । জ্ঞান সাগর জ্ঞানও শেখান, রাজযোগও শেখান। আচ্ছা !


মিষ্টি মিষ্টি হারানিধি বাচ্চাদের প্রতি মাতা পিতা, বাপদাদার স্মরণের স্নেহ-সুমন আর সুপ্রভাত । আত্মাদের পিতা তাঁর আত্মা রূপী বাচ্চাদেরকে জানাচ্ছেন নমস্কার।


ধারণার জন্য মুখ্য সার :-

১ ) বোধ-বুদ্ধি সম্পন্ন হয়ে ঝড় তুফানে কখনো হার মানবে না। চোখ ধোঁকা দেয়, সেইজন্য নিজেকে নিজে ঠিক রাখবে। কোনো রকমের বিকারী কথা বার্তা এই কান দিয়ে শুনবে না।


২ ) নিজের মনকে জিজ্ঞাসা করো যে, আমরা কতজনকে নিজ সম বানাচ্ছি? মাস্টার পতিত পাবনী হয়ে সকলকে পবিত্র (রাজ - রাজেশ্বর) বানানোর সেবা করছি? আমাদের মধ্যে কোনও অবগুণ নেই তো ? দৈবীগুণ কতখানি ধারণ করেছি?

বরদান:-

প্রতিটি সংকল্প বা কর্মকে শ্রেষ্ঠ আর সফল বানানো জ্ঞান স্বরূপ বোঝদার ভব

যারা জ্ঞান স্বরূপ, বুঝদার হয়ে যেকোনও সংকল্প বা কর্ম করে, তারা সফলতার মূর্তি হয়। এরই স্মরণিক ভক্তিমার্গে কাজ শুরু করার সময় স্বস্তিকা চিহ্ন অঙ্কন করে বা গনেশকে নমস্কার করে। এই স্বস্তিকা হলো স্ব স্থিতিতে স্থিত হওয়ার আর গনেশ হলো নলেজফুল স্থিতির সূচক। তোমরা বাচ্চারা যখন নিজে নলেজফুল হয়ে প্রত্যেক সংকল্প বা কর্ম করো তখন সহজেই সফলতার অনুভব হয়।


স্লোগান:-ব্রাহ্মণ জীবনের বিশেষত্ব হলো খুশী, সেইজন্য খুশীর দান করতে থাকো।

অব্যক্ত ঈশারা :- স্বয়ং আর সকলের প্রতি মন্সা দ্বারা যোগের শক্তিগুলির প্রয়োগ করো

যেরকম কোনও সায়েন্সের সাধনকে ইউস করার আগে চেক করবে যে লাইট আছে কি নেই। এইরকম যখন যোগের, শক্তিগুলির, গুণের প্রয়োগ করো তখন প্রথমে এটা চেক করো যে মূল আধার আত্মিক শক্তি, পরমাত্ম শক্তি বা লাইট (হাল্কা) স্থিতি আছে? যদি স্থিতি আর স্বরূপ ডবল লাইট থাকে তাহলে প্রয়োগের সফলতা খুব সহজেই পেতে পারবে।

Sunday, October 26, 2025

27.10.25 BENGALI MURLI

 "মিষ্টি বাচ্চারা - মন দুর্বল হওয়াও দেহ-অভিমান, রাগ-অভিমান, কান্নাকাটি এ'সব হলো আসুরি সংস্কার, বাচ্চারা যা তোমাদের মধ্যে থাকা উচিত নয়, দুঃখ-সুখ, মান-অপমান সব সহ্য করতে হবে"

প্রশ্নঃ - সার্ভিসে ঢিলেমি আসার মুখ্য কারণ কি?

উত্তরঃ -যখন দেহ-অভিমানের বশে একে অপরের অবগুণ দেখো তখনই সার্ভিসে ঢিলেমি আসে। নিজেদের মধ্যে মন কষাকষি হওয়াও দেহ-অভিমান। আমি অমুকের সঙ্গে চলতে পারি না, আমি এখানে থাকতে পারি না...এই সবই হল মনের দুর্বলতা। এইরূপ কথা বলা অর্থাৎ কাঁটা স্বরূপ হওয়া, অবজ্ঞাকারী হওয়া। বাবা বলেন বাচ্চারা, তোমরা হলে রূহানী মিলিটারী। তাই আদেশ পাওয়া মাত্র হাজির হওয়া উচিত। কোনোও কথা অমান্য করবে না ।

ওম্ শান্তি । আত্মিক পিতা বসে আত্মা রূপী বাচ্চাদের বোঝাচ্ছেন। বাচ্চাদের সর্বপ্রথমে এই শিক্ষা প্রাপ্ত হয় যে নিজেকে আত্মা নিশ্চয় করো। দেহ-অভিমান ত্যাগ করে দেহী-অভিমানী হতে হবে। আমরা আত্মা, দেহী-অভিমানী হলে তবেই বাবাকে স্মরণ করতে পারব। সেটা হল অজ্ঞানকাল। এটা হলো জ্ঞান কাল। জ্ঞান তো একমাত্র বাবা দেন, উনি সকলের সদগতি করেন এবং উনি হলেন নিরাকার অর্থাৎ তাঁর কোনও মনুষ্য আকার নেই। যার মনুষ্য আকার আছে তাকে ভগবান বলা যাবে না। এবারে আত্মারা তো সবাই হলো নিরাকারী। কিন্তু দেহ-অভিমানে এসে নিজেকে আত্মা রূপে ভুলে গেছে। এখন বাবা বলেন তোমাদেরকে ফিরে যেতে হবে। নিজেকে আত্মা নিশ্চয় করো, আত্মা ভেবে বাবাকে স্মরণ করো, তাহলে জন্ম-জন্মান্তরের পাপ বিনষ্ট হবে, আর কোনো উপায় নেই। আত্মা-ই পতিত, আত্মা-ই পবিত্র হয়। বাবা বুঝিয়েছেন পবিত্র আত্মারা বাস করে সত্যযুগ-ত্রেতায়। পতিত আত্মা হয় রাবণ রাজ্যে। সিঁড়ির চিত্রেও বোঝানো হয়েছে যারা পবিত্র ছিল তারা পতিত হয়েছে। ৫ হাজার বছর পূর্বে তোমরা সবাই আত্মারা শান্তিধামে পবিত্র ছিলে। যাকে বলা হয় নির্বাণধাম। তারপরে কলিযুগে পতিত হয় তখন আর্তনাদ করে - হে পতিত-পাবন এসো। বাবা বোঝান - বাচ্চারা, আমি যে জ্ঞান তোমাদেরকে প্রদান করি পতিত থেকে পবিত্র হওয়ার, সেই জ্ঞান শুধু আমি-ই দিয়ে থাকি যা প্রায় লুপ্ত হয়ে যায়। বাবাকে এসেই জ্ঞান শোনাতে হয়। এখানে মানুষ অগণিত শাস্ত্র বানিয়েছে। সত্যযুগে কোনও শাস্ত্র থাকে না। সেখানে ভক্তিমার্গ একটুও নেই।


