Tuesday, March 31, 2026

01-04-2026 Bengali Murli

 মিষ্টি বাচ্চারা - বাচ্চারা, বাবা যা, বাবা ঠিক যেমন, তোমরা বাচ্চারাও তাঁকে নম্বর ক্রমানুসারেই চিনেছো, যদি সকলেই তাঁকে চিনে গেলে তবে তো অত্যন্ত ভীড় জমে যাবে"

প্রশ্নঃ - চতুর্দিকে প্রত্যক্ষতার আওয়াজ কখন ছড়িয়ে পড়বে?

উত্তরঃ - যখন মানুষ জানবে যে স্বয়ং ঈশ্বর এই পুরানো দুনিয়ার বিনাশ করে নতুন দুনিয়া স্থাপন করতে এসেছেন। ২) আমাদের সকলের সদ্গতিদাতা বাবা আমাদের ভক্তির ফল প্রদান করতে এসেছেন। এই নিশ্চয় থাকলে তবেই প্রত্যক্ষতা হয়ে যাবে। চতুর্দিকে হৈচৈ শুরু হয়ে যাবে।

গীতঃ- যে প্রিয়তমের সাথে আছে...

ওম্ শান্তি । বাচ্চারা গানের দুটি লাইন শুনেছে। যে প্রিয়তমের সাথে রয়েছে, এখন এই প্রিয়তমটি কে ! তা এই জগৎ জানে না। যদিও অসংখ্য বাচ্চা আছে, তবুও তার মধ্যে অনেকেই আছে যারা জানে না যে কিভাবে বাবাকে স্মরণ করা উচিত। সেইভাবে স্মরণ করতে জানে না। প্রতি মুহূর্তে ভুলে যায়। বাবা বোঝান - বাচ্চারা, নিজেকে আত্মা মনে করো, আমি হলাম বিন্দু। বাবা জ্ঞানের সাগর, তাঁকেই স্মরণ করতে হবে। স্মরণের যেন এমন অভ্যাস হয়ে যায় যে নিরন্তর স্মরণ চলতে থাকে। পরে যেন এটাই স্মরণে থাকে যে, আমি আত্মা, শরীরও আছে কিন্তু এই জ্ঞান বুদ্ধিতে রাখতে হবে যে, আমি আত্মা। বাবার ডায়রেক্শন পেয়েছো যে, আমি যা সেইরূপে কোনো বিরল ব্যক্তিই স্মরণ করে। বাচ্চারা অত্যন্ত দেহ-অভিমানে থাকে। বাবা বোঝান - কাউকে যতক্ষণ না পর্যন্ত বাবার পরিচয় দিয়েছো ততক্ষণ পর্যন্ত কিছুই বুঝতে পারবে না। প্রথমে তো তারা এটাই জানুক যে সেই নিরাকার আমাদের বাবা, গীতার ভগবান, সকলের সদ্গতিদাতা। তিনি এখন সদ্গতি দানের পার্ট প্লে করছেন। এই পয়েন্টে যদি নিশ্চয়বুদ্ধি হয়ে যায় তবে এত যে সাধু-সন্তাদি রয়েছে সকলেই এক সেকেন্ডে চলে আসবে। ভারতে বড় হৈচৈ শুরু হয়ে যাবে। এখন যদি জানতে পারে যে এই জগৎ বিনাশপ্রাপ্ত হবে, এই কথায় যদি নিশ্চয় হয়ে যায় তবে মুম্বই থেকে আবু পর্যন্ত লাইন পড়ে যাবে। কিন্তু এত শীঘ্র কারোর নিশ্চয় আসতে পারে না। তোমরা জানো যে বিনাশ হবে, এরা সকলে গভীর নিদ্রায় ঘুমিয়ে থাকবে। পুনরায় অন্তিম সময়ে তোমাদের প্রভাব দেখা যাবে। মাসির বাড়ি যাওয়ার মতো সহজ ব্যাপার নয় যে এই কথায় নিশ্চয় হয়ে যাবে যে, গীতার ভগবান পরমপিতা পরমাত্মা শিব। এ'কথা প্রসিদ্ধ হয়ে গেলে সমগ্র ভারতে আওয়াজ উঠবে। এখন তো তোমরা একজনকে বোঝালে অন্যে বলবে তোমরা মোহজালে আবদ্ধ হয়ে গেছো। এই বৃক্ষ অতি ধীরে-ধীরে বৃদ্ধি পাবে। সময় এখন সামান্যই রয়েছে তবুও পুরুষার্থ করতে কোনো অসুবিধা নেই। তোমরা গন্যমান্যদের বোঝাও, কিন্তু তারা কি কিছু বোঝে নাকি! বাচ্চাদের মধ্যেও অনেকেই এই নলেজকে বোঝে না। বাবার স্মরণেও নেই তাই তেমন স্থিতিও নেই। বাবা জানেন যে নিশ্চয় কাকে বলে। মুশকিলই এখন ১-২ শতাংশই হবে যারা বাবাকে স্মরণ করে। যদিও এখানে বসে রয়েছে, বাবার সঙ্গে সেই ভালোবাসা থাকে না। এরজন্য ভালোবাসা চাই, ভাগ্য চাই। বাবার সঙ্গে ভালোবাসা থাকলে তবেই বুঝবে, প্রতিটি পদক্ষেপে আমাদের বাবার শ্রীমতানুসারে চলতে হবে। আমরা বিশ্বের মালিক হয়ে যাই। আধাকল্পের দেহ-অভিমান বসে রয়েছে তাই এখন দেহী-অভিমানী হতে অত্যন্ত পরিশ্রম লাগে। নিজেকে আত্মা মনে করে প্রিয়তম বাবাকে স্মরণ করা মাসির বাড়ি যাওয়ার মতো সহজ নয়। তাদের চেহারাতেই ঔজ্জ্বল্য থাকবে। কন্যা যখন বিয়ে করে, অলঙ্কারাদি পড়ে তখন তার চেহারায় খুশী সম্পূর্ণরূপে ধরা পড়ে। কিন্তু এখানে তো প্রিয়তমকে স্মরণই করে না, সে'জন্য চেহারা ঔজ্জ্বল্যহীন হয়ে থাকে। সে'কথা আর জিজ্ঞাসা কোরো না। কন্যা যখন বিয়ে করে তখন তার চেহারা খুশীতে ভরে যায়। কারো-কারোর মুখ তো আবার বিয়ের পরেও মৃত মানুষের মতন থাকে। নানারকমের হয়। কেউ আবার অন্য ঘরে (পরগৃহে) গিয়ে দুঃখী হয়ে পড়ে। এখানেও