Thursday, August 14, 2025

15.08.2025 Bangla Murli

15-08-2025 প্রাতঃ মুরলি    ওম্ শান্তি 

"মিষ্টি বাচ্চারা - সকাল-সকাল উঠে এই চিন্তন করো যে, আমি এত ছোট্ট আত্মা এত বড় শরীরকে চালনা করছি, আমি আত্মার মধ্যে অবিনাশী পার্ট নিহিত রয়েছে"

প্রশ্নঃ -শিববাবার কোন্ প্র্যাকটিসটি রয়েছে, কোনটি নেই?

উত্তরঃ - আত্মাকে জ্ঞান রত্ন দ্বারা শৃঙ্গার করার প্র্যাক্টিস শিববাবার আছে, বাকি শরীরের শৃঙ্গার করার প্র্যাক্টিস তাঁর নেই। কারণ বাবা বলেন, আমার তো নিজস্ব শরীরই নেই। আমি এনার শরীর যদিও ভাড়ায় নিয়েছি কিন্তু এই শরীরের শৃঙ্গার এই আত্মা নিজেই করে, আমি করি না। আমি হলাম সর্বদাই অশরীরী ।

গীতঃ-দুনিয়া বদলে যায় যাক, আমরা বদলাবো না

ওম্ শান্তি । বাচ্চারা এই গান শুনলো। কারা শুনলো? আত্মা এই শরীরের কান দিয়ে শুনলো। বাচ্চারাও এই কথা জানে যে, আত্মা হলো সূক্ষ্ম। আত্মা শরীরে না থাকলে শরীর কোনো কাজের থাকে না। এতো সূক্ষ্ম আত্মার আধারে এই বিরাট দেহ সঞ্চালিত হয়। দুনিয়ায় কেউ জানেনা যে আত্মা কি জিনিস যে এই দেহ রূপী রথে বিরাজিত আছে। অকালমূর্তি আত্মার এ হলো আসন। বাচ্চাদের এই জ্ঞান প্রাপ্ত হয়। কতখানি রমণীয়, রহস্যযুক্ত এই জ্ঞান। যখন কোনো এমন রহস্যযুক্ত কথা শোনা হয় তখন চিন্তন চলতে থাকে। বাচ্চারা, তোমাদেরও এই চিন্তন চলতে থাকে - এই সূক্ষ্ম আত্মা বিরাজিত আছে বিরাট শরীরে। আত্মায় ৮৪ জন্মের পার্ট ফিক্স আছে। শরীর তো বিনাশ হয়ে যায়। বাকি থেকে যায় আত্মা। এই হলো বিচার করার বিষয়। সকালে উঠে এই চিন্তন করা উচিত। বাচ্চাদের স্মরণে এসেছে আত্মা কতো ছোট্ট, তারই অবিনাশী পার্ট প্রাপ্ত হয়েছে। আমি আত্মা অত্যন্ত ওয়ান্ডারফুল। এ হলো নতুন জ্ঞান। যে জ্ঞান দুনিয়ায় কারো নেই। বাবা নিজে এসে বলে দেন, কি স্মরণ করতে হবে। আমরা কতো ছোট্ট আত্মারা কীভাবে পার্ট প্লে করি। এই শরীর ৫ তত্ত্বের দ্বারা নির্মিত। ব্রহ্মাবাবা জানেন না শিববাবার আত্মা কীভাবে আসা যাওয়া করে। এমন তো নয়, সর্বদা এতেই থাকেন। সুতরাং এই চিন্তন করতে হবে। বাচ্চারা, বাবা তোমাদের এমন জ্ঞান প্রদান করেন যে কেউ কখনও প্রাপ্ত করতে পারেনা। তোমরা জানো এই জ্ঞান ব্রহ্মাবাবার আত্মায় ছিলো না। অন্য সৎসঙ্গে এইসব কথায় কারো চিন্তা থাকে না। আত্মা ও পরমাত্মার এতটুকুও জ্ঞান থাকে না। কোনো সাধু সন্ন্যাসী ইত্যাদি এই কথা বোঝে না যে আমি আত্মা এই শরীর দ্বারা অন্য আত্মাকে মন্ত্র প্রদান করি। আত্মা শরীর দ্বারা শাস্ত্র পাঠ করে। একটি মানুষও আত্ম-অভিমানী নয়। আত্মার জ্ঞান কারো নেই, তাহলে বাবার বিষয়ে জ্ঞান কীভাবে থাকবে।


তোমরা বাচ্চারা জানো আমরা আত্মা, আমাদের বাবা বলেন মিষ্টি মিষ্টি বাচ্চারা ! তোমরা কতখানি বুদ্ধিমান হয়েছো। এমন কোনো মানুষ নেই যে বুঝবে এই শরীরে যে আত্মা আছে , তাকে পরমপিতা পরমাত্মা বসে পড়ান। কথাটি কতটা বুঝতে হবে। কিন্তু তবুও ব্যবসা ইত্যাদিতে গিয়ে কথাটি বিস্মৃত হয়ে যায়। সর্ব প্রথমে বাবা আত্মার জ্ঞান প্রদান করেন যে জ্ঞান কোনো মানুষ মাত্রের নেই। গায়নও আছে - আত্মা-পরমাত্মা দূরে থেকেছে বহুকাল... হিসেব আছে তাইনা। তোমরা বাচ্চারা জানো আত্মা ই কথা বলে শরীর দ্বারা। আত্মা ই শরীর দ্বারা ভালো খারাপ কাজ করে। বাবা এসে আত্মাদের সুন্দর সুন্দর ফুলে (গুলগুল) পরিণত করেন। সর্বপ্রথমে বাবা বলেন সকাল বেলা ঘুম থেকে উঠে এই প্র্যাক্টিস বা চিন্তন করো যে আত্মা কি? যে এই শরীরের দ্বারা শোনে। আত্মার পিতা হলেন পরমপিতা পরমাত্মা, যাকে পতিত-পাবন, জ্ঞানের সাগর বলা হয়। তাহলে কোনও মানুষ সুখের সাগর, শান্তির সাগর বলে কেন। লক্ষ্মী-নারায়ণকে কি বলবে সদা পবিত্রতার সাগর? না। একমাত্র বাবা হলেন সদা পবিত্রতার সাগর। মানুষ তো বসে শুধুমাত্র ভক্তি মার্গের শাস্ত্রের বর্ণনা করে। প্রাক্টিক্যাল অনুভব নেই। এমন বুঝবে না আমরা আত্মা এই শরীর দ্বারা বাবার মহিমা গান করি। তিনি তো হলেন আমাদের খুব মিষ্টি বাবা। তিনিই সুখ প্রদান করেন। বাবা বলেন - হে আত্মারা, এখন আমার শ্রীমৎ অনুসারে চলো। অবিনাশী আত্মার অবিনাশী পিতা দ্বারা অবিনাশী শ্রীমৎ প্রাপ্ত হয়। বিনাশী দেহধারীর বিনাশী দেহধারীদের মতামত ই প্রাপ্ত হয়। সত্যযুগে তোমরা এখানকার প্রালব্ধ প্রাপ্ত করো। সেখানে কখনও উল্টো মতামত প্রাপ্ত হয় না। এখনকার শ্রীমৎ-ই অবিনাশী হয়ে যায়, যা অর্ধকল্প চলে। এ হলো নতুন জ্ঞান, বিশাল বুদ্ধির প্রয়োজন আছে এই জ্ঞান ধারণ করার জন্য। তা কর্মে পরিলক্ষিত হওয়া উচিত। যারা শুরু থেকে ভক্তি করেছে তারাই ভালো ভাবে ধারণ করতে পারবে। এই কথা বুঝতে হবে - যদি আমাদের বুদ্ধিতে সঠিকভাবে ধারণা না হয় তাহলে নিশ্চয়ই আমরা শুরু থেকে ভক্তি করিনি। বাবা বলেন, কিছু না বুঝতে পারলে বাবাকে জিজ্ঞাসা করো। কারণ বাবা হলেন অবিনাশী সার্জেন। তাঁকে সুপ্রীম সোল বলা হয়। আত্মা পবিত্র হলে তার মহিমা হয়। আত্মার মহিমা হলে শরীরেরও মহিমা হয়। আত্মা তমোপ্রধান হলে শরীরেরও মহিমা হয় না। এই সময় বাচ্চারা তোমরা খুব গুহ্য বুদ্ধি প্রাপ্ত করো। আত্মার ই প্রাপ্তি হয়। আত্মাকে খুব মিষ্টি হওয়া উচিত। সবাইকে সুখ দেওয়া উচিত। বাবা হলেন খুব মিষ্টি। আত্মাদেরও খুব মিষ্টি করে দেন। আত্মা কোনো অ কর্তব্য যেন না করে - এই প্র্যাক্টিস করতে হবে। চেক করতে হবে যে আমার দ্বারা কোনো অকর্তব্য হয় না তো? শিববাবা কি কখনও অকর্তব্য করবেন? না। তিনি আসেনই উত্তম থেকে উত্তম কল্যাণকারী কাজ করতে। সবাইকে সদগতি প্রদান করেন। অতএব বাবা যেমন কর্তব্য করেন, বাচ্চাদেরও তেমন কর্তব্য করা উচিত। এই কথাও বোঝানো হয়েছে, যে শুরু থেকে অনেক ভক্তি করেছে, তাদের বুদ্ধিতে এই জ্ঞান স্থির থাকবে। এখনও দেবতাদের ভক্তের সংখ্যা অনেক আছে। নিজের মস্তক দান করতেও প্রস্তুত থাকে। অনেক ভক্তি যারা করেছে, তাদের পিছনে থাকে যারা কম ভক্তি করেছে। তাদের মহিমা বর্ণনা করে। তাদেরকে তো স্থূল রূপে দেখতে পায়। এখানে তোমরা তো হলে গুপ্ত রূপে। তোমাদের বুদ্ধিতে সৃষ্টির আদি-মধ্য-অন্তের সম্পূর্ণ জ্ঞান আছে। এই কথাও বাচ্চারা জানে - বাবা আমাদের পড়াতে এসেছেন। এখন আমরা ঘরে অর্থাৎ পরমধাম ফিরে যাব। যেখানে সব আত্মারা বাস করে, সেই হলো আমাদের ঘর। সেখানে কোনো শরীর থাকে না তাই আওয়াজও হয় না। আত্মা না থাকলে শরীর জড় হয়ে যায়। মানুষের শরীরের প্রতি খুব মোহ থাকে ! আত্মা শরীর ত্যাগ করে গেলে ৫ তত্ত্ব পড়ে থাকে, তার প্রতিও অনেক ভালোবাসা থাকে। স্ত্রী নিজের স্বামীর চিতায় বসতে রাজী হয়ে যায়। শরীরের প্রতি অনেক মোহ থাকে। এখন তোমরা বুঝেছো নষ্টমোহ হতে হবে, সম্পূর্ণ দুনিয়ার থেকে। এই শরীর তো শেষ হবেই। তাই এই শরীরের প্রতি মোহ না থাকাই উচিত, তাইনা। কিন্তু অনেক মোহ থাকে। ব্রাহ্মণদের ভোজন করানো হয়। স্মরণ করা হয় - অমুকের শ্রাদ্ধ কার্য । এবারে সে তো আর ভোজন গ্রহণ করছে না। বাচ্চারা, তোমাদের এইসব বিষয় থেকে দূরত্ব বজায় রাখা উচিত। ড্রামায় প্রত্যেকে নিজের পার্ট প্লে করে। এই সময় তোমাদের জ্ঞান আছে, আমাদের নষ্টমোহ হতে হবে। মোহজিত রাজার কাহিনীও আছে যদিও কোনো মোহজিত রাজা হয় না। এইরকম অনেক কাহিনী লেখা আছে। সেখানে অকাল মৃত্যু হয় না। তাই জিজ্ঞাসা করার কোনো প্রশ্ন থাকে না। এইসময় তোমাদের মোহজিত বানানো হয়। স্বর্গে মোহজিত রাজারা ছিলো, যথা রাজা রানী তথা প্রজা ছিলো। সেটা হলো নষ্টমোহ রাজধানী। রাবণের রাজ্যে মোহ থাকে। সেখানে তো বিকার থাকে না, রাবণ রাজ্য-ই নেই । রাবণের রাজত্ব শেষ হয়। রাম রাজ্যে কি হয়, সেই জ্ঞানও থাকে না। বাবা ব্যতীত এই জ্ঞান কেউ প্রদান করতে পারে না। বাবা এই দেহে উপস্থিত থেকেও দেহী-অভিমানী থাকেন। লোন বা ভাড়া করা বাড়ি নিলে তাতেও মোহ থাকে। বাড়িটি সুন্দর করে সাজিয়ে রাখা হয়, এনাকে সাজানোর দরকার নেই। কারণ বাবা তো হলেন অশরীরী তাইনা। বাবার কোনোরকম শৃঙ্গার ইত্যাদি করার কোনো প্র্যাক্টিস-ই নেই। ওঁনার তো কেবলমাত্র অবিনাশী জ্ঞান রত্ন দ্বারা বাচ্চাদের শৃঙ্গার করার প্র্যাক্টিস আছে। সৃষ্টির আদি-মধ্য-অন্তের রহস্য বুঝিয়ে দেন। শরীর তো হলো অপবিত্র, এনার যখন অন্য নতুন দেহ প্রাপ্ত হবে তখন পবিত্র হবেন। এই সময় তো এই হলো পুরানো দুনিয়া, যা শেষ হয়ে যাবে। সেই কথাও দুনিয়ায় কেউ জানে না। ধীরে ধীরে সবাই জানবে। নতুন দুনিয়ার স্থাপনা এবং পুরানো দুনিয়ার বিনাশ - এটা তো বাবারই কর্তব্য। বাবা এসে ব্রহ্মা দ্বারা প্রজা রচনা করে নতুন দুনিয়া স্থাপন করছেন। তোমরা কি নতুন দুনিয়ায় আছো ? না, নতুন দুনিয়া স্থাপন হচ্ছে। সুতরাং ব্রাহ্মণদের শিখাও উঁচুতে। বাবা বুঝিয়েছেন, বাবার সম্মুখে এলে সবচেয়ে প্রথমে স্মরণ করবে যে আমরা ঈশ্বর পিতার সম্মুখে যাই। শিববাবা তো হলেন নিরাকার। তাঁর সম্মুখে আমরা কীভাবে যাবো। অতএব পিতাকে স্মরণ করে তারপরে পিতার সম্মুখে আসবে। তোমরা জানো উনি এনার মধ্যে বিরাজিত আছেন। এই শরীর তো পতিত। শিববাবার স্মরণে না থেকে কোনো কাজ করলে সেই কাজ পাপে পরিণত হয়। আমরা শিববাবার কাছে যাই। পরে অন্য জন্মে অন্য আত্মীয়স্বজন থাকবে। সেখানে দেবতাদের কোলে জন্ম হবে। এই ঈশ্বরীয় সান্নিধ্য বা ঈশ্বরীয় কোল একবারই প্রাপ্ত হয়। মুখে বলে বাবা তোমার আপন হয়েছি। অনেকে এমন আছে যারা এখনও সাক্ষাৎ করেনি। বাইরে থাকে, তারা লেখে শিববাবা আমরা তোমার কোলের সন্তান হয়েছি। বুদ্ধিতে জ্ঞান আছে। আত্মা বলে - আমরা শিববাবার সন্তান হয়েছি। এর আগে আমরা পতিত কোলে ছিলাম। ভবিষ্যতে পবিত্র দেবতাদের কোলের সন্তান হয়ে যাবো। তোমাদের এই জন্ম হলো দুর্লভ জন্ম। তোমরা এখানে সঙ্গমযুগে হীরে তুল্য হও। সঙ্গমযুগ জলের সাগর ও নদীর মিলনকে বলা হয় না। রাত দিনের পার্থক্য । ব্রহ্মপুত্র হলো বিশাল নদী, সাগরে মিলিত হয়। সব নদী সাগরে গিয়ে মিলিত হয়। তোমরাও তো জ্ঞান সাগর থেকে বের হয়েছো তোমরা হলে জ্ঞান-নদী। জ্ঞান সাগর হলেন শিববাবা। বিশাল নদী হলো ব্রহ্মপুত্র। তাঁর নাম হলো ব্রহ্মা। সাগরের সঙ্গে মিলন হয়। তোমরা জানো নদী কোথা থেকে বের হয়। সাগর থেকে বেরিয়ে আবার সাগরে এসে মিলিত হয়। সাগর থেকে মিষ্টি জল প্রাপ্ত করে। সাগরের সন্তান এসে সাগরের সঙ্গে মিলিত হয়। তোমরাও জ্ঞান সাগর থেকে বের হয়ে সবাই সেখানে চলে যাবে যেখানে তারা থাকে, তোমরা আত্মারাও সেখানেই থাকো। জ্ঞান সাগর এসে তোমাদের পবিত্র মিষ্টি করেন। আত্মা যে লবনাক্ত হয়ে গেছে তাদের মিষ্টি করেন । ৫ বিকার রূপী লবণ তোমাদের মধ্যে থেকে দূর হয় তখন তোমরা তমোপ্রধান থেকে সতোপ্রধান হয়ে যাও। বাবা পুরুষার্থ করান। তোমরা সতোপ্রধান ছিলে, স্বর্গে ছিলে। তোমরা এখন ছিঃ ছিঃ হয়েছো। রাবণ তোমাদের কি বানিয়েছে। ভারতেই গায়ন আছে হীরে সম জন্ম অমূল্য।


