Tuesday, March 31, 2026

01-04-2026 Bengali Murli

 মিষ্টি বাচ্চারা - বাচ্চারা, বাবা যা, বাবা ঠিক যেমন, তোমরা বাচ্চারাও তাঁকে নম্বর ক্রমানুসারেই চিনেছো, যদি সকলেই তাঁকে চিনে গেলে তবে তো অত্যন্ত ভীড় জমে যাবে"

প্রশ্নঃ - চতুর্দিকে প্রত্যক্ষতার আওয়াজ কখন ছড়িয়ে পড়বে?

উত্তরঃ - যখন মানুষ জানবে যে স্বয়ং ঈশ্বর এই পুরানো দুনিয়ার বিনাশ করে নতুন দুনিয়া স্থাপন করতে এসেছেন। ২) আমাদের সকলের সদ্গতিদাতা বাবা আমাদের ভক্তির ফল প্রদান করতে এসেছেন। এই নিশ্চয় থাকলে তবেই প্রত্যক্ষতা হয়ে যাবে। চতুর্দিকে হৈচৈ শুরু হয়ে যাবে।

গীতঃ- যে প্রিয়তমের সাথে আছে...

ওম্ শান্তি । বাচ্চারা গানের দুটি লাইন শুনেছে। যে প্রিয়তমের সাথে রয়েছে, এখন এই প্রিয়তমটি কে ! তা এই জগৎ জানে না। যদিও অসংখ্য বাচ্চা আছে, তবুও তার মধ্যে অনেকেই আছে যারা জানে না যে কিভাবে বাবাকে স্মরণ করা উচিত। সেইভাবে স্মরণ করতে জানে না। প্রতি মুহূর্তে ভুলে যায়। বাবা বোঝান - বাচ্চারা, নিজেকে আত্মা মনে করো, আমি হলাম বিন্দু। বাবা জ্ঞানের সাগর, তাঁকেই স্মরণ করতে হবে। স্মরণের যেন এমন অভ্যাস হয়ে যায় যে নিরন্তর স্মরণ চলতে থাকে। পরে যেন এটাই স্মরণে থাকে যে, আমি আত্মা, শরীরও আছে কিন্তু এই জ্ঞান বুদ্ধিতে রাখতে হবে যে, আমি আত্মা। বাবার ডায়রেক্শন পেয়েছো যে, আমি যা সেইরূপে কোনো বিরল ব্যক্তিই স্মরণ করে। বাচ্চারা অত্যন্ত দেহ-অভিমানে থাকে। বাবা বোঝান - কাউকে যতক্ষণ না পর্যন্ত বাবার পরিচয় দিয়েছো ততক্ষণ পর্যন্ত কিছুই বুঝতে পারবে না। প্রথমে তো তারা এটাই জানুক যে সেই নিরাকার আমাদের বাবা, গীতার ভগবান, সকলের সদ্গতিদাতা। তিনি এখন সদ্গতি দানের পার্ট প্লে করছেন। এই পয়েন্টে যদি নিশ্চয়বুদ্ধি হয়ে যায় তবে এত যে সাধু-সন্তাদি রয়েছে সকলেই এক সেকেন্ডে চলে আসবে। ভারতে বড় হৈচৈ শুরু হয়ে যাবে। এখন যদি জানতে পারে যে এই জগৎ বিনাশপ্রাপ্ত হবে, এই কথায় যদি নিশ্চয় হয়ে যায় তবে মুম্বই থেকে আবু পর্যন্ত লাইন পড়ে যাবে। কিন্তু এত শীঘ্র কারোর নিশ্চয় আসতে পারে না। তোমরা জানো যে বিনাশ হবে, এরা সকলে গভীর নিদ্রায় ঘুমিয়ে থাকবে। পুনরায় অন্তিম সময়ে তোমাদের প্রভাব দেখা যাবে। মাসির বাড়ি যাওয়ার মতো সহজ ব্যাপার নয় যে এই কথায় নিশ্চয় হয়ে যাবে যে, গীতার ভগবান পরমপিতা পরমাত্মা শিব। এ'কথা প্রসিদ্ধ হয়ে গেলে সমগ্র ভারতে আওয়াজ উঠবে। এখন তো তোমরা একজনকে বোঝালে অন্যে বলবে তোমরা মোহজালে আবদ্ধ হয়ে গেছো। এই বৃক্ষ অতি ধীরে-ধীরে বৃদ্ধি পাবে। সময় এখন সামান্যই রয়েছে তবুও পুরুষার্থ করতে কোনো অসুবিধা নেই। তোমরা গন্যমান্যদের বোঝাও, কিন্তু তারা কি কিছু বোঝে নাকি! বাচ্চাদের মধ্যেও অনেকেই এই নলেজকে বোঝে না। বাবার স্মরণেও নেই তাই তেমন স্থিতিও নেই। বাবা জানেন যে নিশ্চয় কাকে বলে। মুশকিলই এখন ১-২ শতাংশই হবে যারা বাবাকে স্মরণ করে। যদিও এখানে বসে রয়েছে, বাবার সঙ্গে সেই ভালোবাসা থাকে না। এরজন্য ভালোবাসা চাই, ভাগ্য চাই। বাবার সঙ্গে ভালোবাসা থাকলে তবেই বুঝবে, প্রতিটি পদক্ষেপে আমাদের বাবার শ্রীমতানুসারে চলতে হবে। আমরা বিশ্বের মালিক হয়ে যাই। আধাকল্পের দেহ-অভিমান বসে রয়েছে তাই এখন দেহী-অভিমানী হতে অত্যন্ত পরিশ্রম লাগে। নিজেকে আত্মা মনে করে প্রিয়তম বাবাকে স্মরণ করা মাসির বাড়ি যাওয়ার মতো সহজ নয়। তাদের চেহারাতেই ঔজ্জ্বল্য থাকবে। কন্যা যখন বিয়ে করে, অলঙ্কারাদি পড়ে তখন তার চেহারায় খুশী সম্পূর্ণরূপে ধরা পড়ে। কিন্তু এখানে তো প্রিয়তমকে স্মরণই করে না, সে'জন্য চেহারা ঔজ্জ্বল্যহীন হয়ে থাকে। সে'কথা আর জিজ্ঞাসা কোরো না। কন্যা যখন বিয়ে করে তখন তার চেহারা খুশীতে ভরে যায়। কারো-কারোর মুখ তো আবার বিয়ের পরেও মৃত মানুষের মতন থাকে। নানারকমের হয়। কেউ আবার অন্য ঘরে (পরগৃহে) গিয়ে দুঃখী হয়ে পড়ে। এখানেও এমন হয়। বাবাকে স্মরণ করতেই পরিশ্রম। এই গায়ন অন্তিম সময়ের যে অতীন্দ্রিয় সুখের কথা গোপী-বল্লভের গোপ-গোপিনীদের কাছে জিজ্ঞাসা করো। নিজেকে গোপ-গোপিনী মনে করা আর নিরন্তর বাবার স্মরণে থাকা, এমন স্থিতি হতে হবে। বাবার পরিচয় সকলকে দিতে হবে। বাবা এসেছেন, তিনি উত্তরাধিকার প্রদান করছেন। এরমধ্যেই সমগ্র জ্ঞান চলে আসে। লক্ষ্মী-নারায়ণ যখন ৮৪ জন্ম সম্পূর্ণ করে তখন বাবা অন্তিমে এসে রাজযোগ শিখিয়ে রাজত্ব প্রদান করেন। লক্ষ্মী-নারায়ণের এই চিত্রই নম্বর ওয়ান। তোমরা জেনেছো যে তাঁরা পূর্বজন্মে এমন কর্ম করেছিলেন, সেই কর্মই বাবা এখন শেখাচ্ছেন। তিনি বলেন - মন্মনাভব, পবিত্র হয়ে থাকো। কোনও পাপ ক'রো না কারণ তোমরা এখন স্বর্গের মালিক, পুণ্যাত্মা হতে চলেছো। অর্ধেক কল্প ধরে মায়া রাবণ পাপ করিয়ে এসেছে। এখন নিজেকে জিজ্ঞাসা করতে হবে - আমার দ্বারা কোনো পাপ হয়ে যাচ্ছে না তো? পুণ্যকর্ম করে কি? অন্ধের লাঠি হয়েছি কি? বাবা বলেন - "মন্মনাভব" । এও জিজ্ঞাসা করতে হয় যে মন্মনাভব কে বলেছেন? ওরা বলবে কৃষ্ণ বলেছে। তোমরা বিশ্বাস করো যে পরমপিতা পরমাত্মা শিব বলেছেন। রাত-দিনের পার্থক্য। শিব-জয়ন্তীর সঙ্গে গীতা-জয়ন্তীও রয়েছে। গীতা-জয়ন্তীর সঙ্গে কৃষ্ণ-জয়ন্তী। তোমরা জানো যে আমরা ভবিষ্যতে প্রিন্স হবো। বেগার টু প্রিন্স হতে হবে। এটাই হলো রাজযোগের এইম অবজেক্ট। তোমরা প্রমাণ করে বলো যে গীতার ভগবান শ্রীকৃষ্ণ ছিল না, তিনি ছিলেন নিরাকার। তাহলেই সর্বব্যাপীর জ্ঞান উড়ে যাবে। সকলের সদ্গতিদাতা, পতিত-পাবন হলেন বাবা। বলাও হয় যে তিনি হলেন মুক্তিদাতা, পুনরায় সর্বব্যাপী বলে দেয়। যা কিছু বলে, তা বোঝে না। ধর্মের বিষয়ে যা কিছু (মনে) আসে তাই বলে দেয়। মুখ্য ধর্ম হলো তিনটি। দেবী-দেবতা ধর্ম অর্ধেককল্প চলে। তোমরা জানো বাবা ব্রাহ্মণ, দেবতা, ক্ষত্রিয় ধর্ম স্থাপন করেন। এই জগৎ তা জানে না। ওরা তো সত্যযুগকেই