এমন হয়। বাবাকে স্মরণ করতেই পরিশ্রম। এই গায়ন অন্তিম সময়ের যে অতীন্দ্রিয় সুখের কথা গোপী-বল্লভের গোপ-গোপিনীদের কাছে জিজ্ঞাসা করো। নিজেকে গোপ-গোপিনী মনে করা আর নিরন্তর বাবার স্মরণে থাকা, এমন স্থিতি হতে হবে। বাবার পরিচয় সকলকে দিতে হবে। বাবা এসেছেন, তিনি উত্তরাধিকার প্রদান করছেন। এরমধ্যেই সমগ্র জ্ঞান চলে আসে। লক্ষ্মী-নারায়ণ যখন ৮৪ জন্ম সম্পূর্ণ করে তখন বাবা অন্তিমে এসে রাজযোগ শিখিয়ে রাজত্ব প্রদান করেন। লক্ষ্মী-নারায়ণের এই চিত্রই নম্বর ওয়ান। তোমরা জেনেছো যে তাঁরা পূর্বজন্মে এমন কর্ম করেছিলেন, সেই কর্মই বাবা এখন শেখাচ্ছেন। তিনি বলেন - মন্মনাভব, পবিত্র হয়ে থাকো। কোনও পাপ ক'রো না কারণ তোমরা এখন স্বর্গের মালিক, পুণ্যাত্মা হতে চলেছো। অর্ধেক কল্প ধরে মায়া রাবণ পাপ করিয়ে এসেছে। এখন নিজেকে জিজ্ঞাসা করতে হবে - আমার দ্বারা কোনো পাপ হয়ে যাচ্ছে না তো? পুণ্যকর্ম করে কি? অন্ধের লাঠি হয়েছি কি? বাবা বলেন - "মন্মনাভব" । এও জিজ্ঞাসা করতে হয় যে মন্মনাভব কে বলেছেন? ওরা বলবে কৃষ্ণ বলেছে। তোমরা বিশ্বাস করো যে পরমপিতা পরমাত্মা শিব বলেছেন। রাত-দিনের পার্থক্য। শিব-জয়ন্তীর সঙ্গে গীতা-জয়ন্তীও রয়েছে। গীতা-জয়ন্তীর সঙ্গে কৃষ্ণ-জয়ন্তী। তোমরা জানো যে আমরা ভবিষ্যতে প্রিন্স হবো। বেগার টু প্রিন্স হতে হবে। এটাই হলো রাজযোগের এইম অবজেক্ট। তোমরা প্রমাণ করে বলো যে গীতার ভগবান শ্রীকৃষ্ণ ছিল না, তিনি ছিলেন নিরাকার। তাহলেই সর্বব্যাপীর জ্ঞান উড়ে যাবে। সকলের সদ্গতিদাতা, পতিত-পাবন হলেন বাবা। বলাও হয় যে তিনি হলেন মুক্তিদাতা, পুনরায় সর্বব্যাপী বলে দেয়। যা কিছু বলে, তা বোঝে না। ধর্মের বিষয়ে যা কিছু (মনে) আসে তাই বলে দেয়। মুখ্য ধর্ম হলো তিনটি। দেবী-দেবতা ধর্ম অর্ধেককল্প চলে। তোমরা জানো বাবা ব্রাহ্মণ, দেবতা, ক্ষত্রিয় ধর্ম স্থাপন করেন। এই জগৎ তা জানে না। ওরা তো সত্যযুগকেই লক্ষ-লক্ষ বছর বলে দিয়েছে। আদি সনাতন দেবী-দেবতা ধর্ম সর্বাপেক্ষা উচ্চ। কিন্তু এরা নিজেদের ধর্মকে ভুলে ধর্মবিমুখ (অধার্মিক) হয়ে পড়েছে। খ্রীস্টানরা নিজেদের ধর্মকে ত্যাগ করে না। ওরা জানে - খ্রাইস্টই আমাদের ধর্মের স্থাপনা করেছিলেন। ইসলাম, বৌদ্ধ, তারপর খ্রীস্টান, এই হলো মুখ্য ধর্ম। এছাড়া ছোট-ছোট অনেক রয়েছে। কোথা থেকে বৃদ্ধি পেয়েছে? তা কেউ জানে না। (হজরত) মহম্মদের এখন অল্পসময়ই হয়েছে, ইসলাম পুরোনো। খ্রীস্টানও বিখ্যাত। এছাড়া কত অসংখ্য রয়েছে। সকলের নিজের-নিজের ধর্ম রয়েছে। নিজেদের বিভিন্ন ধর্ম, বিভিন্ন নাম রয়েছে তাই বিভ্রান্ত হয়ে গেছে। এ'কথা জানে না যে মুখ্য ধর্মশাস্ত্র রয়েছে ৪টি। এরমধ্যে দেবত্ব, ব্রাহ্মণত্বও এসে যায়। ব্রাহ্মণ তথা দেবতা, দেবতা তথা ক্ষত্রিয়, তা কারোর জানা নেই। গীতও গায় ব্রাহ্মণ দেবতায় নমঃ। পরমপিতা ব্রাহ্মণ, দেবতা, ক্ষত্রিয় ধর্মই স্থাপন করেছেন। শব্দ গুলোও রয়েছে, কিন্তু পড়ে এমনভাবে যেন তোতাপাখি। এ হলো কাঁটার জঙ্গল। ভারত গার্ডেন অফ ফ্লাওয়ার ছিল, তা মানে। কিন্তু তা কখন, কিভাবে, কে করেছিল, পরমাত্মা কি বস্তু, তা কেউই জানে না। তবেই তো অনাথ হয়ে গেছে, তাই না! সেইজন্যই এই লড়াই-ঝগড়া ইত্যাদি হয়। কেবল ভক্তি করেই খুশীতে থাকে। এখন বাবা এসেছেন আলোকজ্জ্বল করতে, সেকেন্ডে জীবনমুক্তি দেন। অজ্ঞান অন্ধকার বিনাশের জন্য সদ্গুরু জ্ঞান-অঞ্জন দিয়েছেন। তোমরা এখন জানো যে আমরা আলোয় রয়েছি। বাবা তৃতীয় নেত্র প্রদান করেছেন। যদিও দেবতাদের ত্রিনেত্র দেখানো হয়েছে কিন্তু অর্থ কিছুই জানে না। বাস্তবে ত্রিনেত্র রয়েছে তোমাদের। ওরা (অজ্ঞানী) আবার তা দিয়ে দিয়েছে দেবতাদের। গীতায় ব্রাহ্মণদের কোনো কথাই নেই। তাতে আবার কৌরব, পান্ডবাদির লড়াই, ঘোড়ার গাড়ি(রথ) ইত্যাদি লিখে দিয়েছে, কিছুই বোঝে না। তোমরা বোঝালে বলবে যে, তোমাদের শাস্ত্রাদির প্রতি বিশ্বাস