এখন বাবা বলেন তোমরা কেবল আমার দ্বারা পতিত থেকে পবিত্র হতে পারো। পবিত্র দুনিয়া তো নিশ্চয়ই হবে। আমি তো আত্মা রূপী বাচ্চাদের এসেই রাজযোগের শিক্ষা প্রদান করি। দিব্যগুণও ধারণ করতে হবে। রাগ-অভিমান করা, কান্নাকাটি করা এই সব হল আসুরিক স্বভাব। বাবা বলেন দুঃখ-সুখ, মান-অপমান সবই বাচ্চাদের সহ্য করতে হয়। মন দুর্বল করবে না। আমি অমুক স্থানে থাকতে পারবো না, এও একপ্রকারের দুর্বলতা। অমুকের সব স্বভাব এইরকম, এই এরকম, ও' ওইরকম এইসব কিছুই থাকা উচিত নয়। মুখ দিয়ে যেন সর্বদা ফুলের মতন কথা বের হয়। কাঁটার মতন নয়। অনেক বাচ্চাদের মুখে কাঁটার মতন কথা বের হয় । কাউকে ক্রোধ করাও হলো কাঁটা। একে অপরের সঙ্গে মন কষাকষি অনেক হয়। দেহ-অভিমানের বশে একে অপরের অবগুণ দেখে নিজের মধ্যেও অনেক রকমের অবগুণ থেকে যায়, তাই সার্ভিস ঢিলে হয়ে যায়। বাবা বোঝেন - এইসব ড্রামা অনুযায়ী হয়। সঠিক হতেও হবে। মিলিটারীর সৈন্য বাহিনী যখন যুদ্ধে যায় তখন তাদের কাজই হলো শত্রুদের সঙ্গে যুদ্ধ করা। বন্যা হলে বা কিছু ঝামেলা হলেও মিলিটারী ডাকা হয়। তখন মিলিটারী এসে কুলী মজুরের কাজও করে। গভর্নমেন্ট মিলিটারীকে অর্ডার করে - সমস্ত মাটি ভরো। কেউ না এলে গুলির মুখোমুখি হতে হবে। গভর্নমেন্টের আদেশ পালন করতেই হয়। বাবা বলেন তোমরাও সার্ভিস করার জন্য বাধ্য। বাবা যেখানে সার্ভিস করতে যেতে বলবেন, সুশীঘ্র হাজির হওয়া উচিত। অমান্য করলে মিলিটারী বলা হবে না। তারা হৃদয় আসনে স্থান প্রাপ্ত করে না। তোমরা হলে বাবার সহযোগী সবাইকে বার্তা পৌঁছে দিতে হবে। যদি কোথাও বিশাল মিউজিয়াম খোলা হয়, ১০ মাইল দূরে আছে, তবুও সার্ভিস করতে তো যেতে হবে তাইনা। খরচের চিন্তা করবে না। সবচেয়ে বড় গভর্নমেন্ট অসীম জগতের পিতার আদেশ প্রাপ্ত হয়েছে, যাঁর রাইট হ্যান্ড হলেন ধর্মরাজ। তাঁর শ্রীমৎ অনুযায়ী না চললে পতন হয়। শ্রীমৎ বলে নিজের দৃষ্টিকে সিভিল বানাও। কাম বিকারকে জয় করবার সাহস থাকা উচিত। বাবার হুকুম, পালন না করলে ধ্বংস হয়ে যাবে। ২১ জন্মের রাজ্য ভাগ্য প্রাপ্ত হবে না। বাবা বলেন বাচ্চারা ছাড়া আমাকে কখনও কেউ চিনতে পারে না। কল্প পূর্বের যারা তারা-ই আস্তে আস্তে জ্ঞানে আসবে। এই হলো একেবারে নতুন কথা। এই হলো গীতার যুগ। কিন্তু শাস্ত্রে এই সঙ্গমযুগের বর্ণনা নেই। গীতাকেই দ্বাপরে নিয়ে গেছে। কিন্তু যখন রাজযোগ শেখানো হয়েছিল তখন নিশ্চয়ই সঙ্গম ছিল তাইনা। কিন্তু কারো বুদ্ধিতে এই কথা নেই। এখন তোমাদের জ্ঞানের নেশা আছে। মানুষের হলো ভক্তির নেশা। তারা বলে ভগবান এলেও আমরা ভক্তি করা ছাড়বো না। এই উত্থান পতনের সিঁড়ি টি খুব ভালো, তবুও মানুষের চোখ খোলে না। মায়ার নেশায় একেবারে মত্ত হয়ে আছে। জ্ঞানের নেশা হতে খুব দেরী লাগে। প্রথমে তো দিব্যগুণও চাই। বাবার কোনও আদেশ দিলে কখনও না বলবে না। আমি করতে পারবো না, একেই বলা হয় অবজ্ঞাকারী। যদি শ্রীমৎ প্রাপ্ত হয় এমন করতে হবে তো তখনই বুঝতে হবে যে এই হল শিববাবার শ্রেষ্ঠ মত। তিনি হলেন সদগতি দাতা। দাতা কখনও উল্টো মতামত দেবেন না। বাবা বলেন আমি এনার (ব্রহ্মাবাবার) অনেক জন্মের অন্তে এসে প্রবেশ করি। লক্ষ্মী এনার চেয়েও উঁচুতে স্থান অর্জন করে। গায়নও আছে - নারীদের আগে রাখা হয়। প্রথমে লক্ষ্মী তারপরে নারায়ণ, যথা রাজা রানী তথা প্রজা হয়। তোমাদেরও এমন শ্রেষ্ঠ হতে হবে। এই সময় সম্পূর্ণ দুনিয়ায় হলো রাবণ রাজ্য। সবাই বলে রামরাজ্য চাই। এখন হলো সঙ্গম। যখন এই লক্ষ্মী-নারায়ণের রাজত্ব ছিল তখন রাবণ রাজ্য ছিলো না, তাহলে চেঞ্জ হলো কীভাবে, সে কথা কেউ জানেনা। সবাই ঘোর অন্ধকারে আছে। তারা ভাবে - কলিযুগ এখন শিশু, হামা দিয়ে চলছে। তাই মানুষ ঘোর নিদ্রায় নিদ্রিত। এই রূহানী নলেজ অর্থাৎ আধ্যাত্মিক জ্ঞান, আত্মিক পিতা এসে আত্মাদের প্রদান করেন, রাজযোগের শিক্ষাও দেন। কৃষ্ণকে আত্মিক পিতা বলা হবে না। কৃষ্ণ এমন বলবেন না যে হে আত্মারূপী বাচ্চারা। এই কথাও লেখা উচিত - আধ্যাত্মিক জ্ঞানে ভরপুর (রূহানী নলেজফুল) আত্মিক পিতা আধ্যাত্মিক জ্ঞান আত্মারূপী বাচ্চাদের প্রদান করেন।


বাবা বোঝান দুনিয়ায় সব মানুষ হলো দেহ-অভিমানী। আমি আত্মা, এই কথা কেউ জানেনা। বাবা বলেন কারো আত্মা বিলীন হয়ে না। বাচ্চারা, এখন তোমাদের বোঝানো হয় বিজয়া দশমী, দীপাবলী ইত্যাদি কি। মানুষ তো যা কিছু পূজা অর্চনা করে, সবই অন্ধ বিশ্বাসের বশে, যাকে পুতুল পূজা বলা হয়, পাথর পূজো বলা হয়। এখন তোমরা পরশবুদ্ধি হয়েছো তাই পাথর পূজো করতে পারো না। চিত্রের সামনে মাথা নোয়ায়। কিছুই বোঝে না। যদিও তারা বলে জ্ঞান, ভক্তি ও বৈরাগ্য। জ্ঞান অর্ধকল্প চলে তারপরে ভক্তি আরম্ভ হয়। এখন তোমরা জ্ঞান প্রাপ্ত কর তখন ভক্তির প্রতি বৈরাগ্য এসে যায়। এই দুনিয়া ই পরিবর্তন হয়। কলিযুগে ভক্তি আছে। সত্যযুগে ভক্তি থাকে না। সেখানে হলোই পূজ্য। বাবা বলেন - বাচ্চারা, তোমরা মাথা নত কেন করো। অর্ধকল্প তোমরা মাথা নত করেছো, টাকা পয়সা খরচ করেছো, প্রাপ্তি হয়নি কিছুই। মায়া একেবারে মুন্ডন করেছে। কাঙাল করেছে। পরে বাবা এসে সকলের মাথা ঠিক করেছেন। এখন ধীরে-ধীরে কিছু ইউরোপিয়ানরাও বুঝেছে। বাবা বুঝিয়েছেন - এই ভারতবাসীরা তো একেবারে তমোগুণী হয়ে গেছে। অন্য ধর্মের মানুষ তো পরে আসে তাই সুখ দুঃখ সবই কম ভোগ করে। ভারত বাসীর তো সুখ দুঃখ সবই বেশী । শুরুতে প্রচুর বিত্তশালী একদম বিশ্বের মালিক হয়ে থাকে। অন্য ধর্মের মানুষ কেউ প্রথমে বিত্তবান থাকে না। পরে বৃদ্ধি হতে হতে বর্তমানে বিত্তবান হয়েছে। এখন সবচেয়ে ভিখারী হয়েছে ভারত। অন্ধশ্রদ্ধাগ্রস্ত হয়েছে ভারত। এও ড্রামায় ফিক্স আছে। বাবা বলেন আমি যাকে স্বর্গ বানাই, সে-ই নরকে পরিণত হয়েছে। মানুষ বানরবুদ্ধি হয়ে গেছে, তাদেরকে আমি এসে মন্দির যোগ্য বানাই। বিকার হলো খুব কঠিন। ক্রোধ অনেক থাকে। তোমাদের মধ্যে ক্রোধ একেবারেই থাকা উচিত নয়। খুব মিষ্টি, শান্ত, অতি মিষ্ট স্বভাবের হও। এই কথাও তো জানো কোটিতে কেউ এসে জ্ঞান মার্গে - রাজ্য পদ নিতে। বাবা বলেন আমি এসেছি তোমাদের নর থেকে নারায়ণ করতে। তার মধ্যেও ৮ টি রতন মুখ্য গায়ন করা হয়েছে। ৮-টি রত্ন আর মধ্যিখানে বাবা। ৮-টি হলো পাস উইথ অনার্স, তাও নম্বর অনুযায়ী পুরুষার্থ অনুসারে। দেহ-অভিমান ভঙ্গ করতেই খুব পরিশ্রম লাগে। দেহ বোধ বা অনুভূতি যেন একেবারেই মিটে যায়। কেউ পাকা ব্রহ্মজ্ঞানী যারা থাকে, তাদেরও এমন অনুভব হয়। বসে-বসে দেহ ত্যাগ করে দেয়। বসে থেকে এমনভাবে দেহ ত্যাগ করে, সম্পূর্ণ বায়ুমন্ডল একদম শান্ত হয়ে যায় এবং প্রায় সময় ভোর বেলার শুদ্ধ সময়ে দেহ ত্যাগ করে। রাতের বেলায় মানুষ নোংরা কাজ করে, সকালে স্নান ইত্যাদি করে ভগবানের নাম নেয়। পূজো করে। বাবা সব কথা বোঝান। প্রদর্শনী ইত্যাদিতে সর্ব প্রথমে তোমরা অল্ফের পরিচয় দাও। প্রথমে অল্ফ এবং বে। বাবা হলেন একমাত্র নিরাকার। বাবা হলেন রচয়িতা, তিনি বসে রচনার আদি-মধ্য-অন্তের জ্ঞান বুঝিয়ে দেন। বাবা স্বয়ং বলেন মামেকম্ স্মরণ করো। দেহের সম্বন্ধগুলি ত্যাগ করে নিজেকে আত্মা নিশ্চয় করে মামেকম্ স্মরণ করো। বাবার পরিচয় তোমরা দেবে তখন কারো সাহস থাকবে না প্রশ্ন-উত্তর করার। প্রথমে বাবার কথায় দৃঢ় নিশ্চয় হয়ে যাক তারপরে বলো ৮৪ জন্ম এইভাবে গ্রহণ করা হয়। চক্রের কথা বুঝে নেবে, বাবার পরিচয় বুঝে নেবে তখন আর কোনও প্রশ্ন থাকবে না। বাবার পরিচয় না দিয়ে তোমরা অন্য কথা বলো তাই সময় নষ্ট হয়ে যায়। স্বর রুদ্ধ হয়ে যায়। সর্বপ্রথমে অল্ফের কথা বলো। শত কথা বললে কিছুই বুঝবে না। খুব সাধারন ভাবে এবং ধীরে ধীরে বসে বোঝানো উচিত, যারা দেহী-অভিমানী হবে তারা-ই ভালো রীতি বোঝাতে পারবে। বড়-বড় মিউজিয়ামে ভালো-ভালো বাচ্চারা যারা বোঝাতে সক্ষম তাদের সহযোগ করতে হয়। কিছুদিন নিজের সেন্টার ছেড়ে সাহায্য করতে এসে যাও। অনুপস্থিতিতে অন্য কাউকে সেন্টার দেখাশোনা করার জন্য বসিয়ে দাও। যদি সেন্টারের দেখাশোনা করার মতন কাউকে উপযুক্ত না করে থাকো, তাহলে বাবা বুঝবেন কোনও কাজ করোনি, সার্ভিস করোনি। বাচ্চারা বাবাকে চিঠিতে লেখে সার্ভিস ছেড়ে যাই কীভাবে! আরে বাবা আদেশ করেন অমুক জায়গায় প্রদর্শনী আছে সার্ভিস করতে যাও। যদি সেন্টার দেখাশোনা করার মতন কাউকে উপযুক্ত করনি তবে কোনও কাজের নয়। বাবা আদেশ করেছেন - অবিলম্বে ছুটে যাওয়া উচিত। মহারথী ব্রাহ্মণী তাকেই বলা হয়। বাকিরা তো সবাই হলো অশ্বারোহী, পদাতিক। সবাইকে সার্ভিসে সাহায্য করতে হবে। এত বছরে তোমরা কাউকে নিজের মতন বানাওনি তাহলে কি করেছো। এত দিনে ম্যাসেঞ্জার বানাওনি, যে সেন্টারের দেখাশোনা করবে। বিভিন্ন রকমের মানুষ আসে - যাদের সঙ্গে কথা বলার বুদ্ধি চাই। মুরলীও রোজ পড়তে হবে অথবা শুনতে হবে। মুরলী পড়ে না অর্থাৎ অ্যাবসেন্ট লেগে গেল। বাচ্চারা তোমাদের সম্পূর্ণ বিশ্বে সুরক্ষা ঘেরাও তৈরি করতে হবে। তোমরা সম্পূর্ণ বিশ্বের সেবা করো তাইনা। পতিত দুনিয়াকে পবিত্র করার ঘেরা বানাতে হবে। সবাইকে মুক্তি-জীবনমুক্তি ধামের পথ বলে দিতে হবে, দুঃখ থেকে মুক্ত করতে হবে। আচ্ছা !