লক্ষ-লক্ষ বছর বলে দিয়েছে। আদি সনাতন দেবী-দেবতা ধর্ম সর্বাপেক্ষা উচ্চ। কিন্তু এরা নিজেদের ধর্মকে ভুলে ধর্মবিমুখ (অধার্মিক) হয়ে পড়েছে। খ্রীস্টানরা নিজেদের ধর্মকে ত্যাগ করে না। ওরা জানে - খ্রাইস্টই আমাদের ধর্মের স্থাপনা করেছিলেন। ইসলাম, বৌদ্ধ, তারপর খ্রীস্টান, এই হলো মুখ্য ধর্ম। এছাড়া ছোট-ছোট অনেক রয়েছে। কোথা থেকে বৃদ্ধি পেয়েছে? তা কেউ জানে না। (হজরত) মহম্মদের এখন অল্পসময়ই হয়েছে, ইসলাম পুরোনো। খ্রীস্টানও বিখ্যাত। এছাড়া কত অসংখ্য রয়েছে। সকলের নিজের-নিজের ধর্ম রয়েছে। নিজেদের বিভিন্ন ধর্ম, বিভিন্ন নাম রয়েছে তাই বিভ্রান্ত হয়ে গেছে। এ'কথা জানে না যে মুখ্য ধর্মশাস্ত্র রয়েছে ৪টি। এরমধ্যে দেবত্ব, ব্রাহ্মণত্বও এসে যায়। ব্রাহ্মণ তথা দেবতা, দেবতা তথা ক্ষত্রিয়, তা কারোর জানা নেই। গীতও গায় ব্রাহ্মণ দেবতায় নমঃ। পরমপিতা ব্রাহ্মণ, দেবতা, ক্ষত্রিয় ধর্মই স্থাপন করেছেন। শব্দ গুলোও রয়েছে, কিন্তু পড়ে এমনভাবে যেন তোতাপাখি। এ হলো কাঁটার জঙ্গল। ভারত গার্ডেন অফ ফ্লাওয়ার ছিল, তা মানে। কিন্তু তা কখন, কিভাবে, কে করেছিল, পরমাত্মা কি বস্তু, তা কেউই জানে না। তবেই তো অনাথ হয়ে গেছে, তাই না! সেইজন্যই এই লড়াই-ঝগড়া ইত্যাদি হয়। কেবল ভক্তি করেই খুশীতে থাকে। এখন বাবা এসেছেন আলোকজ্জ্বল করতে, সেকেন্ডে জীবনমুক্তি দেন। অজ্ঞান অন্ধকার বিনাশের জন্য সদ্গুরু জ্ঞান-অঞ্জন দিয়েছেন। তোমরা এখন জানো যে আমরা আলোয় রয়েছি। বাবা তৃতীয় নেত্র প্রদান করেছেন। যদিও দেবতাদের ত্রিনেত্র দেখানো হয়েছে কিন্তু অর্থ কিছুই জানে না। বাস্তবে ত্রিনেত্র রয়েছে তোমাদের। ওরা (অজ্ঞানী) আবার তা দিয়ে দিয়েছে দেবতাদের। গীতায় ব্রাহ্মণদের কোনো কথাই নেই। তাতে আবার কৌরব, পান্ডবাদির লড়াই, ঘোড়ার গাড়ি(রথ) ইত্যাদি লিখে দিয়েছে, কিছুই বোঝে না। তোমরা বোঝালে বলবে যে, তোমাদের শাস্ত্রাদির প্রতি বিশ্বাস নেই। তোমরা বলতে পারো যে, জানো কি! আমরা শাস্ত্রকে কেন মান্য করি না ! কারণ এ'সব ভক্তিমার্গের সামগ্রী। গায়নও রয়েছে, জ্ঞান আর ভক্তি। যখন রাবণ-রাজ্য আসে তখন ভক্তি শুরু হয়। ভারতবাসী বাম-মার্গে গিয়ে ধর্মভ্রষ্ট এবং কর্মভ্রষ্ট হয়ে যায় তাই এখন হিন্দু বলা হয়। অপবিত্র হয়ে গেছে। অপবিত্র কে করেছে? রাবণ । রাবণকে দহন করা হয়, মনে করে যে এ তো পরম্পরাগতভাবে হয়ে আসছে। কিন্তু সত্যযুগে তো রাবণ-রাজ্য ছিলই না। কিছুই বোঝে না। মায়া সম্পূর্ণ প্রস্তরবুদ্ধিসম্পন্ন করে দেয়। পাথর থেকে পারশে পরিণত বাবা-ই করেন। যখন (বাবা) আয়রন-এজে (কলিযুগে) আসবেন তখনই তো গোল্ডেন এজ (সত্যযুগ) স্থাপন করবেন। বাবা বোঝাতে থাকেন তবুও এ'কথা অত্যন্ত মুশকিলই কারোর বুদ্ধিতে বসে। তোমাদের অর্থাৎ কুমারীদের এখন বাগদান হয়। তোমাদের পাটরানী করেন। তোমাদের ভাগিয়ে নিয়ে গেছিল অর্থাৎ আত্মা-রূপী তোমাদের বলেন - তোমরা আমার ছিলে এখন তোমরা আমায় ভুলে গেছো। দেহ- অভিমানী হয়ে মায়ার বশে হয়ে যাও। এছাড়া ভাগিয়ে নিয়ে যাওয়ার তো কোনো কথাই নেই। মামেকম্ স্মরণ করো। স্মরণেই পরিশ্রম। অনেকেই দেহ-অভিমানে এসে বিকর্ম করে। বাবা জানেন যে এই আত্মা আমায় স্মরণই করে না। দেহ-অভিমানে এসে অনেক পাপ করে তাই পাপের ঘড়া শতগুণ ভরে যায়। অন্যদের মার্গদর্শনের পরিবর্তে স্বয়ং-ই ভুলে যায়। আরোই অধিক দুর্গতি ভোগ করে। লক্ষ্য অনেক উঁচু। উত্তরণে (চড়লে) বৈকুন্ঠ-রস চাখতে পারবে, অধঃপতনে চুর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে যাবে। এই রাজত্ব স্থাপিত হচ্ছে। দেখো, এতে কত পার্থক্য হয়ে যায়। কেউ আবার অধ্যয়ন করে আকাশে উঠে যায়, কেউ ভূমিতে পড়ে যায়। বুদ্ধি ডাল (প্রখরতা নেই) তাই পড়তে পারে না। কেউ-কেউ বলে - বাবা আমরা কাউকে বোঝাতে পারি না। আমি বলি -- আচ্ছা, কেবল নিজেকে আত্মা মনে করো, আমাকে অর্থাৎ বাবাকে স্মরণ করো তাহলেই আমি তোমাদের সুখ প্রদান করবো। কিন্তু স্মরণই করে না। স্মরণ করলে তবেই তো অন্যদের স্মরণ করাতে থাকবে। বাবাকে স্মরণ করলে পাপ বিনষ্ট হয়ে যায়। তাঁকে স্মরণ ব্যতীত তোমরা সুখধামে যেতে পারবে না। ২১ জন্মের উত্তরাধিকার বাবার থেকেই প্রাপ্ত হতে পারে। বাকি সকলেই তো অল্পসময়ের জন্য সুখ দিয়ে থাকেন। কেউ রিদ্ধি-সিদ্ধির (জাদু) দ্বারা সন্তান প্রাপ্ত করে বা আশীর্ব্বাদের দ্বারা লটারি পেয়ে যায়, ব্যস্ তখন বিশ্বাস হয়ে যায়। কারোর যদি ২-৪ কোটি লাভ হয়ে যায় তখন অত্যন্ত মহিমা করতে থাকবে। কিন্তু তা হলো অল্প সময়ের জন্য। ২১ জন্মের জন্য তো হেল্থ-ওয়েল্থ পেতে পারে না। কিন্তু মানুষ তা জানে না। দোষ দেওয়াও যেতে পারে না। অল্পসময়ের সুখেই খুশী হয়ে যায়। বাচ্চারা, বাবা তোমাদের রাজযোগ শিখিয়ে স্বর্গের রাজত্ব প্রদান করেন। কত সহজ। কেউ তো একদমই বোঝাতে পারে না। কেউ বুঝতেও পারে কিন্তু যোগযুক্ত না থাকার কারণে কারোর তীর লাগে না। দেহ-অভিমানে আসার কারণে কিছু না কিছু পাপ হতেই থাকে। যোগই মুখ্য। তোমরা যোগবলের দ্বারাই বিশ্বের মালিক হও। প্রাচীন যোগ ঈশ্বরই শিখিয়েছিলেন, শ্রীকৃষ্ণ নয়। স্মরণের যাত্রা অত্যন্তই ভাল। তোমরা নাটক দেখে এলে সবকিছু তোমাদের সামনে বুদ্ধিতে চলে আসবে। কাউকে বলতে সময় লাগবে। এও তেমনই। বীজ এবং বৃক্ষ। এই চক্র অত্যন্ত পরিষ্কার। শান্তিধাম, সুখধাম, দুঃখধাম... সেকেন্ডের কাজ, তাই না! কিন্তু স্মরণে থাকবে, তবেই না! মুখ্য বিষয় হলো বাবার পরিচয়। বাবা বলেন - আমাকে স্মরণ করলে তোমরা সবকিছু জেনে যাবে। আচ্ছা। বাচ্চারা, শিববাবা তোমাদের স্মরণ করেন, ব্রহ্মাবাবা স্মরণ করেন না। শিববাবা জানেন যে কোন্-কোন্ বাচ্চারা আমার সুপুত্র। সার্ভিসেবেল সুসন্তানদের তিনি স্মরণ করেন। ইনি(ব্রহ্মা) কি কাউকে স্মরণ করবেন নাকি, না তা করবেন না। এনার আত্মাকেও তো ডায়রেক্শন দেওয়া রয়েছে - মামেকম্ স্মরণ করো। আচ্ছা!