বাবা বলেন, তোমরা কড়ি'র পিছনে এত অস্থির কেন হও। কড়িই বা কতো চাই । গরিব মানুষ চট করে বুঝে যায়। ধনবান বলে আমাদের জন্যে তো এখানেই স্বর্গ। তোমরা বাচ্চারা জানো - মানুষ মাত্রই এখন সকলেরই কড়ি তুল্য জন্ম । আমরাও এইরকম ছিলাম। এখন বাবা আমাদের কি বানিয়েছেন। মুখ্য উদ্দেশ্য তো আছে তাইনা। আমরা নর থেকে নারায়ণ হই। ভারত এখন কড়ি সম কাঙাল হয়েছে তাইনা। ভারতবাসী নিজেরা তো জানেনা। এখানে তোমরা হলে খুব সাধারণ অবলা । কোনও ধনী মানুষের এখানে বসার ইচ্ছে হবে না। যেখানে বড় লোক মানুষ সন্ন্যাসী গুরু ইত্যাদি থাকবে সেখানকার বড় বড় সভায় যাবে। বাবাও বলেন আমি হলাম দীন নাথ (গরিব নিবাজ)। বলা হয় ভগবান গরীব মানুষকে রক্ষা করেন। এখন তোমরা জানো - আমরা খুব ধনী ছিলাম। এখন আবার পরিণত হচ্ছি। বাবা লেখেন তোমরা পদ্মপতি হও। সেখানে কোনো মারামারি নেই। এখানে দেখো টাকা পয়সার জন্য কত মারামারি হয়। ঘুষ দেওয়া হয়। মানুষের টাকা তো চাই তাইনা। তোমরা বাচ্চারা জানো বাবা আমাদের খাজানা ভরপুর করে দেন। অর্ধকল্পের জন্য যত চাই তত ধন প্রাপ্ত করো, কিন্তু পুরো পুরুষার্থ করো। গাফিলতি কোরোনা। বলা হয় ফলো ফাদার করো তাইনা। ফাদারকে ফলো করলে তবে এমন স্বরূপে পরিণত হবে। নর থেকে নারায়ণ, নারী থেকে লক্ষ্মী, খুব কঠিন এই পরীক্ষা। এতে একটুও গাফিলতি করা উচিত নয়। বাবা শ্রীমৎ দেন অতএব সেই অনুযায়ী চলতে হবে। নিয়ম কায়দা উলঙ্ঘণ করবে না। শ্রীমৎ দ্বারা তোমরা শ্রী স্বরূপে পরিণত হও। লক্ষ্য খুবই উঁচুতে। নিজের প্রতিদিনের খাতা রাখো। উপার্জন জমা হয়েছে নাকি ক্ষতি হয়েছে? বাবাকে কতক্ষণ স্মরণ করেছো? কতজনকে পথ দেখিয়েছো? তোমরা হলে অন্ধের লাঠি তাইনা। তোমরা জ্ঞানের তৃতীয় নেত্র প্রাপ্ত করো। আচ্ছা !

মিষ্টি মিষ্টি হারানিধি বাচ্চাদের প্রতি মাতা পিতা, বাপদাদার স্মরণের স্নেহ-সুমন আর সুপ্রভাত । আত্মাদের পিতা তাঁর আত্মা রূপী বাচ্চাদেরকে জানাচ্ছেন নমস্কার।

ধারণার জন্যে মুখ্য সারঃ-১ ) বাবা যেমন মিষ্টি, তেমনই মিষ্টি হয়ে সবাইকে সুখ দিতে হবে। কোনোরকম অকর্তব্য কার্য করবে না। উত্তম থেকেও উত্তম কল্যাণের কাজই করতে হবে।

২ ) কড়ির পিছনে হয়রান হবে না। পুরুষার্থ করে নিজের জীবন হীরে তুল্য বানাতে হবে। গাফিলতি করবে না।


*বরদানঃ-* নিশ্চয়রূপী পা-কে অচল রেখে সদা নিশ্চয়বুদ্ধি নিশ্চিন্ত ভব

সবথেকে বড় রোগ হলো চিন্তা, এর ওষুধ ডাক্তারদের কাছেও নেই। চিন্তিত ব্যক্তি যতই প্রাপ্তির পিছনে ছুটতে থাকে ততই প্রাপ্তি তার আগে আগে ছুটতে থাকে । সেইজন্য নিশ্চয়ের পা সদা অচল রাখো। সদা এক বল এক ভরসা - এই পা অচল থাকলে বিজয় নিশ্চিত। নিশ্চিত বিজয়ী সদাই নিশ্চিন্ত থাকে। মায়া নিশ্চয়রূপী পা-কে নাড়ানোর জন্য ভিন্ন-ভিন্ন রূপে আসে কিন্তু মায়া নড়ে যাবে কিন্তু তোমাদের নিশ্চয়রূপী পা যেন না নড়ে, তাহলে নিশ্চিন্ত থাকার বরদান প্রাপ্ত হয়ে যাবে।

স্লোগানঃ-প্রত্যেকের বিশেষত্বকে দেখতে থাকো তবে বিশেষ আত্মা হয়ে যাবে।

 অব্যক্ত ঈশারা :- সহজযোগী হতে হলে পরমাত্ম প্রেমের অনুভবী হও

তোমাদের গোপ-গোপীদের চরিত্র গায়ন হয়ে থাকে - বাবার সাথে সর্ব সম্বন্ধের সুখ নেওয়া আর মগ্ন থাকা অথবা সর্ব-সম্বন্ধের লভ্ এ লভলীন থাকা। যখন কেউ অতি স্নেহের সাথে মিলন করে তো সেই সময় স্নেহের মিলনের এই শব্দ হয় যে একে-অপরের মধ্যে সমাহিত হয়ে যায় বা দুজনে মিলেমিশে এক হয়ে যায়। তো বাবার স্নেহে সমাহিত হয়ে যাওয়া অর্থাৎ বাবার স্বরূপ হয়ে যাওয়া।


Wednesday, August 13, 2025

14.08.2025 Bengali murli

 "মিষ্টি বাচ্চারা - বাবার কাছে অনেস্ট থাকো, নিজের সত্যিকারের চার্ট রাখো, কাউকে দুঃখ দিও না, একমাত্র বাবার শ্রেষ্ঠ মত অনুসারে চলতে থাকো"

প্রশ্নঃ -যারা পুরো ৮৪ জন্ম নেবে, তাদের পুরুষার্থ কেমন হবে?

