Tuesday, December 30, 2025

31.12.2025 BENGALI MURLI

 "মিষ্টি বাচ্চারা - মধুবন হলো 'হোলিয়েস্ট অফ দি হোলি' বাবার ঘর, এখানে তোমরা কোনো পতিতকেই আনতে পারো না"

প্রশ্নঃ - এই ঈশ্বরীয় মিশনে যারা দৃঢ়ভাবে নিশ্চয়বুদ্ধির, তাদের লক্ষণ কেমন হবে?

উত্তরঃ   ১) তারা স্তুতি - নিন্দা..... সবেতেই ধৈর্যের সঙ্গে কাজ করবে, ২) ক্রোধ করবে না, ৩) কাউকেই দৈহিক দৃষ্টিতে দেখবে না । আত্মাকেই দেখবে, আত্মা হয়েই কথা বলবে, ৪) স্ত্রী - পুরুষ সাথে থেকেও কমল ফুল সমান থাকবে, ৫) কোনো প্রকারের ইচ্ছা থাকবে না ।

গীতঃ- জ্বলে মরবে না কেন বহ্নি-পতঙ্গ....

ওম্ শান্তি ।
আত্মারূপী বাচ্চাদের প্রতি আত্মাদের পিতা বোঝাচ্ছেন অর্থাৎ ভগবান পড়াচ্ছেন আত্মারূপী স্টুডেন্টদের । জাগতিক স্কুলে যে বাচ্চারা পড়ে, তাদেরকে আত্মারূপী স্টুডেন্ট বলা হবে না । তারা তো হলো আসুরী বিকারী সম্প্রদায় । আগে তোমরাও আসুরী বা রাবণ সম্প্রদায়ের ছিলে । এখন তোমরা রাম রাজ্যে যাওয়ার জন্য পাঁচ বিকার রূপী রাবণকে জয় করার পুরুষার্থ করছো । এই জ্ঞান যারা প্রাপ্ত করে না, তাদের বোঝাতে হয় - তোমরা রাবণ রাজ্যে আছো । তারা নিজেরা বোঝে না । তোমরা তোমাদের আত্মীয় - পরিজন ইত্যাদিদের বলো - আমরা অসীম জগতের পিতার কাছে পড়ি, তাহলেও এমন নয় যে, তারা এতে নিশ্চয় করবে । যতই বাবা বলুক না কেন, বা ভগবানই বলুক, তাও নিশ্চয় করবে না । নতুনদের তো এখানে আসার অনুমতি নেই । চিঠি ছাড়া বা অনুমতি না নিয়ে কেউই এখানে আসতে পারে না, কিন্তু কোথাও কোথাও কেউ না কেউ এসে যায়, এও হলো নিয়ম ভাঙ্গা । এক একজনের সম্পূর্ণ খবর, নাম ইত্যাদি লিখে জিজ্ঞেস করতে হয় । একে পাঠাবো কি? তারপর বাবা বলে দেন, আচ্ছা পাঠিয়ে দাও । আসুরী, পতিত দুনিয়ার স্টুডেন্ট যদি হয়, তাহলে বাবা বোঝাবেন, ওই পড়া তো বিকারী, পতিতরা পড়ায় । এখানে ঈশ্বর পড়ান । ওই পড়াতে পাই - পয়সা উপার্জনের দরজা পাওয়া যায় । যদিও কেউ অনেক বড় পরীক্ষায় পাস করে, তাও কতো উপার্জন করবে? বিনাশ তো সামনে উপস্থিত । প্রাকৃতিক বিপর্যয়ও সব আসবে । এও তোমরাই বুঝতে পারো, যারা বুঝতে পারে না, তাদের বাইরে ভিজিটিং রুমে বসিয়ে বোঝানো হয় । এ হলো ঈশ্বরীয় পাঠ, এখানে নিশ্চয়বুদ্ধিই বিজয়ন্তী হবে অর্থাৎ বিশ্বে তারাই রাজত্ব করবে । রাবণ সম্প্রদায়ের যারা, তারা তো একথা জানেই না । এতে অনেক বড় সাবধানতার প্রয়োজন । অনুমতি ছাড়া কেউই ভিতরে আসতে পারে না । এ কোনো ঘুরে বেড়াবার জায়গা নয় । কিছুদিনে এই নিয়ম কড়া হয়ে যাবে, কেননা ইনি হলেন 'হোলিয়েস্ট অফ দ্য হোলি' । শিববাবাকে ইন্দ্রও তো বলা হয়, তাই না । এ হলো ইন্দ্রসভা । আঙ্গুলে তো নব রত্নও ধারণ করা হয়, তাই না । ওই রত্নের মধ্যে নীলাও তো হয়, পান্না, মাণিকও হয় । এইসব নাম রাখা হয়েছে । পরীদেরও তো নাম আছে, তাই না । তোমরা পরীরা হলে উড়ন্ত আত্মা । তোমাদেরই বর্ণনা আছে, কিন্তু মানুষ এইসব কথা কিছুই বোঝে না ।

মানুষ আঙ্গুলেও রত্ন ধারণ করে, তারমধ্যে কিছুকিছু পোখরাজ, নীলম, পেরুজও হয় । কিছুর দাম হাজার টাকা, আবার কিছু - কিছুর দাম ১০ - ২০ হাজার টাকা । বাচ্চারাও তেমনই নম্বরের ক্রমানুসারে থাকে । কেউ তো ভালো পড়ে মালিক হয়ে যায় । কেউ আবার অল্প পড়ে দাস - দাসী হয়ে যায় । রাজধানী তো স্থাপন হচ্ছে, তাই না । তাই বাবা বসে পড়ান । তাঁকেই ইন্দ্র বলা হয় । এ হলো জ্ঞানের বর্ষণ । এই জ্ঞান তো বাবা ছাড়া কেউই দিতে পারে না । তোমাদের এইম অবজেক্ট হলো এখানেই । যদি নিশ্চিত হয়ে যায় যে, বাবা পড়াচ্ছেন, তাহলে তারা এই পড়াকে আর ছাড়বে না । যারা পাথর বুদ্ধির হবে, তাদের কখনোই তীর লাগবে না । এখানে এসে তারা চলতে - ফিরতে আবার পড়ে যায় । পাঁচ বিকার হলো অর্ধেক কল্পের শত্রু । মায়া তোমাদের দেহ - বোধে নিয়ে এসে থাপ্পড় মেরে দেয়, তারপর আশ্চর্যবৎ শুনন্তী, কথন্তী আর ভাগন্তী হয়ে যায় । এই মায়া বড়ই প্রবল, এক থাপ্পড়েই ফেলে দেয় । মনে করে যে, আমরা কখনোই নেমে যাবো না, তবুও মায়া থাপ্পড় লাগিয়ে দেয় । এখানে স্ত্রী - পুরুষ উভয়কেই পবিত্র বানানো হয় । এ তো ঈশ্বর ছাড়া আর কেউই বানাতে পারে না । এ হলো ঈশ্বরীয় মিশন ।

বাবাকে কাণ্ডারী বা মাঝি বলা হয়, আর তোমরা হলে নৌকা । কাণ্ডারী আসে সকলের নৌকাকে পার করাতে । তিনি বলেনও - সত্যের নৌকা দুলবে কিন্তু ডুবে যাবে না । এত বিভিন্ন মঠ - পথ আছে । জ্ঞান এবং ভক্তির যেন লড়াই হয় । কখনো ভক্তির বিজয় হবে, অবশেষে তো জ্ঞানেরই বিজয় হবে । ভক্তির দিকে দেখো, সেখানেও কতো বড় - বড় যোদ্ধা আছে । জ্ঞান মার্গের দিকেও কতো বড় বড় যোদ্ধা আছে । অর্জুন - ভীম ইত্যাদি নাম রাখা হয়েছে । এই সব কাহিনী তো বসে বানানো হয়েছে । তোমাদেরই তো এই মহিমা । তোমাদের এখন হিরো - হিরোইনের অভিনয় চলছে । এই সময়ই যুদ্ধ চলে । তোমাদের মধ্যেও এমন অনেকেই আছে যারা এইসব কথাকে একদম বুঝতে পারে না । যারা খুব ভালো হবে, তাদেরই তীরবিদ্ধ হবে । থার্ডক্লাস তো এখানে বসতেই পারবে না । দিনে - দিনে অনেক কড়া নিয়ম হতে থাকবে । পাথর বুদ্ধির, যারা কিছুই বুঝতে পারে না, তাদের এখানে বসানোই হলো বেনিয়ম ।

এই হল্ হলো হোলিয়েস্ট অফ হোলি । পোপকে হোলি বলা হয় । এই বাবা তো হলেন 'হোলিয়েস্ট অফ হোলি ।' বাবা বলেন - আমাকে এদের সকলেরই কল্যাণ করতে হবে । এই সবই বিনাশ হয়েই যাবে । এও তো সব কেউ বুঝতেই পারে না । যদিও বা শোনে, কিন্তু এক কান দিয়ে শুনে অন্য কান দিয়ে বের করে দেয় । তাই না কিছু নিজে ধারণ করে, আর না অন্যকে করায় । এমন বোবা - কালাও অনেকেই আছে । বাবা বলেন যে - হিয়ার নো ইভিল (কোনো মন্দ কথা শুনো না) - ওরা তো বানরের চিত্র দেখিয়ে দেয়, কিন্তু এ তো মানুষের জন্য বলা হয় । মানুষ তো এই সময় বানরের থেকেও খারাপ । নারদের গল্পও বসে বানানো হয়েছে । তাকে বলা হয়েছিলো - তুমি নিজের মুখ দেখো, পাঁচ বিকার তো ভিতরে নেই? যেমন সাক্ষাৎকার হয় । হনুমানেরও তো সাক্ষাৎকার হয়, তাই না । বাবা বলেন যে, কল্প - কল্প এইরকম হয় । সত্যযুগে এইসব কোনো ঘটনাই ঘটে না । এই পুরানো দুনিয়াই সমাপ্ত হয়ে যাবে । যারা দৃঢ় নিশ্চয়বুদ্ধির, তারা মনে করে যে, পূর্ব কল্পেও আমরা এই রাজত্ব করেছিলাম । বাবা বলেন যে - বাচ্চারা, এখন দৈবী গুণ ধারণ করো । কোনো নিয়ম বিরুদ্ধ কাজ করো না । স্তুতি - নিন্দা সবকিছুতেই ধৈর্য ধারণ করতে হবে । তোমাদের ক্রোধ করা উচিত নয় । তোমরা কতো উচ্চ স্টুডেন্ট, ভগবান বাবা তোমাদের পড়ান । ওরা তো সরাসরি পড়ায়, তবুও কতো বাচ্চারা ভুলে যায়, কেননা সাধারণ শরীরের দ্বারা পড়ানো তো, তাই না । বাবা বলেন যে, দেহধারীদের দেখলে তোমরা এতটা উঁচুতে উঠতে পারবে না । তোমরা আত্মাকে দেখো । আত্মা ভ্রুকুটির মাঝে থাকে । আত্মা সব শুনে মাথা নাড়ায় । তোমরা সবসময় আত্মার সঙ্গে কথা বলো । তোমরা আত্মারা এই শরীর রূপী আসনে বসে আছো । তোমরা তমোপ্রধান ছিলে, এখন সতোপ্রধান হও । নিজেকে আত্মা মনে করে বাবাকে স্মরণ করলে দেহ ভাব দূর হয়ে যাবে । তোমাদের অর্ধেক কল্পের দেহ বোধ রয়ে গিয়েছে । এই সময় সকলেই দেহ অভিমানী ।

বাবা এখন বলেন, তোমরা দেহী - অভিমানী হও । আত্মাই সবকিছু ধারণ করে । খাওয়াদাওয়া সবকিছু আত্মাই করে বাবাকে তো অভোক্তা বলা হয় । তিনি হলেন নিরাকার । এই শরীরধারীরাই সবকিছু করে । তিনি কিছুই খান না, তিনি হলেন অভোক্তা । তাই একেই সব লোক অনুকরণ করে । কতো মানুষকে ঠকানো হয় । তোমাদের বুদ্ধিতে এখন সম্পূর্ণ জ্ঞান আছে, পূর্ব কল্পে যারা বুঝেছিলো, তারাই এখন বুঝবে । বাবা বলেন, আমিই কল্পে কল্পে এসে তোমাদের পড়াই আর সাক্ষী হয়ে দেখি । পুরুষার্থের নম্বর অনুসারে যারা তখন পড়েছিলো, তারাই এখন পড়বে । এতে সময় লাগে । বলা হয় - কলিযুগ এখনো চল্লিশ হাজার বছর বাকি আছে । তাহলে তো ঘোর অন্ধকারে আছে, তাই না । একেই অজ্ঞান অন্ধকার বলা হয় । ভক্তি মার্গ আর জ্ঞান মার্গে রাতদিনের তফাৎ । এও বোঝার মতো কথা । বাচ্চাদের খুব খুশীতে ডুবে থাকা উচিত । তোমাদের সবকিছুই আছে, আর কোনো ইচ্ছাই বাকি নেই । তোমরা জানো যে, পূর্ব কল্পের মতো আমাদের সব কামনা পূরণ হয়, তাই তোমাদের উদর পূরণ থাকে । যাদের জ্ঞান নেই, তাদের উদর পূরণ হয়ই না । বলা হয় - খুশীর মতো খাবার নেই । এখানে জন্ম - জন্মান্তরের জন্য রাজত্ব পাওয়া যায় । দাস - দাসী যারা হবে, তাদের এতো খুশী থাকবে না । তোমাদের সম্পূর্ণ মহাবীর হতে হবে । মায়া যেন তোমাদের নাড়াতে না পারে ।

বাবা বলেন - এই দৃষ্টির অনেক সুরক্ষা রাখতে হবে । দৃষ্টি যেন ক্রিমিনাল না হয় অথবা ক্রিমিনাল জিনিসের প্রতি আকৃষ্ট না হয় । নারীকে দেখলেই দৃষ্টি চলায়মান হয়ে যায় । আরে, তোমরা তো ভাই - বোন, কুমার এবং কুমারী, তাই না । তাহলে কর্মেন্দ্রিয় কেন চঞ্চলতা করে । বড় বড় লাখপতি, কোটিপতিদেরও মায়া শেষ করে দেয় । গরীবদেরও মায়া একদম মেরে ফেলে । তখন বলে, বাবা আমি ধাক্কা খেলাম । আরে, দশ বছর পরেও হেরে গেলো । এখন তো পাতালে নেমে গেছে । ভিতরে - ভিতরে বুঝতে পারে যে, এর অবস্থা কেমন । কেউ কেউ তো আবার খুব ভালো সেবা করে । কন্যাই তো ভীষ্ম পিতামহকে বাণ মেরেছিলো, তাই না । গীতাতে এর অল্পকিছু আছে । এ তো হলোই ভগবান উবাচঃ । কৃষ্ণ ভগবানই যদি গীতা শুনিয়েছিলো, তাহলে কেন বলে - আমি যা বা যেমন, কোনো বিরলতমই (সামান্য কয়েকজন ) তা জানতে পারে । কৃষ্ণ যদি এখানে থাকতো, তাহলে না জানি কি করে দিতো । কৃষ্ণের শরীর তো সত্যযুগে থাকে । এও জানে না যে, কৃষ্ণের অনেক জন্মের অন্ত শরীরে আমি প্রবেশ করি । কৃষ্ণের সামনে তো সকলেই চলে আসবে । পোপ ইত্যাদি এলে তো কতো লোক গিয়ে তো দলে দলে জড়ো হয় । মানুষ তো একথা বুঝতেই পারে না যে, এইসময় সকলেই পাতিত, তমোপ্রধান । তারা বলেও থাকে যে, হে পতিত পাবন এসো, কিন্তু বুঝতেই পারে না যে, আমরাই পতিত । বাবা বাচ্চাদের কতো ভালোভাবে বুঝিয়ে বলেন । বাবার বুদ্ধি তো সব সেন্টারের অনন্য বাচ্চাদের প্রতি চলে যায় । যখন খুব বেশী অনন্য বাচ্চা এখানে আসে, তখন এখানে দেখি, তা না হলে বাইরের বাচ্চাদের মনে করতে হয় । তাদের সামনে জ্ঞান নৃত্য করি । বেশীরভাগ যদি জ্ঞানী তু আত্মা হয়, তাহলে মজাও আসে । নাহলে মেয়ে সন্তানদের উপর কতো অত্যাচার হয় । কল্পে - কল্পে সহ্য করতে হয় । জ্ঞানে আসার কারণে ভক্তিও ছেড়ে যায় । মনে করো, ঘরে মন্দির আছে, স্ত্রী - পুরুষ উভয়েই ভক্তি করে, স্ত্রীর যদি জ্ঞানের রং লেগে যায়, ফলে ভক্তি করা ছেড়ে দেয়, তাহলে কতো হাঙ্গামা হয়ে যাবে । বিকারেও যদি না যায়, বা শাস্ত্র ইত্যাদিও না পড়ে, তাহলে তো ঝগড়া হবে, তাই না । এতে অনেক বিঘ্ন আসে, অন্য সৎসঙ্গে যাওয়ার জন্য কেউ আটকায় না । এখানে হলো পবিত্রতার কথা । পুরুষ তো থাকতে পারে না, তখন জঙ্গলে চলে যায়, স্ত্রী কোথায় যাবে? স্ত্রীর (নারী) জন্য ওরা মনে করে, এ হলো নরকের দ্বার । বাবা বলেন, স্ত্রী তো হলো স্বর্গের দ্বার । তোমরা মেয়েরাই এখন স্বর্গ স্থাপন করো । এর পূর্বে নরকের দ্বার ছিলো । এখন স্বর্গের স্থাপনা হয় । সত্যযুগ হলো স্বর্গের দ্বার, কলিযুগ হলো নরকের দ্বার । এ হলো বোঝার মতো কথা । বাচ্চারা, তোমরাও পুরুষার্থের নম্বর অনুসারে বুঝতে পারো । তবুও তো পবিত্র থাকে । বাকি জ্ঞানের ধারণা পুরুষার্থের নম্বর অনুসারে হয় । তোমরা তো ওখান থেকে বের হয়ে এখানে এসে বসেছো, কিন্তু এখন তো বোঝানো হয়, তোমাদের গৃহস্থ জীবনে থাকতে হবে । ওদের এতে সমস্যা হয় । এখানে যারা থাকে তাদের তো কোনো সমস্যা নেই । বাবা তাই বোঝান, গৃহস্থ জীবনে থেকে কমল পুষ্পের সমান পবিত্র থাকো । এও এই অন্তিম জন্মের কথা । গৃহস্থ জীবনে থেকে নিজেকে আত্মা মনে করো । আত্মাই শোনে, আবার আত্মাই এমন তৈরী হয়েছে । আত্মাই জন্ম - জন্মান্তর ধরে ভিন্ন - ভিন্ন পোশাক পড়ে এসেছে । এখান আমাদের এই আত্মাদের ফিরে যেতে হবে । বাবার সঙ্গে যোগযুক্ত হতে হবে । মূল বিষয় হলো এটাই । বাবা বলেন যে, আমি আত্মাদের সঙ্গে কথা বলি । আত্মা ভ্রুকুটির মধ্যে থাকে । আত্মা এই অর্গ্যান্সের দ্বারা শোনে । এই শরীরের মধ্যে যদি আত্মা না থাকে, তাহলে এই শরীর মৃতদেহ হয়ে যায় । বাবা এসে কতো আশ্চর্য জ্ঞান দেন । পরমাত্মা ছাড়া তো এই কথা কেউই বোঝাতে পারে না । সন্ন্যাসী ইত্যাদি তো কেউই আত্মাকে দেখতেই পারে না । ওরা তো আত্মাকে পরমাত্মা মনে করে । আবার অন্যেরা বলে যে, আত্মাতে কোনো দাগ লাগে না । শরীরকে পরিস্কার করার কারণে মানুষ গঙ্গা স্নানে যায় । একথা বুঝতেই পারে না যে, আত্মাই পতিত হয় । আত্মাই সবকিছু করে । বাবা বোঝাতে থকেন - এমন মনে করো না যে, আমি অমুক - আমি তমুক । তা নয়, সকলেই হলো আত্মা । কোনো জাতিভেদ থাকা উচিত নয় । তোমরা নিজেকে আত্মা মনে করো । গভর্নমেন্ট বিশেষভাবে কোনো ধর্মকে মানে না । এই সব ধর্ম তো হলো দেহের কিন্তু সমস্ত আত্মাদের বাবা তো হলো একজনই । আত্মাকেই তো দেখতে হবে । সকল আত্মার স্বধর্মই হলো শান্ত । আচ্ছা ।

মিষ্টি - মিষ্টি হারানিধি বাচ্চাদের প্রতি মাতা - পিতা, বাপদাদার স্মরণের স্নেহ - সুমন এবং সুপ্রভাত । আত্মাদের পিতা তাঁর আত্মারূপী বাচ্চাদের নমস্কার জানাচ্ছেন ।

ধারণার জন্য মুখ্য সার :-
১ ) যে কথা কাজের নয়, তা এক কান দিয়ে শুনে অন্য কান দিয়ে বের করে দিতে হবে, কোনো খারাপ কথা শুনো না - বাবা যে সকল শিক্ষা দেন, তাকে ধারণ করতে হবে ।

২ ) জাগতিক কোনো ইচ্ছা রাখবে না । দৃষ্টির অনেক সুরক্ষা করতে হবে । দৃষ্টি যেন ক্রিমিনাল না হয় । কোনো কর্মেন্দ্রিয়ই যেন চলায়মান না হয় । তোমাদের সর্বদা খুশীতে ভরপুর থাকতে হবে ।

বরদান:-
মায়ার খেলাকে সাক্ষী হয়ে দেখে সদা নির্ভয়, মায়াজীৎ ভব

বাচ্চারা, সময় প্রতি সময়ে যেরকম তোমাদের স্টেজ উন্নতি করতে থাকছে, এইরকম এখন মায়ার আক্রমণ যেন না হয়, মায়া নমস্কার করতে আসবে, আক্রমণ করতে নয়। যদি মায়া এসেও যায়, তাহলে তাকে খেলা মনে করে দেখো। এইরকম অনুভব হবে যেন সাক্ষী হয়ে লৌকিকের ড্রামা দেখছো। মায়ার যেরকমই ভয়ঙ্কর রূপ হোক, তোমরা তাকে খেলনা আর খেলা মনে করে দেখবে তাহলে অনেক মজা আসবে, তাহলে তাকে দেখে ভয় পাবেনা বা ঘাবড়েও যাবে না। যে বাচ্চারা সদা খেলোয়াড় হয়ে সাক্ষী হয়ে মায়ার খেলা দেখে তারা সদা নির্ভয় আর মায়াজীৎ হয়ে যায়।

স্লোগান:-
এমন স্নেহের সাগর হও যে ক্রোধ নিকটে আসতেও পারবে না।

অব্যক্ত ঈশারা :- এখন সম্পন্ন বা কর্মাতীত হওয়ার ধুন লাগাও

কর্মাতীত অর্থাৎ কর্মের অধীন নয়, কর্মের পরতন্ত্র নয়। স্বতন্ত্র হয়ে কর্মেন্দ্রিয় দ্বারা কর্ম করাও। যে গায়ন আছে যে - কর্ম করেও অকর্তা, সম্বন্ধ-সম্পর্কে থেকেও কর্মাতীত, এরকম স্টেজ কী থাকে? কোনও বন্ধন যেন না থাকে আর সেবাও বন্ধনের কারণে যেন না হয়, পরিবর্তে নিমিত্ত ভাবের দ্বারা হবে, এর দ্বারা সহজেই কর্মাতীত হয়ে যাবে।

30.12.2025 BENGALI MURLI

 

“মিষ্টি বাচ্চারা - পাপের থেকে হালকা হওয়ার জন্য বিশ্বস্ত, অনেস্ট হয়ে নিজের কর্মকাহিনী বাবাকে লিখে দিলে ক্ষমা পেয়ে যাবে”

প্রশ্নঃ -
সঙ্গমযুগে তোমরা বাচ্চারা কোন্ বীজ বপন করতে পারো না ?