মিষ্টি-মিষ্টি হারানিধি বাচ্চাদের প্রতি মাতা-পিতা বাপদাদার স্মরণের স্নেহ-সুমন আর সুপ্রভাত। আত্মাদের পিতা তাঁর আত্মা-রূপী বাচ্চাদেরকে জানাচ্ছেন নমস্কার।


ধারণার জন্যে মুখ্য সারঃ-১ ) সৌভাগ্যশালী হওয়ার জন্য অদ্বিতীয় পিতার সঙ্গে সত্যিকারের ভালোবাসার সম্পর্ক রাখতে হবে। ভালবাসা অর্থাৎ প্রতিটি পদক্ষেপে একজনের শ্রীমতানুসারেই চলতে থাকা।


২ ) প্রত্যহ পুণ্য কর্ম অবশ্যই করতে হবে। সর্বাপেক্ষা বড় পুণ্য হলো সকলকে বাবার পরিচয় দেওয়া। বাবাকে স্মরণ করা এবং সকলকে স্মরণ করানো।


বরদানঃ-নিজের দৃষ্টি এবং বৃত্তি পরিবর্তনের দ্বারা সৃষ্টি পরিবর্তনকারী সাক্ষাৎকার মূর্তি ভব

নিজের বৃত্তি পরিবর্তনের মাধ্যমে দৃষ্টিকে দিব্য করো তবেই তোমাদের দৃষ্টি দ্বারা অনেক আত্মা তাদের যথার্থ স্বরূপ, যথার্থ ঘর, তথা যথার্থ রাজধানী দেখতে পাবে। এমনই যথার্থ সাক্ষাৎকার করানোর জন্য বৃত্তির মধ্যে সামান্যতম দেহ-অভিমানের চঞ্চলতা যেন না থাকে। বৃত্তি সংশোধনের মাধ্যমে যখন দৃষ্টিকে দিব্য করবে , তখনই এই সৃষ্টির পরিবর্তন হবে। যারা দেখবে তারা অনুভব করবে যে এই চোখ কোনও সাধারণ নয়, এ যেন এক জাদুর কৌটো। এই চোখই তখন সাক্ষাৎকারের সাধন হয়ে উঠবে।

স্লোগানঃ- সেবার উৎসাহ-উদ্দীপনার সাথে, অসীমের বৈরাগ্য বৃত্তিই হলো সফলতার আধার।

 

অব্যক্ত ইশারা :- মহান হওয়ার জন্য মধুর এবং নম্রতার গুণ ধারণ করো

মধুরতার গুণ ধারণকারী এখানেও মহান হয় আর সেখানেও মর্যাদা লাভ করে। মধুরতা সম্পন্নদের সকলেই মহান রূপে দেখে। সুতরাং মধুরতার এই বিশেষ গুণ প্রতিটি বাচ্চার মধ্যে থাকা উচিত। মধুরতার মধু যাদের সঙ্গে আছে তাদের প্রতিটি কাজে সফলতা নিশ্চিত। তাদের জীবন থেকে অসফলতা সমাপ্ত হয়ে যাবে।

Tuesday, March 24, 2026

25-03-2026 Bengali Murli

 "মিষ্টি বাচ্চারা - তোমরা হলে মহাবীর, মায়ার ঝড় দেখে তোমাদের ভয় পেতে নেই, এক বাবা ব্যতীত আর কারোর পরোয়া করো না, পবিত্র অবশ্যই হতে হবে"


প্রশ্নঃ -

বাচ্চাদের মধ্যে কোন্ সাহস থাকলে তবেই খুব উচ্চ পদ প্রাপ্ত করতে পারবে?


উত্তরঃ  

শ্রীমৎ অনুযায়ী চলে পবিত্র থাকার। যদি অনেক ঝামেলা হয়, অনেক বিপর্যয়ও সহ্য করতে হয় - কিন্তু বাবা পবিত্র হওয়ার যে শ্রেষ্ঠ মত দিয়েছেন সেই অনুযায়ী নিরন্তর চলতে থাকলে অনেক উচ্চ পদ প্রাপ্ত করতে পারবে। কোনো ব্যাপারে ভয় পাওয়ার নেই, যাই কিছু হোক না কেন...নাথিং নিউ।


গীতঃ-

ভোলানাথের থেকে অনুপম আর কেউ নেই...