মিষ্টি মিষ্টি হারানিধি বাচ্চাদের প্রতি মাতা পিতা, বাপদাদার স্মরণের স্নেহ-সুমন আর সুপ্রভাত । আত্মাদের পিতা তাঁর আত্মা রূপী বাচ্চাদেরকে জানাচ্ছেন নমস্কার।


ধারণার জন্যে মুখ্য সারঃ-

১ ) অত্যন্ত মিষ্টি, শান্ত, অতি মধুর স্বভাবের হতে হবে। কখনও ক্রোধ করবে না। নিজের দৃষ্টিকে অত্যন্ত সিভিল বানাতে হবে।

২ ) বাবা যা হুকুম করেন, তাকে অবিলম্বে পালন করতে হবে। সম্পূর্ণ বিশ্বকে পতিত থেকে পবিত্র করার সেবা করতে হবে অর্থাৎ ঘেরাও তৈরি করতে হবে।

বরদানঃ-বাবার স্মরণের দ্বারা অসন্তোষের পরিস্থিতিগুলিতে, সদা সুখ বা সন্তোষের অনুভূতিকারী মহাবীর ভব

সদা বাবার স্মরণে থাকা আত্মারা প্রত্যেক পরিস্থিতিতে সদা সন্তুষ্ট থাকে কেননা নলেজের শক্তির আধারে পাহাড় সমান পরিস্থিতিও তুলো অনুভব হয়, তুলো অর্থাৎ কিছুই নয়। যদি পরিস্থিতি অসন্তোষের হয়, দুঃখের ঘটনা হয় কিন্তু দুঃখের পরিস্থিতিতেও সুখের স্থিতি থাকে, তখন বলা হবে মহাবীর। যাকিছু হয়ে যাক, নাথিং নিউ এর সাথে সাথে বাবার স্মৃতির দ্বারা সদা একরস স্থিতি থাকতে পারে, আর দুঃখ অশান্তির ঢেউও আসবে না।

স্লোগানঃ-নিজের দৈবী স্বরূপ সদা স্মৃতিতে থাকলে কারোর ব্যর্থ নজর যেতে পারবে না।

 অব্যক্ত ঈশারা :- স্বয়ং আর সকলের প্রতি মন্সা দ্বারা যোগের শক্তিগুলির প্রয়োগ করো

যেরকম সায়েন্সের শক্তির প্রয়োগ লাইটের আধারে হয়। যদি কম্পিউটারও চলে তো কম্পিউটার হলো মাইট কিন্তু আধার হল লাইট। এইরকম তোমাদের সাইলেন্সের শক্তির আধার হলো লাইট। যখন সেই প্রকৃতির লাইট অনেক প্রকারের প্রয়োগ প্র্যাক্টিক্যালে করে দেখায় তো তোমাদের অবিনাশী পরমাত্ম লাইট, আত্মিক লাইট আর সাথে সাথে প্র্যাক্টিক্যাল স্থিতি লাইট, তাহলে এর দ্বারা কেন প্রয়োগ হবে না

26.10.2025 BENGALI MURLI

 "সঙ্গম যুগের জীবনমুক্ত স্থিতির অনুভব করার জন্য সব বোঝা বা বন্ধন বাবাকে দিয়ে ডবল লাইট হও"


আজ বিশ্ব রচয়িতা বাপদাদা নিজের প্রথম রচনা অতি লাভলি আর লাকি বাচ্চাদের সাথে মিলন মেলা উদযাপন করছেন। কিছু বাচ্চা সমুখে রয়েছে, তারা নয়ন দ্বারা দেখছে এবং চতুর্দিকের কিছু বাচ্চা হৃদয়ে সমাহিত হয়ে আছে। বাপদাদা সব বাচ্চার মস্তকে ভাগ্যের তিন নক্ষত্র ঝলমল করতে দেখছেন। একটা ভাগ্য হলো - বাপদাদার শ্রেষ্ঠ পালনার, দ্বিতীয় ভাগ্য হলো শিক্ষক দ্বারা পঠন-পাঠন, তৃতীয় হলো সদ্গুরু দ্বারা সর্ব বরদানের ঝলমলে নক্ষত্র। তো তোমরাও সবাই নিজের ললাটে ঝলমলে নক্ষত্র অনুভব করছো তো না! সর্ব সম্বন্ধ বাপদাদার সাথে, তবুও জীবনে এই তিন সম্বন্ধ আবশ্যক এবং তোমরা সব হারানিধি অতি আদরের বাচ্চাদের এই সম্বন্ধ সহজেই প্রাপ্ত হয়। প্রাপ্ত হয় তো না! নেশা থাকে, থাকে না! হৃদয় এই গীত গাইতে থাকে তো না - বাহ্ বাবা বাহ্! বাহ্ শিক্ষক বাহ্! বাহ্ সদ্গুরু বাহ্! দুনিয়ার লোকে লৌকিক গুরু যাকে মহান আত্মা বলে, তার দ্বারাও একটা বরদান পাওয়ার জন্য কত চেষ্টা করে আর তোমাদেরকে বাবা জন্মানোর সাথে সাথেই বরদান দ্বারা সহজভাবে সম্পন্ন করে দিয়েছেন। এত শ্রেষ্ঠ ভাগ্য কী স্বপ্নেও ভেবেছিলে যে ভগবান বাবা আমাদের জন্য এত সব অর্পণ করে দেবেন! ভক্তরা ভগবানের গীত গেয়ে থাকে আর ভগবান বাবা কা'দের গীত গাইতে থাকেন! তোমরা সব লাকি বাচ্চার।