উত্তরঃ  
দেহ অভিমানের। এই বীজ থেকেই সমস্ত বিকারের বৃক্ষ জন্মায়। এখন গোটা দুনিয়াতেই ৫ বিকারের বৃক্ষের বিস্তার হয়েছে। সকলেই কাম এবং ক্রোধের বীজ বপন করছে। তোমাদের প্রতি বাবার ডাইরেকশন হলো - বাচ্চারা, তোমরা যোগবলের দ্বারা পবিত্র হও এবং এই বীজ বপন বন্ধ করো।

গীতঃ-
তোমাকে পেয়ে আমরা গোটা জগৎটাকে পেয়ে গেছি…

ওম্ শান্তি ।
মিষ্টি মিষ্টি আত্মা রূপী বাচ্চারা গান শুনলো। এখন তো সংখ্যায় কম, পরে অনেক অনেক বাচ্চা হয়ে যাবে। প্রকৃতপক্ষে এখন খুব কমজনই তাঁর সন্তান হয়েছ। তবে এই প্রজাপিতা ব্রহ্মাকে তো সকলেই জানে। নামই হলো প্রজাপিতা ব্রহ্মা। এনার অনেক প্রজা আছে। সকল ধর্মের মানুষই এনাকে অবশ্যই মানবে। এনার দ্বারাই সকল মানুষের রচনা হয়েছে। বাবা বুঝিয়েছেন, লৌকিক বাবাকেও সীমিত ক্ষেত্রের ব্রহ্মা বলা যায়, কারণ তার দ্বারাও বংশবৃদ্ধি হয়। পদবি অনুসারে বংশবৃদ্ধি হতে থাকে। উনি সীমিত জগতের পিতা, আর ইনি অসীম জগতের পিতা। এনার নামটাই হলো প্রজাপিতা। লৌকিক বাবা তো সীমিত সংখ্যক প্রজা রচনা করে। কেউ কেউ আবার রচনাই করে না। কিন্তু ইনি তো অবশ্যই রচনা করবেন। কেউ কি বলতে পারবে যে প্রজাপিতা ব্রহ্মার কোনো সন্তান নেই? গোটা দুনিয়াতেই এনার সন্তান রয়েছে। প্রজাপিতা ব্রহ্মাই হলেন সর্বপ্রথম। মুসলমানরা যে আদম-বিবির কথা বলে, সেটা তো অবশ্যই কারোর না কারোর সম্পর্কে বলে। প্রজাপিতা ব্রহ্মাকেই অ্যাডাম-ইভ কিংবা আদিদেব-আদিদেবী বলা হয়। সকল ধর্মের মানুষই এনাকে মানবে। বরাবরই একজন সীমিত জগতের পিতা এবং একজন অসীম জগতের পিতা আছেন। এই অসীম জগতের পিতা সীমাহীন সুখ প্রদান করেন। তোমরা সীমাহীন স্বর্গসুখ পাওয়ার জন্যই পুরুষার্থ করছো। এখানে অসীম জগতের পিতার কাছ থেকে সীমাহীন সুখের উত্তরাধিকার পাওয়ার জন্য এসেছ। স্বর্গে রয়েছে সীমাহীন সুখ আর নরকে রয়েছে সীমাহীন দুঃখ। অনেক দুঃখ আসবে। সকলে আর্তনাদ করবে। বাবা তোমাদেরকে সমগ্র বিশ্বের আদি, মধ্য, অন্তের রহস্য বুঝিয়েছেন। তোমরা বাচ্চারা বাবার সামনে বসে আছো এবং পুরুষার্থ করছো। ইনি তো একাধারে মাতা এবং পিতা। অনেক সন্তান রয়েছে। অসীম জগতের মাতা পিতার সাথে কেউ কখনো কোনো শত্রুতা রাখে না। মাতা-পিতার কাছ থেকে কতোই না সুখ পাওয়া যায়। গায়ন আছে - তুমি হলে মাতা-পিতা…। এই গানের অর্থ এখন বাচ্চারাই বুঝতে পারে। অন্যান্য ধর্মে তো মানুষ কেবল পিতাকেই আহ্বান করে, মাতা-পিতা বলে না। কেবল এখানেই গান করে - তুমি হলে মাতা-পিতা, আমরা তোমার বালক…। তোমরা বাচ্চারা জানো যে আমরা এখন পড়াশুনা করে মানুষ থেকে দেবতা অথবা কাঁটা থেকে ফুল হচ্ছি। বাবা একাধারে মাঝি এবং বাগানের মালিক। তোমরা ব্রাহ্মণরা হলে অনেক রকমের মালি। মুঘল গার্ডেনেও মালি থাকে। সে অনেক টাকা মাইনে পায়। মালিদের মধ্যেও ক্রম থাকে। কোনো কোনো মালি তো কত সুন্দর সুন্দর ফুল তৈরি করে। এক ধরনের ফুলকে কিং অফ ফ্লাওয়ার বলা হয়। সত্যযুগে কিং অফ ফ্লাওয়ার এবং ক্যুইন অফ ফ্লাওয়ার থাকবে। কিন্তু এখানে মহারাজা-মহারানী থাকলেও তারা ফুলের মতো নয়। পতিত হয়ে যাওয়ার জন্য কাঁটার মতো হয়ে গেছে। পথ চলতে চলতে একে অপরকে কাঁটায় বিদ্ধ করে চলে যায়। এদেরকেই অজামিল বলা হয়। তোমরাই সবথেকে বেশি ভক্তি করে এসেছো। বাম মার্গে পতিত হওয়ার পরে দেখো কতো নোংরা নোংরা ছবি বানিয়েছে । সেখানে দেবতাদের ছবিই আঁকা আছে। ওগুলো সব বামমার্গের ছবি। তোমরা বাচ্চারা এখন এইসব বিষয় বুঝতে পেরেছ। তোমরা এখন ব্রাহ্মণ হয়েছ। আমরা এই বিকারের দুনিয়া থেকে অনেক দূরে চলে যাই। ব্রাহ্মণ পরিবারে ভাই কিংবা বোনের সাথে বিকারে লিপ্ত হওয়া অতি জঘন্য ভাবে হামলা করার মতো অপরাধ। নাম খারাপ হয়ে যায়। তাই ছোটো থেকে যদি কোনো খারাপ কাজ করে থাকো, সেটা বাবাকে বলে দিলে অর্ধেক মাফ হয়ে যায়। সেইসব কথা তো অবশ্যই মনে থাকে। অমুক সময়ে আমি এই নোংরা কাজ করেছিলাম - বাবাকে লিখে দেয়। যারা খুব বিশ্বাসী এবং অনেস্ট, তারা বাবাকে লিখে দেয় - বাবা, আমি এই এই নোংরা কাজ করেছি, ক্ষমা করে দিও। বাবা বলছেন, ক্ষমা করা হয় না, তবে সত্যি কথা বলে দিলে সেই বোঝাটা হালকা হয়ে যায়। এমন নয় যে একেবারে ভুলে যায়। ভুলে যাওয়া সম্ভব নয়। ভবিষ্যতে যাতে পুনরায় এইরকম কাজ না হয়, তার জন্য সাবধান করে দিই। তবে বিবেক দংশন অবশ্যই হয়। কেউ কেউ বলে - বাবা, আমি তো অজামিল ছিলাম। এগুলো সব এই জন্মেরই ঘটনা। কবে থেকে বামমার্গে এসে পাপাত্মা হয়েছ - সেটাও তোমরা এখন জেনে গেছ। এখন বাবা আবার আমাদেরকে পূণ্যাত্মা বানাচ্ছেন। পুন্ণ্যাত্মাদের সেই দুনিয়াটা একেবারে আলাদা। হয়তো একটাই দুনিয়া, কিন্তু তোমরা এখন বুঝেছ যে এটা দুই ভাগে বিভক্ত। একটা পূন্যাত্মাদের দুনিয়া, যাকে স্বর্গ বলা হয় আর একটা পাপ আত্মাদের দুনিয়া, যাকে নরক বা দুঃখধাম বলা হয়। সুখের দুনিয়া আর দুঃখের দুনিয়া। দুঃখের দুনিয়ায় সকলে আর্তনাদ করে - আমাদেরকে মুক্তি দাও, ঘরে নিয়ে চলো। বাচ্চারা জানে যে ঘরে গিয়ে বসে যাওয়া যাবে না, আবার ভূমিকা পালন করার জন্য আসতে হবে। এখন তো গোটা দুনিয়াটাই পতিত। বাবার দ্বারা তোমরা এখন পবিত্র হচ্ছো। এম অবজেক্ট তো সামনেই আছে। অন্য কেউ এই এইম অবজেক্ট দেখিয়ে বলবে না যে আমরা এইরকম হচ্ছি। বাবা বলছেন - বাচ্চারা, তোমরা আগে এইরকম ছিলে, এখন আর নেই। পূজনীয় ছিলে, তারপর পূজারী হয়ে গেছ। পুনরায় পূজনীয় হওয়ার জন্য পুরুষার্থ করতে হবে। বাবা কতো ভালো ভাবে পুরুষার্থ করাচ্ছেন। এই বাবা (ব্রহ্মাবাবা) সর্বদাই বুঝতে পারেন যে আমি প্রিন্স হব। ইনি নম্বর ওয়ান, তবুও নিরন্তর স্মরণে থাকে না। ভুলে যান। কেউ যতই পরিশ্রম করুক না কেন, এখন ওইরকম অবস্থা আসবে না। যুদ্ধের সময়েই কর্মাতীত অবস্থা হবে। সবাইকেই পুরুষার্থ করতে হবে। এনাকেও করতে হবে। তোমরা বোঝানোর সময়ে বলো - ছবিতে দেখুন, বাবার ছবি কোথায় আছে ? বৃক্ষের একেবারে শেষে পতিত দুনিয়ায় দাঁড়িয়ে আছেন। তারপর নীচে তপস্যাও করছেন। কত সহজভাবে বোঝানো হয়। বাবা-ই এইসব বিষয় বুঝিয়েছেন। ইনিও (ব্রহ্মাবাবা) আগে জানতেন না। বাবা-ই হলেন নলেজফুল, তাঁকেই সবাই স্মরণ করে - হে পরমপিতা পরমাত্মা, তুমি এসে আমাদের দুঃখ হরণ করো। ব্রহ্মা, বিষ্ণু এবং শঙ্কর তো দেবতা। মূলবতনবাসী আত্মাদেরকে তো দেবতা বলা যাবে না। বাবা ব্রহ্মা, বিষ্ণু, শঙ্করের রহস্যও বুঝিয়েছেন। ব্রহ্মা কিংবা লক্ষ্মী-নারায়ণ তো এখানেই থাকেন। সূক্ষ্মবতনকে কেবল এই সময়েই তোমরা বাচ্চারা দিব্যদৃষ্টির সাহায্যে দেখতে পাও। এই বাবাও ফরিস্তা হয়ে যান। বাচ্চারা জানে - যিনি সিঁড়ির ওপরে দাঁড়িয়ে আছেন, তিনিই নীচে তপস্যা করছেন। ছবিতে খুব স্পষ্টভাবে দেখানো আছে। ইনি কখনোই নিজেকে ভগবান বলেন না। ইনি বলেন, আমি তো একেবারে ওয়ার্থ নট এ পেনী (মূল্যহীন) ছিলাম, ততত্বম্ (তোমরাও ওইরকম ছিলে) । এখন ওয়ার্থ পাউন্ড (অতি মূল্যবান) হয়ে যাচ্ছি। কথাগুলো কত সহজেই বোঝা যায়। কেউ কিছু জিজ্ঞেস করলে বলো - দেখুন, আপনি কলিযুগের একদম অন্তিমে রয়েছেন। বাবা বলেন, যখন অতি প্রাচীন বাণপ্রস্থ অবস্থা হয়ে যায়, তখনই আমি এনার মধ্যে প্রবেশ করি। ইনি এখন রাজযোগের তপস্যা করছেন। তপস্যারত কাউকে কি দেবতা বলা যায়? রাজযোগ শিখে এইরকম হয়ে যান। বাচ্চারা, তোমাদেরকেও এইরকম মুকুটধারী বানিয়ে দেন। এই থেকে তারপর দেবতা হবে। কাউকে দেখানোর জন্য এইরকম ১০-২০ জন বাচ্চার ছবিও রাখতে পারো যে এনারাই এইরকম হয়ে যান। আগে সকলের এইরকম ছবি তোলা হয়েছে। এই বিষয়গুলো তো বোঝাতে হয়। একদিকে সাধারণ ছবি, আর অন্যদিকে দ্বি-মুকুটধারী ছবি। তোমরা বুঝতে পারছো যে আমরা এইরকম হচ্ছি। সে-ই হতে পারবে যার বুদ্ধির লাইন একদম ক্লিয়ার থাকবে। অনেক মিষ্টি স্বভাবের হতে হবে। এখন মানুষের মধ্যে প্রচুর পরিমাণে কাম, ক্রোধ ইত্যাদির বীজ আছে। সকলের মধ্যেই ৫ বিকার রূপী বীজ থেকে বৃক্ষের বিস্তার হয়েছে। এখন বাবা বলছেন, এইরকম বীজ বপন করো না। সঙ্গমযুগে তোমাদের দেহের অভিমানের বীজ কিংবা কাম বিকারের বীজ বপন করা উচিত নয়। এরপরে অর্ধেক কল্পের জন্য রাবণ থাকবে না। বাবা বসে থেকে প্রত্যেকটা বিষয় বোঝাচ্ছেন। মুখ্য বিষয় হলো মন্মনা ভব। বাবা বলছেন, আমাকে স্মরণ করো। ইনি সকলের পিছনেও আছেন, আবার সকলের আগেও আছেন। যোগবলের দ্বারা ইনি অনেক পবিত্র হয়ে যান। শুরুর দিকে বাচ্চাদের অনেক দিব্যদর্শন হতো। ভক্তিমার্গে যদি কেউ প্রচণ্ড ভক্তি করে, তবে তার এইরকম দর্শন হয়। এখানে তো বসে বসেই ধ্যানস্থ হয়ে যেত, অনেকে এগুলোকে জাদুবিদ্যা ভাবত। এটা আসলে ফার্স্টক্লাস জাদু। মীরাও অনেক তপস্যা করেছিল, সাধুসঙ্গ করেছিল। এখানে কোনো সাধু নেই। ইনি তো বাবা। শিববাবা সকলের বাবা। অনেকে বলে - আপনাদের গুরুজীর সাথে দেখা করবো। কিন্তু এখানে তো কোনো গুরু নেই। শিববাবা তো নিরাকার। তাহলে কার সাথে দেখা করবেন? মানুষ ওইসব গুরুদের কাছে গিয়ে প্রণামী দেয়। এই বাবা তো অসীম জগতের মালিক। এখানে ঐরকম প্রণামী দেওয়ার প্রথা নেই। ইনি পয়সা নিয়ে কি করবেন? ব্রহ্মাবাবাও বুঝতে পারেন যে আমি বিশ্বের মালিক হয়ে যাই। বাচ্চারা যদি কিছু টাকা দেয়, তবে সেটা দিয়ে তাদের জন্যই থাকার বন্দোবস্ত করা হয়। এইসব টাকা পয়সা তো শিববাবারও কোনো কাজে আসবে না, আর ব্রহ্মাবাবারও কোনো কাজে আসবে না। এইসব ঘর-বাড়ি তো বাচ্চাদের জন্যই বানানো হয়েছে। বাচ্চারাই এখানে এসে থাকে। কেউ হয়তো গরিব, আবার কেউ হয়তো ধনী। কেউ কেউ দু'টাকা পাঠিয়ে বলে যে বাবা, আমার এই টাকা দিয়ে একটা হলেও ইঁট কিনে কাজে লাগিয়ে দেবেন। কেউ আবার হাজার হাজার পাঠিয়ে দেয়। দু' জনের ভাবনাই সমান। তাই দু'জনের সমান প্রাপ্তি হয়। বাচ্চারা যখন আসে, তখন যেখানে ইচ্ছে থাকতে পারে। যে বাড়ি বানিয়ে দিয়েছে, সে যদি আসে, তবে তাকে ভালো ভাবে রাখা হবে। কেউ কেউ বলে, বাবার কাছেও ওদের বেশি খাতির করা হয়। আরে, সেটা তো করতেই হবে। অনেকে অনেক রকমের। কেউ তো যেকোনো জায়গাতেই বসে পড়ে। কেউ আবার খুবই সংবেদনশীল, বিদেশে বড়ো বড়ো অট্টালিকায় থাকে। প্রত্যেক দেশেই বড়ো বড়ো ধনী ব্যক্তিরা এইরকম বাড়ি বানায়। এখানে তো অনেক বাচ্চা আসে। অন্য কোনো বাবার কি এইরকম চিন্তা ভাবনা আসবে? খুব বেশি হলে ১০, ১২ কিংবা ২০ জন নাতি নাতনি থাকবে। আচ্ছা, হয়তো কারোর ২০০-৫০০ জন আছে, কিন্তু তার বেশি তো হবে না। এই বাবার পরিবার তো অনেক বড়ো এবং আরো বৃদ্ধি পাবে। এখন রাজধানী স্থাপন হচ্ছে। বাবার পরিবারেরও অনেক বৃদ্ধি হবে আর প্রজাপিতা ব্রহ্মার পরিবারেরও অনেক বৃদ্ধি হবে। প্রতি কল্পে বাবা আসলেই এইসব ওয়ান্ডারফুল কথাবার্তা তোমাদের কানে পৌঁছায়। বাবার উদ্দেশ্যেই বলা হয় - হে প্রভু, তোমার গতি-মতি সকলের থেকে আলাদা। দেখেছো তো, ভক্তি আর জ্ঞানের মধ্যে কত ফারাক। বাবা তোমাদেরকে বোঝাচ্ছেন - স্বর্গে যাওয়ার জন্য দিব্যগুণও ধারণ করতে হবে। এখন তো কাঁটার মতো হয়ে গেছ। মানুষ গান করে - আমার মতো গুণহীনের মধ্যে কোনো গুণ নেই। কেবল পাঁচ বিকার রূপী দুর্গুন আছে কারন এটা রাবণের রাজত্ব। তোমরা এখন কতো ভাল জ্ঞানলাভ করছ। এই জ্ঞান যতটা আনন্দ দেয়, দুনিয়ার ওই জ্ঞান অতটা আনন্দ দিতে পারে না। তোমরা জানো যে আমরা আত্মারা ওপরে মূলবতনে থাকি। সূক্ষ্মবতনে রয়েছে ব্রহ্মা, বিষ্ণু এবং শঙ্কর। তবে তাদেরকে কেবল দিব্যদৃষ্টির সাহায্যেই দেখতে পাওয়া যায়। ব্রহ্মাও এখানেই থাকেন, লক্ষ্মী-নারায়ণও এখানেই থাকেন। ওখানে কেবল দিব্য দর্শন হয়। ব্যক্ত ব্রহ্মা কিভাবে সূক্ষ্মবতনবাসী ফরিস্তা ব্রহ্মা হয়ে যান, তার নিদর্শন রয়েছে। এছাড়া আর কিছু নেই। তোমরা বাচ্চারা এখন এইসব বিষয় বুঝতে পারছো এবং নিজের মধ্যে ধারণ করছো। কোনো নতুন ব্যাপার নয়। তোমরা আগে অনেকবার দেবতা হয়েছ, দৈব রাজত্ব ছিল। এই চক্র ক্রমাগত আবর্তিত হচ্ছে। ওই ড্রামা তো বিনাশী, আর এটা হলো অবিনাশী ড্রামা। তোমাদের ছাড়া আর কারোর বুদ্ধিতে এগুলো নেই। বাবা বসে থেকে এইসব বোঝাচ্ছেন। এমন নয় যে এই জ্ঞান পরম্পরায় চলে আসে। বাবা বলছেন, আমি এই সময়েই তোমাদেরকে এই জ্ঞান শোনাই। এরপর এই জ্ঞান প্রায় লুপ্ত হয়ে যায়। তোমরা রাজত্ব পেয়ে যাওয়ার পরে সত্যযুগে এই জ্ঞান থাকবে না। আচ্ছা !

মিষ্টি-মিষ্টি হারানিধি বাচ্চাদের প্রতি মাতা-পিতা বাপদাদার স্নেহ-সুমন স্মরণ-ভালবাসা আর সুপ্রভাত। আত্মাদের পিতা তাঁর আত্মা রূপী সন্তানদের জানাচ্ছেন নমস্কার।

ধারণার জন্য মুখ্য সার :-
১ ) সর্বদা যেন স্মৃতিতে থাকে যে আমরা হলাম ব্রাহ্মণ, তাই বিকারের থেকে অনেক অনেক দূরে থাকতে হবে। কখনোই যেন কোনো ক্রিমিনাল অ্যাসাল্ট না হয়। বাবার কাছে খুব অনেস্ট এবং বিশ্বাসী হয়ে থাকতে হবে।

২ ) দ্বি-মুকুটধারী দেবতা হওয়ার জন্য খুব মিষ্টি স্বভাবের হতে হবে, বুদ্ধির লাইন যেন ক্লিয়ার থাকে। রাজযোগের তপস্যা করতে হবে।

বরদান:-
সদা অসীমের স্থিতিতে স্থিত থেকে বন্ধনমুক্ত, জীবন্মুক্ত ভব

দেহ অভিমান হলো লৌকিকের স্থিতি আর দেহী-অভিমানী হওয়া - এটা হলো অসীমের স্থিতি। দেহতে আসার কারণে অনেক কর্মের বন্ধনে, লৌকিকতায় আসতে হয়। কিন্তু যখন দেহী হয়ে যাও তখন এইসব বন্ধন সমাপ্ত হয়ে যায়। যেরকম বলা হয় যে বন্ধনমুক্তই হল জীবন্মুক্ত, এইরকম যে অসীমের স্থিতিতে স্থিত থাকে সে দুনিয়ার বায়ুমন্ডল, ভায়ব্রেশন, তমোগুণী বৃত্তি, মায়ার আক্রমণ, এই সবগুলি থেকে মুক্ত হয়ে যায়, একেই বলা হয় জীবন্মুক্ত স্থিতি। এই স্থিতির অনুভব সঙ্গম যুগেই করতে হয়।

স্লোগান:-
নিশ্চয়বুদ্ধির লক্ষণ হলো নিশ্চিত বিজয়ী আর নিশ্চিন্ত, তার কাছে ব্যর্থ আসতে পারবে না।

অব্যক্ত ঈশারা :- এখন সম্পন্ন বা কর্মাতীত হওয়ার ধুন লাগাও

কর্মের গুহ্য গতিকে জেনে অর্থাৎ ত্রিকালদর্শী হয়ে প্রত্যেক কর্ম করো তবেই কর্মাতীত হতে পারবে। যদি ছোটো ছোটো ভুল সংকল্পরূপেও হয়ে যায় তাহলে তারও হিসেব নিকেশ খুব কঠোর হয় এইজন্য ছোটো ভুলও বড় মনে করতে হবে কেননা এখন তোমরা সম্পূর্ণ স্থিতির নিকটে আসছো।

Sunday, December 28, 2025

29-12-2025 BENGALI MURLI

 “মিষ্টি বাচ্চারা - এখন ঘরে ফিরে যেতে হবে, সেইজন্য দেহ সহ দেহের সকল সম্বন্ধকে ভুলে মামেকম্ স্মরণ করো আর পবিত্র হও”

প্রশ্নঃ -     আত্মার বিষয়ে কি এমন সূক্ষ্ম কথা কেবলমাত্র সূক্ষ্ম বুদ্ধিসম্পন্ন আত্মারাই বুঝতে পারে?