ওম্ শান্তি ।

এ হলো ভক্তি মার্গের লোকেদের গান। জ্ঞান মার্গে গান ইত্যাদির কোনো দরকার নেই কারণ বলা হয়েছে যে বাবার থেকে আমাদের অসীম জগতের উত্তরাধিকার প্রাপ্ত হয় ভক্তি মার্গের যে সব নিয়ম-রীতি সেই সব এক্ষেত্রে আসতে পারে না। বাচ্চারা কবিতা ইত্যাদি তৈরী করে সেইটা আর সবাইকে শোনানোর জন্য। তার অর্থও যতোক্ষণ তোমরা না বোঝাবে ততক্ষণ কেউ বুঝতে পারবে না। এখন তোমরা অর্থাৎ বাচ্চারা বাবাকে পেয়েছো বলে খুশীর পারদ উপরে ওঠা উচিত। বাবা ৮৪ জন্মের চক্রের নলেজও শুনিয়েছেন। খুশী হওয়া উচিত - আমরা এখন স্বদর্শন চক্রধারী হয়েছি। বাবার থেকে বিষ্ণুপুরীর উত্তরাধিকার প্রাপ্ত করছি। সুনিশ্চিত বুদ্ধিই বিজয়ন্তী অর্থাৎ বিজয় লাভ করে। যারা সুনিশ্চিত থাকে তারা সত্যযুগে যাবেই। তাই বাচ্চাদের সর্বদা খুশী থাকা উচিত - ফলো ফাদার। বাচ্চারা জানে যে, শিববাবা যেই দিন থেকে এনার (ব্রহ্মা) মধ্যে প্রবেশ করেছেন তো খুব ঝামেলা হয়েছে। পবিত্রতার উপরে খুবই ঝগড়া চলেছে। বাচ্চারা বড় হলে, বলবে বিবাহ করো, বিবাহ না করে চলবে কি করে। মানুষ যদিও গীতা পড়ে কিন্তু বোঝে না কিছুই। সবচেয়ে বেশী অভ্যাস ছিল বাবার (ব্রহ্মা)। একদিনও গীতা পাঠ করা মিস্ করতেন না। যখন জানতে পারলেন গীতার ভগবান হলেন শিব, নেশা চড়ে গেল আমি তো বিশ্বের মালিক হচ্ছি। এইটা তো হলো শিব ভগবানুবাচ, তবুও পবিত্রতারও খুবই ঝামেলা হলো। এতে তো বাহাদুরি চাই, তাই না! তোমরা হলেই মহাবীর- মহাবীরনী। সেই এক ব্যাতীত আর কারোর পরোয়া নেই। পুরুষ হলো রচয়িতা, রচয়িতা নিজেই পবিত্র হলে রচনাকে পবিত্র রূপে তৈরী করেন। ব্যস্! এই ব্যাপারেই খুব ঝগড়া চলে। বড়-বড় ঘর থেকে বেরিয়ে আসে। কারোরই পরোয়া করেনি। যাদের ভাগ্যে নেই তো বুঝবেই বা কি করে। পবিত্র থাকতে চাইলে থাকো, না হলে গিয়ে নিজের ব্যবস্থা নিজে করো। এতো সাহস তো থাকা চাই না! বাবার সামনে কতো ঝামেলা হয়েছে। বাবাকে কখনো মুষরে পড়তে দেখেছো? আমেরিকা পর্যন্ত সংবাদপত্রে বেরিয়ে গেছে। নাথিং নিউ। এইটা তো পূর্ব কল্পের ন্যায় হচ্ছে, এতে ভয়ের কি আর আছে। আমাদের তো নিজের বাবার কাছ থেকে উত্তরাধিকার নিতে হবে। নিজের রচনাকে বাঁচাতে হবে। বাবা জানেন যে সমস্ত ক্রিয়েশন হলো এই সময় পতিত। সবাইকে আমারই পবিত্র করে তুলতে হবে বাবাকেই সকলে বলে হে পতিত-পাবন, লিবরেটর এসো, তো ওনারই সহানুভূতি জাগে। করুণাময় যে না! তাই বাবা বোঝান- বাচ্চারা, কোনো ব্যাপারেই ভয় পেও না। ভয় পেলে এতো উচ্চ পদ প্রাপ্ত করতে পারবে না। মাতাদের উপরেই অত্যাচার হয়। এরও উদাহরণ রয়েছে - দ্রৌপদীর বস্ত্র হরণ । বাবা ২১ জন্মের জন্য নগ্ন হওয়া থেকে বাঁচিয়ে দেন। দুনিয়া এই কথাটা জানে না। পতিত তমোপ্রধান পুরানো সৃষ্টিও হবেই। প্রতিটি জিনিস নতুন থেকে আবার পুরানো অবশ্যই হবে। পুরানো নিবাস স্থল অবশ্যই ত্যাগ করতেই হয়। নূতন দুনিয়া গোল্ডেন এজ্, পুরানো দুনিয়া আয়রণ এজ্.... সর্বদা তো থাকতে পারে না। বাচ্চারা, তোমরা জানো যে - এইটা হলো সৃষ্টি চক্র। দেবী-দেবতাদের রাজ্য পুনরায় স্থাপিত হচ্ছে। বাবাও বলেন আবার তোমাদের গীতা জ্ঞান শোনাচ্ছি। এখানে রাবণ রাজ্যতে আছে দুঃখ। রামরাজ্য কাকে বলা হয়, এইটাও কেউ বোঝে না। বাবা বলেন আমি স্বর্গ অথবা রামরাজ্য স্থাপনা করতে এসেছি। তোমরা অর্থাৎ বাচ্চারা অনেক বার রাজত্ব পেয়েছো আর তারপর হারিয়েছো। এইটা সকলের বুদ্ধিতে আছে। ২১ জন্ম আমরা সত্যযুগে থাকি, সেইটাকে বলা হয় ২১ প্রজন্ম অর্থাৎ যখন বৃদ্ধাবস্থা হয় তখন শরীর ত্যাগ করে। কখনো অকাল মৃত্যু হয় না। এখন তোমরা যেন ত্রিকালদর্শী হয়ে উঠেছো। তোমরা জানো শিববাবা কে? শিবের মন্দিরও অনেক তৈরী করেছে। মূর্তি তো বাড়ীতেও রাখতে পারে, তাই না! কিন্তু ভক্তি মার্গও ড্রামাতে নির্ধারিত। বুদ্ধি দিয়ে কাজ করতে হয়। কৃষ্ণের অথবা শিবের মূর্তি বাড়ীতেও রাখা যেতে পারে। জিনিস তো হলো একই। তবে এতো দূরে দূরে কেন যাও ? ওদের কাছে গেলে কি কৃষ্ণপুরীর উত্তরাধিকার প্রাপ্ত হবে? এখন তোমরা জানো যে, জন্ম-জন্মান্তর আমরা ভক্তি করে এসেছি। রাবণ রাজ্যেরও কতো আড়ম্বর দেখো। এইসব হলো শেষের দিকের আড়ম্বর। রামরাজ্য তো ছিলো সত্যযুগে, সেখানে এই বিমান ইত্যাদি সব ছিলো, আবার বিলুপ্ত হয়ে গেছে। আবার এই সময়ে সবকিছু বের হয়েছে। এখন এই সব শিখছে, যারা শেখার তারা সংস্কার নিয়ে যাবে। সেখানে এসে আবার বিমান তৈরী করবে। ভবিষ্যতে এইটা তোমাদের কাছে সুখদায়ক হবে। এই সায়েন্স আবার তোমাদের কাজে আসবে। এখন এই সায়েন্স হলো দুঃখের জন্য - সেইখানে আবার সুখের জন্য হবে। এখন স্থাপনা চলছে। বাবা নতুন দুনিয়ার জন্য রাজধানী স্থাপন করছেন, বাচ্চারা- তাই তো তোমাদের মহাবীর হতে হবে। দুনিয়াতে এইটা লোকে কমই জানে যে ভগবান এসেছেন। বাবা বলেন ঘর গৃহস্থে থেকেও কমল ফুলের মতন পবিত্র থাকো, এতে ভয়ের কিছু নেই। অনেক গালি দেবে। গালি তো ইনিও অনেক পেয়েছেন। কৃষ্ণ গালি খেয়েছে- এইরকম দেখানো হয়। এখন কৃষ্ণ তো গালি খেতে পারে না। গালি তো কলিযুগে খায়। তোমাদের যে রূপ এখন আছে - কল্পের শেষে আবার এই সময়ে হবে। মধ্যবর্তী সময়ে কখনো হতে পারে না। জন্ম বাই জন্ম ফিচার্স পরিবর্তিত হতে থাকে, এই ড্রামা তৈরী হয়েই আছে। ৮৪ জন্মতে যারা যে রকম (ফিচার্স) জন্মেছিলো তারাই জন্ম গ্রহণ করবে। এখন তোমরা জানো এই ফিচার্স পরিবর্তন করে অন্য জন্মে এই লক্ষ্মী-নারায়ণের ফিচার্স হয়ে যাবে। তোমাদের বুদ্ধির তালা এখন খুলেছে। এইটা হলো নূতন কথা। বাবাও নতুন, কথাও নতুন। এই কথা কেউ তাড়াতাড়ি বুঝতে পারে না। যখন ভাগ্যে থাকবে তখন কিছু বুঝবে। এছাড়া মহাবীর তাদের বলা হয় যারা কি না যতই ঝড়ঝঞ্ঝা আসুক না কেন, অনড় থাকে। এখন সেই অবস্থা হতে পারে না। হবে অবশ্যই। মহাবীর কোনো ঝড়ে ভয় পাবে না। সেই অবস্থা শেষে হবে- সেইজন্য গাওয়া হয়েছে অতীন্দ্রিয় সুখ গোপ-গোপীদের জিজ্ঞাসা করো। বাচ্চারা, বাবা এসেছেন তোমাদের স্বর্গের যোগ্য করে গড়ে তুলতে। পূর্ব কল্পের ন্যায় নরকের বিনাশ হতেই হবে। সত্যযুগে তো একই ধর্ম হবে। চাহিদাও থাকে অখন্ডতার, এক ধর্ম হওয়া উচিত। এইটাও কারোর জানা নেই যে রামরাজ্য, রাবণ রাজ্য হলো আলাদা- আলাদা। এখন বাবার প্রতি দৃঢ় বিশ্বাস থাকলে শ্রীমৎ অনুযায়ী চলতে হবে। প্রত্যেকের নাড়ী দেখা হয়। সেই অনুযায়ী আবার রায়ও দেওয়া হয়ে থাকে। বাবাও বাচ্চাদের বলেছেন- যদি বিবাহ করতে হয় তো যাও গিয়ে করো। অনেক বন্ধু-পরিচিত ইত্যাদি বসে আছে, ওদের বিবাহ করিয়ে দেবে। তবুও কেউ না কেউ বেরিয়ে যায়। তাই প্রত্যেকের নাড়ী দেখা হয়। জিজ্ঞাসা করে বাবা এই অবস্থা, আমি পবিত্র থাকতে চাই, আমার আত্মীয় আমাকে বাড়ী থেকে বের করে, এখন কি করা উচিত? আরে, এটাও জিজ্ঞাসা করছো, পবিত্র থাকতে হবে, যদি না থাকতে পারো তো গিয়ে বিবাহ করো। আচ্ছা, মনে করো কারোর আশীর্বাদ (বিবাহের পাকা কথা) হয়েছে, খুশী হতে হবে, এইটা কোনো ব্যাপার না। বিবাহের সময় যখন হাতে গাঁটছড়া বাঁধে সেই সময় বলে এই পতি হলো তোমার গুরু। আচ্ছা, তুমি তাকে দিয়ে লিখিয়ে নাও, তুমি মানছো যে আমি তোমার গুরু ঈশ্বর, লেখো। আচ্ছা, এখন আমি আদেশ দিচ্ছি পবিত্র থাকতে হবে। এর জন্য তো সাহস চাই, তাই না ! লক্ষ্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ যে। প্রাপ্তি খুবই মহান। কামের আগুন তখনই লাগে যখন প্রাপ্তি সম্বন্ধে অবগত থাকে না। বাবা বলেন - এতো বড় প্রাপ্তি হয় যখন, তবে এক জন্ম পবিত্র থাকা কী এমন বড় কথা হলো ! আমি হলাম তোমার পতি, ঈশ্বর। আমার অজ্ঞাতেই পবিত্র থাকতে হবে। বাবা যুক্তি গুলি বলে দেন। ভারতে এইটা হলো রীতি - স্ত্রীকে বলে দেয় তোমার স্বামী হলো ঈশ্বর। তার আদেশ পালন করে থাকতে হবে। স্বামীর পা টিপতে হবে, কারণ মনে করে লক্ষ্মীও নারায়ণের পা টিপে দিতেন। এই অভ্যাস কোথা থেকে এলো? ভক্তি মার্গের চিত্র থেকে। সত্যযুগে তো এইরকম ব্যাপার হয় না। নারায়ণ কি আর কখনো ক্লান্ত হয়ে পড়ে, যে লক্ষ্মী পা টিপবে! ক্লান্ত হওয়ার তো কোনো প্রশ্নই নেই। এ'সব হলে তো দুঃখের ব্যাপার হয়ে যায়। সেইখানে দুঃখ-কষ্ট কোথা থেকে আসে। তখন বাবা ফটো থেকে লক্ষ্মীর চিত্রই বাদ দিয়ে দিলেন। নেশা তো চড়ে, তাই না ! ছোটবেলা থেকেই বৈরাগ্য ছিল, সেইজন্য ভক্তি খুবই করতেন। তাই বাবা অনেক যুক্তি বলে দেন। তোমরা জানো যে আমরা এক বাবারই বাচ্চা - তাই নিজেদের মধ্যে ভাই - বোন হয়ে গেলাম। পিতামহের কাছ থেকে উত্তরাধিকার প্রাপ্ত করি। বাবাকে ডাকা হয় অপবিত্র দুনিয়াতে। হে পতিত-পাবন সকল সীতাদের রাম। বাবাকে বলা হয় ট্রুথ, সত্য ভূ-খন্ড স্থাপন করতে যিনি সক্ষম। তিনিই সমগ্র সৃষ্টির আদি-মধ্য- অন্তের সত্য জ্ঞান তোমাদের প্রদান করেন। তোমাদের আত্মা এখন জ্ঞান সাগর হচ্ছে। মিষ্টি বাচ্চাদের সাহস থাকা দরকার, আমাদের বাবার শ্রীমত অনুযায়ী চলতে হবে। অসীম জগতের পিতা অসীম জগতের রচনাকে স্বর্গের মালিক করে দেন। তাই পুরুষার্থ করে সম্পূর্ণ উত্তরাধিকার নিতে হবে। সমর্পণ করতে হবে। তোমরা তাঁকে নিজের উত্তরাধিকারী করলে তবে তিনিও তোমাদের ২১ জন্মের জন্য উত্তরাধিকার প্রদান করবেন। বাবা বাচ্চাদের প্রতি নিজেকে সঁপে দেন। বাচ্চারা বলে বাবা এই তন-মন- ধন্যবাদ সব আপনার। আপনি বাবাও হন, আবার বাচ্চাও হন। গায়ও - ত্বমেব মাতাশ্চ পিতা ত্বমেব... এক-এরই কত বড় মহিমা । ওনাকে বলাই হয় সকলের দুঃখ হরণকারী, সুখ প্রদানকারী। সত্যযুগে পঞ্চ তত্ত্বও সুখ প্রদানকারী। কলিযুগে পঞ্চ তত্ত্বও তমোপ্রধান হওয়ার কারণে দুঃখ দেয়। সেখানে তো থাকেই সুখ। এই ড্রামা পূর্ব নির্ধারিত। তোমরা জানো যে এইটা সেই ৫ হাজার বছর পূর্বের লড়াই। এখন স্বর্গের স্থাপনা হচ্ছে। তাই বাচ্চাদের সর্বদা খুশীতে থাকা উচিত। ভগবান তোমাদের অ্যাডপ্ট করেছেন, তারপর বাচ্চারা তোমাদের শৃঙ্গারও করান, অধ্যয়ণও করান। আচ্ছা!