নেই। তোমরা বলতে পারো যে, জানো কি! আমরা শাস্ত্রকে কেন মান্য করি না ! কারণ এ'সব ভক্তিমার্গের সামগ্রী। গায়নও রয়েছে, জ্ঞান আর ভক্তি। যখন রাবণ-রাজ্য আসে তখন ভক্তি শুরু হয়। ভারতবাসী বাম-মার্গে গিয়ে ধর্মভ্রষ্ট এবং কর্মভ্রষ্ট হয়ে যায় তাই এখন হিন্দু বলা হয়। অপবিত্র হয়ে গেছে। অপবিত্র কে করেছে? রাবণ । রাবণকে দহন করা হয়, মনে করে যে এ তো পরম্পরাগতভাবে হয়ে আসছে। কিন্তু সত্যযুগে তো রাবণ-রাজ্য ছিলই না। কিছুই বোঝে না। মায়া সম্পূর্ণ প্রস্তরবুদ্ধিসম্পন্ন করে দেয়। পাথর থেকে পারশে পরিণত বাবা-ই করেন। যখন (বাবা) আয়রন-এজে (কলিযুগে) আসবেন তখনই তো গোল্ডেন এজ (সত্যযুগ) স্থাপন করবেন। বাবা বোঝাতে থাকেন তবুও এ'কথা অত্যন্ত মুশকিলই কারোর বুদ্ধিতে বসে। তোমাদের অর্থাৎ কুমারীদের এখন বাগদান হয়। তোমাদের পাটরানী করেন। তোমাদের ভাগিয়ে নিয়ে গেছিল অর্থাৎ আত্মা-রূপী তোমাদের বলেন - তোমরা আমার ছিলে এখন তোমরা আমায় ভুলে গেছো। দেহ- অভিমানী হয়ে মায়ার বশে হয়ে যাও। এছাড়া ভাগিয়ে নিয়ে যাওয়ার তো কোনো কথাই নেই। মামেকম্ স্মরণ করো। স্মরণেই পরিশ্রম। অনেকেই দেহ-অভিমানে এসে বিকর্ম করে। বাবা জানেন যে এই আত্মা আমায় স্মরণই করে না। দেহ-অভিমানে এসে অনেক পাপ করে তাই পাপের ঘড়া শতগুণ ভরে যায়। অন্যদের মার্গদর্শনের পরিবর্তে স্বয়ং-ই ভুলে যায়। আরোই অধিক দুর্গতি ভোগ করে। লক্ষ্য অনেক উঁচু। উত্তরণে (চড়লে) বৈকুন্ঠ-রস চাখতে পারবে, অধঃপতনে চুর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে যাবে। এই রাজত্ব স্থাপিত হচ্ছে। দেখো, এতে কত পার্থক্য হয়ে যায়। কেউ আবার অধ্যয়ন করে আকাশে উঠে যায়, কেউ ভূমিতে পড়ে যায়। বুদ্ধি ডাল (প্রখরতা নেই) তাই পড়তে পারে না। কেউ-কেউ বলে - বাবা আমরা কাউকে বোঝাতে পারি না। আমি বলি -- আচ্ছা, কেবল নিজেকে আত্মা মনে করো, আমাকে অর্থাৎ বাবাকে স্মরণ করো তাহলেই আমি তোমাদের সুখ প্রদান করবো। কিন্তু স্মরণই করে না। স্মরণ করলে তবেই তো অন্যদের স্মরণ করাতে থাকবে। বাবাকে স্মরণ করলে পাপ বিনষ্ট হয়ে যায়। তাঁকে স্মরণ ব্যতীত তোমরা সুখধামে যেতে পারবে না। ২১ জন্মের উত্তরাধিকার বাবার থেকেই প্রাপ্ত হতে পারে। বাকি সকলেই তো অল্পসময়ের জন্য সুখ দিয়ে থাকেন। কেউ রিদ্ধি-সিদ্ধির (জাদু) দ্বারা সন্তান প্রাপ্ত করে বা আশীর্ব্বাদের দ্বারা লটারি পেয়ে যায়, ব্যস্ তখন বিশ্বাস হয়ে যায়। কারোর যদি ২-৪ কোটি লাভ হয়ে যায় তখন অত্যন্ত মহিমা করতে থাকবে। কিন্তু তা হলো অল্প সময়ের জন্য। ২১ জন্মের জন্য তো হেল্থ-ওয়েল্থ পেতে পারে না। কিন্তু মানুষ তা জানে না। দোষ দেওয়াও যেতে পারে না। অল্পসময়ের সুখেই খুশী হয়ে যায়। বাচ্চারা, বাবা তোমাদের রাজযোগ শিখিয়ে স্বর্গের রাজত্ব প্রদান করেন। কত সহজ। কেউ তো একদমই বোঝাতে পারে না। কেউ বুঝতেও পারে কিন্তু যোগযুক্ত না থাকার কারণে কারোর তীর লাগে না। দেহ-অভিমানে আসার কারণে কিছু না কিছু পাপ হতেই থাকে। যোগই মুখ্য। তোমরা যোগবলের দ্বারাই বিশ্বের মালিক হও। প্রাচীন যোগ ঈশ্বরই শিখিয়েছিলেন, শ্রীকৃষ্ণ নয়। স্মরণের যাত্রা অত্যন্তই ভাল। তোমরা নাটক দেখে এলে সবকিছু তোমাদের সামনে বুদ্ধিতে চলে আসবে। কাউকে বলতে সময় লাগবে। এও তেমনই। বীজ এবং বৃক্ষ। এই চক্র অত্যন্ত পরিষ্কার। শান্তিধাম, সুখধাম, দুঃখধাম... সেকেন্ডের কাজ, তাই না! কিন্তু স্মরণে থাকবে, তবেই না! মুখ্য বিষয় হলো বাবার পরিচয়। বাবা বলেন - আমাকে স্মরণ করলে তোমরা সবকিছু জেনে যাবে। আচ্ছা। বাচ্চারা, শিববাবা তোমাদের স্মরণ করেন, ব্রহ্মাবাবা স্মরণ করেন না। শিববাবা জানেন যে কোন্-কোন্ বাচ্চারা আমার সুপুত্র। সার্ভিসেবেল সুসন্তানদের তিনি স্মরণ করেন। ইনি(ব্রহ্মা) কি কাউকে স্মরণ করবেন নাকি, না তা করবেন না। এনার আত্মাকেও তো ডায়রেক্শন দেওয়া রয়েছে - মামেকম্ স্মরণ করো। আচ্ছা!