উত্তরঃ -তাদের বিশেষ পুরুষার্থ হবে নর থেকে নারায়ণ হওয়ার। নিজেদের কর্মেন্দ্রিয়গুলির উপরে সম্পূর্ণ কন্ট্রোল থাকবে। তাদের চোখ ক্রিমিনাল হবে না। যদি এখনও পর্যন্ত কাউকে দেখলে বিকারী চিন্তা-ভাবনা আসে, ক্রিমিনাল আই থাকে, তখন বুঝে নেবে, তারা পুরো ৮৪ জন্ম নেওয়া আত্মা নয়।

গীতঃ-এই পাপের দুনিয়া থেকে কোথাও দূরে নিয়ে চল

ওম্ শান্তি । মিষ্টি-মিষ্টি আত্মা-রূপী বাচ্চারা জানে যে, এ হলো পাপের দুনিয়া। মানুষ পুণ্যের দুনিয়াকেও জানে। মুক্তি-জীবনমুক্তি পূণ্যের দুনিয়াকে বলা হয়। সেখানে পাপকর্ম হয় না। পাপ হয় দুঃখধাম, রাবণ-রাজ্যে। দুঃখপ্রদানকারী রাবণকেও দেখেছো। রাবণ কোনো বস্তু নয় তবুও কুশপুত্তলিকা দাহ করা হয়। বাচ্চারা জানে যে, আমরা এ'সময় রাবণ-রাজ্যে রয়েছি কিন্তু তা পার হয়ে এসেছি। আমরা এখন পুরুষোত্তম সঙ্গমযুগে রয়েছি। বাচ্চারা যখন এখানে আসে তখন তাদের বুদ্ধিতে একথা থাকে যে - আমরা সেই বাবার নিকটে যাই যিনি আমাদের মানুষ থেকে দেবতায় পরিণত করেন। সুখধামের মালিক করে দেন। যিনি সুখধামের মালিক করে দেন তিনি কোনো ব্রহ্মা নন, কোনো দেহধারীও নন। তিনিই হলেন শিববাবা, যিনি বিদেহী। তোমাদেরও দেহ ছিল না, পুনরায় তোমরা শরীর ধারণ করে জনম-মরণে আসো। তাই তোমরা জানো যে, আমরা অসীম জগতের পিতার কাছে যাই। তিনি আমাদের শ্রেষ্ঠ মত দেন। তোমরা এভাবে পুরুষার্থ করলে স্বর্গের মালিক হতে পারবে। স্বর্গকে সকলেই স্মরণ করে। জানে যে, নতুন দুনিয়া অবশ্যই রয়েছে। সেটিও অবশ্যই কেউ স্থাপন করবে। নরকও কেউ স্থাপন করে। তোমাদের সুখধামের ভূমিকা কখন সম্পূর্ণ হয় তাও তোমরা জানো। পুনরায় রাবণ-রাজ্যে তোমরা দুঃখী হতে থাকো। এ'সময় এ হলো দুঃখধাম। যদিও কত কোটিপতি, পদ্মপতি রয়েছে তবুও অবশ্যই পতিত দুনিয়া বলবে। এ হলো কাঙ্গাল দুনিয়া, দুঃখী দুনিয়া। যদিও কত বড়-বড় বাড়ি-ঘর, সুখের সমস্ত সাধন আছে, তবুও বলা হবে পতিত পুরানো দুনিয়া। বিষয় বৈতরণী নদীতে হাবু-ডুবু খেতে থাকে। এও জানে না যে, বিকারে যাওয়া পাপ। বলে - এটা ছাড়া সৃষ্টির বৃদ্ধি কিভাবে হবে? আবার আহ্বান করে - হে ঈশ্বর! হে পতিত-পাবন! এসে এই পতিত দুনিয়াকে পবিত্র করো। আত্মা বলে শরীরের দ্বারা। আত্মাই অপবিত্র হয়েছে, তাই তো ডাকে। স্বর্গে একজনও পতিত থাকে না।

বাচ্চারা, তোমরা জানো যে, সঙ্গমযুগে যারা ভাল পুরুষার্থী তারাই বোঝে যে আমরা ৮৪ জন্ম নিয়েছি পুনরায় এই আমরা লক্ষ্মী-নারায়ণের সাথীরাই সত্যযুগে রাজ্য করবো। শুধু একজনই তো ৮৪ জন্ম নেয়নি, তাই না! রাজার সঙ্গে প্রজাও তো চাই। তোমাদের ব্রাহ্মণদের মধ্যেও নম্বরের ক্রমানুসারে রয়েছে। কেউ রাজা-রানী হয়, কেউ প্রজা। বাবা বলেন - বাচ্চারা, এখনই তোমাদের দৈবী-গুণ ধারণ করতে হবে। এই চোখ ক্রিমিনাল, কাউকে যদি বিকারের দৃষ্টিতে দেখে তবে তাদের ৮৪ জন্ম হবে না। তারা নর থেকে নারায়ণ হতে পারবে না। যখন এই নয়নের উপরে বিজয়প্রাপ্ত করে নেবে তখন কর্মাতীত অবস্থা হবে। সবকিছু চোখের উপরেই নির্ভর করে, চোখই ধোঁকা দেয়। আত্মা এই জানালা (চোখ) দ্বারা দেখে, এঁনার মধ্যে ডবল আত্মা রয়েছে। বাবাও এই জানালা দিয়ে দেখছেন। আমাদের দৃষ্টিও আত্মার উপর পড়ে। বাবা আত্মাদের-কেই বোঝান। তিনি বলেন, আমিও শরীর ধারণ করেছি তবেই বলতে পারি। তোমরা জানো যে, বাবা আমাদের সুখের দুনিয়ায় নিয়ে যায়। এ হলো রাবণ-রাজ্য। তোমরা এই পতিত দুনিয়া থেকে কিনারা করে নাও। কেউ অনেক এগিয়ে গেছে, কেউ পিছনে চলে গেছে। প্রত্যেকেই বলে, পার করে দাও। এখন পারে যাবে তো সত্যযুগে। কিন্তু যদি উচ্চপদ প্রাপ্ত করতে হয় তবে পবিত্র হতে হবে। পরিশ্রম করতে হবে। মুখ্যকথা হলো বাবাকে স্মরণ করো তবেই বিকর্ম বিনাশ হবে। এটাই হলো প্রথম (প্রধান) বিষয়।তোমরা এখন জানো যে, আমরা আত্মারা হলাম অ্যাক্টর। সর্বপ্রথমে আমরা সুখধামে আসি, পরে পুনরায় দুঃখধামে আসি। এখন বাবা পুনরায় সুখধামে নিয়ে যেতে এসেছেন। তিনি বলেন, আমাকে স্মরণ করো আর পবিত্র হও। কাউকে দুঃখ দিও না। পরস্পরকে অত্যন্ত দুঃখ দিয়ে থাকে। কারোর মধ্যে কাম-বিকারের ভুত আসে, কারোর মধ্যে ক্রোধ আসে, হাতাহাতি করে। বাবা বলেন, এ হলো দুঃখপ্রদানকারী পাপাত্মা। পূণ্যাত্মা কিভাবে হবে ? এখনও পর্যন্ত পাপ করে চলেছো। এরফলে নাম বদনাম করে দেয়। সকলে কি বলবে! বলে আমাদের ভগবান পড়ান। আমরা মানুষ থেকে দেবতা, বিশ্বের মালিক হয়ে যাই। তারা এমন কার্য করে কী? তাই বাবা বলেন, রোজ রাতে নিজেকে দেখো। যদি সুপুত্র হও তবে চার্ট পাঠাও। যদি কেউ চার্ট পাঠায়ও কিন্তু সাথে লেখে না যে আমরা কাউকে দুঃখ দিয়েছি বা এই ভুল করেছি। স্মরণ করতে থাকে আর উল্টো কার্যও করে, সেও ঠিক নয়। উল্টাপাল্টা কর্ম তখনই করে যখন দেহ-অভিমানী হয়ে পড়ে।