মিষ্টি-মিষ্টি হারানিধি বাচ্চাদের প্রতি মাতা-পিতা বাপদাদার স্মরণের স্নেহ-সুমন আর সুপ্রভাত। আত্মাদের পিতা তাঁর আত্মা রূপী বাচ্চাদেরকে জানাচ্ছেন নমস্কার।


ধারণার জন্য মুখ্য সার :-

১ ) সর্বদা বাবার সমান হওয়ার সাহস রাখতে হবে। বাবার প্রতি সম্পূর্ণ সমর্পিত থাকতে হবে।


২ ) কোনো ব্যাপারেই ভয় পেতে নেই। পবিত্র অবশ্যই হতে হবে।


বরদান:-সমস্যাকে উত্তরণের কলার সাধন অনুভব করে সদা সন্তুষ্ট থাকা শক্তিশালী ভব

যারা শক্তিশালী আত্মা, তারা সমস্যাগুলিকে এমনভাবে পার করে যেন কোনো সহজ রাস্তা সহজেই পার করছে। সমস্যাগুলো তাদের কাছে উন্নতির সাধন হয়ে ওঠে। প্রতিটি সমস্যা তাদের কাছে পরিচিত বলে অনুভব হয়। তারা কখনোই অবাক হয়না, বরং সদা সন্তুষ্ট থাকে। তাদের মুখ থেকে কখনও কারণ শব্দটি বের হয় না বরং সেই সময় কারণকে নিবারণে পরিবর্তন করে দেয়।


স্লোগান:-

স্ব-স্থিতিতে স্থিত থেকে সর্ব পরিস্থিতিকে পার করাই হলো শ্রেষ্ঠত্ব ।


মাতেশ্বরী জীর অমূল্য মহাবাক্য : -পরমার্থের দ্বারা আচার ব্যবহার (জীবনের সর্বোচ্চ উদ্দেশ্য) স্বতঃতই সিদ্ধ (প্রমাণিত) হয়ে যায় :-

ভগবানুবাচ : তোমরা আমার দ্বারা পরমার্থকে জানলে আমার পরম পদকে প্রাপ্ত করবে। অর্থাৎ পরমার্থকে জানলে তোমার আচার ব্যবহার সিদ্ধ হয়ে যাবে। দেখো, দেবতাদের সামনে প্রকৃতি তো চরণের দাসী হয়ে থাকে। এই পাঁচ তত্ত্ব সুখ স্বরূপ হয়ে মনোবাঞ্ছিত সেবা করতে থাকে । এই সময় দেখো মনোবাঞ্ছিত সুখ না মেলার কারণে মানুষের জীবনে দুঃখ, অশান্তি প্রাপ্ত হতেই থাকে। সত্যযুগে তো এই প্রকৃতি সুখদায়ী হয়ে থাকে। দেখো, দেবতাদের জড় চিত্রেও কতো কতো আভূষণ পরানো হয় । তো যখন চৈতন্য রূপে প্রত্যক্ষ হবেন, সেই সময় তবে কতো বৈভব হবে ! এই সময় মানুষ না খেতে পেয়ে মরছে অথচ জড় মূর্তির পিছনে কোটি কোটি টাকা খরচ করছে। তো এখানে কোথায় অন্তর দোখো। নিশ্চয়ই তারা এমন কোনো শ্রেষ্ঠ কর্ম করেছিলেন তবেই তো তাদের এমন স্মরণিক তৈরী হয়েছে। কতো পূজাও করা হয় তাদের। তারা নির্বিকারী প্রবৃত্তিতে থেকেও কমল ফুলের মতো অবস্থাতে, কিন্তু এখন তারা নির্বিকারী প্রবৃত্তির পরবর্তে বিকারী প্রবৃত্তিতে চলে গেছে। যার জন্য সকল পরমার্থকে ভুলে ব্যবহারে বা আচরণের দিকে চলে গেছে। সেইজন্য রেজাল্ট উল্টো দিকে চলে যাচ্ছে। এখন স্বয়ং পরমাত্মা এসে বিকারী প্রবৃত্তির থেকে বের করে নির্বিকারী প্রবৃত্তি শেখাচ্ছেন আমাদেরকে। যার দ্বারা আমাদের জীবনকে সদা কালের জন্য সুখী বানিয়ে থাকি। সেইজন্য প্রথমে চাই পরমার্থ তারপর আচরণ। পরমার্থের মধ্যে থাকলে আচার ব্যবহার অটোমেটিক্যালি সফল হয়ে যাবে। ওম্ শান্তি ।

অব্যক্ত ইশারা :- "নিশ্চয়ের ফাউন্ডেশনকে মজবুত করে সদা নির্ভয় আর নিশ্চিন্ত থাকো"

ডাক্তাররা যেমন প্রথমে রুগীর মধ্যে বিশ্বাস তৈরি করে যাতে রুগীর মধ্যে ভরসা জন্মায় যে এই ডাক্তার খুব ভালো এবং এখান থেকেই শফা (আরোগ্য) পাওয়া যাবে। ডাক্তার যতই ভালো ওষুধ দিক না কেন, যদি বিশ্বাস না থাকে তাহলে সেই ওষুধ কাজ করে না। ঠিক তেমনই রূহানী (আত্মিক) ডাক্তারি করার ক্ষেত্রেও নিজের স্টেজ এমনই শক্তিশালী হওয়া উচিত যাতে সবার মনে এই বিশ্বাস জাগে যে এখানে যখন পৌঁছেছি, তখন অবশ্যই কিছু না কিছু প্রাপ্তি হবেই।


Friday, February 27, 2026

28-02-26 Bengali Murli

"মিষ্টি বাচ্চারা - তোমরা হলে ঈশ্বরীয় সম্প্রদায়, তোমরা জ্ঞান সূর্য বাবাকে পেয়েছো, এখন তোমরা জেগেছো তো অন্যদেরকেও জাগাও"

প্রশ্নঃ -
অনেক রকমের বিবাদের কারণ তথা তার নিবারণ কি?

উত্তরঃ  
যখন দেহ - অভিমান থাকে তখন অনেক রকমের বিবাদের সম্মুখীন হতে হয়। মায়ার গ্রহের দশা তো বসে যায় । বাবা বলেন দেহী - অভিমানী হও, সার্ভিস করতে থাকো। স্মরণের যাত্রাতে থাকলে গ্রহের কুদশা অপসারিত হয়ে যাবে ।