মিষ্টি-মিষ্টি হারানিধি বাচ্চাদের প্রতি মাতা-পিতা বাপদাদার স্মরণের স্নেহ-সুমন আর সুপ্রভাত। আত্মাদের পিতা তাঁর আত্মা-রূপী বাচ্চাদেরকে জানাচ্ছেন নমস্কার।


ধারণার জন্যে মুখ্য সারঃ-১ ) সৌভাগ্যশালী হওয়ার জন্য অদ্বিতীয় পিতার সঙ্গে সত্যিকারের ভালোবাসার সম্পর্ক রাখতে হবে। ভালবাসা অর্থাৎ প্রতিটি পদক্ষেপে একজনের শ্রীমতানুসারেই চলতে থাকা।


২ ) প্রত্যহ পুণ্য কর্ম অবশ্যই করতে হবে। সর্বাপেক্ষা বড় পুণ্য হলো সকলকে বাবার পরিচয় দেওয়া। বাবাকে স্মরণ করা এবং সকলকে স্মরণ করানো।


বরদানঃ-নিজের দৃষ্টি এবং বৃত্তি পরিবর্তনের দ্বারা সৃষ্টি পরিবর্তনকারী সাক্ষাৎকার মূর্তি ভব

নিজের বৃত্তি পরিবর্তনের মাধ্যমে দৃষ্টিকে দিব্য করো তবেই তোমাদের দৃষ্টি দ্বারা অনেক আত্মা তাদের যথার্থ স্বরূপ, যথার্থ ঘর, তথা যথার্থ রাজধানী দেখতে পাবে। এমনই যথার্থ সাক্ষাৎকার করানোর জন্য বৃত্তির মধ্যে সামান্যতম দেহ-অভিমানের চঞ্চলতা যেন না থাকে। বৃত্তি সংশোধনের মাধ্যমে যখন দৃষ্টিকে দিব্য করবে , তখনই এই সৃষ্টির পরিবর্তন হবে। যারা দেখবে তারা অনুভব করবে যে এই চোখ কোনও সাধারণ নয়, এ যেন এক জাদুর কৌটো। এই চোখই তখন সাক্ষাৎকারের সাধন হয়ে উঠবে।

স্লোগানঃ- সেবার উৎসাহ-উদ্দীপনার সাথে, অসীমের বৈরাগ্য বৃত্তিই হলো সফলতার আধার।

 

অব্যক্ত ইশারা :- মহান হওয়ার জন্য মধুর এবং নম্রতার গুণ ধারণ করো

মধুরতার গুণ ধারণকারী এখানেও মহান হয় আর সেখানেও মর্যাদা লাভ করে। মধুরতা সম্পন্নদের সকলেই মহান রূপে দেখে। সুতরাং মধুরতার এই বিশেষ গুণ প্রতিটি বাচ্চার মধ্যে থাকা উচিত। মধুরতার মধু যাদের সঙ্গে আছে তাদের প্রতিটি কাজে সফলতা নিশ্চিত। তাদের জীবন থেকে অসফলতা সমাপ্ত হয়ে যাবে।

Tuesday, March 24, 2026

25-03-2026 Bengali Murli

 "মিষ্টি বাচ্চারা - তোমরা হলে মহাবীর, মায়ার ঝড় দেখে তোমাদের ভয় পেতে নেই, এক বাবা ব্যতীত আর কারোর পরোয়া করো না, পবিত্র অবশ্যই হতে হবে"


প্রশ্নঃ -

বাচ্চাদের মধ্যে কোন্ সাহস থাকলে তবেই খুব উচ্চ পদ প্রাপ্ত করতে পারবে?