এই চক্র কিভাবে আবর্তিত হয় - এ অত্যন্ত সহজ বিষয়। একদিনেই টিচার হতে পারো। বাবা তোমাদের ৮৪-র রহস্য বোঝান, শিক্ষা দেন। পুনরায় এর উপর মনন করতে হবে। আমরা ৮৪ জন্ম কিভাবে নিয়েছি ? যিনি শেখান সেই টীচারের থেকে ভালভাবে দৈবী-গুণ ধারণ করে নিই। বাবা প্রমাণ সহকারে বলতে পারেন। দেখায় যে - বাবা আমাদের চার্ট দেখো। আমরা কাউকে সামান্যতম দুঃখও দিইনি। বাবা বলবে, এই বাচ্চা অতি মিষ্টি। ভাল সুগন্ধ নির্গত হচ্ছে। টীচার হওয়া সেকেন্ডের কাজ। স্মরণের যাত্রায় স্টুডেন্ট টিচারের থেকেও তীব্রগতিতে এগিয়ে যেতে পারে। তাহলে টিচারের থেকেও উচ্চপদ লাভ করবে। বাবা জিজ্ঞাসা করেন - কাকে শিক্ষা দাও? প্রত্যহ শিবের মন্দিরে গিয়ে শিক্ষা প্রদান করো। শিববাবা কিভাবে এসে স্বর্গ স্থাপন করেন? স্বর্গের মালিকে পরিনত করেন। বোঝানো অতি সহজ। বাবাকে চার্ট পাঠিয়ে দেয় - বাবা আমার স্থিতি এইরকম। বাবা জিজ্ঞাসা করেন - বাচ্চা! কোনো বিকর্ম করো না তো? ক্রিমিনাল আই (কুদৃষ্টি) কোনো উল্টোপাল্টা কার্য করায় না তো? নিজেদের ম্যানার্স, চরিত্র দেখতে হবে। চোখই চাল-চলনের সম্পূর্ণ আধার। চোখ অনেকভাবে ধোঁকা দেয়। জিজ্ঞাসা না করে সামান্য কোন জিনিস তুলে খেলে সেটাও পাপকর্ম হয়ে যায় কারণ আজ্ঞা ছাড়া নিয়েছো, তাই না! এখানে নিয়ম অনেক। শিববাবার যজ্ঞ, তাই না! ইনচার্জকে জিজ্ঞাসা না করে কোন জিনিস খেতে পারো না। একজন খেলে অন্যরাও তেমন করতে থাকবে। বাস্তবতঃ এখানে কোনো জিনিস তালাবন্ধ করে রাখার প্রয়োজন নেই। নিয়ম রয়েছে যে, এই ঘরের ভিতরে, রান্নাঘরের সম্মুখে কোনো অপবিত্রের আসা উচিত নয়। বাইরে তো অপবিত্র-পবিত্রের কোনো কথাই নেই। কিন্তু নিজেকে পতিত তো বলে, তাই না! এখানে সকলেই অপবিত্র। কেউ বল্লভাচারীকে বা শঙ্করাচার্যকে ছুঁতে পারে না কারণ তারা মনে করে আমরা পবিত্র, এরা পতিত। যদিও এখানে সকলের শরীরই অপবিত্র তবুও পুরুষার্থ অনুসারে বিকার থেকে সন্ন্যাস নেয়। তাই নির্বিকারীর সম্মুখে বিকারী মানুষ মাথা নত করে। তারা বলে, ইনি অতি ধর্মাত্মা-প্রকৃতির মানুষ। সত্যযুগে তো কেউ ম্লেচ্ছ(শূদ্র) হয় না। ওটা হলো পবিত্র দুনিয়া। ক্যাটাগরি একটাই। তোমরা সমগ্র এই রহস্যকে জানো। শুরু থেকে নিয়ে আদি-মধ্য-অন্তের রহস্যকে বুদ্ধিতে রাখা উচিত। আমরা সবকিছুই জানি। বাকি আর কিছু জানার থাকেই না। রচয়িতাকে জানা, সূক্ষ্মলোককে জানা, ভবিষ্যতের পদপ্রাপ্তিকে জানা যারজন্য তোমরা পুরুষার্থ করো পুনরায় যদি চাল-চলন এমন হয় তাহলে উচ্চপদ লাভ করতে পারবে না। কাউকে দুঃখ দেয়, বিকারে যায় অথবা কুদৃষ্টি নিক্ষেপ করে তাহলে এও হলো পাপ। দৃষ্টি পরিবর্তন করা অতি পরিশ্রমের। দৃষ্টি অতি সুন্দর হওয়া উচিত। চোখযুগলই দেখে যে - এরা ক্রোধ করছে তখন নিজেও লড়তে শুরু করে। শিববাবার প্রতি সামান্যতম ভালবাসাও নেই, স্মরণও করে না। বলিহারী শিববাবার। বলিহারী গুরু তোমার... বলিহারী সেই সদ্গুরুর যিনি গোবিন্দ শ্রীকৃষ্ণের সাক্ষাৎকার করিয়েছেন। গুরুর দ্বারাই তুমি গোবিন্দ হও। সাক্ষাৎকারে শুধু মুখ মিষ্টি হয় না। মীরার মুখ মিষ্টি হয়েছিল কী? সে তো আর সত্যিই স্বর্গে যায়নি? সেটা হলো ভক্তিমার্গ, ওটাকে স্বর্গের সুখ বলা যাবে না। গোবিন্দকে কেবল দেখলেই হবে না, এমন হতে হবে। তোমরা এখানে এসেছোই এরকম হতে। এই নেশা থাকা উচিত যে, আমরা ওনার কাছে যাই যিনি আমাদের এরকমভাবে তৈরী করেন। তাই বাবা সকলকে এই রায় দেন যে চার্টে এও লেখো -- চোখ ধোঁকা দেয় নি তো? কোনো পাপ হয়ে যায় নি তো? চোখ কোনো না কোনো বিষয়ে অবশ্যই ধোঁকা দেয়। চোখ সম্পূর্ণ শীতল হয়ে যাওয়া উচিত। নিজেকে অশরীরী মনে করো। এমন কর্মাতীত অবস্থা ভবিষ্যতে হবে, সেও তখন, যখন বাবাকে নিজের চার্ট পাঠিয়ে দেবে। অবশ্যই ধর্মরাজের রেজিস্টারে সব অটোমেটিক্যালী জমা হয়ে যায়। কিন্তু যেহেতু বাবা সাকারে (দেহে) এসেছেন তাই বলেন - সাকারীর (ব্রহ্মা) জানা উচিত। তবে তিনি তোমাদেরকে সতর্ক করতে পারবেন। ক্রিমিনাল আই বা দেহ-অভিমান যার থাকবে বায়ুমন্ডল অশুদ্ধ করে দেবে। এখানে বসেও বুদ্ধিযোগ বাইরে চলে যায়। মায়া অত্যন্ত ধোঁকা দেয়। মনে অতি অশান্ত। কত পরিশ্রম করতে হয় - এমন হওয়ার জন্য। বাবার কাছে আসে, বাবা আত্মাদের জ্ঞান-শৃঙ্গার করান। তোমরা জানো যে, আমরা আত্মারা জ্ঞানের দ্বারা পবিত্র হবো। তখন শরীরও পবিত্র পাবো। আত্মা এবং শরীর দুই-ই পবিত্র হয় সত্যযুগে। পুনরায় আধাকল্প রাবণ-রাজ্য হয়। মানুষ বলবে, ভগবান এইরকম কেন করেছে? এই অনাদি ড্রামা পূর্ব-নির্ধারিত। ভগবান কিছু করেছেন কি, না করেননি। সত্যযুগে হয়ই এক দেবী-দেবতা ধর্ম। কেউ-কেউ বলে এমন ভগবানকে আমরা কেনই বা স্মরণ করবো? কিন্তু তোমাদের অন্য ধর্মের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নেই। যারা কাঁটা তারাই এসে ফুল হবে। মানুষ বলে, ভগবান এসে কি কেবল ভারতবাসীদেরই স্বর্গে নিয়ে যাবে! আমরা মানবো না, ভগবানেরও দু'চোখ আছে কি? কিন্তু এই ড্রামাও নির্ধারিত। সকলেই যদি স্বর্গে আসে তবে অনেক ধর্মের পার্ট কিভাবে প্লে হবে? স্বর্গে এত কোটি হয় না। সর্বপ্রথম মুখ্যকথা হলো ভগবান কে? তাঁকে জানো। সেটাই যদি না বোঝো তবে অনেকরকমের প্রশ্ন করতেই থাকবে। নিজেকে আত্মা মনে করলে তখন বলবে যে, একথা তো সঠিক। আমাদের পতিত থেকে পবিত্র হতে হবে। স্মরণ করতে হবে সেই একজনকেই। সর্ব ধর্মেই ঈশ্বরকে স্মরণ করে। বাচ্চারা, তোমরা এখন এ'জ্ঞান প্রাপ্ত করছো। তোমরা জানো যে, এই সৃষ্টি-চক্র কীভাবে আবর্তিত হয়। প্রদর্শনীতেও তোমরা কত বোঝাও। কিন্তু বেরোয় অতি অল্পসংখ্যকই। কিন্তু তখন কি বলবে যে সে'জন্য করা উচিত নয়, না এভাবে বলবে না। ড্রামায় ছিল, করেছি, কোথাও প্রদর্শনী থেকে বেরোয় আবার কোথাও বেরোয়ও না। ভবিষ্যতে আসবে, উচ্চপদ প্রাপ্তির জন্য পুরুষার্থ করবে। কেউ যদি পদপ্রাপ্তি কম করতে চায় তবে এত পুরুষার্থ করবে না। তথাপি বাবা বাচ্চাদের বোঝান যে, কোনো বিকর্ম কোরো না। এও নোট করো যে, আমরা কাউকে দুঃখ দিইনি তো? কারোর সঙ্গে লড়াই-ঝগড়া নেই তো? উল্টাপাল্টা কিছু বলো না তো? কোনো কর্তব্যহীন কার্য করো না তো? বাবা বলেন, যে যে বিকর্ম করেছো তা লেখো। এ তো জানো যে, দ্বাপর থেকে বিকর্ম করতে-করতে এখন অতি বিকর্মকারী হয়ে গেছো। বাবাকে লিখে দিলে বোঝা হাল্কা হয়ে যাবে। লেখে যে, আমরা কাউকে দুঃখ দিইনা। বাবা বলবেন, আচ্ছা! চার্ট নিয়ে এসো দেখবো। বাবা ডাকেনও এমন করে - আমার সুসন্তানদের আমি একটু দেখি তো? সুপুত্রদের বাবা অত্যন্ত ভালোবাসে। বাবা জানেন যে, এখনও কেউ সম্পূর্ণ হয়নি। বাবা প্রত্যেককে দেখেন যে, কিভাবে পুরুষার্থ করছে। বাচ্চারা যখন চার্ট লেখে না তাহলে অবশ্যই কিছু ঘাটতি রয়েছে যা বাবার কাছে লুকোয়। সত্যিকারের অনেস্ট বাচ্চা তাকেই মনে করি, যারা চার্ট লেখে। চার্টের সঙ্গে ম্যানার্সও থাকা উচিত। আচ্ছা।

মিষ্টি-মিষ্টি হারানিধি বাচ্চাদের প্রতি মাতা-পিতা বাপদাদার স্মরণের স্নেহ-সুমন আর সুপ্রভাত। আত্মাদের পিতা তাঁর আত্মা-রূপী বাচ্চাদেরকে জানাচ্ছেন নমস্কার।

ধারণার জন্যে মুখ্য সারঃ-

১ ) নিজের বোঝা হাল্কা করার জন্য যাকিছু বিকর্ম হয়েছে তা বাবার কাছে লিখে দিতে হবে। এখন কাউকে আর দুঃখ দেবে না। সুপুত্র হয়ে থাকতে হবে।

২ ) নিজের দৃষ্টিকে অত্যন্ত ভালো বানাতে হবে। চোখ যেন ধোঁকা না দেয় - সেবিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। নিজের ম্যানার্স অত্যন্ত ভালো রাখতে হবে। কাম-ক্রোধের বশবর্তী হয়ে কোনো পাপ করা উচিত নয়।

বরদানঃ-লক্ষ্য আর গন্তব্যকে সদা স্মৃতিতে রেখে তীব্র পুরুষার্থ করে সদা হোলী আর হ্যাপ্পি ভব

ব্রাহ্মণ জীবনের লক্ষ্য হল পার্থিব জগতের কোনও আধার ছাড়া সদা আন্তরিক খুশীতে থাকা। যখন এই লক্ষ্য পরিবর্তন করে পার্থিব জগতের ছোটো ছোটো গলিতে ফেঁসে যাও তখন গন্তব্য অনেক দূর হয়ে যায়। এইজন্য যাকিছু হয়ে যাক, যদি পার্থিব জগতের প্রাপ্তিগুলিকে ত্যাগও করতে হয় তো তাদেরকে ছেড়ে দাও কিন্তু অবিনাশী খুশীকে কখনও ত্যাগ কোরোনা। হোলী আর হ্যাপ্পী ভব-র বরদানকে স্মৃতিতে রেখে তীব্র পুরুষার্থ দ্বারা অবিনাশী প্রাপ্তি করো।

স্লোগানঃ-গুণমূর্তি হয়ে গুণের দান করতে থাকো - এটাই হলো সবথেকে বড় সেবা।

 অব্যক্ত ঈশারা :- সহজযোগী হতে হলে পরমাত্ম প্রেমের অনুভবী হও

মাস্টার নলেজফুল, মাস্টার সর্বশক্তিমানের স্টেজের উপর স্থিত থেকে ভিন্ন ভিন্ন প্রকারের কিউ (লাইন) থেকে বেরিয়ে, বাবার সাথে সদা মিলন মানানোর লগনে নিজের সময়কে ব্যয় করো আর লভলীন স্থিতিতে থাকো তাহলে অন্যান্য সব কথা সহজেই সমাপ্ত হয়ে যাবে, তারপর তোমাদের সামনে তোমাদের প্রজা আর ভক্তদের ক্যু (লাইন) লাগবে।

13.08.2025

""মিষ্টি বাচ্চারা অকাল মূর্তি বাবার চলাফেরা-বলার আসন হলো এটি (ব্রহ্মা) তিনি যখন ব্রহ্মার মধ্যে আসেন, তখন তোমাদের মতো ব্রাহ্মণদের রচনা করেন"

প্রশ্নঃ -বুদ্ধিমান বাচ্চারা কোন্ রহস্যকে বুঝে অন্যদেরও ঠিক মতো করে বোঝাতে পারে?