ওম্ শান্তি ।
আত্মা রূপী বাচ্চাদের কাছে বাবা এসেছেন শ্রীমত দিতে বা বোঝাতে। এইটা তো বাচ্চারা বুঝতে পেরেছে যে ড্রামা প্ল্যান অনুসারে সমগ্র কার্য হবে। এছাড়া সময় খুব সামান্য আছে। এই ভারতকে রাবণপুরী থেকে পুনরায় বিষ্ণুপুরী করে তুলতে হবে। এখন বাবাও হলেন গুপ্ত, পড়াশোনা হলো গুপ্ত। সেন্টার্স তো অনেক আছে, ছোটো - বড় গ্রামে ছোটো - বড় সেন্টার্স আছে আর বাচ্চারাও সংখ্যায় অনেক। এখন বাচ্চারা চ্যালেঞ্জ তো দিয়েছে আর লিখতেও হবে, কেউ যখন লিটারেচার তৈরী করা হবে তো সেখানে লিখতে হবে- আমরা এই ভারত - ভূমিকে স্বর্গ বানিয়ে ছাড়বো। এই ভারত ভূমি তোমাদেরও খুবই প্রিয়, কারণ তোমরা জানো যে এই ভারতই স্বর্গ ছিলো, তার ৫ হাজার বছর হয়েছে। ভারত খুবই বিত্তবান ছিলো, একে স্বর্গ বলা হয়। এই নলেজ তোমাদের অর্থাৎ ব্রহ্মা মুখ বংশাবলীদেরই আছে। এই ভারতকে আমাদের অবশ্যই শ্রীমত অনুযায়ী স্বর্গ করে তুলতে হবে। সবাইকে পথ বলে দিতে হবে, আর কোনো মতবিরোধে যাওয়ার দরকার নেই। নিজেদের মধ্যে বসে সিদ্ধান্তে আসা উচিত যে এই প্রদর্শনীর চিত্র দ্বারা আমরা এমন কি অ্যাডভর্টাইসমেন্ট করবো, যে সব ছবি সংবাদপত্রেও দেওয়া হবে, এর উপর নিজেদের মধ্যে সেমিনার করা উচিত। যেমন গভর্মেন্টের লোকরা নিজেদের মধ্যে মিলিত হয়ে, সিদ্ধান্ত নেয় যে ভারতকে আমরা কি করে সংশোধন করবো? এই যে এতো সব মতভেদ হয়ে গিয়েছে, সে'সবকে নিজেদের মধ্যে একত্রিত হয়ে ঠিক করতে হবে, আর কি করে ভারতে সুখ শান্তি স্থাপন করবো! ওই গভর্মেন্টেরও প্রচেষ্টা চলছে। তোমারাও পান্ডব গভর্নমেন্ট, তারও তো প্রশস্তি রয়েছে । এ হলো বড় ঈশ্বরীয় গভর্মেন্ট। বাস্তবে একে বলাই হয় পবিত্র ঈশ্বরীয় গভর্মেন্ট, একমাত্র পতিত-পাবন বাবা পতিত বাচ্চাদের পবিত্র দুনিয়ার মালিক তৈরী করেন। এইটা বাচ্চারাই জানে। মুখ্য হলোই ভারতের আদি সনাতন দেবী দেবতা ধর্ম। বাচ্চারা এইটাও জানে যে এই হলো রুদ্র জ্ঞান যজ্ঞ। রুদ্র বলাই হয় ঈশ্বর বাবাকে, শিবকে। বরাবর বলা হয়েছে বাবা এসে রুদ্র জ্ঞান যজ্ঞ রচনা করেছেন। তারা তো টাইম লম্বা চওড়া দিয়ে দিয়েছে। অজ্ঞান নিদ্রাতে নিদ্রিত হয়ে আছে। তোমাদের এখন বাবা জাগৃত করেছেন, তোমাদের আবার অন্যদের জাগৃত করে তুলতে হবে। ড্রামা প্ল্যান অনুসারে তোমরা জাগ্রত করতে থাকবে। এই সময় পর্যন্ত যারা যেমন- যেমন করে যে রকম পুরুষার্থ করেছে, অতটাই কল্প পূর্বেও করেছিলো। হ্যাঁ, যুদ্ধের ময়দানে চড়াই-উতরাই তো হয়েই থাকে। কখনো মায়ার জোর হয়ে যায়, কখনো ঈশ্বরীয় সন্তানের জোর হয়ে যায়। কখনো-কখনো সার্ভিস বেশ ভালো মতো দ্রুত গতিতে চলে। কখনো কোথাও-কোথাও বাচ্চাদের মধ্যে মায়ার বিঘ্ন এসে যায়। মায়া একদম বেহুঁশ করে দেয়। লড়াই এর ময়দান যে ! রাবণ মায়া রামের বাচ্চাদের বেহুঁশ করে দেয়। লক্ষ্মণের ক্ষেত্রেও গল্প আছে না!

তোমরা বলো সমস্ত মানুষ কুম্ভকর্ণের নিদ্রাতে নিদ্রিত হয়ে আছে। তোমরা, এই ঈশ্বরীয় সম্প্রদায়ই এইরকম বলো, যারা জ্ঞান সূর্যকে পেয়েছে আর জেগে উঠেছে, তারাই বুঝবে। এর মধ্যে একে অপরকে বলারও ব্যাপার নেই। তোমরা জানো বরাবর আমরা এই ঈশ্বরীয় সম্প্রদায় জাগৃত হই। এছাড়া অন্যান্যরা সব নিদ্রিত থাকে। তারা এইটা জানে না যে পরমপিতা পরমাত্মা এসে গিয়েছেন, বাচ্চাদের উত্তরাধিকার দিতে। এইটা একদম ভুলে গিয়েছে। বাবা ভারতেই আসেন। এসে ভারতকে স্বর্গের মালিক তৈরী করেন। ভারত স্বর্গের মালিক ছিলো, এর মধ্যে কোনো সংশয় নেই। পরমপিতা পরমাত্মার জন্মও এখানেই হয়। শিবজয়ন্তী পালন করে । অবশ্যই তিনি এসে কিছু তো করেছিলেন যে না! বুদ্ধি বলে অবশ্যই এসে স্বর্গ স্থাপন করাবেন। প্রেরণাতে কি আর স্থাপনা হবে! বাচ্চারা, এখানে তো তোমাদের রাজযোগ শেখানো হয়। স্মরণের যাত্রা বোঝানো হয়ে থাকে। প্রেরণা দিয়ে কোনোই শব্দ হয় না। মনে করে শঙ্করেরও প্রেরণা পেলে তখন সেই যাদব, মুষল ইত্যাদি তৈরী করে। কিন্তু এতে প্রেরণা তো কোনো ব্যাপারই নেই। তোমরা বুঝে গিয়েছো ড্রামাতে ওদের পার্ট মুষল ইত্যাদি তৈরী করার। প্রেরণা ব্যাপার নেই। ড্রামা অনুসারে বিনাশ তো অবশ্যই হতেই হবে। গাওয়া হয়ে থাকে... মহাভারতের লড়াইতে মুষল কাজে লেগেছে। তাই যা পাস্ট হয়ে গিয়েছে সেইটা আবার রিপিট হবে। তোমরা গ্যারান্টি দাও যে আমরা ভারতে স্বর্গ স্থাপন করবো, সেইখানে এক ধর্ম হবে। তোমরা এইরকম লেখো না যে অনেক ধর্ম বিনাশ হবে। সেইটা তো চিত্রতে লেখা হয়েছে যে স্বর্গের স্থাপনা হলে তখন দ্বিতীয় কোনো ধর্ম হয় না। এখন তোমাদের বোধগম্য হয়েছে। সবচেয়ে বড় পার্ট হলো শিবের, ব্রহ্মার আর বিষ্ণুর - এটা তো খুবই রহস্যজনক ব্যাপার। বিষ্ণু থেকে ব্রহ্মা কীভাবে হয়, ব্রহ্মা থেকে আবার বিষ্ণু কীভাবে হয়, এইটা সেন্সিবেল বাচ্চাদের বুদ্ধিতে তাড়াতাড়ি আসে। দৈবী সম্প্রদায় তোমরা তৈরী হয়েই থাকে। একজনের ব্যাপার না। বাচ্চারা,এই ব্যাপারটা তোমরা বুঝতে পারো। দুনিয়াতে একজন মানুষও বুঝতে পারে না। যদি লক্ষ্মী-নারায়ণ বা বিষ্ণুর পূজা করে, কিন্তু তাদের এইটা জানা নেই যে বিষ্ণুরই দুই রূপ হলো লক্ষ্মী-নারায়ণ, যারা নূতন দুনিয়াতে রাজত্ব করে। তাছাড়া ৪ হাত বিশিষ্ট কোনো মানুষ হয় না। এটা সূক্ষ্মলোকে প্রবৃত্তি মার্গের এইম্ অবজেক্ট দেখানো হয়। এই সমগ্র ওয়ার্ল্ডের হিস্ট্রি-জিওগ্রাফি কীভাবে চক্রে আবর্তিত হয়, এইটা কেউ জানে না। বাবাকেই জানে না তো বাবার রচনা কে জানতে পারবে কীকরে? একমাত্র বাবা রচনার আদি-মধ্য-অন্তের নলেজ বলে দেন, ঋষি-মুনিও বলতো আমরা জানি না। বাবাকে জেনে গেলে রচনার আদি-মধ্য-অন্তকে জেনে যাবে। বাবা বলেন আমি একবারই এসে বাচ্চারা, তোমাদের সমগ্র নলেজ বোঝাই - তারপর আর আসিই না । তাহলে রচনা আর রচয়িতার আদি-মধ্য-অন্তকে জানবেই বা কি করে? বাবা স্বয়ং বলেন- আমি সঙ্গমযুগ ব্যতীত আসিই না। আমাকে ডাকেও সঙ্গমে। পবিত্র সত্যযুগকে বলে, পতিত কলিযুগকে বলা হয়। তাই আমি তো অবশ্যই আসবো পতিত দুনিয়ার শেষে, তাই না ! আমি কলিযুগের অন্তে এসে পতিত থেকে পবিত্র করে তুলি। সত্যযুগ ইত্যাদিতে হলো পবিত্র, এইটা তো সহজ কথা, তাই না! মানুষ কিছুই বুঝতে পারে না যে পতিত পাবন বাবা কবে আসবে। এখন তো কলিযুগের শেষ বলবে। যদি বলে কলিযুগে প্রায় ৪০ হাজার বছর পড়ে আছে, তো আর কতো অপবিত্র হবে! কতো দুঃখ হবে! সুখ তো হবেই না! কিছুই না বুঝতে পারার কারণ হলো একদমই ঘোর অন্ধকারে আছে। তোমরা বুঝতে পারো। তাই বাচ্চাদের নিজেদের মধ্যে একত্রিত হতে হবে। চিত্রের উপর ভালো করে বোঝাতে হবে। এও ড্রামা অনুসারে চিত্র ইত্যাদি সব বের করা হয়েছে। বাচ্চারা মনে করে যে সময় পাস হয়ে যায় বা বয়ে যায়, হুবহু ড্রামা চলতে থাকে। বাচ্চাদের অবস্থাও কখনো নীচে, কখনো উপরে হতে থাকে। খুবই বোঝার ব্যাপার। কখনো কখনো কুগ্রহ এসে বসলে তখন সেটা দূর করার জন্য প্রচেষ্টা করে। বাবা বারংবার বলেন - বাচ্চারা, তোমরা দেহ-অভিমানে থাকো বলে বিরোধ হয়। এতে দেহী- অভিমানী হতে হবে। বাচ্চাদের মধ্যে অনেক দেহ- অভিমান আছে। তোমরা দেহী - অভিমানী হলে বাবার স্মরণে থাকবে আর সার্ভিসে উন্নতি করতে থাকবে। যারা উচ্চ পদ প্রাপ্ত করতে চায়, তারা সর্বদা সার্ভিসে লিপ্ত থাকবে। ভাগ্যে না থাকলে আবার উপায়ও থাকবে না। নিজেরাই বলে বাবা আমার ধারণা হয় না। বুদ্ধিতে বসে না, যাদের ধারণা হয় তো খুশীও খুব হয়। বুঝতে পারে শিববাবা এসেছেন, এখন বাবা বলেন - বাচ্চারা, তোমরা ভালো করে বুঝে আবার অপরকে বোঝাও। কেউ তো আবার সার্ভিসেই লেগে থাকে। পুরুষার্থ করতে থাকে। বাচ্চারা এইটাও জানে প্রতিটা মুহূর্ত বয়ে যাচ্ছে, তা ড্রামাতে নির্ধারিত রয়েছে আবার ওইরকমই রিপিট হবে। বাচ্চাদের বোঝানো হয়, বাইরে বক্তৃতা ইত্যাদিতে তো অনেক ধরনের নতুনরা আসে শোনার জন্য। তোমরা মনে করো বেদ শাস্ত্র ইত্যাদির উপর কতো মানুষ সার্ভিস করে, ওদের কি আর জানা থাকে যে ঈশ্বর নিজের আর নিজের রচনার আদি-মধ্য-অন্তের রহস্য বোঝান। রচয়িতাই এসে সমগ্র জ্ঞান শোনান। ত্রিকালদর্শী তৈরী করা, এইটা একমাত্র বাবার কাজ। শাস্ত্রে এ'সব কথা নেই। এ' সব হল নতুন কথা। বাবা বারংবার বোঝান যে কোনো জায়গায়ই প্রথমেই এইটা বোঝাও যে গীতার ভগবান কে - শ্রীকৃষ্ণ না ভগবান শিব? এই কথা প্রজেক্টারে তোমরা বোঝাতে পারবে না। প্রদর্শনীতে চিত্র সামনে থাকে, তার উপর বুঝিয়ে তোমরা জিজ্ঞাসা করতে পারো। এখন বলো গীতার ভগবান কে? জ্ঞান সাগর কে? কৃষ্ণকে তো বলা যাবে না। পবিত্রতা, সুখ-শান্তির সাগর, লিবারেটর, গাইড কে? প্রথম দিকে তো লেখা উচিত, ফর্ম ভর্তি করা উচিত তারপর সবার সই নেওয়া চাই।