উত্তরঃ -     আত্মার উপর সূঁচের মতো ধীরে ধীরে জং (মরিচা) লাগতে থাকে। বাবার স্মরণে থাকলে সেই জং সরে যায় । যখন জং ছেড়ে যায় অর্থাৎ আত্মা তমোপ্রধান থেকে সতোপ্রধান হয় তখন বাবার আকর্ষণে বাবার সাথে গৃহে ফিরে যেতে পারে। ২- যত বেশী জং ছাড়তে থাকবে ততই অন্যদেরকে বোঝানোর জন্য আকর্ষণ করবে। এই কথাগুলি হলো অত্যন্ত সূক্ষ্ম, যেটা স্থুলবুদ্ধি সম্পন্ন আত্মারা বুঝতে পারে না।

ওম্ শান্তি । ভগবানুবাচ। এখন বুদ্ধিতে কে এসেছেন? যারা সেখানকার গীতা পাঠশালা ইত্যাদিতে থাকে, তাদের তো ভগবানুবাচ বলার সাথে সাথেই বুদ্ধিতে শ্রীকৃষ্ণই আসবে। বাচ্চারা এখানে তো তোমাদের বুদ্ধিতে উঁচুর থেকে উঁচু বাবা স্মরণে আসবে। এই সময় এটা হল সঙ্গম যুগ, পুরুষোত্তম হওয়ার। বাবা বাচ্চাদেরকে বসে বোঝাচ্ছেন যে দেহের সাথে দেহের সকল সম্বন্ধকে ত্যাগ করে নিজেকে আত্মা মনে করো। এটা হলো অত্যন্ত জরুরী কথা, যেটা এই সঙ্গম যুগে বাবা এসে বোঝাচ্ছেন। আত্মাই পতিত হয়ে গেছে। পুনরায় আত্মাকে পবিত্র হয়ে ঘরে ফিরে যেতে হবে। পতিতপাবনকে স্মরণ করতে এসেছে, কিন্তু জানেনা কিছুই। ভারতবাসীরা একদমই ঘন অন্ধকারে আছে। ভক্তি হলো রাত, জ্ঞান হলো দিন। রাতে অন্ধকার, দিনে আলো হয়ে থাকে। দিন হল সত্যযুগ, রাত হলো কলিযুগ। এখন তোমরা কলিযুগে আছো, সত্যযুগে যেতে হবে। পবিত্র দুনিয়াতে পতিতের কোনো প্রশ্নই থাকে না। যখন পতিত হয়ে যায়, তখন পবিত্র হওয়ার প্রশ্ন উঠতে থাকে। যখন পবিত্র থাকে, তখন পতিত দুনিয়া স্মরণেও আসে না। এখন হল পতিত দুনিয়া, তাই পবিত্র দুনিয়ার কথা স্মরণে আসছে। পতিত দুনিয়া হল পিছনের ভাগ, পবিত্র দুনিয়া হল প্রথম ভাগ। সেখানে কোনো পতিত থাকতে পারেনা। যারা পবিত্র ছিল, তারাই পতিত হয়েছে। ৮৪ জন্মের কথাও তাদেরকে বোঝানো হয়ে থাকে। এটা হল অত্যন্ত গুপ্তকথা, বোঝার জন্য। অর্ধেক কল্প ভক্তি করে এসেছে সেটা এত তাড়াতাড়ি যেতে পারে না। মানুষ একদমই ঘন অন্ধকারে আছে, কোটির মধ্যে কয়েকজনই বেরিয়ে আসে, খুব অল্প কয়েকজনের বুদ্ধিতেই এসব কথার ধারণা হবে। মুখ্য কথা তো বাবা বলছেন যে দেহের সকল সম্বন্ধেকে ভুলে আমাকে স্মরণ করো। আত্মাই পতিত হয়ে গেছে, তাকে পবিত্র হতে হবে। এই জ্ঞানও বাবাই দিয়ে থাকেন কেননা এই বাবা হলেন প্রিন্সিপাল, স্বর্ণকার, ডাক্তার, ব্যারিস্টার সবকিছু। এসব নাম সেখানে থাকবে না। সেখানে এই পড়াশোনাও থাকবে না। এখানে পড়াশোনা করে চাকরি করার জন্য। আগে মহিলারা এতটা পড়াশোনা করত না। এইসব পরবর্তীকালে শিখেছে। স্বামী মারা গেলে তখন দেখাশোনা করবে কে? এইজন্য মহিলারাও সবকিছু শিখছে। সত্যযুগে তো এরকম কথা হয়না যেটা চিন্তা করতে হবে। এখানে মানুষ ধনসম্পদ ইত্যাদি একত্রিত করতে থাকে, এইরকম সময়ের জন্য। সেখানে তো এইরকম পরিস্থিতি আসবে না যে চিন্তা করতে হবে। বাচ্চারা বাবা তোমাদেরকে কতইনা ধনবান বানিয়ে দিচ্ছেন। স্বর্গে অনেক খাজানা থাকে। হীরে-জহরতের খনিগুলি সব ভরপুর হয়ে যায়। এখানে জমি অনুর্বর হয়ে যায়, তাই সেই শক্তিও থাকে না। সেখানকার ফুল আর এখানকার ফুলের মধ্যে রাত-দিনের তফাৎ। এখানে তো সব জিনিসের থেকে শক্তিই চলে গেছে। যদিও অনেককিছু করে আমেরিকা ইত্যাদি জায়গা থেকে বীজ নিয়ে আসা হয় কিন্তু শক্তি হ্রাস হয়ে যায়। আসলে ধরনীই হলো এইরকম, যেখানে অনেক বেশি পরিশ্রম করতে হয়। সেখানে তো প্রত্যেক জিনিসই সতোপ্রধান হয়ে থাকে। প্রকৃতিও সতোপ্রধান তো সবকিছুই সতোপ্রধান হয়ে যায়। এখানে তো সব জিনিসই তমোপ্রধান হয়ে গেছে। কোনও জিনিসেই শক্তি নেই। এই পার্থক্যও তোমরা বুঝতে পারো। যখন সতোপ্রধান জিনিস দেখো তখন ধ্যানেই দেখতে পাও। সেখানকার ফুল ইত্যাদি কত সুন্দর হয়ে থাকে। হতে পারে - সেখানকার আনাজ ইত্যাদি সবকিছুই তোমরা ধ্যানে বসে দেখতে পাবে। বুদ্ধি দিয়ে বুঝতে পারবে। সেখানকার প্রত্যেক জিনিসের অনেক শক্তি থাকে। নতুন দুনিয়া কারোরই বুদ্ধিতে নেই। এই পুরানো দুনিয়ার কথা তো জিজ্ঞাসাই করো না। গল্প কথাও অনেক লম্বা চওড়া বলে দেয়। মানুষ একদমই অন্ধকারে শুয়ে পড়েছে। তোমরা যখন বলো যে আর বাকি অল্প সময় অবশিষ্ট আছে তখন তোমাদের নিয়ে কেউ কেউ আবার হাসি ঠাট্টাও করতে থাকে। রাজকীয়তার সাথে তো সে বুঝতে থাকে যে নিজেকে ব্রাহ্মণ মনে করে। এটা হল নতুন ভাষা, আত্মিক পড়াশোনা, তাই না! যতক্ষণ না স্পিরিচুয়াল ফাদার না আসেন, ততক্ষণ কেউ বুঝতে পারেনা। স্পিরিচুয়াল ফাদারকে বাচ্চারা তোমরাই জানো। তারা তো গিয়ে যোগ ইত্যাদি শেখাতে থাকে, কিন্তু তাদেরকে কে শিখিয়েছেন ? এরকম তো বলবে না যে স্পিরিচুয়াল ফাদার শিখিয়েছেন। বাবা তো শেখাচ্ছেনই আত্মিক বাচ্চাদেরকে। তোমরা সঙ্গমযুগী ব্রাহ্মণরাই এটা বুঝতে পারো। ব্রাহ্মণ সেই হবে যে আদি সনাতন দেবী দেবতা ধর্মের হবে। তোমরা ব্রাহ্মণরা হলে অল্পসংখ্যক। দুনিয়াতে তো ভিন্ন ভিন্ন ধরনের অনেক জাতি আছে। একটা বই তো অবশ্যই হবে যার দ্বারা জানা যাবে যে এই দুনিয়াতে কত ধর্ম, কত ভাষা আছে। তোমরা জানো যে এসব কিছুই থাকবে না। সত্যযুগে তো এক ধর্ম, এক ভাষাই ছিল। সৃষ্টিচক্রকে তোমরা জেনেছো। তাে ভাষাকেও জানতে পারবে যে এইসব থাকবে না। এতসবাই শান্তিধামে চলে যাবে। এই সৃষ্টিচক্রের জ্ঞান এখন বাচ্চারা তোমাদেরই প্রাপ্ত হয়েছে। বাচ্চারা তোমরা মানুষদেরকে বোঝাচ্ছ, তবুও তারা কিছুই বোঝে না। কোনও বড় ব্যক্তির দ্বারা ওপেনিংও এইজন্য করাও যে সে হলো অনেক বিখ্যাত। চারিদিকে রটে যাবে যে - বাঃ প্রেসিডেন্ট, প্রাইম মিনিস্টার ওপেনিং করেছেন। এই বাবা যদি যান, তো মানুষ কি বুঝতে পারবে যে পরমপিতা পরমাত্মা ওপেনিং করেছেন, তারা মানবে না। কোনও বিখ্যাত ব্যক্তি, কমিশনার ইত্যাদি যদি আসেন তো তার পিছনে পিছনে অনেকে আসবে। এঁনার পিছনে তো কেউ আসবে না। এখন তোমাদের, ব্রাহ্মণ সন্তানদের সংখ্যা হল কম। যখন তোমাদের সংখ্যা বৃদ্ধি হবে, তখন বুঝবে। এখন যদি বুঝে যায় তো বাবার কাছে ছুটে আসবে। কেউ একজন, বাচ্চীকে বলেছিল যে যিনি তোমাদেরকে এসব শিখিয়েছেন, আমরা প্রত্যক্ষভাবে কেননা তাঁর কাছে যাই! কিন্তু সূঁচের উপর জং লেগে আছে, তাহলে চুম্বকের আকর্ষণ কি করে হবে? জং যখন সম্পূর্ণভাবে সরে যাবে তখন চুম্বক তাকে আকড়ে ধরবে। সূঁচের একটি কোণেও যদি জং লেগে থাকে তো ততটা আকর্ষণ করতে পারবে না। সমস্ত জং সরে যাবে, সেটা তো পরে যখন এইরকম হবে তখন পুনরায় বাবার সাথে বাড়ি ফিরে যাবে। এখন তো এই চিন্তা আছে যে আমরা তমোপ্রধান হয়ে গেছি, জং লেগে আছে। যত স্মরণ করবে, ততই জং পরিষ্কার হতে থাকবে। আস্তে আস্তে সমস্ত জং ছেড়ে যাবে। জং লেগেওছে আস্তে আস্তে তাইনা, পুনরায় ছাড়বেও এইভাবে। যেরকমভাবে জং লেগেছে, সেরকমভাবেই সাফ হবে, তারজন্য বাবাকে স্মরণও করতে হবে। স্মরণের দ্বারা কারো অধিক জং ছেড়ে যায়, কারো কম। যার জং যত বেশী ছেড়ে যাবে ততই সে অন্যদেরকে বোঝানোর জন্য আকর্ষণ করবে। এটা হল অত্যন্ত সূক্ষ্ম কথা। স্থুল বুদ্ধিসম্পন্ন আত্মারা এসব বুঝতে পারবে না। তোমরা জানো যে রাজত্ব স্হাপন হচ্ছে। বোঝানোর জন্যও দিন-প্রতিদিন যুক্তি বের হতে থাকছে। আগে কি জানা ছিল যে প্রদর্শনী, মিউজিয়াম ইত্যাদি তৈরি হবে। পরবর্তীকালে হতে পারে আরো কিছু বেরোবে। এখনও সময় হাতে আছে, স্থাপনা হবে। হার্ট ফেলও হয়ে যেও না। কর্মেন্দ্রিয়গুলিকে বশ করতে না পারলে তো ভেঙে পড়ে। বিকারে গেলে তো পুনরায় সূঁচের উপর অনেক জং লেগে যাবে। বিকারের দ্বারা অধিক বেশি জং লাগতে থাকে। সত্যযুগ ত্রেতাতে একদম অল্প, পুনরায় অর্ধেক কল্পে তাড়াতাড়ি জং লাগতে থাকে। নিচের দিকে নামতে থাকে এইজন্য নির্বিকারী আর বিকারী বলা হয়ে থাকে। নির্বিকারী হলো দেবতাদের নিদর্শন, তাই না! বাবা বলছেন যে দেবী-দেবতা ধর্ম প্রায় লোপ হয়ে গেছে। কিন্তু নিদর্শনগুলি তো রয়ে গেছে, তাই না। সব থেকে ভালো নিদর্শন হল এই চিত্র। তোমরা এই লক্ষ্মী-নারায়ণের চিত্র নিয়ে পরিক্রমা করতে পারো, কেননা তোমরা এটা হচ্ছ তাই না। রাবণ রাজ্যের বিনাশ, রামরাজ্যে স্থাপনা হচ্ছে। এই হল রামরাজ্য, এই হল রাবণ রাজ্য আর এই হল সঙ্গম। অনেক অনেক পয়েন্টস্ আছে। ডাক্তারদের বুদ্ধিতে অনেক ওষুধ মনে থাকে। ব্যারিস্টারের বুদ্ধিতেও অনেক প্রকারের পয়েন্টস্ থাকে। অনেক টপিকস্ এর খুব ভালো একটা বই তৈরি হতে পারে। তারপর যখন কোথাও ভাষণ দিতে যাবে তখন পয়েন্টগুলিকে নজর থেকে বের করো। তীক্ষ্ণ বুদ্ধিযুক্ত আত্মারা ঝট করে দেখে নেবে। প্রথমে তো লিখতে হবে যে এইভাবে এইভাবে বোঝাবো। ভাষণ করার পরেও স্মরণে আসে, তাই না! এইরকম ভাবে যদি বোঝাতাম তাহলে আরো ভালো হতো। এই পয়েন্টস্ অন্যদেরকে বোঝালে তাদের বুদ্ধিতে বসবে। টপিকস্ এর লিস্ট বানাতে হবে। তারপর একটা টপিক বেঁছে নাও, নিজের মনে মনে ভাষণ করতে থাকো বা লিখতে থাকো। তারপর দেখতে হবে যে সব পয়েন্টস্ লেখা হয়েছে। যত মাথা খাটাবে ততোই ভালো। বাবা তো বোঝেন যে ইনি হলেন সবথেকে ভালো সার্জেন, এনার বুদ্ধিতে অনেক পয়েন্টস্ আছে। ভরপুর হয়ে গেলে তো সেবা ছাড়া মজাই আসবে না।

তোমরা প্রদর্শনী করতে থাকো, কোথাও ২-৪ জন বা কোথাও ৬-৮ জন বেরিয়ে আসে। কোথাও তো আবার একজনও বেরিয়ে আসে না। দেখেছে হাজার জন কিন্তু বেরোলো কত অল্প, এইজন্য এখন বড় বড় চিত্র বানাতে থাকে। তোমরা সতর্ক হয়ে যাচ্ছ। বড় বড় ব্যক্তিদের কি অবস্থা, সেটাও তোমরা দেখছো। বাবা বুঝিয়েছেন যে, চেক করতে হবে যে কাদেরকে এই জ্ঞান দেওয়া উচিত। নাড়ি দেখতে হবে যারা আমার ভক্ত। গীতা পাঠীদেরকে মুখ্য কথা একটাই বোঝাও যে - ভগবান উঁচুর থেকেও উঁচুকেই বলা যায়। তিনি হলেন নিরাকার। কোনও দেহধারী মানুষকে ভগবান বলা যায়না। বাচ্চারা তোমাদের এখন সবকিছু বোধগম্য হয়েছে। সন্ন্যাসীরাও ঘরের সন্ন্যাস করে পালিয়ে যায়। কোনও ব্রহ্মচারীই চলে যায়। পুনরায় দ্বিতীয় জন্মেও এইরকমই হয়ে থাকে। জন্ম তো অবশ্যই মাতার গর্ভ থেকেই নিয়ে থাকে। যতক্ষণ না বিবাহ না করে, ততক্ষণ বন্ধনমুক্ত থাকে, এতকিছু সম্বন্ধী ইত্যাদি স্মরণে আসে না। বিবাহ করলে তো সম্বন্ধ স্মরণে আসবে। সময় লাগবে, তাড়াতাড়ি বন্ধনমুক্ত হতে পারে না। নিজের জীবন কাহিনী সম্বন্ধে তো সকলেরই জানা আছে। সন্ন্যাসীরা বোঝে যে, প্রথমে আমরা গৃহস্থী ছিলাম তারপর সন্ন্যাস করেছি। তোমাদের হল বড় সন্ন্যাস এই জন্য পরিশ্রম হয়। সেইসব সন্ন্যাসীরা গায়ে ছাই-ভষ্ম লাগায়, মাথার চুল পরিত্যাগ করে, পোশাক পরিবর্তন করে। তোমাদের তো এরকম কিছু করার দরকার নেই। এখানে তো পোশাক পরিবর্তন করারও কথা নেই। তোমরা যদি সাদা শাড়ি নাও পরিধান করো, তাতেও কোনো অসুবিধা নেই। এটা তো হল বুদ্ধির জ্ঞান। আমরা হলাম আত্মা, বাবাকে স্মরণ করতে হবে, তবেই জং সরে যাবে আর আমরা সতোপ্রধান হয়ে যাবো। বাড়ি তো সবাইকেই ফিরে যেতে হবে। কেউ যোগবলের দ্বারা পবিত্র হয়ে যাবে, কেউ শাস্তি খেয়ে যাবে। বাচ্চারা তোমাদের জং ছাড়ানোর জন্যই পরিশ্রম করতে হয়, এইজন্য একে যোগঅগ্নিও বলা হয়ে থাকে। অগ্নিতেই পাপ ভস্মীভূত হয়। তোমরা পবিত্র হয়ে যাবে। কামচিতাকেও অগ্নি বলা হয়। কাম অগ্নিতে জ্বলে পুড়ে কালো হয়ে গেছো। এখন বাবা বলছেন গোরা হও। এইসব কথা তোমরা ব্রাহ্মণেরা ছাড়া কারো বুদ্ধিতে বসবে না। এই কথাগুলিই হল সবার থেকে আলাদা। তোমাদের উদ্দেশ্যে বলে যে, এরা তো শাস্ত্রকেও মানে না। নাস্তিক হয়ে গেছে। বলো, শাস্ত্রতো আমরা পড়তাম, তারপর তো বাবা এসে জ্ঞান প্রদান করলেন। জ্ঞানের দ্বারাই সদ্গতি প্রাপ্ত হয়। ভগবানুবাচ, বেদ-উপনিষদ ইত্যাদি পড়ে, দান-পূণ্য করে কেউই আমাকে প্রাপ্ত করতে পারে না। আমার দ্বারাই আমাকে প্রাপ্ত করতে পারবে। বাবাই এসে আমাদেরকে যোগ্য বানাচ্ছেন। আত্মার উপর জং লেগে গেলে তখন বাবাকে আহ্বান করে, বলে যে, এসে পবিত্র বানাও। যে আত্মা তমোপ্রধান হয়ে গেছে তাকেই সতোপ্রধান হতে হয়, তমোপ্রধান থেকে তমঃ, রজঃ, সতঃ পুনরায় সতোপ্রধান হতে হয়। আর যদি মাঝপথে গন্ডগোল হয়, তবে পুনরায় জং লেগে যাবে।

বাবা আমাদেরকে এতো উঁচু বানাচ্ছেন, তো সেই খুশীতে থাকতে হবে, তাই না! বিদেশে যখন পড়তে যায় তখন খুশীতে যায় তাই না! এখন তোমরা অনেক বোঝদার হচ্ছ। কলিযুগে তোমরা কতোখানি তমোপ্রধান অবুঝ হয়ে যাও! যতই ভালোবাসো, তত আরো বেশী মোকাবিলা করতে। বাচ্চারা তোমরা বুঝতে পারছ যে, আমাদের রাজধানী স্থাপন হচ্ছে। যে ভালো রীতি পড়বে, স্মরণে থাকবে সে ভালো পদ পাবে। চারাগাছ রোপন করা ভারত থেকেই শুরু হয়। দিন দিন খবরের কাগজে তোমাদের নাম খ্যাত হতে থাকবে। খবরের কাগজের প্রতিনিধিরা তো সবদিকে যায়। সেই প্রতিনিধিদেরকে যদি দেখো তো দেখবে, তারা কখনও ভালো খবর ছাপায় তো কখনও খারাপ, কেননা তারাও শোনা কথা অনুসারে চলে, তাই না! যে যেটা শোনায়, সেটাই তারা ছাপিয়ে দেয়। শোনা কথার পরিপ্রেক্ষিতে তারা চলতে থাকে, একে পরমত বলা হয়। পরমত আসুরিক মত হয়ে যায়। বাবার হল শ্রীমত। কেউ যদি উল্টোপাল্টা কথা বলে তো ব্যস্, আসাই ছেড়ে দেয়। যে সেবা করে, তার এবিষয়ে জ্ঞান থাকে। এখানে তোমরা যাকিছু সেবা করে থাকো, এটাই হল তোমাদের নম্বর ওয়ান সেবা। এখানে তোমরা সেবা করো, সেখানে ফল প্রাপ্ত হয়। কর্তব্য তো এখানে বাবার সাথে করে থাকো, তাই না। আচ্ছা!