উত্তরঃ - ব্রহ্মা কে? আর তিনি ব্রহ্মা তথা বিষ্ণু কিভাবে হন। প্রজাপিতা ব্রহ্মা এখানে আছেন, তিনি কোনো দেবতা নন। ব্রহ্মাই ব্রাহ্মণদের দ্বারা জ্ঞান যজ্ঞ রচনা করেছেন। এই সমস্ত রহস্য বুদ্ধিমান বাচ্চারাই বুঝে অন্যদেরও বোঝাতে পারে। ঘোড়সওয়ার আর পেয়াদা তো এতে দ্বিধাগ্রস্ত হয়ে যাবে।

গীতঃ-ওম্ নমঃ শিবায়.

ওম্ শান্তি । ভক্তিতেও সেই এক-এর মহিমা করা হয় । মহিমা তো গাওয়া হয়, তাই না, কিন্তু না তাঁকে জানে, না তাঁর যথার্থ পরিচয় জানে । যদি যথার্থ মহিমা জানতো তাহলে অবশ্যই বর্ণনা করতো । বাচ্চারা, তোমরা জানো যে, উঁচুর থেকেও উঁচু হলেন ভগবান । মুখ্য চিত্র হলো তাঁরই । ব্রহ্মার সন্তান তো থাকবে, তাই না । তোমরা সবাই হলে ব্রাহ্মণ । ব্রহ্মাকেও ব্রাহ্মণরাই জানবে, আর কেউই জানে না, তাই দ্বিধাগ্রস্ত হয়ে যায় । ইনি কিভাবে ব্রহ্মা হতে পারে । ব্রহ্মাকে তো সূক্ষ্ম বতনবাসী দেখানো হয়েছে । এখন প্রজাপিতা তো সূক্ষ্ম বতনে থাকতে পারেন না । ওখানে তো কোনো রচনা হয় না । এই নিয়ে তোমাদের সঙ্গে অনেক বাদ - বিবাদও করে । ওদের বোঝা উচিত যে - ব্রহ্মা আর ব্রাহ্মণ আছে, তাই সঠিক, তাই না । খ্রাইস্ট থেকে যেমন খ্রীস্টান শব্দটি এসেছে। বুদ্ধ থেকে বৌদ্ধ আবার ইব্রাহিম থেকে ইসলাম । তেমনই প্রজাপিতা ব্রহ্মার থেকে ব্রাহ্মণরা হলো প্রসিদ্ধ । আদি দেব হলেন ব্রহ্মা । বাস্তবে ব্রহ্মাকে দেবতা বলতে পারো না । এও ভুল । যারা নিজেদের ব্রাহ্মণ বলে পরিচয় দেয়, তাদের জিজ্ঞাসা করা উচিত যে, ব্রহ্মা কোথা থেকে এলেন? তিনি কার রচনা ? ব্রহ্মাকে কে ক্রিয়েট করেছে? একথা কেউই বলতে পারবে না, জানেই না । এও তোমরাই জানো যে - শিববাবার যে রথ, যাতে তিনি প্রবেশ করেন । ইনি হলেনই সেই আত্মা, যিনি কৃষ্ণ প্রিন্স হয়েছিলেন । ৮৪ জন্মের পরে ইনিই আবার ব্রহ্মা হন । জন্মপত্রীর নাম তো এনার আলাদাই হবে, কেননা ইনি তো মনুষ্য, তাই না । তারপর এনার মধ্যে যখন বাবা প্রবেশ করেন, তখন ব্রহ্মা নাম রেখে দেন । এও বাচ্চারা জানে যে - ওই ব্রহ্মাই হলো বিষ্ণুর রূপ । নারায়ণ তো তৈরী হন, তাই না । ৮৪ জন্মের অন্তিমে তো সাধারণ রথ হবেন, তাই না । এটা (শরীর) হলো সব আত্মাদেরই রথ । অকাল মূর্তির চলন্ত আসন, এখানে বসেই তিনি বলেন । শিখরা আবার একে আসন (তখ্ত ) বানিয়ে দিয়েছে । একে অকালতখ্ত বলা হয় । এ তো সবই অকালতখ্ত । আত্মারা সব অকালমূর্ত । উঁচুর থেকেও উঁচু ভগবানের এই রথ তো চাই, তাই না । এই রথে প্রবেশ করে তিনি এই জ্ঞান দেন । তাঁকেই নলেজফুল বলা হয় । তিনি রচনার আদি, মধ্য এবং অন্তের জ্ঞান দেন । নলেজফুলের অর্থ কোনো অন্তর্যামী বা 'জানি জাননহার' নয় । সর্বব্যাপীর অর্থ আলাদা, 'জানি জানানহারের' অর্থ আলাদা । মানুষ তো সবকিছু মিলিয়ে যা মনে হয় তাই বলে দেয় । বাচ্চারা, এখন তোমরা জানো যে, আমরা সব ব্রাহ্মণরাই ব্রহ্মার সন্তান । আমাদের কুল সবথেকে উচ্চ । ওরা তো দেবতাদের উচ্চ রাখে, কেননা সত্যযুগ আদিতে দেবতারা ছিলেন । প্রজাপিতা ব্রহ্মার সন্তান ব্রাহ্মণ হয় - একথা বাচ্চারা, তোমরা ছাড়া আর কেউই জানে না । তারা কিভাবে জানবে? যেখানে তারা ধরে নেয় যে ব্রহ্মা সূক্ষ্ম বতনে থাকে । সেইসব জাগতিক ব্রাহ্মণ হলো আলাদা, যারা পূজাপাঠ করে, শ্রাদ্ধভোজের নিমন্ত্রণ খায় । তোমরা তো আর ভোজের নিমন্ত্রণ ইত্যাদি খাও না । ব্রহ্মার রহস্য এখন খুব ভালোভাবে বোঝাতে হয় । তোমরা বলো যে, অন্য সব বিষয় ত্যাগ করে, বাবা, যার দ্বারা পতিত থেকে পবিত্র হতে হবে, প্রথমে তো তাঁকে স্মরণ করো । তারপর এইসব বিষয়ও বুঝে যাবে । অল্প একটুতেই সংশয় এলেই তখন বাবাকে ছেড়ে দেয় । প্রথম মুখ্য কথা হলো অল্ফ (আল্লাহ) আর বে (বাদশাহী )। বাবা বলেন মামেকম্ স্মরণ করো । আমি তো অবশ্যই কারোর মধ্যে আসবো, তাই না । তাঁর নামও তো থাকা উচিত । আমি এসে তাঁকে রচনা করি । ব্রহ্মার বিষয়ে বোঝানোর জন্য তোমাদের অনেক বুদ্ধির প্রয়োজন । পেয়াদা, ঘোড়সওয়ার তো দ্বিধাগ্রস্ত হয়ে যায় । অবস্থা অনুসারে তো বোঝানো হয়, তাই না । প্রজাপিতা ব্রহ্মা তো এখানেই আছে । ব্রাহ্মণের দ্বারা জ্ঞান যজ্ঞের রচনা করেন, তাই ব্রাহ্মণ তো অবশ্যই চাই, তাই না । প্রজাপিতা ব্রহ্মাও তো এখানেই প্রয়োজন, যার দ্বারা ব্রাহ্মণ তৈরী হতে পারে । ব্রাহ্মণরা তো বলে যে, আমরা ব্রহ্মার সন্তান । তারা মনে করে, আমাদের কুল পরম্পরা ধরে চলে আসছে, কিন্তু ব্রহ্মা কবে ছিলো, তা কেউই জানে না । এখন তোমরা হলে ব্রাহ্মণ । ব্রাহ্মণ তারাই, যারা ব্রহ্মার সন্তান । ওরা তো বাবার অক্যুপেশনকেই জানে না । ভারতে প্রথমে ব্রাহ্মণরাই থাকে । ব্রাহ্মণদের হলো উচ্চ থেকেও উচ্চ কুল । জাগতিক ব্রাহ্মণরাও মনে করে যে, আমাদের কুল অবশ্যই ব্রহ্মার থেকেই এসেছে, কিন্তু তা কিভাবে এবং কখন.... তা বর্ণনা করতে পারে না । তোমরা জানো যে, প্রজাপিতা ব্রহ্মাই ব্রাহ্মণদের রচনা করেন । যেই ব্রাহ্মণদেরই পুনরায় দেবতা হতে হবে । বাবা এসেই ব্রাহ্মণদের পড়ান । ব্রাহ্মণদের ডিনায়েস্টি (রাজত্ব কাল) নেই । ব্রাহ্মণদের হলো কুল, ডিনায়েস্টি তখনই বলা হবে, যখন রাজা - রানী হবে, যেমন সূর্যবংশী ডিনায়েস্টি । তোমাদের অর্থাৎ ব্রাহ্মণদের মধ্যে তো আর রাজা হয় না । ওরা যে বলে থাকে, কৌরব আর পাণ্ডবদের রাজ্য ছিলো, দুইই হলো রং । এই দুইয়েরই তো কোনো রাজত্ব থাকে না । প্রজার প্রজার উপরে রাজত্ব, তাদের রাজধানী বলা হবে না । মুকুট তো নেই । বাবা বুঝিয়েছেন যে - প্রথমে ডবল মুকুট ভারতেই ছিলো, তারপর সিঙ্গেল মুকুট । এই সময় তো কোনো মুকুটই নেই । এও খুব ভালোভাবে প্রমাণ দিয়ে বলতে হবে, যারা সম্পূর্ণ সুন্দর ধারণার হবে, তারা খুব ভালোভাবে বোঝাতে পারবে । ব্রহ্মার সম্বন্ধেই খুব বেশী করে বোঝাতে হয় । বিষ্ণুকেও কেউ জানে না । এও বোঝাতে হয় । বৈকুণ্ঠকে বিষ্ণুপুরী বলা হয়, অর্থাৎ সেখানে লক্ষ্মী - নারায়ণের রাজ্য ছিলো । কৃষ্ণ প্রিন্স হলে তো বলবে, তাই না যে - আমার বাবা রাজা ছিল । এমন নয় যে, কৃষ্ণের বাবা রাজা ছিলেন না । কৃষ্ণকে প্রিন্স বলা হয়, তাহলে অবশ্যই তাঁর রাজ পরিবারে জন্ম হয়েছিলো । বিত্তবানের ঘরে জন্ম হলে তাঁকে তো প্রিন্স বলবেই না । রাজার পদ আর বিত্তবানের পদের মধ্যে রাত - দিনের তফাৎ হয়ে যায় । কৃষ্ণের বাবা যে রাজা, তার অত নাম নেই । কৃষ্ণের কতো নাম । বাবার উচ্চ পদ বলা হবে না । সেই পদ হলো সেকেণ্ড ক্লাসের পদ, যিনি কৃষ্ণকে জন্ম দেওয়ার নিমিত্ত হন । এমন নয় যে কৃষ্ণের আত্মার থেকেও তিনি বেশী পড়েছেন । তা নয় । কৃষ্ণই আবার নারায়ণ হন । বাকি বাবার নাম লুপ্ত হয়ে যায় । তিনিও অবশ্যই ব্রাহ্মণ কিন্তু পড়াতে কৃষ্ণের থেকে কম । কৃষ্ণের আত্মা তাঁর বাবার থেকে উচ্চ পড়া পড়েছিলেন, তাই তো তাঁর নামের এতো মহিমা হয় । কৃষ্ণের বাবা কে ছিলেন - একথা কেউই জানে না । এরপরে জানতে পারবে । এখান থেকেই তো তাঁকে তৈরী হতে হবে । রাধারও তো মা - বাবা থাকবেন, তাই না, কিন্তু তাঁদের থেকে রাধার নামের মহিমা বেশী। কারণ মা - বাবা কম পড়েছিলেন । রাধার নাম তাদের থেকে উচ্চ হয়ে যায় । এ'সব হলো বাচ্চাদের বোঝানোর জন্য ডিটেইল বিষয় । সমস্তকিছুই এই পড়ার উপরে নির্ভর করে । ব্রহ্মার সম্বন্ধেও বোঝানোর মতো বুদ্ধি চাই । তিনিই হলেন কৃষ্ণ, যাঁর আত্মা ৮৪ জন্ম ভোগ করে । তোমরাও ৮৪ জন্মগ্রহণ করো । সবাই তো আর একসঙ্গে আসবে না । যারা এই পড়ায় প্রথমের দিকে থাকে, তারাই প্রথমে আসবে । নম্বরের ক্রমানুসারে তো আসে, তাই না । এ অতি সূক্ষ্ম কথা । কম বুদ্ধির যারা, তারা তো ধারণা করতেই পারে না । নম্বরের ক্রমানুসারে তারা যায় । তোমরা নম্বরের ক্রমানুসারে ট্রান্সফার হয়ে যাও । যারা পরের দিকে যাবে, তাদের কতো বড় ক্যু (লাইন) । নম্বরের ক্রম অনুযায়ী সবাই নিজের নিজের স্থানে গিয়ে নিবাস করবে । সকলের স্থানই নিদিষ্ট আছে । এ অনেক বড়ই ওয়ান্ডারফুল খেলা, কিন্তু তা কেউই বোঝে না । একে বলা হয় কাঁটার জঙ্গল । এখানে সবাই একে অপরকে দুঃখ দিতেই থাকে । ওখানে তো স্বাভাবিক ভাবেই সুখ থাকে । এখানে তো নকল সুখ । প্রকৃত সুখ এক বাবাই দেন । এখানে হলো কাক বিষ্ঠার সমান সুখ । এখানে দিনে দিনে মানুষ তমোপ্রধান হয়ে যায় । এখানে কতো দুঃখ । বলতে থাকে - বাবা, মায়ার তুফান অনেক আসে । মায়া বিদ্ধস্ত করে দেয়, অনেক দুঃখের অনুভব হয় । সুখদাতা বাবার বাচ্চা হয়েও যদি দুঃখের অনুভব হয়, তখন বাবা বলেন - বাচ্চারা, এ তোমাদের অনেক বড় কর্মের ভোগ । বাবাকে যখন পেয়েছো তখন দুঃখের ফিলিং আসা উচিত নয় । যে পুরানো কর্মভোগ আছে, তা যোগবলের দ্বারা শোধ করো । যদি যোগবল না থাকে তাহলে আছাড় খেয়ে শোধ করতে হবে । সাজা খেয়ে পদ পাওয়া তো ভালো কথা নয় । তোমাদের পুরুষার্থ করা উচিত না হলে বিচার সভা বসবে । প্রজা তো অনেকই হবে । এ তো ড্রামা অনুসারে সকলে গর্ভজেলে অনেক সাজা ভোগ করে । আত্মারা অনেক বিভ্রান্ত হতে থাকে । কোনো - কোনো আত্মা অনেক ক্ষতি করে -- যখন কারোর মধ্যে অশুদ্ধ আত্মার প্রবেশ হয়, তখন কতো হয়রান হয় । নতুন দুনিয়াতে এমন কথা হয় না । এখন তোমরা নতুন দুনিয়াতে যাওয়ার জন্য পুরুষার্থ করো । ওখানে গিয়ে তোমাদের নতুন নতুন মহল বানাতে হবে । তোমরা রাজার ঘরে জন্মগ্রহণ করো, যেমন কৃষ্ণ রাজার ঘরে জন্মগ্রহণ করে, কিন্তু এতো মহল ইত্যাদি প্রথম থেকে থাকেই না । ও তো পরে বানাতে হয় । কে রচনা করে - যার কাছে জন্ম নেয় । এমন গায়নও আছে যে - রাজার ঘরে জন্ম হয় । কি হবে, তা তো পরের দিকে দেখতে হবে । এখন তো বাবা বলবেনই না । সে তো তাহলে নকল নাটক হয়ে যাবে, তাই তিনি কিছুই বলেন না । ড্রামাতে এই বলে দেওয়ার কথা লিপিবদ্ধ নেই । বাবা বলেন যে, আমিও পার্টধারী । ভবিষ্যতের কথা যদি পূর্ব থেকেই জানতাম, তাহলে অনেক কিছুই বলে দিতাম । বাবা অন্তর্যামী হলে প্রথম থেকেই বলে দিতেন । বাবা বলেন - এই ড্রামাতে যা কিছু হয়, তা সাক্ষী হয়ে দেখতে থাকো, আর এর সঙ্গে সঙ্গে স্মরণের যাত্রায় মস্ত থাকো । এতেই ফেল করে যায় । জ্ঞান কখনোই কমবেশী হয় না । এই স্মরণের যাত্রাই কখনো কম, কখনো আবার বেশী হয় । জ্ঞান তো যা পেয়েছো, তাই আছে । এই স্মরণের যাত্রায় কখনো উৎসাহ থাকে, কখনো আবার ঢিলেমি এসে যায় । যাত্রা নীচ - উপর হতে থাকে । জ্ঞানে তো তোমরা সিঁড়িতে চড়ে যাও না । জ্ঞানের যাত্রা বলা হয় না । যাত্রা হলো স্মরণের । বাবা বলেন যে, স্মরণে থাকলে তোমরা সেফটি থাকবে । দেহ অভিমানে আসলে তোমরা ধোকা খেয়ে যাও । বিকর্ম করে দাও । কাম হলো মহাশত্রু । এতে ফেল হয়ে যায় । ক্রোধ আদি সম্বন্ধে বাবা এতো কথা বলেন না । জ্ঞানে তো হলো এক সেকেণ্ডে জীবনমুক্তি, না হলে বলে যে, সাগরকে কালি বানাও তাও এই জ্ঞান সম্পূর্ণ করা যাবে না । না হলে বলে, কেবল অল্ফকে স্মরণ করো । স্মরণ করা কাকে বলা হয়, এ তো জানেই না । কেবল বলতে থাকে, কলিযুগ থেকে আমাদের সত্যযুগে নিয়ে চলো । পুরানো দুনিয়াতে কেবল দুঃখ আছে । তোমরা দেখো যে বর্ষাকালে কতো বাড়ী ভেঙ্গে পড়ে যায়, কতো বাড়ী ডুবে যায় । বর্ষা ইত্যাদি এইসব প্রাকৃতিক বিপর্যয়ও হবে । এইসব হঠাৎই হতে থাকবে । মানুষ এখন কুম্ভকর্ণের নিদ্রায় নিদ্রিত আছে । বিনাশের সময় এলে তখন আর কি করতে পারবে । তখন সব মারা যাবে । এই ধরিত্রীও খুব জোরে দুলতে থাকবে । ঝড়, বর্ষা ইত্যাদি সব হয় । বম্বও ফেলে, কিন্তু এখানে অতিরিক্ত হলো সিভিলওয়ার....রক্তের নদী বইবে এমন বলা আছে । এখানে মহামারী হয় । একে অপরের উপর কেস করতে থাকে । তাই অবশ্যই এরা লড়াই করবে । এখানে সবাই গরীব, তোমরা হলে ধনীর ( বাবার ) । তোমাদের কোনো লড়াই আদি করতে হবে না । ব্রাহ্মণ হওয়াতে তোমরা ধনীর (বাবার ) হয়ে গেছো । ধনী বাবাকে বা পতিকে বলা হয় । শিববাবা তো হলেন পতির পতি । বিয়ের আশীর্বাদ হয়ে গেলে তখন বলে, আমরা এমন পতির সঙ্গে কবে মিলিত হবো? আত্মারা বলে - শিববাবা, আমাদের তো তোমার সঙ্গে বিয়ের আশীর্বাদ হয়ে গেছে । এখন আমরা তোমার সঙ্গে কিভাবে মিলিত হবো? কেউ কেউ তো সত্যি কথা লেখে, আবার কেউ কেউ অনেক কথা লুকিয়ে রাখে । সত্যি কথা লেখে না যে, বাবা আমাদের দ্বারা এই ভুল হয়ে গেছে । ক্ষমা করো । কেউ যদি বিকারে পড়ে যায়, তাহলে তার বুদ্ধিতে ধারণা হতে পারবে না । বাবা বলেন যে, তোমরা যদি এমন কড়া ভুল করো তাহলে চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে যাবে । আমি তোমাদের সুন্দর (পবিত্র) বানাতে এসেছি, তাহলে তোমরা কিভাবে মুখ কালো করো? তাহলে তো তোমরা তখন স্বর্গে এলেও পাই - পয়সার পদ পাবে । এখন তো রাজধানী স্থাপন হচ্ছে, তাই না । কেউ কেউ তো হেরে গিয়ে জন্ম - জন্মান্তরের জন্য পদভ্রষ্ট হয়ে যায় । তখন বাবা বলবেন, তোমরা বাবার কাছে এই পদ প্রাপ্ত করতে এসেছো, বাবা এতো উচ্চ হয়েছেন, তাহলে আমরা বাচ্চারা প্রজা হবোই না । বাবা সিংহাসনে বসবেন, আর বাচ্চারা দাস - দাসী হবে, এ কতো লজ্জার কথা । পরের দিকে তোমাদের সব সাক্ষাৎকার হবে । তখন অনেক অনুতাপ করবে । নাটক এমনই বানানো আছে, সন্ন্যাসীরাও যখন ব্রাহ্মচর্যতে থাকে তখন সমস্ত বিকারী মানুষ তাঁদের সামনে মাথা নত করে । পবিত্রতার অনেক মান । কারোর যদি ভাগ্যে না থাকে তাহলে বাবা পড়ালেও বারে বারে গাফিলতি বা ভুল করে ফেলে । বাবাকে স্মরণই করে না । অনেক বিকর্ম তৈরী হয়ে যায় ।