এখনও তোমরা সবাই ভিন্ন ভিন্ন দেশ থেকে এসেছ, কোন্ বিমানে এসেছো? স্থূল বিমানে নাকি পরমাত্ম ভালবাসার বিমানে সব তরফ থেকে পৌঁছে গেছো! পরমাত্ম বিমান কত সহজে নিয়ে আসে, কোনও কষ্ট নেই। তো সবাই তোমরা পরমাত্ম ভালবাসার বিমানে পৌঁছে গেছো - এর জন্য অভিনন্দন, অভিনন্দন, অভিনন্দন। বাপদাদা প্রত্যেক বাচ্চাকে দেখে, হতে পারে তারা প্রথমবার এসেছে অথবা বহুকাল ধরে আসছে, কিন্তু বাপদাদা প্রত্যেক বাচ্চার বিশেষত্ব জানেন। বাপদাদার কোনও বাচ্চা সে ছোট হোক বা বড় হোক, মহাবীর হোক বা পুরুষার্থী হোক, কিন্তু প্রত্যেক বাচ্চা হারানিধি, কেন? তোমরা তো বাবাকে খুঁজেছো, পাওনি, কিন্তু বাপদাদা তোমরা সব বাচ্চাকে অনেক ভালবাসায়, আন্তরিক মমতায়, স্নেহের সাথে কোনায় কোনায় খুঁজেছেন। সুতরাং ভালবাসা আছে তবে তো খুঁজেছেন। কেননা, বাবা জানেন, কোনো এক বাচ্চাও এমন নয় যার মধ্যে কোনও বিশেষত্ব নেই। তোমাদের কোনো বিশেষত্বই তোমাদেরকে নিয়ে এসেছে। অন্ততপক্ষে, গুপ্তরূপে আগত বাবাকে চিনে তো নিয়েছ। আমার বাবা বলেছ, সবাই বলো তো না আমার বাবা! কেউ আছ যে বলে না আমার বাবা, কেউ আছ? সবাই বলো তো না আমার বাবা! তো বিশেষ হলো তো না! এত বড়-বড়ো সায়েন্টিস্ট, বড়- বড়ো ভি.আই.পি চিনতে পারেনি, কিন্তু তোমরা সবাই তো চিনে নিয়েছ, তাই না। তাইতো বাবাও তোমাদের নিজের বানিয়ে নিয়েছেন। এই খুশিতে পালিত হতে হতে তোমরা উড়ছ, উড়ছ না! উড়ছ, হাঁটছো না, উড়ছ, কেননা, যারা চলছে তারা বাবার সাথে নিজের ঘরে ফিরে যেতে পারবে না। কারণ বাবা তো উড়ন্ত, সুতরাং যারা চলছে তারা কীভাবে সাথে পৌঁছাবে! সেইজন্য বাবা সব বাচ্চাকে কী বরদান দেন? ফরিস্তা স্বরূপ ভব। ফরিস্তা ওড়ে। চলে না, ওড়ে। তো তোমরাও উড়তি কলার তো না! হও তোমরা? হাত তোলো যারা উড়তি কলার, নাকি কখনো চলতি কলা, কখনো উড়তি কলার? না? সদা উড়ন্ত, ডবল লাইট, তাই না! কেন? ভাবো, বাবা তোমাদের সবার থেকে গ্যারান্টি নিয়েছেন, যাদেরই কোনও রকমের বোঝা যদি মনে, বুদ্ধিতে থাকে তবে বাবাকে দিয়ে দাও, বাবা নিতেই এসেছেন। তো বাবাকে বোঝা দিয়েছ, নাকি অল্প অল্প সামলে রেখেছো? যিনি নেওয়ার তিনি যখন নিচ্ছেন তখন বোঝা দিয়ে দেওয়ায় ভাববার কোনো ব্যাপার আছে কি? নাকি ৬৩ জন্মের অভ্যাস রয়েছে বোঝা সামলানোর? তো কিছু বাচ্চা কখনো কখনো বলে - চাই না কিন্তু অভ্যাসে বাধ্য। এখন তোমরা বাধ্য নও তো না! বাধ্য, নাকি শক্তিশালী? বাধ্য কখনও হয়ো না। শক্তিশালী তোমরা। শক্তি, তোমরা শক্তিশালী, নাকি বাধ্য? শক্তিশালী তো না? বোঝা রেখে দিতে ভালো লাগে কি? মন লেগে গেছে, বোঝার প্রতি মন লেগে গেছে? ছেড়ে দাও, ছাড়বে তবে তো রেহাই পাবে। তোমরা ছাড়ো না তাই নিষ্কৃতি নেই। ছেড়ে দেওয়ার সাধন হলো - দৃঢ় সংকল্প। অনেক বাচ্চা বলে থাকে দৃঢ় সংকল্প তারা তো করে, কিন্তু, কিন্তু ...কারণ কী? দৃঢ় সংকল্প করো কিন্তু তোমাদের করা দৃঢ় সংকল্পকে তোমরা রিভাইস করো না। বারবার মন থেকে রিভাইস করো আর রিয়ালাইজ করো, বোঝা কী আর ডবল লাইটের অনুভব কী! রিয়ালাইজেশনের কোর্স এখন একটু বেশি আন্ডারলাইন করো। বলা আর ভাবনা তোমরা এটাই করে থাকো, কিন্তু হৃদয় দিয়ে রিয়ালাইজ করো - বোঝা কী আর ডবল লাইট কী? প্রভেদ সামনে রাখো কেননা, বাপদাদা এখন সময়ের নৈকট্য অনুসারে প্রত্যেক বাচ্চার মধ্যে কী দেখতে চান? যা কিছু তোমরা বলো তা' করে দেখাতে হবে। যা কিছু ভাবছ তা' স্বরূপে আনতে হবে। কেননা, বাবার উত্তরাধিকার রয়েছে জন্মসিদ্ধ অধিকারের - মুক্তি আর জীবনমুক্তির। সবাইকে এই নিমন্ত্রণই দাও তো না - এসে মুক্তি আর জীবনমুক্তির উত্তরাধিকার প্রাপ্ত করো। সুতরাং নিজেকে জিজ্ঞাসা করো, মুক্তিধামে মুক্তির অনুভব করতে হবে নাকি সত্যযুগে জীবনমুক্তির অনুভব করতে হবে, নাকি এখন সঙ্গম যুগে মুক্তি, জীবনমুক্তির সংস্কার বানাতে হবে? কেননা, তোমরা বলে থাকো যে আমরা এখন নিজেদের ঈশ্বরীয় সংস্কার থেকে দৈবী সংসার বানাবো। নিজেদের সংস্কার দ্বারা নতুন সংসার (দুনিয়া) বানাচ্ছ। তো এখন সঙ্গমেই মুক্তি জীবনমুক্তির সংস্কার ইমার্জ হওয়া উচিত তো না! তো চেক করো সর্ব বন্ধন থেকে মন আর বুদ্ধি মুক্ত হয়েছে? কেননা, ব্রাহ্মণ জীবনে অনেক বিষয়ে পাস্ট লাইফের যে বন্ধন আছে, তার থেকে মুক্ত হয়েছ। কিন্তু সর্ব বন্ধন থেকে মুক্ত হয়েছো, নাকি কোনো কোনো বন্ধন এখনও নিজের বন্ধনে বাঁধে? এই ব্রাহ্মণ জীবনে মুক্তি জীবনমুক্তির অনুভব করাই ব্রাহ্মণ জীবনের শ্রেষ্ঠত্ব, কারণ সত্যযুগে জীবনমুক্ত, জীবনবন্ধ দুইয়ের জ্ঞানই থাকবে না। এখন এখন অনুভব করতে পারো? জীবনবন্ধ কী, জীবনমুক্ত কী, কেননা তোমাদের সকলের প্রতিজ্ঞা রয়েছে, সকলের প্রতিজ্ঞা, অনেকবার প্রতিজ্ঞা করেছ, কী প্রতিজ্ঞা করো তোমরা স্মরণে আছে তোমাদের? তোমাদের কাউকে যদি জিজ্ঞাসা করা হয় তোমাদের এই ব্রাহ্মণ জীবনের লক্ষ্য কী? কী জবাব দাও তোমরা? বাবা সমান হতে হবে। পাক্কা তো? তাই না? বাবা সমান হতে হবে তো না? নাকি একটু একটু হতে হবে? সমান হতে হবে, হবে তো না! হতে হবে সমান? নাকি যদি অল্পও হয়ে যাও তো চলবে? চলবে? তাকে তো সমান বলা হবে না। তো বাবা মুক্ত, নাকি বন্ধন আছে? যদি কোনও রকমের বন্ধন, তা' দেহের হোক বা কোনো দেহের সম্বন্ধ, মাতা পিতা বন্ধু সখা নয়, দেহের সাথে কর্মেন্দ্রিয়ের যে সম্বন্ধ, সেই কর্মেন্দ্রিয়ের যে কোনও সম্বন্ধের বন্ধন থাকলে, অভ্যাসের বন্ধন থাকলে, স্বভাবের বন্ধন থাকলে, পুরানো সংস্কারের বন্ধন থাকলে, তাহলে বাবা সমান কীভাবে হওয়া যাবে? আর রোজ তোমরা প্রতিজ্ঞা করছ বাবা সমান হতেই হবে। বাবা যদি তোমাদের হাত উঠাতে বলেন তো সবাই কী বলো তোমরা? লক্ষী-নারায়ণ হতে হবে। বাপদাদা খুশি হন, তোমরা খুব ভালো ভালো প্রতিজ্ঞা করো, কিন্তু প্রতিজ্ঞার লাভ ওঠাও না। প্রতিজ্ঞা আর লাভের ব্যালেন্স জানো না। বাপদাদার কাছে প্রতিজ্ঞার অনেক অনেক অনেক বড় ফাইল আছে, সবার ফাইল আছে। ঠিক এরকমই লাভেরও ফাইল হবে, ব্যালেন্স হবে তবে কত ভালো লাগবে! এরা সেন্টার্সের টিচার্স বসে আছে না!