মিষ্টি-মিষ্টি হারানিধি বাচ্চাদের প্রতি মাতা-পিতা বাপদাদার স্মরণের স্নেহ-সুমন আর সুপ্রভাত। আত্মাদের পিতা তাঁর আত্মা রূপী বাচ্চাদেরকে জানাচ্ছেন নমস্কার।
ধারণার জন্যে মুখ্য সারঃ-

১ ) আত্মা রূপী সূঁচের উপর জং লেগে গেছে, যোগবলের দ্বারা তাকে সরিয়ে সতোপ্রধান হওয়ার পরিশ্রম করতে হবে। লোকের কথা শুনে কখনও পড়াশোনা ছেড়ে দিও না।

২ ) বুদ্ধিতে জ্ঞানের পয়েন্টস্ দিয়ে ভরপুর করে সেবা করতে হবে। নাড়ি দেখে জ্ঞান শোনাতে হবে। অত্যন্ত তীক্ষ্ণ বুদ্ধিসম্পন্ন হতে হবে।বরদানঃ-কলিযুগী দুনিয়ার দুঃখ অশান্তির সীন দেখেও সদা সাক্ষী এবং অসীমের বৈরাগী ভব
এই কলিযুগী দুনিয়াতে যাকিছু হয়, তাতে তোমাদের সদা উন্নতিই হয়। দুনিয়ার জন্য হাহাকার আর তোমাদের জন্য হল জয়জয়কার। তোমরা কোনও পরিস্থিতিতে ঘাবড়ে যাবে না, কেননা তোমরা পূর্ব থেকেই তৈরী আছো। সাক্ষী হয়ে প্রত্যেক প্রকারের খেলা দেখছো। কেউ কাঁদছে, কেউ চিৎকার করছে, সাক্ষী হয়ে দেখলে মজা আসে। যে কলিযুগী দুনিয়ার দুঃখ অশান্তির সীন সাক্ষী হয়ে দেখে সে সহজেই অসীমের বৈরাগী হয়ে যায়।

স্লোগানঃ-  যেকোনও ধরণী তৈরী করার জন্য বাণীর সাথে সাথে বৃত্তির দ্বারাও সেবা করো।
 

অব্যক্ত ঈশারা :- এখন সম্পন্ন বা কর্মাতীত হওয়ার ধুন লাগাও

যেরকম কোনও মেশিনারীকে সেট করা যায় তো একবার সেট করার পর অটোমেটিক্যালি চলতেই থাকে। এই রীতিতে নিজের সম্পূর্ণ স্টেজ বা বাবার সমান স্টেজ বা কর্মাতীত স্থিতির স্টেজের সেটকে এমন করে সেট করে দাও যে পুনরায় সংকল্প, শব্দ বা কর্ম সেই সেটিংস অনুসারে অটোমেটিক চলতেই থাকে।

28.12.2025 BENGALI MURLI



‘‘কারণ শব্দকে নিবারণে পরিবর্তিত করে মাস্টার মুক্তিদাতা হও, সবাইকে বাবার সঙ্গের রং লাগিয়ে সমান হওয়ার হোলি উদযাপন করো"

আজ সর্ব ভাণ্ডারের মালিক বাপদাদা ভাণ্ডারে সম্পন্ন তাঁর বাচ্চাদের চতুর্দিকে দেখছেন। প্রত্যেক বাচ্চার ভাণ্ডারে কত জমা হয়েছে, সেটা দেখে প্রফুল্লিত হচ্ছেন। ভাণ্ডার তো সবার একই সময়ে একই রকম প্রাপ্ত হয়েছে, তবুও জমার খাতা সব বাচ্চারই আলাদা আলাদা। কেননা, সময় অনুসারে এখন বাপদাদা সব বাচ্চাকে সর্ব ভাণ্ডারে সম্পন্ন দেখতে চান। কেননা, এই ভাণ্ডার শুধু এখন এক জন্মের জন্য নয়, এই অবিনাশী ভাণ্ডার অনেক জন্ম সাথে থাকবে। এই সময়ের সমূহ ভাণ্ডারকে তোমরা বাচ্চারা তো সবাই জানই। বাপদাদা কী কী ভাণ্ডার দিয়েছেন, বলার সাথে সাথেই তা' সবার সামনে এসে গেছে। সবার সামনে ভাণ্ডারের লিস্ট ইমার্জ হয়ে গেছে তো না! কেননা, বাপদাদা আগেই বলেছেন যে ভাণ্ডার তো প্রাপ্ত হয়েছে, কিন্তু জমা করার বিধি কী? যে যতটা নিমিত্ত আর নির্মান (নিরহংকার) হয় ততই ভাণ্ডার জমা হয়।

সুতরাং চেক করো - নিমিত্ত আর নির্মান হওয়ার বিধির দ্বারা আমার খাতায় কত ভাণ্ডার জমা হয়েছে! ভাণ্ডার যত জমা হবে, পরিপূর্ণ হবে তার আচার আচরণ এবং মুখমণ্ডল দ্বারা পরিপূর্ণ আত্মার আধ্যাত্মিক নেশা আপনা থেকেই প্রতীয়মান হবে। তার মুখমণ্ডলে সদা আধ্যাত্মিক নেশা বা গৌরব দীপ্তিময় হয়, তাছাড়া অধ্যাত্ম গৌরব অর্থাৎ অধ্যাত্ম নেশা নিশ্চিন্ত বাদশাহর লক্ষণ।তো নিজেকে চেক করো - আমার আচরণে এবং মুখমণ্ডলে নিশ্চিন্ত বাদশাহর নিশ্চয় আর নেশা আছে? দর্পণ সবাই পেয়েছ তো না! তো হৃদয়ের দর্পণে নিজের মুখমণ্ডল চেক করো। কোনো রকমের চিন্তা নেই তো! কী হবে! এটা হবে না তো! কোনও সঙ্কল্প থেকে যায়নি তো? নিশ্চিন্ত বাদশাহর সঙ্কল্প এটাই হবে যা হচ্ছে তা' খুব ভালো আর যা হওয়ার আছে তা' আরও ভালো থেকে ভালো হবে। একে বলা হয়ে থাকে দিব্য গরিমা অর্থাৎ স্বমানধারী আত্মা। যারা যত বিনাশী ধন উপার্জন করে সময় অনুসারে অতটাই দুশ্চিন্তায় থাকে। তোমাদের নিজেদের ঈশ্বরীয় ভাণ্ডারের জন্য চিন্তা আছে? তোমরা নিশ্চিন্ত, তাই না! কেননা, যারা ভাণ্ডারের মালিক আর পরমাত্ম বালক তারা সদাসর্বদা স্বপ্নেও নিশ্চিন্ত বাদশাহ। কেননা, তাদের নিশ্চয় আছে, এই ঈশ্বরীয় ভাণ্ডার কেবল এই জন্মে নয়, বরং অনেক জন্ম সাথে আছে, সাথে থাকবে। সেইজন্য তারা নিশ্চয়বুদ্ধি নিশ্চিন্ত।

তো আজ বাপদাদা চতুর্দিকের বাচ্চাদের জমার খাতা দেখছিলেন। আগেও বলেছেন যে তোমরা বিশেষ তিন রকমের খাতা জমা করেছো আরও করতে পারো। এক হলো - নিজের পুরুষার্থ অনুযায়ী খাতা জমা করা। এটা একটা খাতা। দ্বিতীয় খাতা হলো আশীর্বাদের খাতা। আশীর্বাদের খাতা জমা হওয়ার সাধন হলো সদা সম্বন্ধ-সম্পর্ক এবং সেবাতে থেকে সঙ্কল্প, বোল আর কর্মে এই তিনেতেই নিজেও নিজের প্রতি সন্তুষ্ট হবে আর অন্যরাও অন্য সবার প্রতি সন্তুষ্ট হবে। সন্তুষ্টতা আশীর্বাদের খাতা বৃদ্ধি করে। আর তৃতীয় খাতা হলো - পুণ্যের খাতা। পুণ্যের খাতার সাধন হলো - যারাই সেবা করছ তারা হয় মন দ্বারা, বাণী দ্বারা অথবা কর্ম দ্বারা, কিংবা সম্বন্ধ-সম্পর্কে ব্যবহারে এসে সদা নিঃস্বার্থ আর অসীম বৃত্তি, স্বভাব, ভাব আর ভাবনা দ্বারা সেবা করো। এর দ্বারা পুণ্যের খাতা আপনা থেকেই জমা হয়ে যায়। তো চেক করো - কীভাবে চেক করে তোমরা জানো তো না! জানো? যারা জানো না তারা হাত উঠাও। যারা জানে না, কেউ নেই মানে সবাই জানে। তো চেক করেছ তোমরা? স্ব পুরুষার্থের খাতা, আশীর্বাদের খাতা, পুণ্যের খাতা এই তিন রকমের খাতা কত পার্সেন্টে জমা হয়েছে? চেক করেছো? যে চেক করে সে হাত তোলো। চেক করো? প্রথম লাইন তোমরা চেক করো না? কী বলো তোমরা? চেক করো তো না! কেননা, বাপদাদা বলে দিয়েছেন, ইঙ্গিত দিয়ে দিয়েছেন যে এখন সময়ের নৈকট্য তীব্রগতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। সেইজন্য নিজের চেকিং বারবার করতে হবে। কারণ বাপদাদা সব বাচ্চাকে রাজা বাচ্চা, রাজযোগী তথা রাজা বাচ্চা হিসেবে দেখতে চান। এটাই পরমাত্ম বাবার অধ্যাত্ম নেশা যে প্রত্যেক বাচ্চা রাজা বাচ্চা। স্বরাজ্য অধিকারী তথা বিশ্ব রাজ্য অধিকারী পরমাত্ম বাচ্চা।

তো বাপদাদা দ্বারা ভাণ্ডার তো প্রাপ্ত হতেই থাকে। এই সমুদয় ভাণ্ডার জমা করার খুব সহজ বিধি হলো - বিধি বলো বা চাবি বলো, সেটা জানো তো না! জমা করার চাবি কী? জানো তোমরা? তিন বিন্দু। আছে না সবার কাছে চাবি? তিন বিন্দু লাগাও আর ভাণ্ডার জমা হতে থাকবে। মাতা-রা চাবি লাগাতে জানো তো না! চাবি সামলানোতে সাবধান থাকো তো না! তো সব মাতা এই তিন বিন্দুর চাবি সামলে রেখেছে, লাগিয়েছো? বলো মাতারা, চাবি আছে? যার কাছে আছে সে হাত তোলো। মাতা-রা তোলো। চাবি চুরি হয়ে যায় না তো? সাধারণতঃ ঘরের সব জিনিসের চাবি সামলাতে মাতা-রা খুব ভালো জানে। তো এই চাবিও সদা সাথে থাকে তো না?

তো বর্তমান সময়ে বাপদাদা এটাই চান - এখন সময় সমীপ হওয়ার কারণে বাপদাদা সব বাচ্চার ভেতর থেকে একটা শব্দ সঙ্কল্প দ্বারা, বোল দ্বারা এবং প্র্যাকটিক্যাল কর্ম দ্বারা চেঞ্জ হ'তে দেখতে চান। সাহস আছে? সব বাচ্চার একটাই শব্দ বাপদাদা পরিবর্তন করাতে চান, যে একটা শব্দ বারবার তীব্র পুরুষার্থী থেকে আসাবধান পুরুষার্থী বানিয়ে দেয়। আর এখন সময় অনুসারে কোন পুরুষার্থ প্রয়োজন? তীব্র পুরুষার্থ এবং সবাই চায়ও যে তীব্র পুরুষার্থীর লাইনে যেন আসতে পারে, কিন্তু একটা শব্দ আসাবধান করে তোলে। সেটা জানো তোমরা? পরিবর্তন করার জন্য তৈরি তোমরা? তৈরি আছো? হাত তোলো, তৈরি আছো? দেখো, তোমাদের ফটো টিভিতে আসছে। তৈরি আছো, আচ্ছা অভিনন্দন। আচ্ছা - তীব্র পুরুষার্থ দ্বারা পরিবর্তন করবে, নাকি করে নেবে, দেখে নেবে... এইরকম নয় তো? সেই একটা শব্দ জেনে তো গেছ, কেননা, তোমরা সবাই চতুর, এক শব্দ সেটা যা 'কারণ' শব্দকে পরিবর্তন করে 'নিবারণ' শব্দকে সামনে নিয়ে আসে। কারণ সামনে আসায় বা কারণ সম্বন্ধে ভাবলে নিবারণ হয় না। তো বাপদাদা সঙ্কল্পকে পর্যন্ত, শুধু বলা পর্যন্ত নয়, বরং সঙ্কল্প পর্যন্ত, এই কারণ শব্দকে নিবারণে পরিবর্তন করতে চান। কেননা, কারণ ভিন্ন ভিন্ন প্রকারের হয় আর সেসব যখন ভাবনাতে, কথায়, কর্মে প্রবেশ করে যায় তখন সেই কারণ তীব্র পুরুষার্থের সামনে বন্ধন হয়ে যায়। কেননা, তোমাদের সকলের বাপদাদার কাছে প্রতিজ্ঞা রয়েছে, স্নেহের সাথে প্রতিজ্ঞা করেছ যে তোমরা সবাই বিশ্ব পরিবর্তনের কার্যে বাবার সাথী হবে। তোমরা বাবার সাথী, বাবা একলা করেন না, বাচ্চাদের সাথে আনেন। তো বিশ্ব পরিবর্তনের কার্যে তোমাদের কী কার্য রয়েছে? সর্ব আত্মার কারণ তোমাদের নিবারণ করতে হবে। কেননা, আজকাল মেজরিটি দুঃখী আর অশান্ত হওয়ার কারণে এখন মুক্তি চায়, দুঃখ অশান্তি থেকে, সর্ব বন্ধন থেকে মুক্তি চায় আর মুক্তিদাতা কে? বাবার সাথে তোমরা বাচ্চারাও মুক্তিদাতা। তোমাদের জড় চিত্র থেকে আজ পর্যন্ত তারা কী চাইছে? এখন দুঃখ অশান্তি বাড়তে দেখে তোমরা সব মুক্তিদাতা আত্মাকে মেজরিটি আত্মারা স্মরণ করে। মনে দুঃখ নিয়ে চিৎকার করে - হে মুক্তিদাতা মুক্তি দাও। তোমরা কি আত্মাদের দুঃখ অশান্তির আর্তনাদ শুনতে পাও না? মুক্তিদাতা হয়ে প্রথমে এই 'কারণ' শব্দকে মুক্ত করো। তাহলে আপনা থেকেই মুক্তির আওয়াজ তোমাদের কানে গুঞ্জরিত হবে। আগে নিজের ভিতর থেকে নিজে এই শব্দ থেকে মুক্ত যদি হও তবেই অন্যদের মুক্ত করতে পারবে। এখন তো দিন দিন তোমাদের সামনে মুক্তিদাতা মুক্তি দাও - এর ক্যু লাগবে। কিন্তু এখন পর্যন্ত নিজের পুরুষার্থে অনেক 'কারণ' শব্দের

অজুহাত দেওয়ার কারণে মুক্তির দ্বার বন্ধ। সেইজন্য আজ বাপদাদা এই শব্দের পরিবর্তন চান, কেননা, এর সাথে আরও দুর্বল শব্দ আসে। যতই হোক, বিশেষ শব্দ হলো কারণ, আর এর সাথে অন্য দুর্বলতা থাকে - এভাবে, ওভাবে, কীভাবে এসব এর সাথী শব্দ, যা দ্বার বন্ধ হওয়ার কারণ।

তো আজ সবাই হোলি উদযাপন করতে এসেছ, তাইনা! সবাই ছুটতে ছুটতে এসেছ। স্নেহের বিমানে চড়ে এসেছ। বাবার প্রতি স্নেহ আছে, তাইতো বাবার সাথে হোলি উদযাপন করতে এখানে পৌঁছে গেছো। অভিনন্দন, স্বাগত তোমাদের! বাপদাদা অভিনন্দন জ্ঞাপন করছেন। বাপদাদা দেখছেন, যাদের শরীর যথেষ্ট সুস্থ নয়, তারা কেউ কেউ হুইল চেয়ারে করে মনের জোরে (সাহস) এখানে পৌঁছে গেছে। এই দৃশ্য বাপদাদা দেখছেন, তারা এখানে ক্লাসে আসে তো না! যখন প্রোগ্রামে আসে তখন পাণ্ডাকে ধরে হুইল চেয়ারে বসে এসে যায়। তো এটাকে কী বলা যাবে? পরমাত্ম ভালোবাসা। বাপদাদাও এমন সাহসিক স্নেহী, হৃদয়ের স্নেহী বাচ্চাদেরকে বিশেষভাবে তাঁর হৃদয়ের অনেক অনেক আশীর্বাদ, হৃদয়ের ভালোবাসা দিচ্ছেন। সাহস করে এসেছ, বাবার আর পরিবারের সহায়তা আছেই। সবাই যথাযথ স্থান পেয়েছো? পেয়েছো? যারা যথোপযুক্ত স্থান পেয়েছ তারা হাত উঠাও। ফরেনার্স তোমরা উপযুক্ত স্থান পেয়েছো? এটা মেলা, মেলা। ওখানে মেলায় তো ধুলোবালির মধ্যেই তোমাদের ভোজনও চলতে থাকে। এখানে তোমরা ভালো ব্রহ্মা ভোজন পাও, পেয়েছো? হাত ভালোই নাড়াচ্ছে। শোয়ার জন্য তিন পা ভূমি পেয়েছ। এমন মিলন আবার ৫ হাজার বছর পরে সঙ্গমেই হবে। তার আগে আর হবে না।

তো আজ বাপদাদার সঙ্কল্প আছে যে সব বাচ্চার জমার খাতা দেখবেন। দেখেছেনও, ভবিষ্যতেও দেখবেন, কেননা, বাপদাদা এটা আগেই বাচ্চাদের অবহিত করিয়েছেন যে জমার খাতা জমা করার সময় এখন এই সঙ্গমযুগ। এই সঙ্গমযুগে এখন যত জমা করতে চাও, সমগ্র কল্পের খাতা এখন জমা করতে পারো। তারপরে খাতা জমা করার ব্যাঙ্কই বন্ধ হয়ে যাবে। তখন কী করবে? বাচ্চাদের প্রতি বাবার ভালোবাসা আছে তো না! সেইজন্য বাপদাদা জানেন যে বাচ্চারা আসাবধানতায় কখনো ভুলেও যাও - হয়ে যাবে, দেখে নেবো, করছি তো, চলছি তো না! বেশ মজার সাথেই বলো, আপনি দেখছেন না, আমরা করছি, হ্যাঁ আমরা চলছি আর কী করবো? কিন্তু চলা আর ওড়াতে কত পার্থক্য আছে? চলছ, অভিনন্দন। কিন্তু এখন চলার সময় সমাপ্ত হচ্ছে। এখন ওড়ার সময়। তবেই লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারবে। সাধারণ প্রজাতে আসা, ভগবানের বাচ্চা আর সাধারণ প্রজা! এটা শোভন?

আজ হোলি উদযাপন করতে এসেছ তো না! হোলির অর্থ হলো - যা অতিবাহিত হয়েছে তা' অতীত। তো বাপদাদা এটাই চান, আজ থেকে যা অতীত তা' অতীত, কোনও কারণে যদি কোনও দুর্বলতা থেকে যায় তবে এই মুহূর্তের অতীতকে অতীতকালীন করে নিজের চিত্র স্মৃতিতে নিয়ে এসো, নিজেরই চিত্রকর হয়ে নিজের ছবি বের করো। জানো তোমরা বাপদাদা এখনও প্রত্যেক বাচ্চার কোন চিত্র সামনে দেখছেন? এখনই তোমরাও সবাই নিজের চিত্র তোলো। কীভাবে চিত্র তুলতে হয় জানো তোমরা? জানো তো না! শ্রেষ্ঠ সঙ্কল্পের কলম দ্বারা নিজের চিত্র এই মুহূর্তে সামনে আনো। প্রথমে সবাই ড্রিল করো, মাইন্ড ড্রিল। কর্মেন্দ্রিয়ের ড্রিল নয়, মনের ড্রিল করো। রেডি, ড্রিল করার জন্য রেডি আছ? কাঁধ নাড়াও। দেখো, সর্বাধিক শ্রেষ্ঠ থেজে শ্রেষ্ঠ চিত্র হয় - মুকুট, সিংহাসন, তিলকধারীর। তো নিজের চিত্র সামনে আনো। অন্য সব সঙ্কল্প একপাশে সরিয়ে দিয়ে দেখ, তোমরা সবাই বাপদাদার হৃদয় সিংহাসনাসীন। সিংহাসন, তাইতো না! এমন সিংহাসন তো কোথাও পাওয়া যাবে না। তো প্রথমে এই চিত্র বের করো যে আমি বিশেষ আত্মা, স্বমানধারী আত্মা, বাপদাদার প্রথম রচনা আমি শ্রেষ্ঠ আত্মা, বাপদাদার হৃদয় সিংহাসনাসীন। সিংহাসনাসীন হয়ে গেছ! সেইসঙ্গে পরমাত্ম রচনা আমি পূর্বজ ও পূজ্য আত্মা এই বৃক্ষের মূলে বসে আছি, এই স্মৃতির তিলকধারী আমি। স্মৃতির তিলক লাগিয়েছ! এইসঙ্গে নিশ্চিন্ত বাদশাহ, সমস্ত চিন্তার বোঝা বাপদাদাকে অর্পণ করে আমি ডবল লাইটের মুকুটধারী। সুতরাং মুকুট, তিলক আর সিংহাসনধারী, এমন বাবা অর্থাৎ পরমাত্ম প্রিয় আত্মা আমি।

তো নিজের এই চিত্র তুলেছ। সদা এই ডবল লাইটের মুকুট ঘুরতে ফিরতে ধারণ করতে পারো। কখনও যদি নিজের স্বমান স্মরণ করো তবে এই মুকুট, তিলক, সিংহাসনাসীন আত্মা - নিজের এই চিত্র দৃঢ় সঙ্কল্পের দ্বারা সামনে আনো। স্মরণে আছে - শুরু শুরুতে তোমাদের অভ্যাস বারবার এক শব্দের স্মৃতিতে থাকত, সেই এক শব্দ ছিল - আমি কে? এই আমি কে? এই শব্দ বারবার স্মৃতিতে আনো এবং নিজের ভিন্ন ভিন্ন স্বমান, টাইটেল, ভগবানের থেকে পাওয়া টাইটেল। আজকাল লোকে, মানুষের থেকে যদি মানুষ টাইটেল পায় তবুও কত গুরুত্বপূর্ণ মনে করে আর তোমরা সব বাচ্চার বাবা দ্বারা কত টাইটেল প্রাপ্ত হয়েছে? স্বমান প্রাপ্ত হয়েছে? সদা স্বমানের লিস্ট নিজের বুদ্ধিতে মনন করতে থাকো। আমি কে? লিস্ট আনো। এই নেশায় যদি থাকো তবে কারণ যে শব্দ আছেনা, সেই শব্দ মার্জ হয়ে যাবে আর নিবারণ সব কর্মে দেখা যাবে। যখন তোমরা নিবারণের স্বরূপ হয়ে যাবে তখন সকল আত্মার নির্বাণধামে, মুক্তিধামে যাওয়ার সহজ রাস্তা বলে দিয়ে তাদের মুক্ত করে নেবে।

দৃঢ় সঙ্কল্প করো - কীভাবে দৃঢ় সঙ্কল্প করে জানো তোমরা? যখন দৃঢ়তা থাকে তখন দৃঢ়তাই সফলতার চাবি। দৃঢ় সঙ্কল্পে সামান্যতমও খামতি হতে দিও না, কেননা, মায়ার কাজ হলো পরাজিত করা আর তোমাদের কাজ কী? তোমাদের কাজ হলো - বাবার গলার হার হওয়া, মায়ার কাছে হার মেনে নেওয়া নয়। তো সবাই এই সঙ্কল্প করো আমি সদা বাবার গলার বিজয় মালা। গলার হার। গলার হার বিজয়ী হার।

তো বাপদাদা তোমাদের হাত তুলিয়ে থাকেন - তোমরা কী হবে? তোমরা সবাই কী উত্তর দাও? একই উত্তর দাও লক্ষ্মী-নারায়ণ হবে। রামসীতা নয়। তো লক্ষ্মী-নারায়ণ হতে যাওয়া আমরা বাপদাদার বিজয়ী মালার দানা, পূজ্য আত্মা। তোমাদের মালার দানা জপতে জপতে তারা নিজেদের সমস্যা সমাপ্ত করে। এমন শ্রেষ্ঠ দানা তোমরা। তো আজ বাপদাদাকে তোমরা কী দেবে? হোলি উপলক্ষ্যে কোনো গিফ্ট দেবে তো না! এই কারণ শব্দ, এই তো তো, অন্য আর কারণ, তো তো যদি করবে তবে তোতা হয়ে যাবে, যাবে না! তো তো এটাও নয়, এভাবে ওভাবেও নয়, কোনও রকম কারণ নয়, নিবারণ। আচ্ছা।

বাপদাদা প্রত্যেক বাচ্চাকে সমান হওয়ার, শ্রেষ্ঠ সঙ্কল্প করার পদ্ম পদ্মগুন অভিনন্দন জ্ঞাপন করছেন। অভিনন্দন অভিনন্দন অভিনন্দন। নেশা আছে তো না - আমাদের মতো পদম পদম ভাগ্যবান কে? এই নেশাতে থাকো।

এখন এক সেকেন্ডে সব ব্রাহ্মণ নিজের রাজযোগের অভ্যাস করতে করতে মনকে একাগ্র করার মালিক হয়ে মনকে যেখানে চাও, যত সময় চাও, যেভাবে চাও সেভাবে এই মুহূর্তে মনকে একাগ্র করো। কোথাও যেন মন এখানে ওখানে চঞ্চল না হয়। আমার বাবা, মিষ্টি বাবা, প্রিয় বাবা এই স্নেহের সঙ্গের রঙে আধ্যাত্মিক হোলি উদযাপন করো। (ড্রিল) আচ্ছা।

চতুর্দিকের শ্রেষ্ঠ বিশেষ হোলি এবং হাইয়েস্ট বাচ্চাদের, সদা স্বয়ংকে বাবা সমান সর্বশক্তিতে সম্পন্ন মাস্টার সর্বশক্তিমান অনুভব করে, সদা সব দুর্বলতা থেকে মুক্ত হয়ে অন্য আত্মাদেরও মুক্তি প্রাপ্ত করায় এমন মুক্তিদাতা বাচ্চাদের, সদা স্বমানের সিটে সেট থাকে, সদা অমর ভব-র বরদানের অনুভব স্বরূপ হয়, চতুর্দিকের এমন বাচ্চারা, হয় তারা সামনে বসে আছে, অথবা দূরে বসে স্নেহে সমাহিত হয়ে আছে, সেই সব বাচ্চাকে স্মরণ-স্নেহ এবং যারা নিজের উৎসাহ-উদ্দীপনায় পুরুষার্থের সমাচার দিয়ে থাকে, তারা বাপদাদার হৃদয়ের অনেক অনেক স্মরণ-স্নেহ আর হৃদয়ের পদ্ম পদ্মগুন স্মরণের স্নেহ-সুমন স্বীকার করো এবং সকল রাজযোগী তথা রাজ্য অধিকারী বাচ্চাদের নমস্কার।
*বরদানঃ-*     আলমাইটি সত্ত্বার আধারে আত্মাদের সৌভাগ্যবান (মালামাল) বানিয়ে পুণ্য আত্মা ভব
যেমন, দান পুণ্য অর্জনের ইচ্ছা থেকে দান করে এমন সত্ত্বার রাজাদের মধ্যে সত্ত্বার ফুল পাওয়ার ছিল। যে পাওয়ারের আধারে, হতে পারে তারা কাউকে কিছু বানিয়ে দিতে পারত। তেমনই তোমরা মহাদানী পুণ্য আত্মাদের ডায়রেক্ট বাবা দ্বারা প্রকৃতিজিৎ, মায়াজিতের বিশেষ সত্ত্বা প্রাপ্ত হয়েছে। তোমরা নিজেদের শুদ্ধ সঙ্কল্পের দ্বারা যে কোনো আত্মাকে বাবার সাথে সম্বন্ধ জুড়ে সৌভাগ্যবান বানাতে পারো। কেবল এই সত্ত্বাকে যথার্থ রীতিতে ইউজ করো।
*স্লোগানঃ-*     যখন তোমরা সম্পূর্ণতার অভিনন্দন উদযাপন করবে, তখন সময়, প্রকৃতি আর মায়া বিদায় নেবে।
 
অব্যক্ত ইশারাঃ :- এখন সম্পন্ন বা কর্মাতীত হওয়ার ধুন লাগাও যখন মন বুদ্ধি কর্মে খুব বিজি থাকবে, সেই সময় ডিরেকশন দাও ফুলস্টপ। কর্মেরও সঙ্কল্প যেন স্টপ হয়ে যায়। এই প্র্যাকটিস এক সেকেন্ডের জন্য হলেও করো। কিন্তু অভ্যাস নিরন্তর করো। কেননা, অন্তিম সার্টিফিকেট এক সেকেন্ডের ফুলস্টপ লাগানোতেই প্রাপ্ত হয়। সেকেন্ডে বিস্তারকে গুটিয়ে নাও, সার স্বরূপ হয়ে যাও, এই অভ্যাসই কর্মাতীত বানাবে।

Saturday, December 27, 2025

27-12-2025 BENGALI MURLI

 

"মিষ্টি বাচ্চারা - তোমাদের দুঃখের দিন এখন পূর্ণ হয়েছে, তোমরা এখন এমন দুনিয়ায় যাচ্ছো যেখানে কোনো অপ্রাপ্ত বস্তু নেই"

প্রশ্নঃ -
কোন্ দুটি শব্দের রহস্য তোমাদের বুদ্ধিতে থাকার কারণে পুরোনো দুনিয়ার থেকে অসীমের বৈরাগ্য আসে?