উত্তরঃ  

শ্রীমৎ অনুযায়ী চলে পবিত্র থাকার। যদি অনেক ঝামেলা হয়, অনেক বিপর্যয়ও সহ্য করতে হয় - কিন্তু বাবা পবিত্র হওয়ার যে শ্রেষ্ঠ মত দিয়েছেন সেই অনুযায়ী নিরন্তর চলতে থাকলে অনেক উচ্চ পদ প্রাপ্ত করতে পারবে। কোনো ব্যাপারে ভয় পাওয়ার নেই, যাই কিছু হোক না কেন...নাথিং নিউ।


গীতঃ-

ভোলানাথের থেকে অনুপম আর কেউ নেই...


ওম্ শান্তি ।

এ হলো ভক্তি মার্গের লোকেদের গান। জ্ঞান মার্গে গান ইত্যাদির কোনো দরকার নেই কারণ বলা হয়েছে যে বাবার থেকে আমাদের অসীম জগতের উত্তরাধিকার প্রাপ্ত হয় ভক্তি মার্গের যে সব নিয়ম-রীতি সেই সব এক্ষেত্রে আসতে পারে না। বাচ্চারা কবিতা ইত্যাদি তৈরী করে সেইটা আর সবাইকে শোনানোর জন্য। তার অর্থও যতোক্ষণ তোমরা না বোঝাবে ততক্ষণ কেউ বুঝতে পারবে না। এখন তোমরা অর্থাৎ বাচ্চারা বাবাকে পেয়েছো বলে খুশীর পারদ উপরে ওঠা উচিত। বাবা ৮৪ জন্মের চক্রের নলেজও শুনিয়েছেন। খুশী হওয়া উচিত - আমরা এখন স্বদর্শন চক্রধারী হয়েছি। বাবার থেকে বিষ্ণুপুরীর উত্তরাধিকার প্রাপ্ত করছি। সুনিশ্চিত বুদ্ধিই বিজয়ন্তী অর্থাৎ বিজয় লাভ করে। যারা সুনিশ্চিত থাকে তারা সত্যযুগে যাবেই। তাই বাচ্চাদের সর্বদা খুশী থাকা উচিত - ফলো ফাদার। বাচ্চারা জানে যে, শিববাবা যেই দিন থেকে এনার (ব্রহ্মা) মধ্যে প্রবেশ করেছেন তো খুব ঝামেলা হয়েছে। পবিত্রতার উপরে খুবই ঝগড়া চলেছে। বাচ্চারা বড় হলে, বলবে বিবাহ করো, বিবাহ না করে চলবে কি করে। মানুষ যদিও গীতা পড়ে কিন্তু বোঝে না কিছুই। সবচেয়ে বেশী অভ্যাস ছিল বাবার (ব্রহ্মা)। একদিনও গীতা পাঠ করা মিস্ করতেন না। যখন জানতে পারলেন গীতার ভগবান হলেন শিব, নেশা চড়ে গেল আমি তো বিশ্বের মালিক হচ্ছি। এইটা তো হলো শিব ভগবানুবাচ, তবুও পবিত্রতারও খুবই ঝামেলা হলো। এতে তো বাহাদুরি চাই, তাই না! তোমরা হলেই মহাবীর- মহাবীরনী। সেই এক ব্যাতীত আর কারোর পরোয়া নেই। পুরুষ হলো রচয়িতা, রচয়িতা নিজেই পবিত্র হলে রচনাকে পবিত্র রূপে তৈরী করেন। ব্যস্! এই ব্যাপারেই খুব ঝগড়া চলে। বড়-বড় ঘর থেকে বেরিয়ে আসে। কারোরই পরোয়া করেনি। যাদের ভাগ্যে নেই তো বুঝবেই বা কি করে। পবিত্র থাকতে চাইলে থাকো, না হলে গিয়ে নিজের ব্যবস্থা নিজে করো। এতো সাহস তো থাকা চাই না! বাবার সামনে কতো ঝামেলা হয়েছে। বাবাকে কখনো মুষরে পড়তে দেখেছো? আমেরিকা পর্যন্ত সংবাদপত্রে বেরিয়ে গেছে। নাথিং নিউ। এইটা তো পূর্ব কল্পের ন্যায় হচ্ছে, এতে ভয়ের কি আর আছে। আমাদের তো নিজের বাবার কাছ থেকে উত্তরাধিকার নিতে হবে। নিজের রচনাকে বাঁচাতে হবে। বাবা জানেন যে সমস্ত ক্রিয়েশন হলো এই সময় পতিত। সবাইকে আমারই পবিত্র করে তুলতে হবে বাবাকেই সকলে বলে হে পতিত-পাবন, লিবরেটর এসো, তো ওনারই সহানুভূতি জাগে। করুণাময় যে না! তাই বাবা বোঝান- বাচ্চারা, কোনো ব্যাপারেই ভয় পেও না। ভয় পেলে এতো উচ্চ পদ প্রাপ্ত করতে পারবে না। মাতাদের উপরেই অত্যাচার হয়। এরও উদাহরণ রয়েছে - দ্রৌপদীর বস্ত্র হরণ । বাবা ২১ জন্মের জন্য নগ্ন হওয়া থেকে বাঁচিয়ে দেন। দুনিয়া এই কথাটা জানে না। পতিত তমোপ্রধান পুরানো সৃষ্টিও হবেই। প্রতিটি জিনিস নতুন থেকে আবার পুরানো অবশ্যই হবে। পুরানো নিবাস স্থল অবশ্যই ত্যাগ করতেই হয়। নূতন দুনিয়া গোল্ডেন এজ্, পুরানো দুনিয়া আয়রণ এজ্.... সর্বদা তো থাকতে পারে না। বাচ্চারা, তোমরা জানো যে - এইটা হলো সৃষ্টি চক্র। দেবী-দেবতাদের রাজ্য পুনরায় স্থাপিত হচ্ছে। বাবাও বলেন আবার তোমাদের গীতা জ্ঞান শোনাচ্ছি। এখানে রাবণ রাজ্যতে আছে দুঃখ। রামরাজ্য কাকে বলা হয়, এইটাও কেউ বোঝে না। বাবা বলেন আমি স্বর্গ অথবা রামরাজ্য স্থাপনা করতে এসেছি। তোমরা অর্থাৎ বাচ্চারা অনেক বার রাজত্ব পেয়েছো আর তারপর হারিয়েছো। এইটা সকলের বুদ্ধিতে আছে। ২১ জন্ম আমরা সত্যযুগে থাকি, সেইটাকে বলা হয় ২১ প্রজন্ম অর্থাৎ যখন বৃদ্ধাবস্থা হয় তখন শরীর ত্যাগ করে। কখনো অকাল মৃত্যু হয় না। এখন তোমরা যেন ত্রিকালদর্শী হয়ে উঠেছো। তোমরা জানো শিববাবা কে? শিবের মন্দিরও অনেক তৈরী করেছে। মূর্তি তো বাড়ীতেও রাখতে পারে, তাই না! কিন্তু ভক্তি মার্গও ড্রামাতে নির্ধারিত। বুদ্ধি দিয়ে কাজ করতে হয়। কৃষ্ণের অথবা শিবের মূর্তি বাড়ীতেও রাখা যেতে পারে। জিনিস তো হলো একই। তবে এতো দূরে দূরে কেন যাও ? ওদের কাছে গেলে কি কৃষ্ণপুরীর উত্তরাধিকার প্রাপ্ত হবে? এখন তোমরা জানো যে, জন্ম-জন্মান্তর আমরা ভক্তি করে এসেছি। রাবণ রাজ্যেরও কতো আড়ম্বর দেখো। এইসব হলো শেষের দিকের আড়ম্বর। রামরাজ্য তো ছিলো সত্যযুগে, সেখানে এই বিমান ইত্যাদি সব ছিলো, আবার বিলুপ্ত হয়ে গেছে। আবার এই সময়ে সবকিছু বের হয়েছে। এখন এই সব শিখছে, যারা শেখার তারা সংস্কার নিয়ে যাবে। সেখানে এসে আবার বিমান তৈরী করবে। ভবিষ্যতে এইটা তোমাদের কাছে সুখদায়ক হবে। এই সায়েন্স আবার তোমাদের কাজে আসবে। এখন এই সায়েন্স হলো দুঃখের জন্য - সেইখানে আবার সুখের জন্য হবে। এখন স্থাপনা চলছে। বাবা নতুন দুনিয়ার জন্য রাজধানী স্থাপন করছেন, বাচ্চারা- তাই তো তোমাদের মহাবীর হতে হবে। দুনিয়াতে এইটা লোকে কমই জানে যে ভগবান এসেছেন। বাবা বলেন ঘর গৃহস্থে থেকেও কমল ফুলের মতন পবিত্র থাকো, এতে ভয়ের কিছু নেই। অনেক গালি দেবে। গালি তো ইনিও অনেক পেয়েছেন। কৃষ্ণ গালি খেয়েছে- এইরকম দেখানো হয়। এখন কৃষ্ণ তো গালি খেতে পারে না। গালি তো কলিযুগে খায়। তোমাদের যে রূপ এখন আছে - কল্পের শেষে আবার এই সময়ে হবে। মধ্যবর্তী সময়ে কখনো হতে পারে না। জন্ম বাই জন্ম ফিচার্স পরিবর্তিত হতে থাকে, এই ড্রামা তৈরী হয়েই আছে। ৮৪ জন্মতে যারা যে রকম (ফিচার্স) জন্মেছিলো তারাই জন্ম গ্রহণ করবে। এখন তোমরা জানো এই ফিচার্স পরিবর্তন করে অন্য জন্মে এই লক্ষ্মী-নারায়ণের ফিচার্স হয়ে যাবে। তোমাদের বুদ্ধির তালা এখন খুলেছে। এইটা হলো নূতন কথা। বাবাও নতুন, কথাও নতুন। এই কথা কেউ তাড়াতাড়ি বুঝতে পারে না। যখন ভাগ্যে থাকবে তখন কিছু বুঝবে। এছাড়া মহাবীর তাদের বলা হয় যারা কি না যতই ঝড়ঝঞ্ঝা আসুক না কেন, অনড় থাকে। এখন সেই অবস্থা হতে পারে না। হবে অবশ্যই। মহাবীর কোনো ঝড়ে ভয় পাবে না। সেই অবস্থা শেষে হবে- সেইজন্য গাওয়া হয়েছে অতীন্দ্রিয় সুখ গোপ-গোপীদের জিজ্ঞাসা করো। বাচ্চারা, বাবা এসেছেন তোমাদের স্বর্গের যোগ্য করে গড়ে তুলতে। পূর্ব কল্পের ন্যায় নরকের বিনাশ হতেই হবে। সত্যযুগে তো একই ধর্ম হবে। চাহিদাও থাকে অখন্ডতার, এক ধর্ম হওয়া উচিত। এইটাও কারোর জানা নেই যে রামরাজ্য, রাবণ রাজ্য হলো আলাদা- আলাদা। এখন বাবার প্রতি দৃঢ় বিশ্বাস থাকলে শ্রীমৎ অনুযায়ী চলতে হবে। প্রত্যেকের নাড়ী দেখা হয়। সেই অনুযায়ী আবার রায়ও দেওয়া হয়ে থাকে। বাবাও বাচ্চাদের বলেছেন- যদি বিবাহ করতে হয় তো যাও