সেন্টার নিবাসী এরাও বসে আছে তো না? তাহলে তো তোমরা সমানই হ'লে, তাই না! সেন্টার নিবাসী নিমিত্ত হওয়া বাচ্চাদের তো সমান হওয়া উচিত তাই না! তোমরা হয়েও থাকো, কিন্তু কখনো কখনো সামান্য চঞ্চল হয়ে যাও। বাপদাদা তো সব বাচ্চার আচার- আচরণ এবং ভাবভঙ্গী দুইই দেখতে থাকেন। তোমাদের দাদিও বতনে ছিলেন তো না, দাদিও দেখতেন, তো কী বলতেন তিনি? জানো তোমরা, বলতেন বাবা এরকমও কী হয়? এরকম হয়, এরকম করে! তাদের এমন আচরণ আপনি দেখতে থাকেন? শুনেছ, তোমাদের দাদি কী দেখেছেন! এখন বাপদাদা এটাই দেখতে চান যে একেক বাচ্চা মুক্তি জীবনমুক্তির উত্তরাধিকারের অধিকারী হয়েছে। কেননা, উত্তরাধিকার এখন প্রাপ্ত হয়। সত্যযুগে তো ন্যাচারাল লাইফ হবে, এখনের অভ্যাসের ন্যাচারাল লাইফ, কিন্তু উত্তরাধিকারের অধিকার এখন সঙ্গমে। সেইজন্য বাপদাদা এটাই চান যে প্রত্যেকে নিজে যেন চেক করে যদি কোনও বন্ধন আকর্ষণ করছে তো তার কারণ কী ভাবো। কারণ ভাবো আর কারণের সাথে নিবারণের ব্যাপারেও ভাবো। অনেক বার ভিন্ন ভিন্ন রূপে বাপদাদা নিবারণ করে দিয়েছেন। সর্বশক্তির বরদান দিয়েছেন, সর্ব গুণের ভাণ্ডার দিয়েছেন, ভাণ্ডার ইউজ করলে ভাণ্ডার বাড়ে। সবার কাছে ভাণ্ডার আছে, বাপদাদা দেখেছেন। প্রত্যেকের স্টকও তিনি দেখেন। বুদ্ধি হলো স্টক রুম। তো বাপদাদা সবারটা দেখেছেন। আছে, স্টকে আছে কিন্তু সময়কালে তোমরা ভাণ্ডার ইউজ করো না। শুধু পয়েন্ট হিসেবে ভাবো, হ্যাঁ এটা করা উচিৎ নয়, এটা করতে হবে, পয়েন্ট হিসেবে ইউজ করো, ভাবো কিন্তু পয়েন্ট হয়ে পয়েন্টকে ইউজ করো না। সেইজন্য পয়েন্ট থেকেই যায়, পয়েন্ট হয়ে যদি ইউজ করো তবে নিবারণ হয়ে যায়। তোমরা বলেও থাকো, এটা করা উচিৎ নয়, তবুও তোমরা ভুলেই যাও। বলার সাথে ভুলেও যাও। এত সহজ বিধি তোমাদের বলা হয়েছে, শুধু সঙ্গম যুগেই আছে বিন্দুর চমৎকারিত্ব, কেবল বিন্দু ইউজ করো আর কোনো মাত্রার আবশ্যকতা নেই। তিন বিন্দু ইউজ করতে থাকো, তবে বাবা সমান হওয়া কোনই মুশকিল নয়। তোমরা বিন্দু লাগাতে চাও কিন্তু লাগানোর সময় হাত নড়ে যায়, তাইতো কোশ্চেন মার্ক হয়ে যায়, নাকি আশ্চর্যের রেখা হয়ে যায়। ওখানে হাত নড়ে যায়, এখানে বুদ্ধি নড়ে। নয়তো, তিন বিন্দুকে স্মৃতিতে রাখা কী কঠিন হয়? হয়? কঠিন হয়? বাপদাদা তো সহজ যুক্তি বলেছেন, সেটা কী? আশীর্বাদ দাও আর আশীর্বাদ নাও। আচ্ছা, যদি যোগ শক্তিশালী না হয়, ধারণায় যদি খামতি থাকে, যদি ভাষণ করার সাহস না হয়, তবুও কিন্তু আশীর্বাদ দাও আর আশীর্বাদ নাও, এই একটা বিষয়ই করো আর সব ছেড়ে দাও, একটা জিনিস করো - আশীর্বাদ নিতে হবে আর আশীর্বাদ দিতে হবে। যা কিছু হয়ে যাক, যা কিছুই কেউ দিক না কেন কিন্তু আমাকে আশীর্বাদ দিতে হবে, নিতে হবে। একটা বিষয় তো পাক্কা করো, এর মধ্যে সব এসে যাবে। যদি আশীর্বাদ দাও আর আশীর্বাদ নাও তবে তার মধ্যে কী শক্তি আর গুণ আসবে না? অটোমেটিক্যালি এসে যাবে, তাই তো না! একটাই লক্ষ্য রাখো, করে দেখো, এক দিন অভ্যাস করে দেখো, তারপর সাতদিন করে দেখ। আচ্ছা ঠিক আছে, অন্য বিষয় না হয় বুদ্ধিতে আসবে না, একটা তো আসবে। যা কিছু হয়ে যাক, আশীর্বাদ দিতে হবে এবং নিতে হবে। এটা তো করতে পারবে, নাকি না? করতে পারো? আচ্ছা, তো যখনই ফিরে যাবে তখন এটা ট্রায়াল করো। এতে আপনা থেকেই সব যোগযুক্ত হয়ে যাবে। কেননা, ওয়েস্ট কর্ম তো হবে না, সুতরাং যোগযুক্ত হয়েই গেলে তো না! কিন্তু লক্ষ্য রাখো আশীর্বাদ দিতে হবে, আশীর্বাদ নিতে হবে। যে যা কিছুই দিক, এমনকি অভিশাপও মিলবে, ক্রোধের পরিস্থিতিও আসবে, কেননা, তোমরা প্রতিজ্ঞা করবে তো না, মায়াও শুনছে যে এ' প্রতিজ্ঞা করবে, সেও তো নিজের কাজ করবে, তাই না! যখন মায়াজিত হয়ে যাবে তখন আর করবে না। এখন তো মায়াজিৎ হচ্ছ, তাই না, তো সে নিজের কাজ করবে, কিন্তু আমাকে আশীর্বাদ দিতে হবে এবং আশীর্বাদ নিতে হবে। হতে পারে? হতে পারে? হাত উঠাও যারা বলছ হতে পারে। আচ্ছা, শক্তি তোমরা হাত তোলো। হ্যাঁ, হতে পারে। তো সব দিক থেকে টিচার্স এসেছে, তাই না। সব দিক থেকে টিচার্স এসেছে তো না। তো যখন তোমরা নিজের দেশে ফিরে যাবে তখন প্রথম প্রথম সবাইকে এক সপ্তাহ এই হোম ওয়ার্ক করতে হবে এবং রেজাল্ট পাঠাতে হবে। ক্লাসের মেম্বার কত জন? কত আছে? কত ও.কে. আর এখনো কত অল্প কাঁচা ও কত অল্প পাক্কা আছে? যদি তারা কাঁচা তো ও.কে.র মধ্যে একটা লাইন টেনে দাও। শুধু এইভাবে তোমরা তোমাদের সমাচার দেবে - এত জন ও.কে., এত জনের মধ্যে ও.কে. হওয়ার রেখা আছে। এই গ্রুপে দেখ, ডবল ফরেনার্স এসেছে, তো তোমরা ডবল কাজ করবে তো না। এক সপ্তাহের রেজাল্ট পাঠাবে, তারপর বাপদাদা দেখবেন, সহজ, তাই না। কঠিন নয় তো! মায়া আসবে, তোমরা বলবে বাবা আমার তো আগে কখনো আসেনি, এখন এসে গেছে। এটা হবে, কিন্তু যারা দৃঢ় নিশ্চয়ের তাদের বিজয় নিশ্চিত। দৃঢ়তার ফল হলো সফলতা। সফলতা না হওয়ার কারণ হলো দৃঢ়তার অভাব। তো দৃঢ়তার সফলতা প্রাপ্ত করতেই হবে।

যেভাবে উৎসাহ উদ্দীপনার সাথে সেবা করছো, সেভাবে স্ব এরও সেবা প্রয়োজন। স্ব সেবা আর বিশ্ব সেবা, স্ব সেবা অর্থাৎ চেক করা এবং নিজেকে বাবা সমান বানানো। যে কোনো খামতি, দুর্বলতা বাবাকে দিয়ে দাও না, কেন রেখেছ? বাবার ভালো লাগে না। কেন দুর্বলতা রেখে দাও? দিয়ে দাও। দেওয়ার সময় ছোট বাচ্চা হয়ে যাও। ছোট বাচ্চা যেমন কোনও জিনিস সামলাতে পারে না, কোনও জিনিস পছন্দ না হলে সে কী করে? মা বাবা তোমরা এটা নিয়ে নাও। ঠিক এরকমই তোমাদের কোনও রকম বোঝা, বন্ধন আছে যা তোমাদের ভালো লাগে না। কেননা, বাপদাদা দেখেন, একদিকে এটা তো ভাবছ ভালো না, ঠিক না কিন্তু কী করবো, কীভাবে করবো ... তো এটা তো ভালো না। একদিকে ভালো না বলছ, আরেকদিকে সামলে রাখছ, তো এটাকে কী বলবে! ভালো বলবে? ভালো নয় তো না। তো তোমাদের কী হতে হবে? ভালোর থেকে ভালো, তাই না! শুধু ভালো না, ভালো থেকেও ভালো। তো এমন যে কোনও বিষয় থাকলে বাবা হাজির হুজুর আছেন, তাঁকে দিয়ে দাও, আর যদি সেসব ফিরে আসে তবে আমানত মনে করে আবার দিয়ে দাও। গচ্ছিত সম্পদ আত্মসাৎ করা যায় না(আমানতের খেয়ানত)। কেননা, তোমরা তো দিয়ে দিয়েছ, তো বাবার জিনিস হয়ে গেছে, বাবার জিনিস কিংবা অন্যের জিনিস ভুল করে তোমার কাছে যদি এসে যায়, তুমি আলমারিতে রেখে দেবে? দেবে রেখে? বের করে দেবে তো না! যেভাবেই হোক বের করে দেবে, রাখবে না। সামলাবে না তো, তাই না। অতএব, দিয়ে দাও। বাবা এসেছেন নেওয়ার জন্য। আর তো কিছু নেই তোমাদের কাছে যা দেবে। কিন্তু এগুলো তো দিতে পারো, পারো তো না! আকন্দ ফুল আছে দিয়ে দাও, সামলে রাখা ভালো লাগে কি? আচ্ছা।