বাচ্চারা, তোমাদের উপর এখন বৃহস্পতির দশা । এর থেকে উঁচু দশা আর কিছুই হয় না । বাচ্চারা, তোমাদের উপরে এই দশা চক্র ঘুরপাক খেতে থাকে । আচ্ছা ।

মিষ্টি - মিষ্টি হারানিধি বাচ্চাদের প্রতি মাতা - পিতা, বাপদাদার স্মরণের স্নেহ-সুমন আর সুপ্রভাত । আত্মাদের পিতা তাঁর আত্মারূপী বাচ্চাদেরকে জানাচ্ছেন নমস্কার ।

ধারণার জন্যে মুখ্য সারঃ-১ ) এই ড্রামার প্রতিটি সীন সাক্ষী হয়ে দেখতে হবে, এক বাবার স্মরণে মজে থাকতে হবে । স্মরণের যাত্রায় কখনো যেন উৎসাহ কম না হয় ।

২ ) পড়াশোনাতে কখনো গাফিলতি ক'রো না, নিজের উচ্চ ভাগ্য বানানোর জন্য অবশ্যই পবিত্র হতে হবে । হেরে গিয়ে জন্ম - জন্মান্তরের জন্য পদভ্রষ্ট হয়ো না ।

বরদানঃ-সত্যিকারের সেবার দ্বারা অবিনাশী, অলৌকিক খুশীর সাগরে ভাসতে থাকা ভাগ্যবান আত্মা ভব

যে বাচ্চারা সেবা করে বাপদাদা আর নিমিত্ত বড়দের স্নেহের আশীর্বাদ প্রাপ্ত করে তারা অন্তর থেকে অলৌকিক, আত্মিক খুশী অনুভব করে। তারা সেবার দ্বারা আন্তরিক খুশী, আত্মিক আনন্দ, অসীম প্রাপ্তির অনুভব করে সদা খুশীর সাগরে ভাসতে থাকে। সত্যিকারের সেবা সকলের স্নেহ, সকলের দ্বারা অবিনাশী সম্মান আর খুশীর আশীর্বাদ প্রাপ্ত হওয়ার সৌভাগ্যের, শ্রেষ্ঠ ভাগ্যের অনুভব করায়। যারা সদা খুশীতে থাকে তারাই হল ভাগ্যবান।