গিয়ে করো। অনেক বন্ধু-পরিচিত ইত্যাদি বসে আছে, ওদের বিবাহ করিয়ে দেবে। তবুও কেউ না কেউ বেরিয়ে যায়। তাই প্রত্যেকের নাড়ী দেখা হয়। জিজ্ঞাসা করে বাবা এই অবস্থা, আমি পবিত্র থাকতে চাই, আমার আত্মীয় আমাকে বাড়ী থেকে বের করে, এখন কি করা উচিত? আরে, এটাও জিজ্ঞাসা করছো, পবিত্র থাকতে হবে, যদি না থাকতে পারো তো গিয়ে বিবাহ করো। আচ্ছা, মনে করো কারোর আশীর্বাদ (বিবাহের পাকা কথা) হয়েছে, খুশী হতে হবে, এইটা কোনো ব্যাপার না। বিবাহের সময় যখন হাতে গাঁটছড়া বাঁধে সেই সময় বলে এই পতি হলো তোমার গুরু। আচ্ছা, তুমি তাকে দিয়ে লিখিয়ে নাও, তুমি মানছো যে আমি তোমার গুরু ঈশ্বর, লেখো। আচ্ছা, এখন আমি আদেশ দিচ্ছি পবিত্র থাকতে হবে। এর জন্য তো সাহস চাই, তাই না ! লক্ষ্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ যে। প্রাপ্তি খুবই মহান। কামের আগুন তখনই লাগে যখন প্রাপ্তি সম্বন্ধে অবগত থাকে না। বাবা বলেন - এতো বড় প্রাপ্তি হয় যখন, তবে এক জন্ম পবিত্র থাকা কী এমন বড় কথা হলো ! আমি হলাম তোমার পতি, ঈশ্বর। আমার অজ্ঞাতেই পবিত্র থাকতে হবে। বাবা যুক্তি গুলি বলে দেন। ভারতে এইটা হলো রীতি - স্ত্রীকে বলে দেয় তোমার স্বামী হলো ঈশ্বর। তার আদেশ পালন করে থাকতে হবে। স্বামীর পা টিপতে হবে, কারণ মনে করে লক্ষ্মীও নারায়ণের পা টিপে দিতেন। এই অভ্যাস কোথা থেকে এলো? ভক্তি মার্গের চিত্র থেকে। সত্যযুগে তো এইরকম ব্যাপার হয় না। নারায়ণ কি আর কখনো ক্লান্ত হয়ে পড়ে, যে লক্ষ্মী পা টিপবে! ক্লান্ত হওয়ার তো কোনো প্রশ্নই নেই। এ'সব হলে তো দুঃখের ব্যাপার হয়ে যায়। সেইখানে দুঃখ-কষ্ট কোথা থেকে আসে। তখন বাবা ফটো থেকে লক্ষ্মীর চিত্রই বাদ দিয়ে দিলেন। নেশা তো চড়ে, তাই না ! ছোটবেলা থেকেই বৈরাগ্য ছিল, সেইজন্য ভক্তি খুবই করতেন। তাই বাবা অনেক যুক্তি বলে দেন। তোমরা জানো যে আমরা এক বাবারই বাচ্চা - তাই নিজেদের মধ্যে ভাই - বোন হয়ে গেলাম। পিতামহের কাছ থেকে উত্তরাধিকার প্রাপ্ত করি। বাবাকে ডাকা হয় অপবিত্র দুনিয়াতে। হে পতিত-পাবন সকল সীতাদের রাম। বাবাকে বলা হয় ট্রুথ, সত্য ভূ-খন্ড স্থাপন করতে যিনি সক্ষম। তিনিই সমগ্র সৃষ্টির আদি-মধ্য- অন্তের সত্য জ্ঞান তোমাদের প্রদান করেন। তোমাদের আত্মা এখন জ্ঞান সাগর হচ্ছে। মিষ্টি বাচ্চাদের সাহস থাকা দরকার, আমাদের বাবার শ্রীমত অনুযায়ী চলতে হবে। অসীম জগতের পিতা অসীম জগতের রচনাকে স্বর্গের মালিক করে দেন। তাই পুরুষার্থ করে সম্পূর্ণ উত্তরাধিকার নিতে হবে। সমর্পণ করতে হবে। তোমরা তাঁকে নিজের উত্তরাধিকারী করলে তবে তিনিও তোমাদের ২১ জন্মের জন্য উত্তরাধিকার প্রদান করবেন। বাবা বাচ্চাদের প্রতি নিজেকে সঁপে দেন। বাচ্চারা বলে বাবা এই তন-মন- ধন্যবাদ সব আপনার। আপনি বাবাও হন, আবার বাচ্চাও হন। গায়ও - ত্বমেব মাতাশ্চ পিতা ত্বমেব... এক-এরই কত বড় মহিমা । ওনাকে বলাই হয় সকলের দুঃখ হরণকারী, সুখ প্রদানকারী। সত্যযুগে পঞ্চ তত্ত্বও সুখ প্রদানকারী। কলিযুগে পঞ্চ তত্ত্বও তমোপ্রধান হওয়ার কারণে দুঃখ দেয়। সেখানে তো থাকেই সুখ। এই ড্রামা পূর্ব নির্ধারিত। তোমরা জানো যে এইটা সেই ৫ হাজার বছর পূর্বের লড়াই। এখন স্বর্গের স্থাপনা হচ্ছে। তাই বাচ্চাদের সর্বদা খুশীতে থাকা উচিত। ভগবান তোমাদের অ্যাডপ্ট করেছেন, তারপর বাচ্চারা তোমাদের শৃঙ্গারও করান, অধ্যয়ণও করান। আচ্ছা!