উত্তরঃ  
অবতরণ-কলা আর উত্তরণ-কলার রহস্য তোমাদের বুদ্ধিতে রয়েছে। তোমরা জানো যে, অর্ধেক কল্প ধরে আমরা অবতরণ করেছি, এখন উত্তরণের সময়। বাবা এসেছেন নর থেকে নারায়ণে পরিণত করার সত্য জ্ঞান প্রদান করতে। আমাদের জন্য এখন কলিযুগ সম্পূর্ণ হয়ে গেছে। নতুন দুনিয়ায় যেতে হবে, সেইজন্য এর(কলিযুগ) থেকে অসীমের বৈরাগ্য এসেছে।

গীতঃ-
ধৈর্য ধর যে মন/মানব....

ওম্ শান্তি ।
মিষ্টি মিষ্টি আত্মা-রূপী বাচ্চারা গান শুনেছে। আত্মাদের পিতা বসে-বসে বোঝান - এ হলো একটাই পুরুষোত্তম সঙ্গমযুগ যখন প্রতি কল্পে বাবা এসে আত্মা-রূপী বাচ্চাদের পড়ান। রাজযোগ শেখান। বাবা আত্মা-রূপী বাচ্চাদেরকে বলেন - মনুয়া অর্থাৎ আত্মা, হে আত্মা ধৈর্য ধরো। আত্মাদের সঙ্গে কথা বলেন। এই শরীরের মালিক হলো আত্মা। আত্মা বলে - আমি অবিনাশী আত্মা, এ হলো আমার বিনাশী শরীর। আত্মিক পিতা বলেন - বাচ্চারা, আমি একবারই কল্পের সঙ্গমে এসে তোমাদের ধৈর্য প্রদান করি যে এখন সুখের দিন আসতে চলেছে। এখন তোমরা দুঃখধাম,... নরকে রয়েছো। কেবলমাত্র তুমিই নও, সমগ্র দুনিয়াই এখন.... নরকে রয়েছে, তোমরা যে আমার বাচ্চা হয়েছো, ..... নরক থেকে বেরিয়ে এসে স্বর্গে যাচ্ছো। সত্যযুগ, ত্রেতা, দ্বাপর অতিবাহিত হয়ে গেছে। কলিযুগও তোমাদের কাছে গত হয়ে গেছে। তোমাদের কাছে এ হলো পুরুষোত্তম সঙ্গমযুগ যখন তোমরা তমোপ্রধান থেকে সতোপ্রধান হয়ে যাও। আত্মা যখন সতোপ্রধান হয়ে যাবে তখন এই শরীর পরিত্যাগ করবে। সতোপ্রধান আত্মার সত্যযুগে নতুন শরীর চাই। ওখানকার সবকিছুই নতুন হয়। বাবা বলেন - বাচ্চারা, এখন দুঃখধাম থেকে সুখধামে যেতে হবে, তারজন্য পুরুষার্থ করতে হবে। সুখধামে এই লক্ষ্মী-নারায়ণের রাজত্ব ছিল। তোমরা নর থেকে নারায়ণ হওয়ার জন্য পুরুষার্থ করছো। নর থেকে নারায়ণ হওয়ার এই জ্ঞানই হলো সত্য। ভক্তিমার্গে প্রতি পূর্ণিমায় কথা শুনে এসেছ, কিন্তু এ হলোই ভক্তিমার্গ। একে সত্যমার্গ বলা হবে না, জ্ঞান-মার্গই হলো সত্য। তোমরা সিঁড়িতে নামতে-নামতে অসত্য-খন্ডে চলে এসেছ। এখন তোমরা জেনেছো যে সত্য-পিতার কাছ থেকে এই জ্ঞান পেয়ে আমরা ২১ জন্মের জন্য দেবী-দেবতায় পরিনত হবো। আমরা ছিলাম, পরে সিড়ি বেয়ে নেমে এসেছি। অবতরণ-কলা আর উত্তরণ-কলার রহস্য তোমাদের বুদ্ধিতে রয়েছে। আবাহনও করে - হে পিতা, তুমি এসে আমাদের পবিত্র করো। এক পিতাই হলেন পবিত্রকারী। বাবা বলেন - বাচ্চারা, তোমরা সত্যযুগে বিশ্বের মালিক ছিলে। অত্যন্ত ধনবান, অত্যন্ত সুখী ছিলে। এখন অতি অল্পসময় বাকি রয়েছে। পুরোনো দুনিয়ার বিনাশ সম্মুখে উপস্থিত । নতুন দুনিয়ায় এক রাজ্য, এক ভাষা ছিল। তাকে বলা হয় অদ্বৈত রাজ্য। এখন দ্বিতীয় কতকিছু হয়ে গেছে, বহু ভাষা রয়েছে। যেমন মানুষের (কল্প) বৃক্ষ বৃদ্ধি পেতে থাকে তেমনই ভাষার বৃক্ষও বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হতে থাকে। পুনরায় হবে এক ভাষা। গায়নও রয়েছে, তাই না ! ওয়ার্ল্ডের হিস্ট্রী-জিওগ্রাফী রিপিট হবে। মানুষের বুদ্ধিতে বসে না। বাবা-ই দুঃখের পুরোনো দুনিয়াকে পরিবর্তন করে সুখের নতুন দুনিয়া স্থাপন করেন। লেখাও রয়েছে, প্রজাপিতা ব্রহ্মার দ্বারা দৈবী-দুনিয়ার স্থাপনা। এ হলো রাজযোগের পাঠ। এই জ্ঞান যা গীতায় লেখা রয়েছে, বাবা যা সম্মুখে শুনিয়েছেন মানুষ বসে-বসে পুনরায় তা ভক্তিমার্গের জন্য লিখেছে, যার দ্বারা তোমরা অধঃপতনে গেছো। এখন ভগবান তোমাদের পড়ান উপরে ওঠার জন্য। ভক্তিকে বলাই হয় অবতরণ-কলার মার্গ। জ্ঞান হলো উত্তরণ-কলার মার্গ। একথা বোঝানোর সময় তোমরা ভয় পেয়ো না। যদিও এমনও রয়েছে, যারা এসমস্ত কথা না বোঝার কারণে বিরোধিতা করবে, শাস্ত্রের কথা বলবে। কিন্তু তোমাদের কারোর সঙ্গে শাস্ত্রালাপ করতে হবে না। বলো যে, শাস্ত্র, বেদ, উপনিষদ বা গঙ্গা-স্নান করা, তীর্থাদি করা - এসব কান্ড হলো ভক্তির। ভারতে রাবণও অবশ্যই ছিল, যার কুশপুত্তলিকা দাহ করা হয়, অল্পকালের জন্য। একমাত্র এই রাবণেরই কুশপুত্তলিকা প্রতিবর্ষে দাহ করে। বাবা বলেন - তোমরা গোল্ডেন এজেড বুদ্ধি থেকে আয়রন এজেড বুদ্ধির হয়ে গেছো। তোমরা কতো সুখী ছিলে। বাবা আসেনই সুখধাম স্থাপন করতে। পরে যখন ভক্তিমাগ শুরু হয় তখন দুঃখী হয়ে যায়। পুনরায় সুখদাতাকে স্মরণ করে, সেও নামমাত্র কারণ তাঁকে জানেই না। গীতায় নাম পরিবর্তন করে দেওয়া হয়েছে। সর্বপ্রথমে তোমরা বোঝাও যে, সর্বোচ্চ ঈশ্বর হলেন অদ্বিতীয়, স্মরণও ওঁনাকেই স্মরণ করা উচিত। একজনকে স্মরণ করাকেই অব্যভিচারী স্মরণ, অব্যভিচারী জ্ঞান।বলা হয়। তোমরা এখন ব্রাহ্মণ হয়েছো তাই ভক্তি করো না। তোমাদের কাছে জ্ঞান রয়েছে। বাবা আমাদের পড়ান, যারফলে আমরা দেবতা হয়ে যাই। দৈবী-গুণও ধারণ করতে হবে সেইজন্য বাবা বলেন - নিজের চার্ট রাখো তবেই জানতে পারবে যে আমার মধ্যে কোনো আসুরিক-গুণ নেই তো! দেহ-অভিমান হলো প্রথম অবগুণ, তারপরের শত্রু হলো কাম-বিকার। কাম-বিকারের উপর বিজয়প্রাপ্ত করলে তোমরা জগৎজিত হয়ে যাবে। তোমাদের উদ্দেশ্যই এই, এই লক্ষ্মী-নারায়ণের রাজ্যে অন্য কোনো ধর্ম ছিল না। সত্যযুগে দেবতাদের রাজ্য থাকে, কলিযুগে থাকে মানুষের। যদিও তারাও মানুষ কিন্তু দৈবী-গুণসম্পন্ন। এই সময় সকল মানুষই হলো আসুরিক-গুণসম্পন্ন। সত্যযুগে কাম মহাশত্রু হয় না। বাবা বলেন - এই কাম মহাশত্রুর উপরে বিজয়প্রাপ্ত করলে তোমরা জগৎজিত হয়ে যাবে। ওখানে রাবণ থাকে না। এও মানুষ বুঝতে পারে না। স্বর্ণযুগ থেকে নামতে-নামতে তমোপ্রধান বুদ্ধি হয়ে গেছে। এখন পুনরায় সতোপ্রধান হতে হবে। তারজন্য একটাই ওষুধ রয়েছে, বাবা বলেন - নিজেকে আত্মা মনে করে বাবাকে স্মরণ করো তবেই তোমাদের জন্ম-জন্মান্তরের পাপ ভস্মীভূত হয়ে যাবে। তোমরা বসেছো পাপ ভস্মীভূত করতে সেইজন্য ভবিষ্যতে আর কোনো পাপ করা উচিত নয়। তা নাহলে তা শতগুণ হয়ে যাবে। বিকারে গেলে তো শতগুণ দন্ডভোগ করতে হবে। তবে তারা মুশকিলই উত্তরণ করতে পারবে। প্রথম নম্বরের শত্রু হলো এই কাম-বিকার। ৫ তলা থেকে পড়লে তখন হাড়গোড় সম্পূর্ণ ভেঙে যাবে। মারাও যেতে পারে। উপর থেকে পড়লে একদম চুরমার হয়ে যায়। বাবার কাছে প্রতিজ্ঞা করে যদি মুখ কালো করে তবে তারা তো অবশ্যই আসুরীয় দুনিয়ায় চলে গেছে। এখানে তারা মৃত। তাদের ব্রাহ্মণও নয়, শূদ্র বলা হবে। বাবা কত সহজভাবে বোঝায়। প্রথমে সেই নেশা থাকতে হবে। যদি মনে করো কৃষ্ণ ভগবানুবাচ হয়, সেও তো বুঝিয়ে নিজ-সম বানাবে, তাই না! কিন্তু কৃষ্ণ তো ভগবান হতে পারে না। তিনি তো পুনর্জন্মে আসেন। বাবা বলেন - আমি পুনর্জন্ম রহিত। রাধা-কৃষ্ণ, লক্ষ্মী-নারায়ণ অথবা বিষ্ণু একই ব্যাপার। বিষ্ণুর দুই-রূপ লক্ষ্মী-নারায়ণ আর লক্ষ্মী-নারায়ণই শৈশবে রাধা-কৃষ্ণ। ব্রহ্মার-ও রহস্য বোঝান হয়েছে - ব্রহ্মা-সরস্বতীই লক্ষ্মী-নারায়ণ। এখন ট্রান্সফার হয়। পরে এনার নাম ব্রহ্মা রাখা হয়। দেখো, এছাড়া এই ব্রহ্মা তো আয়রন এজে দাঁড়িয়ে রয়েছে। ইনিই পরে তপস্যা করে কৃষ্ণ বা শ্রী নারায়ণ হন। বিষ্ণু বললে তাতে দুজনেই এসে যায়। ব্রহ্মার কন্যা সরস্বতী। এ'কথা কেউ বুঝতে পারে না। চারভূজা বিষ্ণুকেও দেওয়া হয় কারণ তিনি প্রবৃত্তিমার্গীয়, তাই না! নিবৃত্তি-মার্গীয়রা এই জ্ঞান প্রদান করতে পারে না। অনেককে ভুল বুঝিয়ে নিয়ে আসে যে, চলো আমরা প্রাচীন রাজযোগ শেখাব। এখন সন্ন্যাসীরা তো রাজযোগ শেখাতে পারে না। এখন ঈশ্বর এসেছেন, তোমরা এখন ওনার সন্তান ঈশ্বরীয় সম্প্রদায়ের হয়েছো। ঈশ্বর এসেছেন তোমাদের পড়াতে। তোমাদের রাজযোগ শেখাচ্ছেন। তিনি নিরাকার। ব্রহ্মার দ্বারা তোমাদের আপন করে নিয়েছেন। তোমরা 'বাবা-বাবা' ওনাকেই বলো, ব্রহ্মা তো এরমাঝে দোভাষী। ভাগ্যশালী রথ। এনার দ্বারা বাবা তোমাদের পড়ান। তোমরাও পতিত থেকে পবিত্র হয়ে যাও। বাবা পড়ান - মানব থেকে দেবতা বানানোর জন্য। এখন তো রাবণ-রাজ্য, আসুরী-সম্প্রদায়, তাই না ! এখন তোমরা ঈশ্বরীয় সম্প্রদায়ের হয়েছো পুনরায় দৈবী-সম্প্রদায়ের হবে। এখন তোমরা পুরুষোত্তম সঙ্গমযুগে রয়েছো, পবিত্র হতে চলেছো। সন্ন্যাসীরা তো ঘর-পরিবার ত্যাগ করে চলে যায়। এখানে বাবা বলেন - যদিও স্ত্রী-পুরুষ ঘরে একত্রে থাকো, তথাপি এমন ভেবোনা যে স্ত্রী নাগিনী, তাই আমি আলাদা হয়ে যাই তাহলেই মুক্তি পেয়ে যাব। তোমাদের পালিয়ে যেতে হবে না। ওটা হলো পার্থিব জগতের সন্ন্যাস, যেখানে (ঘর থেকে) পালিয়ে যায়। তোমরা এখানে বসে রয়েছো কিন্তু তোমাদের এই বিকারী দুনিয়ার প্রতি বৈরাগ্য রয়েছে। এ'সমস্ত কথা তোমাদের ভালোভাবে ধারণ করতে হবে, নোট করতে হবে, সংযমও রাখতে হবে। দৈবী-গুণ ধারণ করতে হবে। শ্রীকৃষ্ণের গুণ গাওয়া হয়, তাই না! এটাই তোমাদের এইম অবজেক্ট। বাবা হন না, আমাদের বানান। পুনরায় আধাকল্প পরে তোমরা অধঃপতনে যাও, তমোপ্রধান হয়ে যাও। আমি হই না, ইনি(ব্রহ্মা) হন। ৮৪ জন্মও ইনি নিয়েছেন। এনাকেও সতোপ্রধান হতে হবে, ইনিও পুরুষার্থী। নতুন দুনিয়াকে সতোপ্রধান বলা হবে। প্রত্যেক বস্তু প্রথমে সতোপ্রধান, পুনরায় সতঃ-রজঃ-তমঃতে আসে। ছোট শিশুদেরও মহাত্মা বলা হয়। কারণ তাদের মধ্যে বিকার থাকে না, তাই তাদের ফুল বলা হয়। সন্ন্যাসীদের থেকেও ছোট্ট শিশুদের উত্তম বলা হয় কারণ সন্ন্যাসীরা তো জীবন অতিবাহিত করে আসে, তাই না ! ৫ বিকারের অনুভব রয়েছে। শিশুদের তো এসব জানাই থাকে না তাই তাদের দেখলে আনন্দ হয়, তারা তো চৈতন্য ফুল। আমাদের এটা হলোই প্রবৃত্তিমার্গ। বাচ্চারা, এখন তোমাদের এই পুরানো দুনিয়া থেকে নতুন দুনিয়ায় যেতে হবে। অমরলোকে যাওয়ার জন্য তোমরা এখন পুরুষার্থ করছো, মৃত্যুলোক থেকে ট্রান্সফার হয়ে যাও। যদি দেবতা হতে হয় তবে এখন পরিশ্রম করতে হবে, তোমরা প্রজাপিতা ব্রহ্মার সন্তান ভাই-বোন হয়ে যাও। ভাই-বোনই তো ছিলে, তাই না! প্রজাপিতা ব্রহ্মার সন্তান তাহলে পরস্পর কি হয়ে গেলে? প্রজাপিতা ব্রহ্মা বলা হয়। যতক্ষণ পর্যন্ত প্রজাপিতা ব্রহ্মার সন্তান না হচ্ছো, সৃষ্টির রচনা কিভাবে হবে? সকলেই হলো প্রজাপিতা ব্রহ্মার সন্তান। ওই ব্রাহ্মণেরা হলো দেহজ যাত্রী । তোমরা হলো আধ্যাত্মিক যাত্রী। ওরা পতিত, তোমরা পবিত্র। ওরা কেউ প্রজাপিতা ব্রহ্মার সন্তান নয়। একথা তোমরা বোঝ। যখন ভাই-বোন মনে করবে তখন আর বিকারে যাবে না। বাবাও বলেন, সতর্ক থাকো, আমার সন্তান হয়ে কোনো ক্রিমিনাল কার্য ক'রো না, তা নাহলে প্রস্তরবুদ্ধিসম্পন্ন হয়ে যাবে। ইন্দ্রসভার গল্পও রয়েছে, শূদ্রকে নিয়ে আসায় ইন্দ্রসভায় দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে। তখন জিজ্ঞাসা করা হয় যে, পতিতকে এখানে কেন আনা হয়েছে? তখন তাকে অভিশাপ দেওয়া হয়েছে। বাস্তবে এই সভায় কোনো অপবিত্র আসতে পারে না। যদিও বাবা জানুক বা না জানুক, এ তো নিজেরই ক্ষতি করে ফেলা, আরও শতগুণ দন্ডভোগ করতে হবে। অপবিত্রদের অনুমতি নেই। তাদের জন্য ভিজিটিং রুমই ঠিক। যখন পবিত্র হওয়ার গ্যারান্টি করবে, দৈবগুণ ধারণ করবে তখন অনুমতি পাবে। দৈবগুণ ধারণ করতে সময় লাগে। পবিত্র হওয়ার একটাই প্রতিজ্ঞা। এও বোঝানো হয় - দেবতাদের আর পরমাত্মার মহিমা আলাদা আলাদা রকমের। পতিত-পাবন, মুক্তিদাতা, গাইড হলেন একমাত্র বাবা-ই। সর্বপ্রকারের দুঃখ থেকে মুক্ত করে নিজের শান্তিধামে নিয়ে যায়। শান্তিধাম, সুখধাম আর দুঃখধাম - এও এক চক্র। এখন দুঃখধামকে ভুলে যেতে হবে। শান্তিধাম থেকে সুখধামে তারাই আসবে যারা নম্বরের ক্রমানুসারে উত্তীর্ণ হবে, তারাই আসতে থাকবে। এই চক্র আবর্তিত হতেই থাকে। অসংখ্য আত্মা রয়েছে, সকলের নম্বরের অনুক্রমে পার্ট রয়েছে। যাবেও নম্বরের অনুক্রমে। তাকে বলা হয় শিববাবার বরযাত্রী বা রুদ্রমালা। নম্বরের ক্রমানুসারে যায় আবার নম্বরের অনুক্রমেই আসে। অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের ক্ষেত্রেও এমনই হয়। বাচ্চাদের রোজ বোঝান হয়, স্কুলে রোজ পড়বে না, মুরলী শুনবে না, তাহলে পরে অ্যাবসেন্ট হয়ে যাবে। পড়ার লিস্ট তো অবশ্যই চাই। গডলী ইউনিভার্সিটিতে অ্যাবসেন্ট হওয়া উচিত কি, না তা হওয়া উচিত নয়। এই পড়া কত উচ্চমার্গের, যার দ্বারা তোমরা সুখধামের মালিক হয়ে যাও। ওখানে আনাজপাতি সবই ফ্রী, পয়সা লাগেনা। এখন তো কত দাম। ১০০ বছরে কত দাম হয়ে গেছে। ওখানে কোনও বস্তুর অপ্রাপ্তি নেই যারজন্য অসুবিধার সৃষ্টি হতে পারে। ওটা হলোই সুখধাম। এখন তোমরা সেখানকার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছো। তোমরা বেগার টু প্রিন্স হয়ে যাও। ধনবানেরা নিজেদের বেগার (ভিখারী) মনে করে না। আচ্ছা !

মিষ্টি-মিষ্টি হারানিধি বাচ্চাদের প্রতি মাতা-পিতা বাপদাদার স্মরণের স্নেহ-সুমন আর সুপ্রভাত। আত্মাদের পিতা তাঁর আত্মা-রূপী বাচ্চাদেরকে জানাচ্ছেন নমস্কার।

ধারণার জন্য মুখ্য সার :-
১ ) বাবার কাছে সম্পূর্ণ পবিত্র হওয়ার যে প্রতিজ্ঞা করেছো, তা ভঙ্গ ক'রো না। অনেক-অনেক সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে। নিজের চার্ট দেখতে হবে - আমাদের মধ্যে কোনো অবগুণ নেই তো?