(পাখীর আওয়াজ হচ্ছিলো) দেখো কতো ঝগড়া করে। এই সময়ে সারা দুনিয়াতে লড়াই-ঝগড়াই হতে থাকে। মানুষও নিজেদের মধ্যে লড়তে থাকে। মানুষের মধ্যেই বোঝানোর বুদ্ধি থাকে। ৫ বিকারও মানুষের মধ্যে বলা হয়। জানোয়ারের তো সে'সব নেই। এটা হলো ভিশেস বা পাপের দুনিয়া। ওয়ার্ল্ড মানুষের জন্যই বলা হয়। কলিযুগে হলো আসুরিক সম্প্রদায়, সত্যযুগে হলো দৈবী সম্প্রদায়। এখন তোমরা এই সমস্ত কন্ট্রাস্টের কথা জানো। তোমরা প্রমাণ দিয়ে বলতে পারো। সিঁড়িতেও ভালো মতোন ক্লীয়ার দেখানো হয়েছে। নীচে হলো পতিত, উপরে হলো পবিত্র। এতে খুবই ক্লীয়ার। সিঁড়িই হলো প্রধান - আরোহনের কলা আর অবরোহনের কলা। এই সিঁড়ি খুব ভালো, এটাতে এমন কি দেওয়া যায় যাতে মানুষ একদমই ভালো মতো বুঝে যাবে যে বরাবর এই হলো পতিত দুনিয়া, পবিত্র দুনিয়া স্বর্গ ছিলো। এখানে হলো সবাই পতিত, পবিত্র একজনও থাকতে পারে না। রাত-দিন এই ভাবনা চলা উচিত। 'আত্ম প্রকাশ' বাচ্চা লেখে- বাবা এই রকম চিত্র তৈরী করবো? বাবা বলে, তা বিচার সাগর মন্থন করে চিত্র তৈরী করো, কিন্তু সিঁড়ির চিত্র খুব ভালো তৈরী করা উচিত। এর উপর অনেকটা বোঝানো যায়। ৮৪ জন্ম সম্পূর্ণ করে আবার প্রথম নম্বর জন্ম নিয়েছে আবার অবতরণের কলা থেকে উত্তরণের করাতে যেতে হবে, এতে প্রত্যেকের বিচার চলা উচিত। তা না হলে সার্ভিস কি করে করতে পারবে? চিত্র দিয়ে বোঝানো খুবই সহজ হয়। সত্যযুগের পরে সিঁড়ি দিয়ে নামতে হয়। এও বাচ্চারা জানে- আমরা হলাম পার্টধারী অ্যাক্টার্স। এইখান থেকে ট্রান্সফার হয়ে সোজা সত্যযুগে যায় না, প্রথমে শান্তিনামে যেতে হবে। হ্যাঁ, তোমাদের মধ্যেও নম্বর অনুযায়ী থাকে যারা এই ড্রামাতে নিজেকে পার্টধারী মনে করে। দুনিয়াতে এইরকম কেউ বলতে পারে না যে আমরা হলাম পার্টধারী। আমরা লিখেও থাকি যে পার্টধারী অ্যক্টার্স থাকা সত্ত্বেও ড্রামার ক্রিয়েটার, ডায়রেক্টর, আদি-মধ্য-অন্তকে জানতে পারে না তো তারা হলো ফার্স্ট ক্লাস অবুঝ! এ তো হলো ভগবানুবাচ! শিব ভগবানুবাচ ব্রহ্মা তন দ্বারা। জ্ঞান সাগর হলেন সেই নিরাকার, তাঁর নিজের শরীর নেই। বোঝার জন্য অনেক বড় যুক্তি এ'সব। বাচ্চারা, তোমাদের খুবই নেশা থাকা উচিত, আমরা কি কারোর গ্লানি করতে পারি ! এ তো রাইট কথা ! বড়-বড় যারাই আছে তাদের সকলের চিত্র তোমরা দিতে পারো। সিঁড়ির চিত্র সকলকেই দেখাতে পারো। আচ্ছা!

মিষ্টি-মিষ্টি হারানিধি বাচ্চাদের প্রতি মাতা-পিতা বাপদাদার স্মরণের স্নেহ-সুমন স্মরণ-ভালবাসা আর সুপ্রভাত। আত্মাদের পিতা তাঁর আত্মা রূপী বাচ্চাদেরকে জানাচ্ছেন নমস্কার।

ধারণার জন্য মুখ্য সার :-
১ ) ভারতে সুখ - শান্তি স্থাপন করার জন্য বা ভারতকে স্বর্গ করার জন্য নিজেদের মধ্যে সেমিনার করতে হবে, শ্রীমৎ অনুযায়ী ভারতের এইরকম সেবা করতে হবে।

২ ) সার্ভিসে উন্নতি করতে বা সার্ভিস করে উচ্চ পদ প্রাপ্ত করার জন্য দেহী- অভিমানী থাকার পরিশ্রম করতে হবে। জ্ঞানের বিচার সাগর মন্থন করতে হবে।

বরদান:-
পবিত্রতার আধারে সুখ-শান্তির অনুভবকারী নম্বর ওয়ান অধিকারী ভব

যে বাচ্চারা পবিত্রতার প্রতিজ্ঞাকে সদা স্মৃতিতে রাখে, তাদের সুখ-শান্তির অনুভূতি স্বতঃ হবে। পবিত্রতার অধিকার নিতে নম্বর ওয়ান থাকা অর্থাৎ সর্বপ্রাপ্তিতে নম্বর ওয়ান হওয়া এইজন্য পবিত্রতার ফাউন্ডেশনকে কখনও দুর্বল করো না তবেই লাস্ট সো ফার্স্ট এ যেতে পারবে, এই ধর্মে সদা স্থিত থাকো। যাকিছু হয়ে যাক - ব্যক্তি, প্রকৃতি, পরিস্থিতি যতই নাড়ানার চেষ্টা করুক কিন্তু শরীর যায় যাক কিন্তু ধর্ম যেন না যায়।