চতুর্দিকের, বাপদাদার হৃদয়ের পছন্দ সব বাচ্চাকে, দিলারাম তো না, তো দিলারামের হৃদয়ের পছন্দ বাচ্চাদের, ভালবাসার অনুভবে সদা তরঙ্গিত বাচ্চাদের, এক বাবা দ্বিতীয় কেউ নয়, স্বপ্নেও দ্বিতীয় কেউ নয়, বাপদাদার অতি প্রিয় আর দেহবোধ থেকে অতি পৃথক এমন হারানিধি, পদ্মগুন ভাগ্যশালী বাচ্চাদের হৃদয়ের স্মরণের স্নেহ-সুমন আর পদ্ম-পদ্মগুন আশীর্বাদ, সাথে বালক তথা মালিক বাচ্চাদের বাপদাদার নমস্কার।

বরদানঃ-ঈশ্বরীয় মর্যাদার আধারে বিশ্বের সামনে এক্সাম্পল হয়ে সহজযোগী ভব

বিশ্বের সামনে এক্সাম্পল হওয়ার জন্য অমৃতবেলা থেকে রাত পর্যন্ত যে ঈশ্বরীয় মর্যাদা আছে সেই অনুসারে চলতে থাকো। অমৃতবেলার বিশেষ মহত্ত্বকে জেনে সেই সময় পাওয়ারফুল স্টেজ বানাও, তবে সারাদিনের জীবন মহান হয়ে যাবে। যখন অমৃতবেলায় বাবার থেকে বিশেষ শক্তি ভরে নেবে তখন শক্তিস্বরূপ হয়ে চললে কোনও কার্যে মুশকিল অনুভব হবে না এবং মর্যাদাপূর্বক জীবন যাপন করে সহজ যোগীর স্টেজও আপনা থেকেই হয়ে যাবে। তারপরে বিশ্ব তোমাদের জীবন দেখে নিজের জীবন বানাবে।

স্লোগানঃ-নিজের আচার আচরণ আর মুখমণ্ডলের দ্বারা পবিত্রতার শ্রেষ্ঠত্ব অনুভব করাও।


Friday, October 24, 2025

25.10.2025 BENGALI MURLI

 “মিষ্টি বাচ্চারা - সঙ্গম যুগেই তোমাদেরকে আত্ম-অভিমানী হওয়ার পরিশ্রম করতে হয়, সত্যযুগ কিম্বা কলিযুগে এই পরিশ্রম করতে হয় না

প্রশ্নঃ -   শ্রীকৃষ্ণের নাম তার বাবা-মায়ের থেকেও অধিক বিখ্যাত কেন?

উত্তরঃ -কেননা শ্রীকৃষ্ণের থেকে আগে যাদেরই জন্ম হয়েছে তাদের জন্ম যোগবলের দ্বারা হয় না। কৃষ্ণের মা বাবাও কোনও যোগবলের দ্বারা জন্ম নেয় নি। ) সম্পূর্ণ কর্মাতীত হলেন রাধা-কৃষ্ণই। তারাই সদ্গতি প্রাপ্ত করে। যখন সমস্ত পাপাত্মারা সমাপ্ত হয়ে যায়, তখন ফুলের মত পবিত্র নতুন দুনিয়াতে শ্রীকৃষ্ণের জন্ম হয়, তাকেই বৈকুণ্ঠ বলা যায়। ) সঙ্গম যুগে শ্রীকৃষ্ণের আত্মা সবথেকে বেশি পুরুষার্থ করেছিল, এজন্য তার নাম বিখ্যাত হয়।

ওম্ শান্তি মিষ্টি মিষ্টি আত্মিক বাচ্চাদেরকে আত্মিক বাবা বসে বোঝাচ্ছেন। হাজার বছর পরে একবারই বাচ্চাদেরকে এসে পড়ান। বাচ্চারাও আহ্বান করেছিল যে - আমাদের পতিতদেরকে এসে পবিত্র বানাও। তাহলে প্রমাণিত হয় যে - এটা হলো পতিত দুনিয়া। নতুন দুনিয়া, পবিত্র দুনিয়া ছিল। নতুন বাড়ি খুব সুন্দর দেখতে হয়। পুরানো বাড়ি একদম ভাঙাচোরা হয়ে যায়। বর্ষাকালে ভেঙে পড়ে। বাচ্চারা এখন তোমরা জেনে গেছ যে, বাবা এসেছেন নতুন দুনিয়া সৃষ্টি করতে। এখন পড়াচ্ছেন। আবার হাজার বছর পর পড়াবেন। এইরকম কখনও কোনো সাধু-সন্ত আদি নিজের অনুগামীদেরকে পড়াবে না। তাদের তো এই জ্ঞান জানাই নেই। এই (ড্রামার) খেলার সম্বন্ধেও জানা নেই কেননা তারা হল নিবৃত্তি মার্গের। বাবা ছাড়া কেউই সৃষ্টির আদি-মধ্য-অন্তের রহস্যকে বোঝাতে পারবে না। আত্ম-অভিমানী হওয়াতেই বাচ্চাদেরকে পরিশ্রম করতে হয়। কেননা অর্ধেক কল্পে তোমরা কখনও আত্ম-অভিমানী হওনি। এখন বাবা বলছেন যে নিজেকে আত্মা মনে করো। এমন নয় যে আত্মাই হল পরমাত্মা। না, নিজেকে আত্মা মনে করে পরমপিতা পরমাত্মা শিববাবাকে স্মরণ করতে হবে। স্মরণের যাত্রাই হল প্রধান, যার দ্বারাই তোমরা পতিত থেকে পবিত্র হও। এতে কোন স্থুল কথা নেই। কোনও নাক কান আদি বন্ধ করার প্রয়োজন নেই। মূল কথা হলো - নিজেকে আত্মা মনে করে বাবাকে স্মরণ করা। তোমরা অর্ধেক কল্প ধরে নিচে নেমে এসেছো - দেহ-অভিমানে থাকার কারণে। প্রথমে নিজেকে আত্মা মনে করলে, তবেই বাবাকে স্মরণ করতে পারবে। ভক্তি মার্গেও বাবা-বাবা বলে এসেছ। বাচ্চারা জানে যে, সত্য যুগে একটাই লৌকিক বাবা হবে। সেখানে পারলৌকিক বাবাকে মনে করতে হবে না, কেননা সেখানে সুখ থাকে। ভক্তি মার্গে পুনরায় দুটো বাবা হয়ে যায়। লৌকিক আর পারলৌকিক। দুঃখের সময় সবাই পারলৌকিক বাবাকে স্মরণ করে। সত্যযুগে ভক্তি হয় না। সেখানে তো হল জ্ঞানের প্রারব্ধ। এমন নয় যে জ্ঞান থাকে। এই সময়ের জ্ঞানের প্রারব্ধ প্রাপ্ত হয়। বাবা তো একবারই আসেন। অর্ধেক কল্প অসীম জগতের বাবার, সুখের উত্তরাধিকার থাকে। পুনরায় লৌকিক বাবার থেকে অল্পকালের উত্তরাধিকার প্রাপ্ত হয়। এইসব কথা সাধারণ মানুষ বুঝতে পারে না। এটা হল নতুন কথা, হাজার বছর পর এই সঙ্গম যুগে একবার- বাবা আসেন। যখন কলিযুগের অন্ত আর সত্যযুগের আদির সঙ্গম হয়, তখনই বাবা আসেন - নতুন দুনিয়া পুনরায় স্থাপন করতে। নতুন দুনিয়াতে এই লক্ষ্মী-নারায়ণের রাজ্য ছিল, তারপর ত্রেতাতে হলো রামরাজ্য। বাকি দেবতাদিদের যে এত চিত্র বা মূর্তি বানানো হয়, সেসব হলো ভক্তিমার্গের সামগ্রী। বাবা বলেন, এই সবকিছুকে ভুলে যাও। এখন নিজের ঘরকে আর নতুন দুনিয়াকে স্মরণ করো।

 