২ ) গডলী ইউনিভার্সিটিতে কখনো অ্যাবসেন্ট থাকবে না। সুখধামের মালিক হওয়ার উচ্চ পাঠ একদিনও মিস করা উচিত নয়। মুরলী রোজ অবশ্যই শুনতে হবে।

বরদান:-
দুঃখধাম - প্রতিটি সেকেন্ড প্রতিটি সংকল্পের মহত্বকে জেনে পুণ্যের পুঁজি জমা কারী পদ্মাপদমপতি ভব

তোমাদের পূণ্য আত্মাদের সংকল্পে এত বিশেষ শক্তি আছে, যে শক্তির দ্বারা অসম্ভবকে সম্ভব করতে পারো। যেরকম আজকাল যন্ত্রের দ্বারা মরুভূমিতেও বৃক্ষরোপন করছে, পাহাড়েও ফুল উৎপাদন করছে, এইরকম তোমরা নিজের শ্রেষ্ঠ সংকল্পের দ্বারা হতাশাগ্রস্ত মানুষের মধ্যে আশার আলো জাগিয়ে তুলতে পারো। কেবল প্রত্যেক সেকেন্ড প্রত্যেক সংকল্পের ভ্যালুকে জেনে, সংকল্প আর সেকেন্ডকে ইউজ করে পূণ্যের পুঁজি জমা করো। তোমাদের সংকল্প শক্তি এতই শ্রেষ্ঠ যে একটা সংকল্পই পদ্মাপদমপতি বানিয়ে দিতে পারে।

স্লোগান:-
সকল কর্ম অধিকারের নিশ্চয় আর নেশায় থেকে করো তাহলে পরিশ্রম সমাপ্ত হয়ে যাবে।

অব্যক্ত ঈশারা :- এখন সম্পন্ন বা কর্মাতীত হওয়ার ধুন লাগাও

কর্মাতীত স্থিতিকে পাওয়ার জন্য বিশেষ নিজের মধ্যে গুটিয়ে ফেলার শক্তি আর সমাহিত করার শক্তি ধারণ করা অত্যন্ত আবশ্যক। কর্মবন্ধনী আত্মারা যেখানে থাকে সেখানেই কার্য করতে পারে আর কর্মাতীত আত্মারা একই সময়ে চারিদিকে নিজের সেবার পার্ট প্লে করতে পারে কেননা তারা কর্মাতীত স্থিতিতে থাকে। তাদের স্পিড খুবই তেজগতী হয়। সেকেন্ডে যেখানে চায়, সেখানে পৌঁছাতে পারে, তো এই অনুভূতিকে বাড়াও।

Thursday, December 25, 2025

26-12-2025 BENGALI MURLI

 "মিষ্টি বাচ্চারা - নিজেদের উচ্চ ভাগ্য গড়তে চাইলে, যার সাথে কথা বলছো দেখছো, অথচ বুদ্ধির যোগ বাবার সাথেই যুক্ত রাখো"

প্রশ্নঃ - নতুন দুনিয়া স্থাপনার নিমিত্ত হবে যে বাচ্চারা, বাবার থেকে তাদের কোন্ ডায়রেক্শন প্রাপ্ত হয়েছে?

উত্তরঃ   বাচ্চারা, এই পুরানো দুনিয়ার সাথে তোমাদের কোনো কানেকশন্ নেই। নিজেদের হৃদয় এই পুরানো দুনিয়ার প্রতি রেখো না। বিচার বিবেচনা করে দেখো যে আমি শ্রীমৎ উলঙ্ঘন করে কর্ম করছি না তো?

গীতঃ- ভোলানাথের থেকে অনুপম আর কেউ নেই....
(ভোলানাথ সে নিরালা)

ওম্ শান্তি ।
এখন গান শোনার আর কোনো দরকার হয় না। গান বিশেষ করে ভক্তরাই গায় আর শোনে। তোমরা তো ঈশ্বরীয় পড়াশোনা করো। এই গানও বাচ্চাদের জন্যই বিশেষ করে বের হয়েছে। বাচ্চারা জানে, বাবা আমাদের ভাগ্য উচ্চ করে তুলছেন। এখন আমাদের বাবাকেই স্মরণ করতে হবে আর দৈবীগুণ ধারণ করতে হবে। নিজের পোতামেল (আমি আত্মা রোজা যে কাজ করছি তার হিসাব-পত্র) দেখতে হবে। জমা হচ্ছে? নাকি ঘাটতি হতেই থাকছে ! আমার মধ্যে কোনো কমতি নেই তো? যদি কমতি থাকে, তার জন্য আমার ভাগ্যে ঘাটতি পড়ে যাবে, তাই সেটাকে দূর করে দেওয়া উচিত। এই সময় প্রত্যেকের নিজেদের উচ্চ ভাগ্য গড়ে তুলতে হবে। তোমরা মনে করো যে আমরা এইরকম লক্ষ্মী-নারায়ণ হতে পারি। যদি একমাত্র বাবা ব্যতীত আর কাউকে স্মরণ না করো তবে। কারোর সাথে কথা বলার সময়, দেখার সময় বুদ্ধি একের সাথে যুক্ত থাকবে। আমাদের অর্থাৎ আত্মাদের এক বাবাকেই স্মরণ করতে হবে। বাবার আদেশ প্রাপ্ত হয়েছে। আমি ব্যাতীত আর কারোর প্রতি হৃদয় দিও না আর দৈবী গুণ ধারণ করো। বাবা বোঝান, তোমাদের এখন ৮৪ জন্ম সম্পূর্ণ হয়েছে। এখন আবার তোমরা গিয়ে নম্বর ওয়ান নাও রাজ্য-পদে। এমন না হোক রাজ-পদ থেকে প্রজাতে নেমে গেলে, প্রজার থেকেও নীচে চলে গেলে। না, নিজেকে নিরীক্ষণ করো। এই বোধটা তো বাবা ব্যতীত আর কেউ দিতে পারে না। বাবাকে, টিচারকে স্মরণ করলে ভয় থাকবে, আমাকে শাস্তি না পেতে হয় । ভক্তিতেও বোঝানো হয় পাপ কর্ম করলে আমরা শাস্তির ভাগীদার হয়ে যাবো। বড় বাবার ডায়রেক্শন তো এখনই প্রাপ্ত হয়, যাকে শ্রীমত বলে। বাচ্চারা জানে যে শ্রীমতের দ্বারা আমরা শ্রেষ্ঠ হই। নিজেকে নিরীক্ষণ করতে হবে। কোথাও-কোথাও আমরা শ্রীমত উলঙ্ঘন করে কিছু করছি না তো? যে ব্যাপারটা ভালো না লাগবে সেটা করা উচিত নয়। ভালো-খারাপ তো এখন বুঝতে পারো, আগে বুঝতে না। এখন তোমরা এমন কর্ম শিখছো যাতে আবার জন্ম-জন্মান্তর কর্ম-অকর্ম হয়ে যায়। এই সময় তো সকলের মধ্যে ৫ ভূত প্রবেশ করে আছে। এখন ভালো করে পুরুষার্থ করে কর্মাতীত হতে হবে। দৈবীগুণও ধারণ করতে হবে। সময় সংকটপূর্ণ হতে থাকছে, দুনিয়া খারাপ হতে থাকছে। প্রত্যেক দিন খারাপ হতে থাকবে। এই দুনিয়ার সাথে তোমাদের যেন কোনো কানেকশনই নেই। তোমাদের কানেকশন হলো নূতন দুনিয়ার সাথে, যা স্থাপন হচ্ছে। তোমরা জানো যে নূতন দুনিয়া স্থাপন করতে আমরা নিমিত্ত হয়েছি। তাই যে এইম্ অবজেক্ট সামনে আছে, তাদের মতো হতে হবে। কোনো আসুরিক গুণ যেন ভিতরে না থাকে। নিরন্তর আত্মিক সার্ভিসে থাকার ফলে অনেক উন্নতি হয়ে থাকে। প্রদর্শনী, মিউজিয়াম ইত্যাদি তৈরী করে। মনে করে অনেক লোক আসবে, বাবার পরিচয় দেবে, আবার সেও বাবাকে স্মরণ করতে লেগে যাবে। সারাদিন এই ভাবনাই চলতে থাকে। সেন্টার খুলে সার্ভিস বাড়ানো, এই সব রত্ন তোমাদের কাছে আছে। বাবা দৈবীগুণও ধারণ করান আর আর ধনভান্ডার প্রদান করেন।তোমরা এখানে বসে বুদ্ধিতে রাখো সৃষ্টির আদি-মধ্য-অন্তকে। পবিত্রও থাকো। মনসা-বাচা-কর্মে কোনো খারাপ কাজ যেন না হয়, তার সম্পূর্ণ বিচার বিশ্লেষণ করতে হয়। বাবা এসেই থাকেন পতিতকে পবিত্র করতে। তার জন্য যুক্তি সমূহও বলতে থাকেন। ওই গুলিই রমণ করতে থাকতে হবে। সেন্টার খুলে অনেককে নিমন্ত্রণ দিতে হবে। প্রেম-পূর্বক বসে বোঝাতে হবে। এই পুরানো দুনিয়া শেষ হতে চলেছে। প্রথমে তো নূতন দুনিয়ার স্থাপনা অত্যাবশ্যক। স্থাপনা হয় সঙ্গমযুগে। এটাও মানুষের জানা নেই যে এখন হলো সঙ্গমযুগ। এটাও বোঝাতে হবে নূতন দুনিয়ার স্থাপনা, পুরানো দুনিয়ার বিনাশ - এখন হলো তার সঙ্গম। নূতন দুনিয়ার স্থাপনা শ্রীমত অনুযায়ী হচ্ছে। বাবা ব্যতীত আর কেউই নূতন দুনিয়া স্থাপনার মত দেবে না। বাচ্চারা, বাবা এসেই তোমাদের দ্বারা নূতন দুনিয়ার উদ্ঘাটন করান। একা তো করবেন না। সব বাচ্চাদের সাহায্যে করেন। তারা উদ্ঘাটন করার জন্য সাহায্য নেয় না। এসে কাঁচি দিয়ে রিবন (ফিতে) কাটে। এখানে তো সেই ব্যাপার নেই। এক্ষেত্রে তোমরা এই ব্রাহ্মণ কুলভূষণ সাহায্যকারী হও। সব মানুষেরই রাস্তা একদম বিভ্রান্তিকর। পতিত দুনিয়াকে পবিত্র করা এটা বাবারই কাজ। একমাত্র বাবা নূতন দুনিয়ার স্থাপনা করেন, যার জন্য আত্মিক নলেজ প্রদান করেন। তোমরা জানো যে বাবার কাছে নূতন দুনিয়া স্থাপনা করার যুক্তি আছে। ভক্তি মার্গে তাঁকে ডাকে - হে পতিত-পাবন এসো। যদিও শিবের পূজা করতে থাকে। কিন্তু এটা জানে না যে পতিত-পাবন কে । দুঃখে স্মরণ তো করে - হে ভগবান, হে রাম। রামও নিরাকারকেই বলে। নিরাকারকেই উচ্চ ভগবান বলে। কিন্তু মানুষ খুবই বিভ্রান্ত। বাবা এসে তার থেকে বের করেছেন। যেমন কুয়াশাতে মানুষ বিভ্রান্ত হয়ে পড়ে না! এখানে এ তো হলো অসীম জগতের ব্যাপার। অনেক বড় জঙ্গলে এসে পড়া গেছে। বাবা তোমাদেরও ফিল করিয়েছেন আমরা কোন্ জঙ্গলে পড়ে ছিলাম। এটাও এখন জানতে পারা গেছে যে - এটা হলো পুরানো দুনিয়া। এরও অন্ত আছে। মানুষ তো রাস্তা একদমই জানে না। বাবাকে ডাকতে থাকে। তোমরা এখন ডাকো না। বাচ্চারা, তোমরা এখন ড্রামার আদি-মধ্য -অন্তকে জানো, তাও নম্বর অনুযায়ী। যারা জানতে পারে তারা অনেক খুশিতে থাকে। আরো সকলকে রাস্তা বলে দেওয়ার জন্য তৎপর থাকে। বাবা তো বলতে থাকেন বড়ো-বড়ো সেন্টার খোলো। চিত্র বড়-বড় হলে তো মানুষ সহজে বুঝতে পারবে। বাচ্চাদের জন্য ম্যাপস্ (চিত্র) অবশ্যই চাই। বলা উচিত - এটাও হলো স্কুল। এখানকার হলো এই ওয়ান্ডারফুল ম্যাপস্ , ওই স্কুলের নক্সাতে তো থাকে পার্থিব ব্যাপার। এটা হলো অসীম জগতের ব্যাপার। এটাও হলো পাঠশালা, যেখানে বাবা আমাদের সৃষ্টির আদি-মধ্য-অন্তের রহস্য বলে দেন আর যোগ্য করে তোলেন। এটা হলো মানুষ থেকে দেবতা হয়ে ওঠার ঈশ্বরীয় পাঠশালা। লেখাই আছে ঈশ্বরীয় বিশ্ব বিদ্যালয়। এটা হলো আত্মাদের পাঠশালা। শুধু ঈশ্বরীয় বিশ্ব বিদ্যালয় থেকেও মানুষ বুঝতে পারে না। ইউনিভার্সিটিও লিখতে হবে। এইরকম ঈশ্বরীয় বিশ্ব বিদ্যালয় কোথাওই নেই। বাবা কার্ডস্ দেখেছিলেন। কিছু শব্দ ভুল হয়েছিলো। বাবা কতবার বলেছিলেন প্রজাপিতা শব্দটি অবশ্যই রাখো, তবুও বাচ্চারা ভুলে যায়। লেখা সম্পূর্ণ হওয়া উচিত। যাতে মানুষ জানতে পারে যে এটা হলো ঈশ্বরীয় বড় কলেজ। যে বাচ্চারা সার্ভিসে উপস্থিত হয়, ভালো সার্ভিসেবেল, তাদেরও মনের মধ্যে থাকে আমি অমুক সেন্টারের আরও শ্রীবৃদ্ধি করবো, ঠান্ডা হয়ে গেছে, ওদের জাগাবো, কারণ মায়া এমনই যা বারংবার ভুলিয়ে দেয়। আমি হলাম স্বদর্শন চক্রধারী, এটাও ভুলে যায়। মায়া খুবই অপজিশন (বিরোধ) করে। তোমরা আছো যুদ্ধের ময়দানে। মায়া না মাথা মুড়িয়ে উল্টো দিকে নিয়ে যায়, সেটা খুবই সামলে রাখতে হয়। মায়ার ঝড়ের সব দাপট তো অনেকেরই লাগে। ছোটো অথবা বড়ো তোমরা সব আছো যুদ্ধের ময়দানে। পালোয়ানকে মায়ার তুফান নড়াতে পারে না। এই অবস্থাও আসতে চলেছে।

বাবা বোঝান - সময় খুবই খারাপ, অবস্থার অবনতি হয়েছে। রাজত্ব তো সব শেষ হয়ে যাবে। সবাইকে গদি থেকে নামিয়ে দেবে। তখন প্রজারও প্রজার উপর রাজ্য সমগ্র দুনিয়াতে হয়ে যাবে। তোমরা নিজেদের নূতন রাজত্ব স্থাপন করছো যখন তখন এখানে রাজত্বের নামও শেষ হয়ে যাবে। পঞ্চায়েতি রাজ্য হতে চলেছে। যখন প্রজার রাজ্য, তখন তো নিজেদের মধ্যে লড়বে ঝগড়া করবে। স্বরাজ্য বা রামরাজ্য তো বাস্তবে এখানে নেই, সেইজন্য সমগ্র দুনিয়াতে ঝগড়াই হতে থাকে। আজকাল তো হাঙ্গামা সর্বত্র। তোমরা জানো যে- আমরা নিজেদের রাজত্ব স্থাপন করছি। তোমরা সকলকে রাস্তা বলে দাও। বাবা বলেন- মামেকম্ মানে শুধুই আমাকে স্মরণ করো। বাবার স্মরণে থেকে আরো সকলকেও বোঝাতে হবে- দেহী-অভিমানী হয়ে ওঠো। দেহ-অভিমান ত্যাগ করো। এইরকম না যে তোমাদের মধ্যে সবাই দেহী - অভিমানী হয়েছে। না, হয়ে উঠবে। তোমরা পুরুষার্থ করো আর সকলকেও করাও। স্মরণ করার প্রচেষ্টা করে আবার ভুলে যায়। এই পুরুষার্থ করতে হবে। মূল কথা হলো বাবাকে স্মরণ করা। বাচ্চাদের কতো বোঝান। নলেজ খুবই ভালো প্রাপ্ত হয়। মূল কথা হলো পবিত্র থাকা। বাবা পবিত্র করে তুলতে এসেছেন, তাই আবার পতিত হতে নেই, স্মরণের দ্বারাই তোমরা সতোপ্রধান হয়ে যাবে। এটা ভুলে যেতে নেই। মায়া এতেই বিঘ্ন ঘটিয়ে ভুলিয়ে দেয়। দিন-রাত এই রেশ থাকুক আমি বাবাকে স্মরণ করে সতোপ্রধান হবো। স্মরণ এমন সুপরিপক্ক হওয়া উচিত যাতে অন্তিমে এক বাবা ব্যতীত আর কেউই না স্মরণে আসে। প্রদর্শনীতেও সর্বপ্রথম এটা বোঝানো উচিত ইনিই হলেন সকলের পিতা- উচ্চতমের চেয়েও উচ্চ ভগবান। সকলের পিতা পতিত-পাবন সদ্গতি দাতা হলেন ইনি। ইনিই হলেন স্বর্গের রচয়িতা।

বাচ্চারা, এখন তোমরা জানো যে বাবা আসেনই সঙ্গমযুগে। বাবা-ই একমাত্র রাজযোগ শেখান। পতিত-পাবন এক ব্যাতীত দ্বিতীয় কেউ হতে পারে না। সর্বপ্রথমে তো বাবার পরিচয় দিতে হয়। এখন এক-এক জনকে বসে এইরকম একটা চিত্রের উপর বোঝালে তবে এতো ভীড়কে কীভাবে সামলাতে পারবে! কিন্তু সর্বপ্রথম বাবার চিত্রের উপর বোঝানোটা হলো মুখ্য। বোঝাতে হয়- ভক্তি হলো অপার, জ্ঞান তো হলো এক। বাবা কতো যুক্তি বাচ্চাদের বলতে থাকেন। পতিত-পাবন হলো এক বাবা। রাস্তাও বলে দেন। গীতা কখন শুনিয়েছেন? এটাও কারোর জানা নেই। দ্বাপর যুগকে কেউ সঙ্গমযুগ বলবে না। বাবা তো যুগে-যুগে আসেন না। মানুষ তো একদমই বিভ্রান্ত। সারাদিন এই চিন্তাই চলতে থাকে, কীভাবে-কীভাবে বোঝানো যায়। বাবাকে ডায়রেক্শন দিতে হয়। টেপেও মুরলী সম্পূর্ণ শুনতে পারো। কেউ-কেউ বলে টেপের দ্বারা আমি শুনছি, কেননা গিয়ে ডায়রেক্ট শুনি, সেইজন্য সামনে আসে। বাচ্চাদের অনেক সার্ভিস করা উচিত। রাস্তা বলে দিতে হবে। প্রদর্শনীতে আসে। আচ্ছা-আচ্ছাও বলতে থাকে আবার বাইরে গেলে মায়ার বায়ুমন্ডলে সব উড়ে যায়। জপ আর করে না। ওটার আবার রিপিট করা উচিত। বাইরে গেলে মায়া টেনে নেয়। উত্যক্ত করতে লেগে যায়। সেইজন্য মধুবনের গায়ন আছে। তোমাদের তো এখন বোধগম্য হয়েছে। তোমরা ওখানে গিয়েও বোঝাবে, গীতার ভগবান কে আগে তো তোমরাও এরকমই গিয়ে মাথা ঝোঁকাতে। এখন তো তোমরা একদমই পরিবর্তিত হয়ে গেছো। ভক্তি ছেড়ে দিয়েছো। তোমরা এখন মানুষ থেকে দেবতা হচ্ছো। বুদ্ধিতে সমগ্র নলেজ আছে। কে আর জানে ব্রহ্মাকুমার,কুমারীরা কে? তোমরা বুঝতে পারো, বাস্তবে তোমরাও প্রজাপিতা ব্রহ্মকুমার কুমারী হও। এই সময়ই ব্রহ্মা দ্বারা স্থাপনা হচ্ছে। ব্রাহ্মণ কুলও অবশ্যই চাই, তাই না! সঙ্গমেই ব্রাহ্মণ কুল হয়। পূর্বে ব্রাহ্মণদের টিকি প্রসিদ্ধ ছিলো। টিকির দ্বারা চিনতো অথবা উত্তরীয় দ্বারা চিনতো এ হলো হিন্দু। এখন তো এই চিহ্নও চলে গেছে। এখন তোমরা জানো যে আমরা হলাম ব্রাহ্মণ। ব্রাহ্মণ হওয়ার পর আবার দেবতা হতে পারা যায়। ব্রাহ্মণরাই নূতন দুনিয়া স্থাপন করছে। যোগবলের দ্বারা সতোপ্রধান হচ্ছে। নিজের সমীক্ষা করতে হবে। কোনো আসুরিক গুণ যেন না হয়। নুনজল হতে নেই। এটা তো হলো যজ্ঞ, তাই না! যজ্ঞের দ্বারা সকলের পালন-পোষণ হতে থাকে। যজ্ঞে যারা প্রতিপালিত হন তারা ট্রাস্টি (তত্ত্বাবধায়ক) হয়ে থাকে। যজ্ঞের মালিক তো হলেন শিববাবা। এই ব্রহ্মাও হলেন ট্রাস্টি (অছি) । যজ্ঞের পালন-পোষণ করতে হয়। বাচ্চারা, তোমাদের যা দরকার যজ্ঞ থেকে নিতে হবে। আর কারোর থেকে নিয়ে পরিধান করো, তবে সে স্মরণে আসতে থাকবে। এতে বুদ্ধির লাইন খুবই ক্লীয়ার দরকার। এখন তো ফিরে যেতে হবে। সময় খুবই কম, সেইজন্য স্মরণের যাত্রা সুদৃঢ় হোক। এই পুরুষার্থ করতে হবে। আচ্ছা!

মিষ্টি-মিষ্টি হারানিধি বাচ্চাদের প্রতি মাতা-পিতা বাপদাদার স্মরণের স্নেহ-সুমন আর সুপ্রভাত। আত্মাদের পিতা তাঁর আত্মা রূপী বাচ্চাদেরকে জানাচ্ছেন নমস্কার।

ধারণার জন্য মুখ্য সার :-
১ ) নিজের উন্নতির জন্য আত্মিক সার্ভিসে তৎপর থাকতে হবে। যা কিছু জ্ঞান রত্ন প্রাপ্ত হবে সেই সমস্ত ধারণ করে অপরকেও করাতে হবে।

২ ) নিজেকে সমীক্ষা করতে হবে - আমার মধ্যে কোনো আসুরিক গুণ নেই তো? আমি ট্রাস্টি হয়ে থাকি? কখনো নুনজল হই না তো? বুদ্ধির লাইন ক্লীয়ার আছে?

বরদান:-
পুরুষার্থের সূক্ষ্ম অলসতারও ত্যাগ করে অলরাউন্ডার অ্যালার্ট ভব

পুরুষার্থে ক্লান্তি হল আলস্যের লক্ষণ। অলস আত্মা তাড়াতাড়ি ক্লান্ত হয়ে যায়, আর যারা উৎসাহিত থাকে তারা অক্লান্ত থাকে। যারা পুরুষার্থ করতে করতে হৃদয় বিদীর্ণ হয়ে পড়ে, তাদেরই আলস্য এসে যায়, তারা চিন্তা করে যে কি করবো এতটাই সম্ভব, এর থেকে বেশী পুরুষার্থ করতে পারবো না। সাহস নেই, চলছে তো, করছি তো - এখন এই সূক্ষ্ম আলস্যের নাম লক্ষণ থাকবে না, এরজন্য সদা এলার্ট, এভারেডি আর অলরাউন্ডার হও।

স্লোগান:-
সময়ের মহত্বকে সামনে রেখে সকল প্রাপ্তির খাতা ফুল জমা করো।

অব্যক্ত ঈশারা :- এখন সম্পন্ন বা কর্মাতীত হওয়ার ধুন লাগাও

আওয়াজ থেকে ঊর্ধ্বে নিজের শ্রেষ্ঠ স্থিতিতে স্থিত হয়ে যাও তাহলে সকল ব্যক্ত আকর্ষণ থেকে ঊর্ধ্বে শক্তিশালী পৃথক এবং প্রিয় স্থিতি হয়ে যাবে। এক সেকেন্ডও এই শ্রেষ্ঠ স্থিতিতে স্থিত হলে এর প্রভাব সারাদিন কর্ম করতেও নিজের মধ্যে বিশেষ শান্তির শক্তি অনুভব করবে, এই স্থিতিকে কর্মাতীত স্থিতি, বাবার সমান কর্মাতীত স্থিতি বলা হয়।

Wednesday, December 24, 2025

25-12-2025 Bengali Murli

"মিষ্টি বাচ্চারা - তোমরা বহুসময় পরে পুনরায় বাবার সঙ্গে মিলিত হয়েছো, সেইজন্য তোমরা হলে অনেক অনেক আদরের হারানিধি সন্তান"

প্রশ্নঃ -
নিজের স্থিতিকে একরস বানানোর সাধন কি?