স্লোগানঃ-সদা হাসিখুশী বা আকর্ষণমুর্তি হওয়ার জন্য সন্তুষ্টমণী হও।

 অব্যক্ত ঈশারা :- সহজযোগী হতে হলে পরমাত্ম প্রেমের অনুভবী হও

কর্মে, বাণীতে, সম্পর্ক বা সম্বন্ধে লভ্ আর স্মৃতি বা স্থিতিতে লভলীন থাকতে হবে, যে যত লাভলী হবে, সে ততই লবলীন থাকতে পারবে। এই লভলীন স্থিতিকে মনুষ্যাত্মারা লীন হয়ে যাওয়ার কথা বলে দিয়েছে। বাবার প্রতি ভালোবাসা সমাপ্ত করে কেবল লীন শব্দকে বলে দিয়েছে। তোমরা বাচ্চারা বাবার লভে লভলীন থাকলে তো অন্যদেরকেও সহজ নিজ সমান বা বাবার সমান বানাতে পারবে।

Thursday, August 7, 2025

08.08.2025 Bengali Murli

      https://youtu.be/m-IQoWW5suQ?si=kOg7BMemk714WiJ3

 "মিষ্টি বাচ্চারা - সদা এই খুশীতে থাকো যে আমরা ৮৪-র চক্রকে সম্পূর্ণ করেছি, এখন চলেছি নিজেদের ঘরে, আর বাকি কিছু দিন এই কর্মভোগ রয়েছে"

প্রশ্নঃ -যে সকল বাচ্চারা বিকর্মাজীত হবে, তাদের বিকর্ম থেকে বাঁচার জন্য কোন্ বিষয়ের উপরে নজর দেওয়া উচিত?

উত্তরঃ - সকল বিকর্মের মূলে যে দেহ-অভিমান, সেই দেহ-অভিমান যেন কখনো না আসে সেদিকে নজর রাখতে হবে। এরজন্য বারংবার দেহী-অভিমানী হয়ে বাবাকে স্মরণ করতে হবে। ভালো বা মন্দের ফল অবশ্যই প্রাপ্ত হয়, অন্তিম সময়ে বিবেকের দংশন হতে থাকে। কিন্তু এ'জন্মের পাপের বোঝা হাল্কা করার জন্য বাবাকে সব সত্য-সত্যই শোনাতে হবে।

ওম্ শান্তি । সর্বাপেক্ষা বড়' র থেকেও বড় লক্ষ্য হলো স্মরণের। অনেকের আবার শুধুমাত্র শোনার শখ থাকে। জ্ঞানকে বোঝা অত্যন্ত সহজ। ৮৪-র চক্রকে বুঝতে হবে, স্বদর্শন-চক্রধারী হতে হবে। বেশী কিছু নয়। বাচ্চারা, তোমরা বোঝো যে, আমরা সকলেই স্বদর্শন-চক্রধারী। স্বদর্শন-চক্রের দ্বারা কেউ গলা কাটে না, যেমনভাবে কৃষ্ণকে দেখানো হয়েছে। এখন এই লক্ষ্মী-নারায়ণ হলো বিষ্ণুর দুইরূপ (বিষ্ণু হলো লক্ষ্মী নারায়ণের কম্বাইন্ড রূপ) । তাদের কি স্বদর্শন-চক্র আছে? তবে কৃষ্ণকে চক্রধারী কেন দেখানো হয়েছে? একটি ম্যাগাজিন বের হয়, যেখানে কৃষ্ণের এমন অনেক চিত্র দেখানো হয়। বাবা এসে তোমাদের রাজযোগ শেখান, নাকি চক্র দ্বারা অসুরদের হত্যা করেন ! অসুর তাদেরকেই বলা হয় যাদের স্বভাব আসুরীক। এছাড়া মানুষ তো মানুষই। আবার এমনও নয় যে, বসে-বসে সকলকে স্বদর্শন-চক্রের দ্বারা বধ করে। ভক্তিমার্গে বসে-বসে কেমন সব চিত্র তৈরী করেছে। রাত-দিনের পার্থক্য। বাচ্চারা, তোমাদের এই সৃষ্টি-চক্রকে এবং সমগ্র ড্রামাকে জানতে হবে কারণ সকলেই অ্যাক্টর্স। ওই পার্থিব জগতের অ্যাক্টর্সরা ড্রামাকে জানে। এ হলো অসীম জগতের ড্রামা। এতে বিস্তারিতভাবে সবকিছু বুঝতে পারবে না। ওখানে দু'ঘন্টার ড্রামা হয়। ডিটেলে (নিজেদের) পার্টকে জানে। এখানে ৮৪ জন্মকে জানতে হয়।


বাবা বুঝিয়েছেন - আমি ব্রহ্মার রথে (শরীরে) প্রবেশ করি। ব্রহ্মারও ৮৪ জন্মের কাহিনী চাই। মানুষের বুদ্ধিতে এ'কথা আসতে পারে না। তারা এও বোঝে না যে, ৮৪ লক্ষ জন্ম নাকি ৮৪ জন্ম? বাবা বলেন, তোমাদের ৮৪ জন্মের কাহিনী শোনাই। ৮৪ লক্ষ জন্ম হলে (তার কাহিনী) কত বছর শোনাতে লাগবে। তোমরা তো সেকেন্ডে জেনে যাও - এ হলো ৮৪ জন্মের কাহিনী। আমরা ৮৪-র চক্র কিভাবে পরিক্রমা করেছি, ৮৪ লক্ষ হলে সেকেন্ডে কি বুঝতে পারবে, না বুঝতে পারবে না। ৮৪ লক্ষ হয়েই না ! বাচ্চারা, তোমাদের অত্যন্ত খুশী হওয়া উচিত। আমাদের ৮৪ জন্মের চক্র পূর্ণ হয়েছে। এখন আমরা ঘরে ফিরে যাই। তাছাড়া আর অল্প দিনের এই কর্মভোগ । বিকর্ম ভস্মীভূত হয়ে কর্মাতীত অবস্থা কিভাবে হয়ে যাবে, এরজন্যই এই যুক্তি বলা হয়েছে। এছাড়া বোঝানো হয় যে এ'জন্মে যাকিছু বিকর্ম করেছো তা লিখে দিলে বোঝ হাল্কা হয়ে যায়। জন্ম-জন্মান্তরের বিকর্ম কেউ লিখতে পারে না। বিকর্ম তো হয়েই এসেছে। যখন থেকে রাবণ-রাজ্য শুরু হয় তখন থেকে কর্ম বিকর্ম হয়ে পড়ে। সত্যযুগে কর্ম অকর্ম হয়। ভগবানুবাচ - তোমাদের কর্ম-অকর্ম-বিকর্মের গতি বোঝাই। বিকর্মাজীত যুগ (অব্দ) লক্ষ্মী-নারায়ণের সময় থেকে শুরু হয়। সিঁড়ির চিত্রে অত্যন্ত পরিস্কারভাবে রয়েছে। শাস্ত্রতে এসব কোনো কথা নেই। বাচ্চারা, সূর্যবংশীয়-চন্দ্রবংশীয় রহস্যও তোমরাই জানো যে, আমরাই এমন ছিলাম। প্রচুর বিরাট রূপের চিত্র তৈরী করে, কিন্তু অর্থ কিছুই বোঝে না। বাবা ছাড়া কেউ বোঝাতেও পারে না। এই ব্রহ্মার উপরেও কেউ রয়েছে, তাই না ! যিনি শিখিয়েছেন। যদি কোনো গুরু শেখায় তবে সেই গুরুর তো কেবল একজন শিষ্য থাকতে পারে না। বাবা বলেন - বাচ্চারা, তোমাদেরকে পতিত থেকে পবিত্র, পবিত্র থেকে পতিত হতেই হবে। এও ড্রামায় নির্ধারিত। অনেকবার এই চক্র পেরিয়ে গিয়েছে। পেরিয়ে যেতেই থাকবে। তোমরা হলে অলরাউন্ড পার্টধারী। আদি থেকে অন্ত পর্যন্ত পার্ট আর কারোর থাকে না। তোমাদেরকেই বাবা বোঝান। আবার তোমরা এও জানো যে, অন্যান্য ধর্মাবলম্বীরা অমুক-অমুক সময়ানুসারে আসে। তোমাদের পার্ট তো অলরাউন্ড। খ্রীস্টানদের উদ্দেশ্যে একথা বলা হবে না যে, তারা সত্যযুগে ছিল। তারা দ্বাপরের মধ্যভাগে আসে। বাচ্চারা, এ'নলেজও তোমাদের বুদ্ধিতেই রয়েছে। তোমরা কাউকে বোঝাতেও পারো। অন্য কেউ সৃষ্টির আদি-মধ্য-অন্তকে জানে না। রচয়িতাকেই জানে না, তাহলে তাঁর রচনাকে কি করে জানবে। বাবা বুঝিয়েছেন যে, যেসকল কথা ন্যায়সঙ্গত, সেগুলি ছাপিয়ে এরোপ্লেন থেকে সর্বস্থানে ছড়িয়ে দিতে হবে। সেই পয়েন্টস্ অথবা টপিক বসে-বসে লেখা উচিত। বাচ্চারা বলে, কোনো কাজ নেই। বাবা বলেন, এমন সার্ভিস তো অনেক রয়েছে। এখানে একান্তে বসে সেই কাজ করো। বড়-বড় যেসকল সংস্থা রয়েছে, গীতা পাঠশালা ইত্যাদি রয়েছে সেই সবকে জাগাতে হবে। সকলকে সমাচার দিতে হবে। এ হলো পুরুষোত্তম সঙ্গমযুগ। যে বোধসম্পন্ন হবে সে তৎক্ষণাৎ বুঝে যাবে, অবশ্যই সঙ্গমযুগেই নতুন দুনিয়ার স্থাপনা এবং পুরানো দুনিয়ার বিনাশ হয়। সত্যযুগে থাকে পুরুষোত্তম মানুষ। এখানে থাকে আসুরিক-স্বভাববিশিষ্ট পতিত মানুষ। এও বাবা-ই বুঝিয়েছেন যে কুম্ভমেলা ইত্যাদি যা অনুষ্ঠিত হয়, সেখানে অনেক মানুষ স্নান করতে যায়। কেন স্নান করতে যায়? কারণ তারা পবিত্র হতে চায়। যেখানে-যেখানে মানুষ স্নান করতে যায়, সেখানে গিয়ে সার্ভিস করা উচিত। মানুষকে বোঝানো উচিত যে, এই জল পতিত-পাবনী নয়। তোমাদের কাছে চিত্রও রয়েছে। গীতা পাঠশালায় গিয়ে এই প্রচারপত্র বন্টন করো। বাচ্চারা সার্ভিস করতে চায়। একথা বসে-বসে লেখো যে - গীতার ভগবান পরমপিতা পরমাত্মা শিব, শ্রীকৃষ্ণ নয়। পুনরায় তাঁর বায়োগ্রাফির মহিমা লেখো। শিববাবার বায়োগ্রাফি লেখো। তখন তারা নিজেরাই জাজ করতে পারবে। এই পয়েন্টস্ও লিখতে হবে যে, পতিত-পাবন কে? আবার শিব এবং শঙ্করের প্রভেদও দেখাতে হবে। শিব আলাদা, শঙ্করও আলাদা। এও বাবা বুঝিয়েছেন যে - কল্প হলো ৫ হাজার বছরের। মানুষ ৮৪ জন্ম নেয়, ৮৪ লক্ষ নয়। এই মুখ্য কথাগুলি শর্টে লেখা উচিত। যেগুলি এরোপ্লেন থেকেও ফেলা যেতে পারে, বোঝানোও যেতে পারে। যেমন এই গোলোক, এতে পরিস্কার, যে অমুক-অমুক ধর্ম অমুক-অমুক সময়ে স্থাপিত হয়। এই গোলোকও থাকা উচিত তাই প্রধান ১২টি চিত্রের ক্যালেন্ডারও ছাপাতে পারো, যার মধ্যে সমগ্র জ্ঞানই চলে আসে এবং সার্ভিস সহজ হয়ে যায়। এই চিত্র অত্যন্ত জরুরী। কোন্ চিত্র তৈরী করতে হবে, কোন্-কোন্ পয়েন্ট লিখতে হবে। বসে-বসে তা লেখো।