জ্ঞান মার্গ হলো বোধগম্যতার মার্গ, যার দ্বারা তোমরা ২১ জন্মের জন্য বুঝদার হয়ে যাও। কোনও দুঃখ থাকে না। সত্যযুগে কখনও কেউ এই রকম বলবে না যে, আমার শান্তি চাই। প্রবাদ আছে না, যে - চাওয়ার থেকে মরা ভাল। বাবা তোমাদেরকে এমন ধনী বানিয়ে দেন যে, দেবতাদেরকে ভগবানের থেকে কোনও জিনিস প্রার্থনা করার দরকারই থাকেনা। এখানে তো সবাই আশীর্বাদ প্রার্থনা করে, তাই না! পোপ আদি যখন আসে, তখন কত সবাই আশীর্বাদ নিতে যায়। পোপ কত মানুষের বিবাহাদি করিয়ে দেয়! বাবা তো এইরকম কাজ করেন না। ভক্তি মার্গে যেটা অতীত হয়ে গেছে, সেটা এখন হচ্ছে, আবার পুনরায় রিপিট হবে। দিন-প্রতিদিন ভারত নিমজ্জিত হয়েই গেছে। এখন তোমরা আছ সঙ্গমে। বাকি সবাই হল কলিযুগের মানুষ। যতক্ষণ না এখানে না আসে, ততক্ষণ কিছুই বুঝতে পারবে না যে, এখন সঙ্গমযুগ নাকি কলিযুগ? একই ঘরে বাচ্চারা বুঝতে পারে যে - আমি সঙ্গম যুগে আছি, আর (লৌকিক) বাবা বলে, এটা কলিযুগ, তো অনেক সমস্যা দেখা যায়। খাদ্য-পানীয় ইত্যাদির ক্ষেত্রেও সমস্যা হয়। তোমরা সঙ্গম যুগের শুদ্ধ পবিত্র ভোজন স্বীকার করো। দেবতারা কি কখনও পিঁয়াজাদি খায়? এই দেবতাদেরকে বলা- যায় নির্বিকারী। ভক্তি মার্গে সবাই তমোপ্রধান হয়ে গেছে। এখন বাবা বলেছেন - সতোপ্রধান হও। এমন কেউ নেই যে বুঝবে যে আত্মা প্রথমে সতোপ্রধান ছিল, তারপর তমোপ্রধান হয়েছে, কেননা তারা তো আত্মাকে নির্লেপ মনে করে। তারা বলে দেয় - আত্মাই হলো পরমাত্মা।

 

বাবা বলছেন, জ্ঞান সাগর হলাম আমিই, যারা এই দেবী-দেবতা ধর্মের হবে, তারা সবাই এসে পুনরায় নিজের অনিনাশী উত্তরাধিকার গ্রহণ করবে। এখন স্যাপলিং লাগানো হচ্ছে। তোমরা বুঝতে পারবে যে - এই আত্মা এত উঁচু পদ প্রাপ্ত করার যোগ্য নয়। ঘরে গিয়ে বিবাহ আদি করে নোংরা হয়ে যায়। তাই বোঝা যায় যে, উঁচু পদ প্রাপ্ত করতে পারবে না। এখন রাজ্য স্থাপন হচ্ছে। বাবা বলছেন - আমি তোমাদেরকে রাজাদেরও রাজা বানাতে এসেছি, তাই প্রজা অবশ্যই তোমাদেরকে বানাতে হবে। না হলে তো রাজ্য কিভাবে প্রাপ্ত করবে। এসব হলো গীতার শব্দ, তাই না - একে বলাই যায় গীতার যুগ। তোমরা এখন রাজযোগ শিখছো - জানো যে আদি সনাতন দেবী দেবতা ধর্মের ফাউন্ডেশন নির্মাণ হচ্ছে। সূর্যবংশী চন্দ্রবংশী - দুই রাজবংশই স্থাপন হচ্ছে। ব্রাহ্মণ কুলের স্থাপনা হয়ে গেছে। ব্রাহ্মণেরাই পুনরায় সূর্যবংশী-চন্দ্রবংশী হয়। যে ভালো ভাবে পরিশ্রম করবে, সেই সূর্যবংশী হবে। অন্যান্য ধর্মাত্মারা যারা আসে, তারা আসেই নিজের ধর্মের স্থাপনা করতে। তার পরে সেই ধর্মের আত্মারা নামতে থাকে, ধর্মের বৃদ্ধি হতে থাকে। মনে করো কেউ যদি খ্রীষ্টান হয় তো, সেই খ্রীষ্টধর্মের বীজরূপ হলেন যীশু খ্রীষ্ট। তোমাদের বীজ রূপ কে? বাবা, কেননা বাবা- এসে স্বর্গের স্থাপনা করেন ব্রহ্মার দ্বারা। ব্রহ্মাকেই প্রজাপিতা বলা যায়। রচয়িতা বলা যাবে না। এনার দ্বারা বাচ্চাদেরকে দত্তক নেওয়া হয়। ব্রহ্মাকেও তো রচনা করতে হয়, তাই না! বাবা এসে এনার মধ্যে প্রবেশ করে এঁনাকে রচনা করেন। শিব বাবা বলছেন যে - তোমরা হলে আমার বাচ্চা। ব্রহ্মাও বলেন যে - তোমরা হলে আমার সাকারী বাচ্চা। তোমরা কালো পতিত হয়ে গিয়েছিলে। এখন পুনরায় ব্রাহ্মণ হয়েছো। এই সঙ্গম যুগেই তোমরা পুরুষোত্তম দেবী দেবতা হওয়ার জন্য পরিশ্রম করে থাকো। দেবতাদেরকে আর শূদ্রদেরকে কোনও পরিশ্রম করতে হয় না, তোমাদের ব্রাহ্মণদেরকেই পরিশ্রম করতে হয়, দেবতা হওয়ার জন্য। বাবা আসেনই সঙ্গমে। এটা হল অনেক ছোট যুগ, এইজন্য একে লিপ যুগও বলা হয়। একে কেউ জানেই না। বাবাকেও অনেক পরিশ্রম করতে হয়। এমন নয় যে এক সেকেন্ডেই নতুন দুনিয়া তৈরি হয়ে যাবে। তোমাদের দেবতা হতে অনেক সময় লাগে। যে খুব ভাল কর্ম করে, সে ভালো বংশে জন্ম নেয়। এখন তোমরা নম্বরের ক্রমে পুরুষার্থ অনুসারে গুল-গুল (ফুল) তৈরি হচ্ছো। আত্মাই হচ্ছে। এখন তোমাদের আত্মা ভালো কর্ম করা শিখছে। আত্মাই ভালো বা খারাপ সংস্কার নিয়ে যায়। এখন তোমরা গুল-গুল (ফুল) হয়ে ভালো ঘরে জন্ম নিতে থাকবে। এখানে যারা খুব ভালো পুরুষার্থ করে, তো অবশ্যই তারা ভালো বংশে জন্ম নেয়। নম্বরের ক্রমানুসারে তো হয়, তাই না। যেরকম যেরকম কর্ম করে, সেই অনুসারে জন্ম নেয়। যখন খারাপ কর্ম করা আত্মারা সবাই উপরে চলে যায়, তখন পুনরায় স্বর্গের স্থাপনা হয়, বাছাই করা আত্মাদের নিয়ে। যা কিছু তমোপ্রধান আছে, সে সব কিছুই শেষ হয়ে যায়। তারপর নতুন দেবীর দেবতাদের আসা শুরু হয়। যখন ভ্রষ্টাচারী সব শেষ হয়ে যায়, তখন কৃষ্ণের জন্ম হয়, ততক্ষণ অদল-বদল হতে থাকে যখন কোনো ছিঃ-ছিঃ, নোংরা থাকে না, তখন কৃষ্ণ আসে, ততক্ষণ তোমরা আসা-যাওয়া করতে থাকো। কৃষ্ণকে রিসিভ করার জন্য বাবা-মাকেও প্রথম থেকে চাই, তাই না ! তারপর সবকিছুই ভালো ভালো থাকবে। বাকিরা সবাই চলে যাবে, তখনই তাকে স্বর্গ বলা যাবে। তোমরাই কৃষ্ণকে রিসিভ করার জন্য থাকবে। যদিও তোমাদের ছিঃ-ছিঃ জন্ম হবে, কেননা রাবণ রাজ্য, তাই না! শুদ্ধভাবে জন্ম হতে পারবে না। গুল-গুল (পবিত্র) জন্ম কৃষ্ণেরই প্রথমে হবে। তারপর নতুন দুনিয়া বৈকুণ্ঠ বলা যাবে। কৃষ্ণ একদম গুল-গুল ফুলের মত নতুন দুনিয়াতে আসবে। রাবণ সম্প্রদায় একদম সমাপ্ত হয়ে যাবে। কৃষ্ণের নাম তার মা-বাবার থেকেও অনেক বিখ্যাত হবে। কৃষ্ণের মা-বাবার নাম এতটাও বিখ্যাত হবে না। কৃষ্ণের পূর্বে যাদের জন্ম হবে তাদের যোগবলের দ্বারা জন্ম বলা যাবে না। এমন নয় যে, কৃষ্ণের মা-বাবাও যোগবলের দ্বারা জন্ম নেবে। না, যদি এরকম হত তাহলে তাদেরও নাম বিখ্যাত হত। তাই এটাই প্রমাণিত হয় যে, তাঁর মা-বাবা এতটা পুরুষার্থ করেনি, যতটা কৃষ্ণ করেছে। এসব কথা তোমরা পরবর্তীকালে আরো ভালোভাবে বুঝতে পারবে। সম্পূর্ণ কর্মাতীত অবস্থা হল রাধা-কৃষ্ণেরই। তারাই সদ্গতিতে আসে। পাপাত্মারা সব শেষ হয়ে গেলে তখন তাদের জন্ম হয়, তারপর বলা যাবে পবিত্র দুনিয়া, এইজন্য কৃষ্ণের নাম বিখ্যাত হয়। তাঁর মা-বাবার নাম এতটা বিখ্যাত হয় না। পরবর্তীকালে তোমরা অনেক সাক্ষাৎকার করবে। সময় তো আছে, তাই না! তোমরা যে কাউকেই বোঝাতে পারো - আমরা এইরকম হওয়ার জন্য পড়াশোনা করছি। সমগ্র বিশ্বে এঁনাদের রাজ্য এখন স্থাপন হচ্ছে। আমাদের জন্য তো নতুন দুনিয়া চাই। এখন তোমাদেরকে দৈবী সম্প্রদায়ের বলা যাবে না। তোমরা হলে ব্রাহ্মণ সম্প্রদায়। দেবতা তৈরী হচ্ছো। যখন দৈব-সম্প্রদায়ের হয়ে যাবে, তখন তোমাদের আত্মা আর শরীর দুটোই স্বচ্ছ হয়ে যাবে। এখন তোমাদের সঙ্গমযুগী পুরুষোত্তম তৈরী হচ্ছো। এসব হল পরিশ্রমের কথা। স্মরণের দ্বারাই বিকর্মাজিত হতে হবে। তোমরা নিজেরাই বলো যে, বারে বারে বাবার স্মরণ ভুলে যাই। বাবা যখন পিকনিক স্পটে বসেন তখনও বাবার খেয়াল থাকে। আমরা স্মরণে না থাকলে তো বাবা কি বলবেন ! এইজন্য বাবা বলছেন - তোমরা স্মরণে থেকে পিকনিক করো। কর্ম করতে করতেই প্রেমিককে স্মরণ করো, তাহলে বিকর্ম বিনাশ হয়ে যাবে, এতেই পরিশ্রম আছে। স্মরণের দ্বারাই আত্মা পবিত্র হবে, অবিনাশী জ্ঞান ধনও জমা হবে। তারপরও যদি অপবিত্র হয়ে যায় তো সমস্ত জ্ঞান বেরিয়ে যায়। পবিত্রতাই হল মুখ্য। বাবা তো ভালো-ভালো কথাই বোঝাচ্ছেন। এই সৃষ্টির আদি-মধ্য-অন্তের জ্ঞান আর কারো মধ্যেই নেই। আর যেসব সৎসঙ্গ আদি আছে, সেসব হল ভক্তি মার্গের।