উত্তরঃ  
সর্বদা স্মরণে রেখো - যে মুহূর্ত অতিবাহিত হয়ে গেছে তা ড্রামা। কল্প-পূর্বেও এমনই হয়েছিল। এখন নিন্দা-স্তুতি, মান-অপমান সবকিছুই সামনে আসবে, সেইজন্য নিজের স্থিতিকে একরস বানানোর জন্য অতীতের চিন্তা ক'রো না।

ওম্ শান্তি ।
আত্মা-রূপী বাচ্চাদেরকে আত্মাদের পিতা বোঝাচ্ছেন। আত্মিক পিতার নাম কি? শিববাবা। তিনি সকল আত্মাদের পিতা। সকল আত্মিক বাচ্চাদের নাম কি? আত্মা। জীবের (শরীর) পৃথক-পৃথক নাম হয়, আত্মার নাম একই থাকে। এও বাচ্চারা জানে যে, সৎসঙ্গ তো অসংখ্য রয়েছে। এ হলো সত্যিকারের সত্যের সঙ্গ যার মাধ্যমে সত্য পিতা রাজযোগ শিখিয়ে আমাদের সত্যযুগে নিয়ে যান। এমন আর কোনো সৎসঙ্গ বা পাঠশালা হতে পারে না। বাচ্চারা, তোমরা এও জানো। বাচ্চারা, সমগ্র সৃষ্টি-চক্রই তোমাদের বুদ্ধিতে রয়েছে। তোমরা অর্থাৎ বাচ্চারাই হলে স্বদর্শন-চক্রধারী। বাবা বসে থেকে বোঝান যে, এই সৃষ্টি-চক্র কিভাবে আবর্তিত হয়। কাউকে বোঝাতে হলে তাকে চক্রের সামনে দাঁড় করাও। এখন তোমরা এদিকে যাবে। বাবা জীবাত্মাদের বলেন, নিজেদের আত্মা মনে করো। এ কোনও নতুন কথা নয়। তোমরা জানো, প্রতি কল্পেই শুনেছে, এখন পুনরায় শুনছে। কোনো দেহধারী পিতা, টিচার, গুরু তোমাদের বুদ্ধিতে নেই। তোমরা জানো যে, বিদেহী শিববাবা আমাদের টিচার এবং গুরু। আর কোনো সৎসঙ্গে এমন কথা বলবে না। মধুবন তো একটাই। ওরা আবার এক মধুবনকে বৃন্দাবনে দেখায়। ভক্তিমার্গে মানুষ এসব বসে-বসে তৈরী করেছে। প্র্যাকটিক্যাল মধুবন তো এটাই। তোমাদের বুদ্ধিতে রয়েছে যে, আমরা সত্যযুগ-ত্রেতা থেকে পুনর্জন্ম নিতে নিতে এখন সঙ্গমে এসে দাঁড়িয়েছি - পুরুষোত্তম হওয়ার জন্য। বাবা এসে আমাদের স্মৃতি প্রদান করেছেন। কে এবং কিভাবে ৮৪ জন্ম নেবে, তাও তোমরা জানো। মানুষ শুধু বলে দেয় বোঝে না কিন্তু কিছুই। বাবা ভালভাবে বোঝান। সত্যযুগে সতোপ্রধান আত্মারা ছিল, শরীরও সতোপ্রধান ছিল। এ'সময় তো সত্যযুগ নেই, এ হলো কলিযুগ। আমরা স্বর্ণযুগে ছিলাম। পুনরায় পরিক্রমণ করে পুনর্জন্ম নিতে-নিতে আমরা আয়রন এজে এসে পৌঁছেছি এরপর অবশ্যই আবার পরিক্রমা করতে হবে। এখন যেতে হবে নিজের ঘরে। তোমরা তো হারানিধি বাচ্চা, তাই না! হারানিধি তাদের বলা হয় যারা নিখোঁজ হয়ে যায়, পুনরায় বহুকাল পরে তাদের খুঁজে পাওয়া যায়। তোমরা ৫ হাজার বছর পর এসে মিলিত হয়েছো। বাচ্চারা, তোমরাই জানো - ইনি হলেন সেই বাবা যিনি ৫ হাজার বছর পূর্বে আমাদের এই সৃষ্টি-চক্রের জ্ঞান প্রদান করেছিলেন। স্বদর্শন-চক্রধারী বানিয়েছিলেন। এখন পুনরায় বাবা এসে মিলিত হয়েছেন। আমাদের জন্মসিদ্ধ অধিকার প্রদানের জন্য। এখানে বাবা আমাদের রিয়েলাইজ করান। এরমধ্যে আত্মার ৮৪ জন্মের উপলব্ধিও চলে আসে। এ'সব বাবা বসে-বসে বোঝান। যেমনভাবে ৫ হাজার বছর পূর্বেও বুঝিয়েছিলাম - মানুষকে দেবতা বা কাঙ্গালকে মুকুটধারী বানানোর জন্য। তোমরা জানো যে, আমরা ৮৪ বার পুনর্জন্ম নিয়েছি। যারা নেয় নি তারা এখানে শেখার জন্য আসবেও না। কেউ অল্প বুঝবে। নম্বরের অনুক্রম তো আছেই, তাই না! নিজের নিজের ঘর-গৃহস্থে থাকতে হবে। সকলে এখানে এসে তো বসবে না। রিফ্রেশ হতে তারাই আসবে, যারা অতি উচ্চপদ প্রাপ্ত করার অধিকারী হবে। স্বল্প পদাধিকারীরা অধিক পুরুষার্থও করবে না। এই জ্ঞান এমন যে, এতটুকুও যদি কেউ পুরুষার্থ করে তাও তা ব্যর্থ হয়ে যাবে না। সাজাভোগ করে চলে আসবে। ভাল পুরুষার্থ করলে সাজাও কম হয়। স্মরণের যাত্রা ব্যতীত বিকর্ম বিনাশ হবে না। প্রতিমুহূর্তে নিজেকে এ'কথা স্মরণ করাও। যদি কোনো মানুষকে পাও, তখন প্রথমে তাকে এটা বোঝাতে হবে - নিজেকে আত্মা মনে করো। এই নাম তো পরে শরীরের জন্য পেয়েছো। কাউকে ডাকলে শরীরের নাম ধরে ডাকবে। এই সঙ্গমেই অসীম জগতের পিতা তাঁর আত্মা-রূপী সন্তানদের ডাকেন। তোমরা বলবে আধ্যাত্মিক পিতা এসেছেন। বাবা বলবেন, আমার আত্মিক বাচ্চারা। প্রথমে আত্মা, পরে বাচ্চাদের নাম নেন। আত্মা-রূপী বাচ্চারা, তোমরা জানো যে আত্মিক পিতা কি বোঝান। তোমাদের বুদ্ধি জানে -- শিববাবা এই ভগীরথে (ভাগ্যশালী রথ ব্রহ্মা) বিরাজমান, আমাদের তিনিই রাজযোগ শেখাচ্ছেন। আর কোন মানুষ নেই যার মধ্যে বাবা এসে রাজযোগ শেখাবেন। সেই পিতা আসেনই পুরুষোত্তম সঙ্গমযুগে, আর কোনো মানুষ এভাবে বলতে পারে না, বোঝাতে পারে না। এও তোমরা জানো যে, এ'শিক্ষা এই বাবার(ব্রহ্মা) নয়। ইনি তো জানতেনই না যে কলিযুগ সমাপ্ত হয়ে সত্যযুগ আসবে। এনার এখন কোনো দেহধারী গুরু নেই আর সব মানুষই তো বলে যে, অমুকে আমাদের গুরু। অমুকে মহাজ্যোতিতে বিলীন হয়ে গেছে। সকলের দেহধারী গুরু রয়েছে। ধর্মস্থাপকও দেহধারী। এই ধর্ম কে স্থাপন করেছে? পরমপিতা পরমাত্মা ত্রিমূর্তি শিববাবা ব্রহ্মার দ্বারা স্থাপন করেছেন। এনার শরীরের নাম ব্রহ্মা। খ্রীস্টানরা বলবে খ্রাইস্ট এই ধর্ম স্থাপন করেছে। সে তো দেহধারী। চিত্রও রয়েছে। এই ধর্মের ধর্মস্থাপকের চিত্র কি দেখাবে? শিবেরই দেখাবে। শিবের চিত্র কেউ বড়, কেউ ছোট বানায়। হন তো তিনি বিন্দুই। তাঁর নাম-রূপও রয়েছে কিন্তু অব্যক্ত। এই নয়নের দ্বারাই দেখতে পারবে না। বাচ্চারা, শিববাবা তোমাদের রাজ্য-ভাগ্য দিয়ে গেছেন, তবেই তো স্মরণ করো, তাই না! শিববাবা বলেন - মন্মনাভব। আমাকে অর্থাৎ একমাত্র বাবাকেই স্মরণ করো। কারোর স্তুতি করা উচিত নয়। আত্মার বুদ্ধিতে যেন কোন দেহ না আসে, এ হলো ভালভাবে বোঝার মতন বিষয়। আমাদের শিববাবা পড়ান, সারাদিন এটাই রিপীট করতে থাকো। শিব ভগবানুবাচ, সর্বপ্রথমে অল্ফ অর্থাৎ ঈশ্বরকেই বুঝতে হবে। এটাই পাকা না হলে, আর যদি বে অর্থাৎ বাদশাহীর (রাজত্ব) কথা বলি তাহলে তো কিছুই বুদ্ধিতে বসবে না। কেউ বলে, এ তো সঠিক কথা। কেউ বলে, এটা বোঝার জন্য সময়ের প্রয়োজন। কেউ বলে, বিচার-বিবেচনা করবো। অনেকধরণের আসে। এ হলো নতুন কথা। পরমপিতা পরমাত্মা শিব আত্মাদের বসে পড়ান। বিচার চলতে থাকে, কি করা যায় যাতে মানুষ এসব বুঝতে পারে। শিবই জ্ঞানের সাগর। আত্মাকে জ্ঞানের সাগর কিভাবে বলবে, যার শরীরই নেই। তিনি জ্ঞানের সাগর তাহলে অবশ্যই কখনো জ্ঞান শুনিয়েছেন তবেই তো তাঁকে জ্ঞানের সাগর বলা হয়। এমনি-এমনিই কেন বলবে? কেউ-কেউ অনেক পড়াশোনা করে,তখন বলা হয় ইনি তো অনেক বেদ-শাস্ত্রাদি পড়েছেন, তাই এনাকে শাস্ত্রী বা বিদ্বান বলা হয়। বাবাকে জ্ঞানের সাগর, সর্বময়কর্তা বলা হয়। অবশ্যই তিনি এখানে এসেছিলেন তারপর চলে গেছেন। প্রথমে জিজ্ঞাসা করা উচিত যে, এখন কলিযুগ না সত্যযুগ? নতুন দুনিয়া নাকি পুরোনো দুনিয়া? এইম অবজেক্ট তো তোমাদের সামনে উপস্থিত রয়েছে । এই লক্ষ্মী-নারায়ণ যদি থাকতো তাহলে তাদের রাজ্য হতো। এই পুরোনো দুনিয়া, এই কাঙ্গালত্ব কখনই আসতো না। এখন কেবল তাদের চিত্রই রয়েছে। মন্দিরে মডেল দেখানো হয়। নাহলে ওখানে তাদের মহল, বাগিচাদি কত বড়-বড় হয়। তারা কি শুধু মন্দিরেই থাকবে! না তা থাকবে না। প্রেসিডেন্টের বাড়ি কত বিশালাকৃতির হয়। দেবী-দেবতারা তো বড়-বড় প্রাসাদে থাকবে। সেখানে অনেক জায়গা। ওখানে ভয়-ভীতি ইত্যাদির কোনও কথাই নেই। সদাই ফুলের মেলা অর্থাৎ ফুল ফুটতেই থাকে। কাঁটা থাকেই না। ওটা হলো বাগিচা। ওখানে কাঠ ইত্যাদি জ্বালানো হবে না। কাঠ জ্বললে ধোঁয়া হয় তাতে দুঃখের অর্থাৎ অস্বস্তির অনুভূতি হয়। ওখানে আমরা অতি ছোট জায়গায় বসবাস করি। পরে সেই স্থান বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হতে থাকে। অনেক সুন্দর সুন্দর বাগান থাকবে, সুগন্ধ আসতে থাকবে। জঙ্গল হবেই না। যদিও দেখতে পাবে না কিন্তু এখন তা অনুভব করবে। ধ্যানে তোমরা অনেক বড়-বড় প্রাসাদাদি দেখে আসো, সেসব এখানে তৈরী করতে পারবে না। সাক্ষাৎকার হয়ে আবার তা হারিয়ে যাবে। সাক্ষাৎকার তো হয়েছে, তাই না! রাজা, যুবরাজ-যুবরানী থাকবে। স্বর্গ অতি রমনীয় হবে। যেমন এখানে মহীশূর ইত্যাদি রমনীয়, তেমনই ওখানে অতি মনোরম বাতাস বইতে থাকে। জলের ঝরনা বইতে থাকে। আত্মা মনে করে - আমরা ভালো ভালো জিনিস নির্মাণ করবো। স্বর্গ তো আত্মা তো স্বর্গকে স্মরণ করে, তাই না! বাচ্চারা, তোমরা রিয়েলাইজ করো - কি কি হবে, কোথায় আমরা ছিলাম। এই সময় এসব স্মৃতিতে থাকে। চিত্র দেখো, তোমরা কত সৌভাগ্যশালী ছিলে। ওখানে দুঃখের কোন কথাই থাকবে না। আমরা তো স্বর্গে ছিলাম, পরে নীচে নেমেছি। এখন পুনরায় স্বর্গে যেতে হবে। কিভাবে যাবে? দড়ি বেঁধে ঝুলে-ঝুলে যাবে কি? আত্মারূপী আমরা তো শান্তিধামের বাসিন্দা। বাবা তোমাদের মনে করিয়েছেন যে, এখন তোমরা পুনরায় দেবতায় পরিণত হচ্ছো আর অন্যদেরকেও তৈরী করছো। ঘরে বসেও কতজন সাক্ষাৎকার করে। সংসারজালে আবদ্ধ মাতা'রা (বাঁধেলী) কখনো সাক্ষাৎ করেছে নাকি, না করেনি। কিভাবে আত্মা উচ্ছ্বসিত হয়ে ওঠে। নিজের ঘরে যাওয়ার সময় নিকটে এলে, আত্মার খুশী হতে থাকে। তারা বোঝে যে, বাবা আমাদের জ্ঞান-শৃঙ্গার করতে এসেছেন। শেষে একদিন সংবাদপত্রেও বেরোবে। এখন তো নিন্দা-স্তুতি, মান-অপমান সব সামনে আসবে। তারা জানে যে, কল্প-পূর্বেও এরকম হয়েছিল। যেই মুহূর্ত অতিবাহিত হয়ে গেছে তার চিন্তন করা উচিত নয়। কল্প-পূর্বেও সংবাদপত্রে এমনভাবে পড়েছিলে। পুনরায় পুরুষার্থ করতে হয়। গোলমাল যা হওয়ার ছিল তা তো হয়েই গেছে। নাম তো হয়ে গেছে, তাই না! পুনরায় তোমরা রেসপন্স করো। কেউ পড়ে, কেউ পড়ে না। অবসর পায় না। অন্যান্য কাজ করতে লেগে পড়ে। এখন তোমাদের বুদ্ধিতে রয়েছে যে, এ হলো অসীম জগতের বড় ড্রামা। টিক-টিক করে চলতে থাকে, চক্র আবর্তিত হতে থাকে। এক সেকেন্ডে যা অতিবাহিত হয়ে যায় তা পুনরায় ৫ হাজার বছর পর রিপীট হয়। যা হয়ে গেছে তা এক সেকেন্ড পর স্মরণে আসে। এমন ভুল হয়ে গেছে, ড্রামায় নির্ধারিত রয়েছে। কল্প-পূর্বেও এমনই ভুল হয়েছিল, যা অতীত হয়ে গেছে। এখন পুনরায় ভবিষ্যতে আর করবে না। পুরুষার্থ করতে থাকে। তোমাদের বোঝানো হয় যে, প্রতিমুহূর্তে এমন ভুল হওয়া ঠিক নয়। এই কাজ ভাল নয়। হৃদয় দংশিত হয় - আমাদের দ্বারা এমন কার্য সংঘটিত হয়েছে। বাবা বোঝান, এমন কোরো না, কেউ দুঃখ পাবে। বারণ করা হয়। বাবা বলে দেন - এমন কাজ ক'রো না, না বলে কোনো জিনিস তুলে নিলে তাকে চুরি বলা হয়। এমন কাজ কোরো না। কড়া কথা বোলো না। আজকাল দুনিয়া দেখো কেমন হয়ে গেছে - কেউ চাকরের উপর রাগ করলে সেও তখন শত্রুতা করতে থাকে। ওখানে তো বাঘে-গরুতে পরস্পর ক্ষীরখন্ড (মিলেমিশে) হয়ে থাকে। অনৈক্য (লুনপানী) আর ঐক্য (ক্ষীরখন্ড)। সত্যযুগে সকল মনুষ্য আত্মারা পরস্পর ক্ষীরখন্ড হয়ে থাকে। আর এই রাবণ-রাজ্যে সকল মানুষ পরস্পর বিরোধী হয়। বাবা আর তার সন্তানের মধ্যেও বিরোধ রয়েছে। কাম মহাশত্রু, তাই না! কাম-কুঠারের আঘাতে একে-অপরকে দুঃখ দেয়। সমগ্র এই দুনিয়াই বিরোধপূর্ণ। সত্যযুগীয় দুনিয়া হলো ক্ষীরখন্ড। এইসমস্ত কথা দুনিয়া কি জানে! মানুষ তো স্বর্গকে লক্ষ-লক্ষ বছর বলে দেয়। তাই কোনো কথা বুদ্ধিতে থাকতে পারে না। যারা দেবতা ছিল কেবল তাদেরই স্মৃতিতে আসে। তোমরা জানো যে, এই দেবতারা সত্যযুগে ছিল। যারা ৮৪ জন্ম নিয়েছিল পুনরায় তারাই এসে পড়বে এবং কাঁটা থেকে ফুল হবে। এ হলো বাবার একমাত্র ইউনিভার্সিটি, এর শাখা-প্রশাখা বের হতে থাকে। খুদা যখন আসবে তখন তাঁর সহযোগী হবো, যাদের দ্বারা স্বয়ং খুদা রাজত্ব স্থাপন করবেন। তোমরা জানো যে, আমরা হলাম খুদার (ঈশ্বর) সহযোগী। ওরা শারীরিক সহযোগিতা করে, এ হলো আত্মিক। বাবা আমাদের অর্থাৎ আত্মাদেরকে আত্মিক সেবা শেখাচ্ছেন কারণ আত্মাই তমোপ্রধান হয়ে গেছে। পুনরায় বাবা সতোপ্রধান বানাচ্ছেন। বাবা বলেন - মামেকম্ স্মরণ করো তবেই বিকর্ম বিনাশ হবে। এ হলো যোগ-অগ্নি। ভারতের প্রাচীন রাজযোগের গায়ন রয়েছে, তাই না! আর্টিফিসিয়াল যোগ তো অনেক আছে সেইজন্য বাবা বলেন, স্মরণের যাত্রা বলা সঠিক। বাবাকে স্মরণ করতে-করতে তোমরা শিবপুরীতে চলে যাবে। এটা হলো শিবপুরী। ওটা হলো বিষ্ণুপুরী। আর এ হলো রাবণপুরী। বিষ্ণুপুরীর পর আসে রামপুরী। সূর্যবংশীয়-র পর চন্দ্রবংশীয়। এ হলো সাধারণ কথা। অর্ধেক কল্প সত্যযুগ-ত্রেতা, অর্ধেককল্প দ্বাপর-কলিযুগ। এখন তোমরা সঙ্গমে রয়েছ। এও কেবলমাত্র তোমরাই জানো। যে ভালভাবে ধারণ করে সে অন্যকেও বোঝায়। আমরা পুরুষোত্তম সঙ্গমযুগে রয়েছি। এও যদি কারোর বুদ্ধিতে থাকে তাহলেও সমগ্র ড্রামা বুদ্ধিতে চলে আসবে। কিন্তু কলিযুগীয় দেহের আত্মীয়-পরিজনেরা স্মরণে আসতে থাকে। বাবা বলেন - তোমাদের স্মরণ করতে হবে অদ্বিতীয় পিতাকেই। সকলের সদ্গতিদাতা রাজযোগ শিক্ষা প্রদানকারী একজনই সে'জন্য বাবা বোঝান যে, শিববাবারই জয়ন্তী (জন্মদিন) পালিত হয় যিনি সমগ্র দুনিয়াকে পরিবর্তন করেন। তোমরা ব্রাহ্মণরাই জানো যে, এখন আমরা পুরুষোত্তম সঙ্গমযুগে রয়েছি। যে ব্রাহ্মণ, তারই রচয়িতা আর রচনার জ্ঞান বুদ্ধিতে থাকে। আচ্ছা!

মিষ্টি-মিষ্টি হারানিধি বাচ্চাদের প্রতি মাতা-পিতা বাপদাদার স্মরণের স্নেহ-সুমন আর সুপ্রভাত। আত্মাদের পিতা তাঁর আত্মা-রূপী বাচ্চাদেরকে জানাচ্ছেন নমস্কার।

ধারণার জন্য মুখ্য সার :-
১ ) এমন কোনো কর্ম ক'রো না যার ফলে কারো দুঃখ হয়। কড়া কথা বলা উচিত নয়। অনেক-অনেক ক্ষীরখন্ড (মিলেমিশে) হয়ে চলতে হবে।

২ ) কোনো দেহধারীর প্রশংসা করা উচিত নয়। বুদ্ধিতে যেন থাকে যে আমাদের শিববাবা পড়াচ্ছেন, সেই এক-এরই মহিমা করা উচিত। আধ্যাত্মিক সহযোগী হতে হবে।

বরদান:-
শুদ্ধ সংকল্পের ব্রতের (দৃঢ়তা) দ্বারা বৃত্তির পরিবর্তনকারী হৃদয় সিংহাসনধারী ভব

বাপদাদার হৃদয় সিংহাসন এতটাই পিওর যে এই সিংহাসনের উপর সদা পিওর আত্মারাই বসতে পারে। যাদের সংকল্প মাত্রেও অপবিত্রতা বা অমর্যাদা এসে যায় তারা সিংহাসনে বসার পরিবর্তে অবনতি কলায় নিচে নেমে যায়, এইজন্য প্রথমে শুদ্ধ সংকল্পের ব্রত দ্বারা নিজের বৃত্তির পরিবর্তন করো। বৃত্তি পরিবর্তনের দ্বারা ভবিষ্যৎ জীবন রূপী সৃষ্টি পরিবর্তন হয়ে যাবে। শুদ্ধ সংকল্প বা দৃঢ় সংকল্পের ব্রত-র প্রত্যক্ষফল হলই সদাকালের জন্য বাপদাদার হৃদয়সিংহাসন।

স্লোগান:-
যেখানে সর্বশক্তিগুলি সাথে থাকে, সেখানে নির্বিঘ্ন সফলতা আছেই।

অব্যক্ত ঈশারা :- এখন সম্পন্ন বা কর্মাতীত হওয়ার ধুন লাগাও

অন্তঃবাহক স্থিতি অর্থাৎ কর্মবন্ধন মুক্ত কর্মাতীত স্থিতির বাহন অর্থাৎ অন্তিম বাহন, যার দ্বারা সেকেন্ডে বাবার সাথে উড়ে যেতে পারবে। এরজন্য সকল পার্থিব জগত থেকে ঊর্ধ্বে অসীম স্বরূপে, অসীম জগতের সেবাধারী, সকল পার্থিব জিনিসের উপর বিজয় প্রাপ্তকারী বিজয়ীরত্ন হও তবেই অন্তিম কর্মাতীত স্বরূপের অনুভবী স্বরূপ হতে পারবে।

24-12-2025 Bengali Murli

 “মিষ্টি বাচ্চারা - অবিনাশী জ্ঞান রত্নের দানই হলো মহাদান, এই দানের দ্বারা রাজত্ব প্রাপ্ত হয়। তাই মহাদানী হও”

প্রশ্নঃ - যে বাচ্চাদের সার্ভিস করার শখ থাকে তাদের মুখ্য লক্ষণ কি?