মিষ্টি-মিষ্টি হারানিধি বাচ্চাদের প্রতি মাতা-পিতা বাপদাদার স্মরণের স্নেহ-সুমন আর সুপ্রভাত। আত্মাদের পিতা তাঁর আত্মা রূপী বাচ্চাদেরকে জানাচ্ছেন নমস্কার।


ধারণার জন্য মুখ্য সার :-

১ ) সর্বদা বাবার সমান হওয়ার সাহস রাখতে হবে। বাবার প্রতি সম্পূর্ণ সমর্পিত থাকতে হবে।


২ ) কোনো ব্যাপারেই ভয় পেতে নেই। পবিত্র অবশ্যই হতে হবে।


বরদান:-সমস্যাকে উত্তরণের কলার সাধন অনুভব করে সদা সন্তুষ্ট থাকা শক্তিশালী ভব

যারা শক্তিশালী আত্মা, তারা সমস্যাগুলিকে এমনভাবে পার করে যেন কোনো সহজ রাস্তা সহজেই পার করছে। সমস্যাগুলো তাদের কাছে উন্নতির সাধন হয়ে ওঠে। প্রতিটি সমস্যা তাদের কাছে পরিচিত বলে অনুভব হয়। তারা কখনোই অবাক হয়না, বরং সদা সন্তুষ্ট থাকে। তাদের মুখ থেকে কখনও কারণ শব্দটি বের হয় না বরং সেই সময় কারণকে নিবারণে পরিবর্তন করে দেয়।


স্লোগান:-

স্ব-স্থিতিতে স্থিত থেকে সর্ব পরিস্থিতিকে পার করাই হলো শ্রেষ্ঠত্ব ।


মাতেশ্বরী জীর অমূল্য মহাবাক্য : -পরমার্থের দ্বারা আচার ব্যবহার (জীবনের সর্বোচ্চ উদ্দেশ্য) স্বতঃতই সিদ্ধ (প্রমাণিত) হয়ে যায় :-

ভগবানুবাচ : তোমরা আমার দ্বারা পরমার্থকে জানলে আমার পরম পদকে প্রাপ্ত করবে। অর্থাৎ পরমার্থকে জানলে তোমার আচার ব্যবহার সিদ্ধ হয়ে যাবে। দেখো, দেবতাদের সামনে প্রকৃতি তো চরণের দাসী হয়ে থাকে। এই পাঁচ তত্ত্ব সুখ স্বরূপ হয়ে মনোবাঞ্ছিত সেবা করতে থাকে । এই সময় দেখো মনোবাঞ্ছিত সুখ না মেলার কারণে মানুষের জীবনে দুঃখ, অশান্তি প্রাপ্ত হতেই থাকে। সত্যযুগে তো এই প্রকৃতি সুখদায়ী হয়ে থাকে। দেখো, দেবতাদের জড় চিত্রেও কতো কতো আভূষণ পরানো হয় । তো যখন চৈতন্য রূপে প্রত্যক্ষ হবেন, সেই সময় তবে কতো বৈভব হবে ! এই সময় মানুষ না খেতে পেয়ে মরছে অথচ জড় মূর্তির পিছনে কোটি কোটি টাকা খরচ করছে। তো এখানে কোথায় অন্তর দোখো। নিশ্চয়ই তারা এমন কোনো শ্রেষ্ঠ কর্ম করেছিলেন তবেই তো তাদের এমন স্মরণিক তৈরী হয়েছে। কতো পূজাও করা হয় তাদের। তারা নির্বিকারী প্রবৃত্তিতে থেকেও কমল ফুলের মতো অবস্থাতে, কিন্তু এখন তারা নির্বিকারী প্রবৃত্তির পরবর্তে বিকারী প্রবৃত্তিতে চলে গেছে। যার জন্য সকল পরমার্থকে ভুলে ব্যবহারে বা আচরণের দিকে চলে গেছে। সেইজন্য রেজাল্ট উল্টো দিকে চলে যাচ্ছে। এখন স্বয়ং পরমাত্মা এসে বিকারী প্রবৃত্তির থেকে বের করে নির্বিকারী প্রবৃত্তি শেখাচ্ছেন আমাদেরকে। যার দ্বারা আমাদের জীবনকে সদা কালের জন্য সুখী বানিয়ে থাকি। সেইজন্য প্রথমে চাই পরমার্থ তারপর আচরণ। পরমার্থের মধ্যে থাকলে আচার ব্যবহার অটোমেটিক্যালি সফল হয়ে যাবে। ওম্ শান্তি ।

অব্যক্ত ইশারা :- "নিশ্চয়ের ফাউন্ডেশনকে মজবুত করে সদা নির্ভয় আর নিশ্চিন্ত থাকো"

ডাক্তাররা যেমন প্রথমে রুগীর মধ্যে বিশ্বাস তৈরি করে যাতে রুগীর মধ্যে ভরসা জন্মায় যে এই ডাক্তার খুব ভালো এবং এখান থেকেই শফা (আরোগ্য) পাওয়া যাবে। ডাক্তার যতই ভালো ওষুধ দিক না কেন, যদি বিশ্বাস না থাকে তাহলে সেই ওষুধ কাজ করে না। ঠিক তেমনই রূহানী (আত্মিক) ডাক্তারি করার ক্ষেত্রেও নিজের স্টেজ এমনই শক্তিশালী হওয়া উচিত যাতে সবার মনে এই বিশ্বাস জাগে যে এখানে যখন পৌঁছেছি, তখন অবশ্যই কিছু না কিছু প্রাপ্তি হবেই।


https://bkrajyogpathshala.blogspot.com/

01-04-2026 Bengali Murli

 মিষ্টি বাচ্চারা - বাচ্চারা, বাবা যা, বাবা ঠিক যেমন, তোমরা বাচ্চারাও তাঁকে নম্বর ক্রমানুসারেই চিনেছো, যদি সকলেই তাঁকে চিনে গেলে তবে তো অত্যন...