 

বাবা বুঝিয়েছেন - ভক্তি বাস্তবে প্রবৃত্তি মার্গে আত্মাদের করতে হয় তোমাদের মধ্যে তো কতখানি শক্তি রয়েছে ঘরে বসেই তোমাদের সুখ প্রাপ্ত হচ্ছে। সর্বশক্তিমান বাবার থেকে তোমরা কতো শক্তি প্রাপ্ত করো। সন্ন্যাসীদের মধ্যেও প্রথমে শক্তি ছিল, যখন তারা জঙ্গলে থাকতো। এখন তো কত বড়-বড় ফ্ল্যাট বানিয়ে থাকে। এখন তাদের মধ্যে সেই শক্তি আর নেই। যেরকম তোমাদেরও প্রথমে সুখের শক্তি থাকে। তারপর আস্তে আস্তে লুপ্ত হয়ে যায়। তাদের মধ্যেও প্রথমে শান্তির শক্তি ছিল, এখন সেই শক্তি আর নেই। আগে তো তারা সত্য কথাই বলতো যে - রচয়িতা আর রচনাকে আমরা জানি না। এখন তো আবার নিজেকেই ভগবান 'শিবোহম্' বলে বসছে। বাবা বোঝাচ্ছেন - এই সময়ে সমস্ত কল্পবৃক্ষ তমোপ্রধান হয়ে গেছে। এইজন্য সাধু আদিদেরও উদ্ধার করার জন্য আমি আসি। এই দুনিয়াই পরিবর্তিত হয়ে যাবে। সমস্ত আত্মারা পুনরায় বাড়ি ফিরে যাবে। এমন একজনও নেই, যার বিষয়ে জানা আছে যে আমার আত্মার মধ্যে অবিনাশী পার্ট ভরা আছে যেটা পুনরায় রিপিট হবে। আত্মা এত ছোট, তার মধ্যে অবিনাশী পার্ট ভরা আছে, যেটা কখনো বিনাশ হয় না। এর জন্য বুদ্ধি অনেক সূক্ষ্ম আর পবিত্র চাই। সেটা তখন হবে, যখন স্মরণের যাত্রায় মত্ত থাকবে। পরিশ্রম ছাড়া পদ প্রাপ্ত হবে না, এইজন্য গাওয়া হয় যে - “চড়ে তো চাখে বৈকুণ্ঠ রস....” (যে যত উপড়ে চড়বে, সে' বৈকুন্ঠ রস পান করতে পারবে) কোথায় সেই উঁচুর থেকে উঁচু রাজাদেরও রাজা ডবল মুকুটধারী আর কোথায় প্রজা। শিক্ষক তো হলেন একজনই এটাই খুব ভালোভাবে বুঝতে হবে। বাবা বারংবার বোঝাচ্ছেন যে - স্মরণের যাত্রাই হলো মুখ্য। আমি তোমাদেরকে পড়িয়ে বিশ্বের মালিক তৈরী করি। তাই টিচার গুরুও হবেন। বাবা তো হলেনই টিচারদেরও টিচার, বাবারও বাবা। বাচ্চারা, এটা তো তোমরা জানো যে - আমাদের বাবা হলেন অত্যন্ত প্রিয়। এইরকম বাবাকে তো অনেক স্মরণ করতে হবে। সম্পূর্ণ রীতিতে পড়তে হবে। বাবাকে স্মরণ না করলে তো পাপ নষ্ট হবে না। বাবা সমস্ত আত্মাদেরকে সাথে করে নিয়ে যাবেন। আর এই শরীর সব শেষ হয়ে যাবে। আত্মারা নিজের নিজের ধর্মের সেকশনে গিয়ে অবস্থান করে। আচ্ছা!

 

মিষ্টি-মিষ্টি হারানিধি বাচ্চাদের প্রতি মাতা-পিতা বাপদাদার স্মরণের স্নেহ-সুমন আর সুপ্রভাত। আত্মাদের পিতা তাঁর আত্মা রূপী বাচ্চাদেরকে জানাচ্ছেন নমস্কার।

 

ধারণার জন্যে মুখ্য সারঃ- ) বুদ্ধিকে পবিত্র বানানোর জন্য স্মরণের যাত্রাতে মেতে থাকতে হবে। কর্ম করতে-করতেও এক প্রেমিকের স্মরণে থাকলে তবেই বিকর্মাজিত হতে পারবে।

 

) এই ছোট্ যুগে মানুষ থেকে দেবতা হওয়ার পরিশ্রম করতে হবে। সুকর্মের অনুসারে ভালো সংস্কারগুলিকে ধারণ করে ভালো বংশে যেতে হবে।

বরদানঃ-নিজের আত্মিক লাইটের দ্বারা বায়ুমন্ডলকে পরিবর্তন করার সেবা করে সহজ সফলতার মূর্তি ভব

যেরকম সাকার সৃষ্টিতে যে রঙের লাইট জ্বালাও, সেইরকমই বাতাবরণ তৈরী হয়ে যায়। যদি সবুজ লাইট হয়, তাহলে চারিদিকে তারই প্রকাশ ছেয়ে যায়। লাল লাইট জ্বললে বাবাকে স্মরণ করার বায়ুমন্ডল তৈরী হয়ে যায়। যখন স্থুল লাইট বায়ুমন্ডলকে পরিবর্তন করে দেয় তাহলে তোমরা লাইট হাউসরাও পবিত্রতার লাইট বা সুখের লাইটের দ্বারা বায়ুমন্ডল পরিবর্তন করার সেবা করো, তাহলে সফলতার মূর্তি হয়ে যাবে। তারা স্থুল লাইট চোখ দিয়ে দেখছে, আত্মিক লাইট অনুভবের দ্বারা জানবে।

স্লোগানঃ-ব্যর্থ কথাতে সময় আর সংকল্প নষ্ট করা - এটাও হলো অপবিত্রতা।

 অব্যক্ত ঈশারা :- স্বয়ং আর সকলের প্রতি মন্সা দ্বারা যোগের শক্তির প্রয়োগ করো

যেকোনও খাজানা কম খরচ করে অধিক প্রাপ্ত করে নেওয়া, এটাই হল যোগের প্রয়োগ। পরিশ্রম কম সফলতা বেশী এই বিধির দ্বারা প্রয়োগ করো। যেরকম সময় আর সংকল্প হলো শ্রেষ্ঠ খাজানা তো সংকল্প খুব কম খরচ হবে কিন্তু প্রাপ্তি বেশী হবে। সাধারণ মানুষ দু-চার মিনিট সংকল্প করার পর, চিন্তা করার পর যে সফলতা বা প্রাপ্তি করতে পারে সেটাই তোমরা এক-দু সেকেন্ডে করতে পারো, একেই বলা হয় কম খরচ করতে পারা ভাগ্যের অধিকারী। খরচ কম করো কিন্তু প্রাপ্তি ১০০ গুণ হবে, এর দ্বারা সময়ের বা সংকল্পের যে সঞ্চয় হবে, সেটা অন্যদের সেবাতে লাগাতে পারবে, দান পূণ্য করতে পারবে, এটাই হল যোগের প্রয়োগ।

https://bkrajyogpathshala.blogspot.com/

01-04-2026 Bengali Murli

 মিষ্টি বাচ্চারা - বাচ্চারা, বাবা যা, বাবা ঠিক যেমন, তোমরা বাচ্চারাও তাঁকে নম্বর ক্রমানুসারেই চিনেছো, যদি সকলেই তাঁকে চিনে গেলে তবে তো অত্যন...