উত্তরঃ   ১. তাদের পুরানো দুনিয়ার আবহাওয়া একেবারেই ভালো লাগবে না, ২. তাদের অনেককে নিজের মতন তৈরি করার সেবা করে খুশী অনুভব হবে, ৩. তাদের পড়াশোনা করতে এবং অন্যদের পড়াতে আরাম অনুভব হবে, ৪. বোঝাতে-বোঝাতে গলা খারাপ হওয়া সত্ত্বেও খুশীতে থাকবে, ৫. তাদের কারো সম্পত্তি চাই না। তারা অন্যের সম্পত্তির জন্য সময় নষ্ট করবে না। ৬. তাদের মোহ সব দিক থেকে ছিন্ন হয়ে থাকবে। ৭. তারা বাবার মতন উদারচিত্ত হবে। সেবা ছাড়া কিছুই তাদের ভালো লাগবে না।

গীতঃ- ওম্ নমো শিবায়....

ওম্ শান্তি ।
আত্মিক পিতা যার মহিমা শুনলে তিনি বসে বাচ্চাদের পড়াচ্ছেন, এ হলো পাঠশালা, তাইনা। তোমরা সবাই এখানে পাঠ পড়ছো টিচারের কাছে। ইনি হলেন সুপ্রিম টিচার, যাকে পরমপিতাও বলা হয়। পরমপিতা আত্মিক পিতাকেই বলা হয়। লৌকিক পিতাকে কখনও পরমপিতা বলবে না। তোমরা বলবে এখন আমরা পারলৌকিক পিতার পিতার কাছে বসে আছি। কেউ বসে আছে, কেউ অতিথি হয়ে এসেছে। তোমরা বুঝেছো যে আমরা অসীম জগতের পিতার কাছে বসে আছি, অবিনাশী উত্তরাধিকার প্রাপ্তির জন্যে। সুতরাং অন্তরে অনেক খুশীর অনুভব হওয়া উচিত। মানুষ তো আর্তনাদ করে। এই সময় দুনিয়ায় সবাই বলে যাতে দুনিয়ায় শান্তি হোক। মানুষ তো জানেনা, যে শান্তি কি জিনিস। জ্ঞানের সাগর, শান্তির সাগর বাবা কেবল শান্তি স্থাপন করেন। নিরাকারী দুনিয়ায় তো শান্তি-ই থাকে। এখানে চিৎকার করে যে দুনিয়ায় শান্তি কীভাবে হবে ? নতুন দুনিয়া সত্যযুগে শান্তি ছিল, তখন একটি ধর্ম ছিল। নতুন দুনিয়াকে বলা হয় প্যারাডাইজ, দেবতাদের দুনিয়া। শাস্ত্রে সর্ব ক্ষেত্রে অশান্তির কথা লিখে দিয়েছে। দেখানো হয়েছে দ্বাপরে কংস ছিল, তারপরে হিরণ্যকাশ্যপকে সত্যযুগে দেখানো হয়েছে, ত্রেতায় রাবণের ঝামেলা .....। সর্বত্র অশান্তি দেখিয়ে দিয়েছে। মানুষ ঘোর অন্ধকারে আছে। প্রার্থনায় ডাকে অসীমের পিতাকে। যখন গড ফাদার আসেন তখনই উনি এসে শান্তি স্থাপন করেন। গড কে মানুষ জানেনা। শান্তি হয় নতুন দুনিয়ায়। পুরানো দুনিয়ায় হয় না। নতুন দুনিয়া স্থাপন করেন একমাত্র বাবা। তাঁকেই প্রার্থনা করা হয় এসে শান্তি স্থাপন করুন। আর্য সমাজীরা গান গায় শান্তি দেবা।

বাবা বলেন প্রথমে হলো পবিত্রতা। এখন তোমরা পবিত্র হচ্ছো। সেখানে পবিত্রতাও আছে, শান্তিও আছে, হেল্থ-ওয়েলথ সব আছে। ধন ব্যতীত মানুষ উদাসীন হয়ে যায়। তোমরা এখানে আসো এই রূপ লক্ষ্মী-নারায়ণ সম বিত্তবান হওয়ার জন্যে। তারা বিশ্বের মালিক ছিলেন তাইনা। তোমরা এসেছো বিশ্বের মালিক হতে। কিন্তু সেই বুদ্ধি নম্বর অনুসারে থাকে। বাবা বলেছিলেন - যখন প্রভাতফেরীতে যাও তখন সাথে লক্ষ্মী-নারায়ণের চিত্র অবশ্যই রাখবে। এমন যুক্তি রচনা করো। এখন বাচ্চাদের বুদ্ধি স্পর্শবুদ্ধি হবে। এই সময় বুদ্ধি তমোপ্রধান থেকে রজো পর্যন্ত গেছে। এখনও সতো, সতোপ্রধান পর্যন্ত যেতে হবে। তেমন শক্তি এখন নেই। স্মরণে থাকে না। যোগবল কম আছে। চট করে সতোপ্রধান হতে পারবে না। এই যে গায়ন আছে সেকেন্ডে জীবনমুক্তি, সে তো ঠিক কথা। তোমরা ব্রাহ্মণ হয়েছো অর্থাৎ জীবনমুক্ত তো হয়েই গেছো, পরে জীবনমুক্তিতেও সর্বোত্তম, মধ্যম, কনিষ্ঠ আছে। যারা বাবার আপন হয় তাদের জীবনমুক্তি তো প্রাপ্ত হয়ই। যদি বাবার আপন হয়ে বাবাকে ত্যাগও করে তবুও জীবনমুক্তি অবশ্যই পাবে। স্বর্গে সাফাইয়ের কর্তব্যে নিয়োজিত হবে। স্বর্গে তো যাবেই। যদিও পদমর্যাদা কম প্রাপ্ত হয়। বাবা অবিনাশী জ্ঞান প্রদান করেন, সেই জ্ঞান কখনও বিনাশ হয় না। বাচ্চাদের মনে খুশীর ঢাক ঢোল ধ্বনিত হওয়া উচিত। এই হায়-হায় হওয়ার পরে বাঃ-বাঃ হবে।

এখন তোমরা হলে ঈশ্বরীয় সন্তান। পরে দৈবী সন্তান হবে। এই সময় তোমাদের এই জীবন হল হীরে তুল্য। তোমরা ভারতের সার্ভিস করে ভারতকে পীসফুল বানাও। সেখানে পবিত্রতা, সুখ, শান্তি সব থাকে। এই জীবন তোমাদের দেবতাদের চেয়েও উঁচু। এখন তোমরা রচয়িতা পিতাকে এবং সৃষ্টি চক্রকে জেনেছো। বলা হয় এই উৎসব ইত্যাদি যা আছে সবই পরম্পরা থেকে চলে আসছে। কিন্তু কবে থেকে? সে কথা কেউ জানে না। তারা ভাবে যখন থেকে সৃষ্টি শুরু হয়েছে, রাবণ দহন ইত্যাদি সবই পরম্পরা ধরে হয়ে আসছে। এবারে সত্যযুগে তো রাবণ থাকে না। সেখানে কেউ দুঃখে থাকে না তাই গড কেও স্মরণ করে না। এখানে সবাই গড কে স্মরণ করতে থাকে। ভাবে গড ই স্বয়ং বিশ্বে শান্তি স্থাপন করবেন, তাই বলেন এসে দয়া করুন। আমাদের দুঃখ থেকে উদ্ধার করুন। বাচ্চারাই বাবাকে স্মরণ করে আহ্বান করে কারণ বাচ্চারা তো সুখ দেখেছে। বাবা বলেন - তোমাদেরকে পবিত্র করে সঙ্গে নিয়ে যাবো। যারা পবিত্র হবে না তারা দন্ড ভোগ করবে। এতে মন, বচন, কর্মে পবিত্র থাকতে হবে। মন খুব ভালো হওয়া দরকার। এতখানি পরিশ্রম করতে হবে যাতে শেষ সময়ে কোনও ব্যর্থ চিন্তন না আসে। একমাত্র বাবা ব্যতীত অন্য কেউ যেন স্মরণে না আসে। বাবা বোঝান এখনও মনে তো সঙ্কল্প আসবেই, যতক্ষণ কর্মাতীত অবস্থা না হচ্ছে। হনুমানের মতন অটল হও, এতেই তো খুব পরিশ্রম চাই। যারা আজ্ঞাকারী, বিশ্বস্ত, সুপুত্র বাচ্চারা আছে তাদের প্রতি বাবার ভালোবাসা বেশি থাকে। ৫ বিকারকে যে জয় করে সে ও এত প্রিয় হয় না। তোমরা বাচ্চারা জানো আমরা কল্প-কল্প বাবার কাছে এই অবিনাশী উত্তরাধিকার প্রাপ্ত করি অতএব খুশীর পারদ ঊর্ধ্বে থাকা উচিত। এই কথাও জানো যে স্থাপনের কার্য তো হবেই। এই পুরানো দুনিয়া কবরে পরিণত হবে নিশ্চয়ই। আমরা পরীস্তানে যাওয়ার জন্যে কল্প পূর্বের মতন পুরুষার্থ করতে থাকি। এই হল কবরখানা। পুরানো দুনিয়া ও নতুন দুনিয়া সিঁড়িতে বোঝাতে হয়। এই সিঁড়ি'র জ্ঞান খুব ভালো, তবুও মানুষ বোঝে না। এখানে সাগরের তীরের বাসিন্দাও পুরো বোঝে না। তোমাদের তো জ্ঞান ধনের দান করা উচিত। ধন দান করলে ধন বৃদ্ধি পায়। দানী, মহাদানী বলা হয়, তাইনা। যারা হাসপাতাল, ধর্মশালা ইত্যাদি নির্মাণ করায়, তাদের মহাদানী বলে। তার ফল পরের জন্মে অল্পকালের জন্য অবশ্যই প্রাপ্ত হয়। যদি ধর্মশালা নির্মাণ করে তো পরজন্মে বাড়ির সুখ পাবে। কেউ অনেক ধন দান করে তো রাজার ঘরে ধনীর ঘরে জন্ম নেয়। সেসব দানের ফল। তোমরা পড়াশোনা করে রাজত্ব প্রাপ্ত করো। এই হল পড়াশোনা এবং দান । এখানে হল ডাইরেক্ট, ভক্তিমার্গে হয় ইনডায়রেক্ট। শিববাবা তোমাদের পড়াশোনা দ্বারা এইরকম বানিয়ে দেন। শিববাবার কাছে তো আছেই অবিনাশী জ্ঞান রত্ন। এক-একটি রত্ন হল লক্ষ টাকার। ভক্তির জন্য এমন বলা হয় না। একে জ্ঞান বলা হয়। শাস্ত্রে ভক্তির জ্ঞান আছে, ভক্তি কীভাবে করা উচিত তারই শিক্ষা প্রাপ্ত হয়। বাচ্চারা, তোমাদের রয়েছে জ্ঞানের অপরিসীম নেশা। ভক্তির পরে তোমাদের জ্ঞানের প্রাপ্তি হয়। জ্ঞানের দ্বারা বিশ্বের বাদশাহীর অপরিসীম নেশা থাকে। যে বেশি সার্ভিস করবে, তাদের নেশা বৃদ্ধি পাবে। প্রদর্শনী অথবা মিউজিয়ামেও যে ভালোভাবে ভাষণ দিতে পারে তাকে ডাকা হয়। সেখানেও অবশ্যই নম্বর অনুসারে হবে। মহারথী, অশ্বারোহী, পদাতিক বিভিন্ন শ্রেণী আছে। দিলওয়ারা মন্দিরেও স্মরণিক বানানো আছে। তোমরা বলবে এই হলো চৈতন্য দিলওয়াড়া, ওই হল জড়। তোমরা হলে গুপ্ত তাই তোমাদেরকে জানে না।

তোমরা হলে রাজঋষি, তারা হলো হঠযোগ ঋষি। এখন তোমরা হলে জ্ঞান জ্ঞানেশ্বরী। জ্ঞান সাগর তোমাদের জ্ঞান প্রদান করেন। তোমরা হলো অবিনাশী সার্জেনের সন্তান। সার্জেন তো নাড়ি দেখবেন। যে নিজের নাড়ি দেখতে জানেনা সে অন্যের দেখবে কীভাবে। তোমরা হলে অবিনাশী সার্জেনের সন্তান। জ্ঞান অঞ্জন সদ্গুরু প্রদান করেন... এ হল জ্ঞান ইনজেকশন তাইনা। আত্মাকে ইনজেকশন লাগানো হয় তাইনা। এই হল বর্তমানের মহিমা বর্ণনা । এই হল সদগুরুর মহিমা। গুরুদেরকে জ্ঞান ইনজেকশন সদগুরুই দেবেন। তোমরা অবিনাশী সার্জেনের সন্তান তাই তোমাদের কর্তব্য হল জ্ঞান ইনজেকশন লাগানো। ডাক্তারদের মধ্যেও কেউ মাসে লক্ষ টাকা, কেউ ৫০০ টাকা আয় করবে। নম্বর অনুসারে এক-দুইজনের কাছে যায়। হাইকোর্ট, সুপ্রিমকোর্টে জাজমেন্ট প্রাপ্ত হয় - ফাঁসি হবে। তারপরে প্রেসিডেন্টের কাছে আপীল করে তখন প্রেসিডেন্ট ক্ষমাও করে দেন।

বাচ্চারা, তোমাদের তো নেশা থাকা উচিত, উদারচিত্ত হওয়া উচিত। এই ভাগীরথে বাবা প্রবেশ করে এনাকে বাবা উদারচিত্ত করে দিয়েছেন তাইনা। স্বয়ং সব কিছু করতে পারেন। এনার দেহে প্রবেশ করে মালিক হয়ে বসেছেন। এই সব ভারতের কল্যাণার্থে লাগাতে হবে। তোমরা ধন লাগাও, ভারতের কল্যাণের জন্য। কেউ যদি জিজ্ঞাসা করে খরচের টাকা কোথা থেকে আনছো? বলো, আমরা নিজেরাই তন-মন-ধন দ্বারা সার্ভিস করি। আমরা রাজত্ব করবো তাই ধনও আমরাই লাগাবো। আমরা নিজেরাই খরচ করি। আমরা ব্রাহ্মণ রা শ্রীমৎ অনুযায়ী রাজত্ব স্থাপন করি। যে ব্রাহ্মণ হবে সে খরচ করবে। শূদ্র থেকে ব্রাহ্মণ হবে তারপরে দেবতা হবে। বাবা তো বলেন সব চিত্র গুলি এমন ট্রান্সলাইটের বানাও যাতে মানুষ আকৃষ্ট হয়। কারো চট করে জ্ঞান বাণ লেগে যাবে। কেউ জাদুর ভয়ে আসবেই না। মানুষ থেকে দেবতা হওয়া - এ হলো জাদু তাইনা। ভগবানুবাচ, আমি তোমাদের রাজযোগের শিক্ষা প্রদান করি। হঠযোগী কখনও রাজযোগ শেখাতে পারে না। এইসব কথা তোমরা এখন বুঝেছো। তোমরা মন্দির সম পরিণত হচ্ছো। এই সময় এই সম্পূর্ণ বিশ্ব হলো অসীমের লঙ্কা (রাবণের রাজ্য)। সম্পূর্ণ বিশ্বে এখন রাবণের রাজত্ব। সত্যযুগ-ত্রেতায় রাবণ ইত্যাদি কীভাবে থাকবে।

বাবা বলেন, আমি এখন যে জ্ঞান শোনাছি, সেসব শোনো। এই চোখ দিয়ে কিছু দেখো না। এই পুরানো দুনিয়া বিনাশ হয়ে যাবে, তাই নিজের শান্তিধাম-সুখধামকেই স্মরণ করো। এখন তোমরা পূজ্য থেকে পূজারী হচ্ছো। ইনি নম্বর ওয়ান পূজারী ছিলেন, নারায়ণের অনেক পূজা করতেন। এখন পুনরায় পূজ্য নারায়ণ স্বরূপে পরিণত হচ্ছেন। তোমরাও পুরুষার্থ করে এমন স্বরূপে পরিণত হতে পারো। রাজধানী তো চলে তাইনা। যেমন কিং অ্যাডওয়ার্ড দি ফার্স্ট, সেকেন্ড, থার্ড চলে। বাবা বলেন তোমরা সর্বব্যাপী বলে আমার অপমান করে এসেছো। তা সত্বেও আমি তোমাদের উপকার করি। এই খেলাটি এমনই ওয়ান্ডারফুল বানানো হয়েছে। পুরুষার্থ নিশ্চয়ই করতে হবে। কল্প পূর্বে যারা পুরুষার্থ করেছে, তারা ই ড্রামা অনুসারে করবে। যে বাচ্চাদের সার্ভিস করার শখ থাকে, তার রাত-দিন শুধুমাত্র এই চিন্তনই থাকে। তোমরা বাচ্চারা বাবার কাছে রাস্তা পেয়েছো, তাই বাচ্চারা তাই তোমাদের সার্ভিস ছাড়া অন্য কিছু ভালো লাগে না। দুনিয়ার পরিবেশ ভালো লাগে না। সার্ভিসেবল বাচ্চাদের সার্ভিস না করলে আরাম অনুভব হবে না। টিচারের তো পড়ালেই আনন্দ হয়। এখন তোমরা হয়েছো উচ্চ মানের টিচার। তোমাদের কর্তব্য কর্ম হলো এটাই, যত ভালোভাবে টিচার নিজের মতন বানাবে, তারা ততই পুরস্কার প্রাপ্ত করবে। না পড়ালে তাদের আরাম অনুভব হবে না। প্রদর্শনী ইত্যাদিতে রাত বারোটা বাজলেও খুশী অনুভব হয়। ক্লান্তি অনুভব হয়, গলা ব্যথা হয়ে যায় তবু খুশী অনুভব হয়। ঈশ্বরীয় সার্ভিস তাইনা। এই হল খুব উঁচু সার্ভিস, তাদের আর কিছু ভালো লাগে না। তারা বলবে আমরা এই বাড়ি ইত্যাদি নিয়ে কি করব, আমাদের তো পড়াতে হবে। এই সার্ভিস করতে হবে। সম্পত্তি নিয়ে মতবিরোধ হলে বলবে এই সোনা কোন্ কাজে লাগবে যার দ্বারা কান কেটে যায়। সার্ভিস দ্বারা তো ভব সাগর পার হবে। বাবা বলেন, বাড়ি যার নামেই থাকুক, বি.কে.দের সার্ভিস করতে হবে। এই সার্ভিসে কোনো রকম বাইরের বন্ধন ভালো লাগে না। কারো মোহ থাকে। কারো মোহ থাকে না। বাবা বলেন, "মন্মনাভব", তাহলে তোমাদের বিকর্ম বিনাশ হবে। খুব সাহায্য প্রাপ্ত হয়। এই সার্ভিস করা উচিত। এতে আয় হয় অনেক। বাড়ি ইত্যাদির কথা নেই। বাড়ি দেবে আর বন্ধনে আবদ্ধ করবে এমন নেবে না। যারা সার্ভিস করতে জানে না তার কাজের নয়। টিচার নিজের মতন বানাবে। তা নাহলে কোনও কাজের নয়। সাহায্যকারী হাতের দরকার তো থাকেই। এতে কন্যাদের, মাতাদের প্রয়োজন বেশি থাকে। বাচ্চারা বোঝায় - বাবা হলেন টিচার, বাচ্চারাও টিচার চাই। এমন নয় টিচার অন্য কোনও কাজ করতে পারবে না। সব কাজ করা উচিত। আচ্ছা!

মিষ্টি - মিষ্টি হারানিধি বাচ্চাদের প্রতি মাতা - পিতা, বাপদাদার স্মরণের স্নেহ-সুমন আর সুপ্রভাত । আত্মাদের পিতা তাঁর আত্মারূপী বাচ্চাদেরকে জানাচ্ছেন নমস্কার ।

ধারণার জন্য মুখ্য সার :-
১ ) দিন-রাত সার্ভিসের চিন্তনে থাকতে হবে এবং সব রকমের মোহ ত্যাগ করতে হবে। সার্ভিস ছাড়া আরাম নেই, সার্ভিস করে নিজের মতন বানাতে হবে।

২ ) বাবার মতন উদার চিত্ত হতে হবে। সবার নাড়ি দেখে সেবা করতে হবে। নিজের তন-মন-ধন ভারতের কল্যাণে লাগাতে হবে। অটল-অনড় হওয়ার জন্য আজ্ঞাকারী বিশ্বস্ত হতে হবে।

বরদান:-
কি, কেন -র প্রশ্নের জাল থেকে সদা মুক্ত থাকা বিশ্ব সেবাধারী চক্রবর্তী ভব

যখন স্বদর্শন চক্র সঠিক দিকে ঘোরার পরিবর্তে ভুল দিকে ঘোরে, তখন মায়াজীৎ হওয়ার পরিবর্তে পরদর্শণের সমস্যার চক্রে এসে যাও যার দ্বারা কি, কেন -র প্রশ্নের জাল তৈরী হয়ে যায়, যেটা নিজেরাই রচনা করে, পুনরায় তাতেই ফেঁসে যায়, এইজন্য নলেজফুল হয়ে স্বদর্শন চক্র ঘোরাতে থাকো, তাহলে কি, কেন-র প্রশ্নের জাল থেকে মুক্ত হয়ে যোগযুক্ত, জীবন্মুক্ত, চক্রবর্তী হয়ে বাবার সাথে বিশ্ব কল্যাণের সেবাতে চক্র লাগাতে থাকবে। বিশ্ব সেবাধারী চক্রবর্তী রাজা হয়ে যাবে।

স্লোগান:-
প্লেন বুদ্ধির দ্বারা প্ল্যানকে প্র্যাক্টিক্যালে নিয়ে এসো তাতেই সফলতা সমাহিত হয়ে আছে।

অব্যক্ত ঈশারা :- এখন সম্পন্ন বা কর্মাতীত হওয়ার ধুন লাগাও

যখন কর্মাতীত স্থিতির নিকটে পৌঁছে যাবে তখন কোনও আত্মার প্রতি বুদ্ধির আকর্ষণ, কর্মের বন্ধন হবে না। কর্মাতীত অর্থাৎ সর্ব কর্মবন্ধন থেকে মুক্ত, পৃথক হয়ে প্রকৃতি দ্বারা নিমিত্ত মাত্র কর্ম করাবে। কর্মাতীত অবস্থার অনুভব করার জন্য পৃথক হওয়ার পুরুষার্থ বারংবার করতে হবে না, সহজ আর স্বতঃই অনুভব হবে যে কর্ম করানোর মালিক আর কর্ম করতে থাকা এই কর্মেন্দ্রিয় হল আলাদা।

https://bkrajyogpathshala.blogspot.com/

01-04-2026 Bengali Murli

 মিষ্টি বাচ্চারা - বাচ্চারা, বাবা যা, বাবা ঠিক যেমন, তোমরা বাচ্চারাও তাঁকে নম্বর ক্রমানুসারেই চিনেছো, যদি সকলেই তাঁকে চিনে গেলে তবে তো অত্যন...