তোমরা গুপ্তবেশে এই পুরানো দুনিয়াকে পরিবর্তন করছো। তোমরা হলে আননোন ওয়ারিয়র্স (অজ্ঞাত বা গুপ্ত যোদ্ধা) । তোমাদের কেউ চেনে না। বাবাও গুপ্ত, নলেজও গুপ্ত। এর কোনো শাস্ত্রাদি ছাপানো হয় না, অন্যান্য ধর্মস্থাপকদের বাইবেল ইত্যাদি ছাপানো হয় যা পড়া হচ্ছে। প্রত্যেকেরই (ধর্মগ্রন্থ) ছাপানো হয়। তোমাদের পুনরায় ভক্তিমার্গে ছাপানো হয়। এখন ছাপানো হবে না কারণ এখন এ'ই শাস্ত্রাদি সব সমাপ্ত হয়ে যাবে। এখন তোমাদের শুধু বুদ্ধির দ্বারা স্মরণ করতে হবে। বাবার কাছেও জ্ঞান রয়েছে। তিনি কোনো শাস্ত্রাদি কি পড়েছেন, না তা পড়েননি। তিনি তো নলেজফুল। মানুষ আবার নলেজফুল মানে বোঝে সকলের হৃদয়কে যিনি জানেন। ঈশ্বর দেখেন, তবেই তো কর্মের ফল দেন। বাবা বলেন, এও ড্রামায় নির্ধারিত। ড্রামায় যারা বিকর্ম করে তাদের সাজাভোগ করতে হয়। তারা ভাল বা খারাপ কর্মের ফল প্রাপ্ত করে। এর লিখিত কিছু তো থাকে না। মানুষ বুঝতে পারে যে, অবশ্যই কর্মফল পরজন্মে প্রাপ্ত হয়। অন্তিম মুহূর্তে বিবেকের দংশন হয়। আমরা এই-এই পাপ করেছি। সবই স্মরণে আসে। যেমন কর্ম তেমনই জন্ম হবে। এখন তোমরা বিকর্মাজীত হচ্ছো তাই এমন কোনো বিকর্ম করা উচিত নয়। সর্বাপেক্ষা বড় বিকর্ম হলো দেহী-অভিমানী হওয়া। বাবা বারংবার বলেন যে, দেহী-অভিমানী হয়ে বাবাকে স্মরণ করো, পবিত্র থাকতেই হবে। সর্বাপেক্ষা বড় পাপ হলো কাম-বিকারে যাওয়া। এটাই আদি-মধ্য-অন্ত দুঃখ দেবে তাই সন্ন্যাসীরাও বলে যে, এই সুখ কাক-বিষ্ঠা সমান। ওখানে দুঃখের কোনো নামই থাকে না। এখানে দুঃখই-দুঃখ রয়েছে, তাই সন্ন্যাসীদের বৈরাগ্য আসে। কিন্তু তারা জঙ্গলে চলে যায়। তাদের হলো পার্থিব জগতের বৈরাগ্য, আর তোমাদের হলো অসীম জগতের বৈরাগ্য। এ হলো খারাপ অর্থাৎ ছিঃ ছিঃ দুনিয়া। সকলেই বলে - বাবা, তুমি এসে আমাদের দুঃখ দূর করে সুখ প্রদান করো। বাবা-ই দুঃখহরণকারী-সুখপ্রদানকারী। বাচ্চারা, তোমরাই জানো যে এই নতুন দুনিয়ায় দেবতাদের রাজ্য ছিল। সেখানে কোনোরকমের দুঃখ ছিল না। যখন কেউ শরীর পরিত্যাগ করে তখন মানুষ বলে যে, স্বর্গবাসী হয়েছে। কিন্তু এটা কি জানে যে আমরা নরকে রয়েছি, না তা জানে না। আমরা যখন মারা যাবো তখন স্বর্গে যাবো। কিন্তু সেও স্বর্গে গিয়েছে নাকি এখানে নরকে এসেছে? কিছুই জানে না। বাচ্চারা, তোমরা তিনজন পিতার রহস্যও সকলকে বোঝাতে পারো। দুজন পিতাকে তো সকলেই জানে লৌকিক আর পারলৌকিক আর এই অলৌকিক প্রজাপিতা ব্রহ্মা রয়েছেন এই সঙ্গমে। ব্রাহ্মণও তো চাই, তাই না ! ওই ব্রাহ্মণরা কি কেউ ব্রহ্মার মুখ-বংশজাত? না তা নয়। তারা জানে যে, ব্রহ্মা ছিলেন। তাই বলে, 'ব্রাহ্মণ দেবী-দেবতায় নমঃ'। একথা জানে না যে কাকে বলে, কোন্ ব্রাহ্মণ? তোমরা হলে পুরুষোত্তম সঙ্গমযুগীয় ব্রাহ্মণ। ওরা হলো কলিযুগীয়। এটা হলো পুরুষোত্তম সঙ্গমযুগ, যখন তোমরা মানুষ থেকে দেবতায় পরিণত হও। দেবী-দেবতা ধর্মের স্থাপনা হচ্ছে। তাই বাচ্চাদের সব পয়েন্টস্ ধারণ করতে হবে এবং পুনরায় সার্ভিস করতে হবে। পূজা করতে অথবা শ্রাদ্ধ খেতে ব্রাহ্মণেরা আসে। তাদের সঙ্গেও তোমরা কথোপকথন করতে পারো। বলতে পারো, তোমাদের সত্যিকারের ব্রাহ্মণ করে দিতে পারি। এখন ভাদ্রমাস আসছে, সকলেই পিতৃপুরুষের আত্মাদের ভোজন করায়। সেটাও যুক্তি-যুক্তভাবে করতে হবে, তা নাহলে বলবে ব্রহ্মাকুমারীদের কাছে গিয়ে সবকিছু পরিত্যাগ করেছে। এমন কিছু কোরো না, যারফলে অসন্তুষ্ট হয়ে যায়। যুক্তি-যুক্তভাবে তোমরা জ্ঞান প্রদান করতে পারো। অবশ্যই ব্রাহ্মণরা আসবে তবেই তো জ্ঞান-দান করবে, তাই না! এই মাসে তোমরা ব্রাহ্মণদের অনেক সার্ভিস করতে পারো। তোমরা ব্রাহ্মণেরা হলে প্রজাপিতা ব্রহ্মার সন্তান। বলো, ব্রাহ্মণধর্ম কে স্থাপন করেছে? তোমরা ঘরে বসে ওনাদেরও কল্যাণ করতে পারো। যেমন যারা অমরনাথ যাত্রায় যায়, তারা শুধুমাত্র লেখা পড়ে এতকিছু বুঝতে পারবে না। তাদের সেখানে বসে বোঝাতে হবে। আমরা তোমাদের সত্যিকারের অমরনাথের কথা শোনাই। অমরনাথ একজনকেই বলা হয়। অমরনাথ অর্থাৎ যিনি অমরপুরী স্থাপন করেন। সেটা হলো সত্যযুগ। এমন সার্ভিস করতে হবে। সেখানে (অমরনাথে) পায়ে হেঁটে যেতে হয়। যারা ভালো ভালো গন্যমান্য ব্যক্তি তাদের গিয়ে বোঝানো উচিত। সন্ন্যাসীদেরও তোমরা জ্ঞান প্রদান করতে পারো। তোমরা সমগ্র সৃষ্টির জন্য কল্যাণকারী। শ্রীমতানুসারে আমরা বিশ্বের কল্যাণ করছি - বুদ্ধিতে সেই নেশা থাকা উচিত। আচ্ছা।

মিষ্টি-মিষ্টি হারানিধি বাচ্চাদের প্রতি মাতা-পিতা বাপদাদার স্মরণের স্নেহ-সুমন আর সুপ্রভাত। আত্মাদের পিতা তাঁর আত্মা-রূপী বাচ্চাদেরকে জানাচ্ছেন নমস্কার।

ধারণার জন্যে মুখ্য সারঃ-১ ) যখন একাকী থাকবে বা অবসর পাবে, তখন জ্ঞানের ভালো-ভালো পয়েন্টসের উপর বিচারসাগর মন্থন করে লিখতে হবে। সকলের নিকট সংবাদ পৌঁছানোর বা সকলের কল্যাণসাধনের জন্য যুক্তি রচনা করতে হবে।

২ ) বিকর্ম থেকে সুরক্ষিত থাকার জন্য দেহী-অভিমানী হয়ে বাবাকে স্মরণ করতে হবে। এখন কোনো বিকর্ম করা উচিত নয়। এ'জন্মের কৃত বিকর্ম সততার সঙ্গে বাপদাদাকে শোনাতে হবে।

বরদানঃ-অটল ভবিতব্যকে জেনেও শ্রেষ্ঠ কার্যের প্রত্যক্ষ রূপ প্রদানকারী সদা সমর্থ ভব

নতুন শ্রেষ্ঠ বিশ্ব হওয়ার ভবিতব্য অটল হয়েও সমর্থ ভব-র বরদানী বাচ্চাদেরকে কেবল কর্ম আর ফলের, পুরুষার্থ আর প্রালব্ধের, নিমিত্ত আর নির্মাণের কর্ম ফিলোসোফি অনুসার নিমিত্ত হয়ে কার্য করে। সাধারণ মানুষের মধ্যে কোনও আশা দেখা যায় না। আর তোমরা বলছো এই কার্য অনেকবার হয়েছে, এখনও হয়েই পড়ে আছে কেননা স্ব পরিবর্তনের প্রত্যক্ষ প্রমাণের সামনে আর কোনও প্রমাণের প্রয়োজনীয়তাই নেই। সাথে-সাথে পরমাত্ম কার্য সদা সফল হয়ে আছে।

স্লোগানঃ-বলা কম, করা বেশী - এই শ্রেষ্ঠ লক্ষ্য মহান বানিয়ে দেবে।

 অব্যক্ত ঈশারা :- সহজযোগী হতে হলে পরমাত্ম প্রেমের অনুভবী হও

সেবাতে বা নিজের উন্নতি কলাতে সফলতার মুখ্য আধার হল - এক বাবার সাথে অখন্ড ভালোবাসা। বাবা ছাড়া আর কিছুই যেন দেখা না যায়। সংকল্পেও বাবা, বাণীতেও বাবা, কর্মেও বাবার সাথ, এইরকম লভলীন স্থিতিতে থেকে একটা শব্দও বললে তো সেই স্নেহের বাণী অন্য আত্মাদেরকেও স্নেহতে বেঁধে দেবে। এইরকম লভলীন আত্মার এক বাবা শব্দই জাদুমন্ত্রের কাজ করবে।

https://bkrajyogpathshala.blogspot.com/

01-04-2026 Bengali Murli

 মিষ্টি বাচ্চারা - বাচ্চারা, বাবা যা, বাবা ঠিক যেমন, তোমরা বাচ্চারাও তাঁকে নম্বর ক্রমানুসারেই চিনেছো, যদি সকলেই তাঁকে চিনে গেলে তবে তো অত্যন...