স্লোগান:-
ব্যর্থ থেকে ইনোসেন্ট হও তাহলে সতিকারের সেন্ট হয়ে যাবে।

অব্যক্ত ঈশারা :- একতা আর বিশ্বাসের বিশেষত্বের দ্বারা সফলতা সম্পন্ন হও

বাপদাদা চান যে প্রত্যেক বাচ্চা একরস শ্রেষ্ঠ স্থিতির আসনধারী, একান্তবাসী, অশরীরী, একতা স্থাপক, একনামী, ইকোনোমীর অবতার হোক। একে-অপরের চিন্তাভাবনাকে বুঝে, সম্মান দিয়ে, একে-অপরকে ঈশারা দিয়ে, লেনদেন করে নিজেদের সংগঠনের শক্তির স্বরূপ প্রত্যক্ষ করো, কেননা তোমাদের সংগঠনের একতার শক্তি সমগ্র ব্রাহ্মণ পরিবারকে সংগঠনে নিয়ে আসার নিমিত্ত হবে।

Saturday, February 21, 2026

22-01-2026 BENGALI MURLI 05-02-09

 "সেবার সময় ডবল লাইট স্থিতির দ্বারা ফরিস্তাসুলভ অবস্থায় থাকো, অশরীরী হওয়ার অভ্যাস করো"

আজ বাপদাদা চারিদিকের বাচ্চাদের তিনটি রূপ দেখছেন, যেমন তোমরা বাবার তিনটি রূপ জানো, তেমনই বাচ্চাদেরও তিনটি রূপ দেখছেন। এই সঙ্গমযুগের যেটা লক্ষ্য ও লক্ষণ - প্রথম রূপ ব্রাহ্মণ, দ্বিতীয় ফরিস্তা, তৃতীয় দেবতা। ব্রাহ্মণ থেকে ফরিস্তা, ফরিস্তা থেকে দেবতা। তাহলে বর্তমান সময়ে বিশেষ কোন্ লক্ষ্য সামনে থাকে? কারণ ফরিস্তা না হলে দেবতা হওয়া যায় না। তাই বর্তমান সময়ে এবং নিজের পুরুষার্থ অনুযায়ী এখন লক্ষ্য একটাই - ফরিস্তা হওয়া। সঙ্গমযুগের সম্পন্ন রূপ হলো ফরিস্তা তথা দেবতা হওয়া। তোমরা ফরিস্তার পরিভাষাও জানো। ফরিস্তা অর্থাৎ পুরানো দুনিয়ার সম্পর্ক, সংস্কার ও সংকল্প থেকে হালকা থাকা। পুরানো সংস্কারের সবেতেই হালকা। শুধু নিজের সংস্কার, স্বভাব বা সংসারের বিষয়ে হালকাভাব নয়, বরং ফরিস্তা অর্থাৎ সকলের সঙ্গে সম্পর্কে এসেও সকলের স্বভাব-সংস্কারের প্রতিও হালকাভাব। এই হালকাভাবের লক্ষণ কী? সেই ফরিস্তা আত্মা হবে সবার প্রিয়। কারও কারও প্রিয় নয়, সবার প্রিয়। যেমন ব্রহ্মা বাবাকে প্রত্যেকে নিজের বলে অনুভব করতো, “আমার বাবা” বলতো। এই রকম ফরিস্তা অর্থাৎ সবার প্রিয়। অনেক বাচ্চা ভাবে ব্রহ্মা বাবা তো ব্রহ্মাই ছিলেন। কিন্তু তোমরা সবাই তোমাদের মতোই ব্রাহ্মণ আত্মাদের মধ্যে দেখেছো যে, তোমাদের সকলের প্রিয় দাদি, যাকে সবাই ভালোবাসার সাথে অনুভব করতো যে, ইনি “আমাদের দাদি”। সকল দিকের স্বভাব, সংস্কার এবং এই পুরানো দুনিয়ায় থেকেও এত ডিট্যাচ্ড ও প্রিয়, সবাই নিজের অধিকারের সাথে বলতো, আমাদের দাদি। তো এর কারণ কী? নিজের স্বভাব ও সংস্কারে তিনি ছিলেন হালকা। সবাইকে আপনত্বের অনুভব করাতেন। এক্সাম্পল হয়ে রইলেন। জগৎ অম্বাকেও তোমরা দেখেছো, কিন্তু অনেকেই ভাবে তিনি তো জগৎ অম্বাই ছিলেন। কিন্তু দাদি তো তোমাদের ব্রাহ্মণ পরিবারে যেন সাথী ছিলেন। তাঁর কাছে যদি পুরুষার্থের বিষয়ে শুনতে বা জিজ্ঞাসা করতে, তাহলে তাঁর মুখে সবসময় একটি কথাই থাকতো - “এখন কর্মাতীত হতে হবে।” কর্মাতীত হওয়ার একাগ্রতায় তিনি অন্যদেরও বারবার এই কথাটাই মনে করিয়ে দিতেন। তাই প্রতিটি ব্রাহ্মণের এখন লক্ষ্য ও লক্ষণ বিশেষ ভাবে এটাই হওয়া উচিত, আছেও, কিন্তু নম্বর অনুযায়ী। এই একাগ্রতা যেন থাকে এখন ফরিস্তা হতেই হবে। ফরিস্তা অর্থাৎ এই দেহ, সাকার দেহ থেকে ডিট্যাচ, সদা লাইটের দেহধারী। ফরিস্তা অর্থাৎ এই কর্মেন্দ্রিয়ের রাজা।


বাপদাদা পূর্বেও শুনিয়েছিলেন যে সমগ্র সৃষ্টিচক্রের মধ্যে এক বাপদাদাই আছেন যিনি দৃঢ়তার সাথে বলেন যে আমার এক একটি বাচ্চা হলো রাজা বাচ্চা, স্বরাজ্য অধিকারী। তো ফরিস্তা অর্থাৎ স্বরাজ্য অধিকারী। এইরকম স্বরাজ্য অধিকারী আত্মা হলো লাইটের স্বরূপধারী। যে কেউ এইরকম লাইটের ডবল হালকাভাবের স্থিতিতে স্থিত হয়ে যদি কারোর সামনে উপস্থিত হয়, তাহলে তার ললাটে আত্মা জ্যোতির ভাব চলতে-ফিরতেও দেখা যাবে। এখন এই তীব্র পুরুষার্থের লক্ষ্য আর লক্ষণ সদা ইমার্জ রাখো। যেরকম ব্রহ্মা বাবার মধ্যে দেখেছো, যখন কেউ বাবার সাথে সাক্ষাৎ করতে আসতো, দৃষ্টি নিত তো কথা বলতে বলতে কি দেখতে পেতো? (ব্রহ্মা বাবার অন্তিমে দিন গুলিতে) লাস্টে অনুভব করতো যে ব্রহ্মা বাবা কথা বলতে বলতেও মিষ্টি অশরীরী স্থিতিতে স্থিত হয়ে যাচ্ছেন। তা সেটা যতই সার্ভিসের সমাচার হোক না কেন, অন্যদেরকেও সেকেন্ডে অশরীরীভাবের অনুভব করাতেন। আর যেকোনও মুরলীতে চেক করো, তবে বারংবার আমি হলাম অশরীরী আত্মা, আত্মার পাঠ একই মুরলীতে কতবার স্মরণ করাতেন। তো এখনও সময় অনুসারে ছোটো ছোটো বিস্তাররের কথা, স্বভাব-সংস্কারের কথা, অশরীরী অবস্থার থেকে দূরে সরিয়ে দেয় । এখন এটার পরিবর্তন চাই।


বাপদাদা দেখেছেন সেবার রেজাল্ট খুব ভালো হচ্ছে, সেবার জন্য মেজরিটি বাচ্চার উৎসাহ উদ্দীপনা আছে, প্ল্যানও বানাতে থাকে, সন্দেশ দেওয়া এটাও আবশ্যক আর বাপদাদা আজও ভিন্ন ভিন্ন বর্গের, ভিন্ন-ভিন্ন স্থানের সেবার ভালো রেজাল্ট দেখছেন কিন্তু সেবার সাথে সাথে অশরীরীভাবের বায়ুমন্ডল, পরিশ্রম কম আর প্রভাব বেশী ফেলে। জ্ঞান শুনতে ভালো তো লাগে, কিন্তু বায়ুমন্ডলের দ্বারা, অশরীরীভাবের দৃষ্টির দ্বারা অনুভব করে আর সেই অনুভব ভুলে যায় না। তো ফরিস্তা ভাবের ধুন এখন সেবাতে বিশেষ অ্যাডিশন করো। কোনও না কোনও শান্তির, খুশীর, সুখের, আত্মিক প্রেমের অনুভব করাও। আচার ব্যবহারে যে প্রেম আর যে আতিথেয়তা করে থাকো, সম্বন্ধের দ্বারা, পরিবারের দ্বারা সেসব তো অনুভব করতে থাকে কিন্তু অতীন্দ্রিয় সুখের ফিলিংস, শান্তির আত্মিক নেশা এখন বায়ুমন্ডল আর ভায়ব্রেশনে বিশেষ অ্যাটেনশানে রাখো। বিশেষ অনুভব করাও, কিছু না কিছু অনুভব করাও। যেরকম সিস্টেমে প্রভাবিত হয়ে এখান থেকে যায়, সেইরকম সিস্টেম পরিবারের ভালোবাসা আর কোথাও পাওয়া যাবে না, এইরকম এখন কোনও না কোনও শক্তির, কোনও না কোনও প্রাপ্তির অনুভব করিয়ে যাও। এখন ৭০-৭২ বছর পূর্ণ হচ্ছে, এত সময়ের রেজাল্টে কি দেখা গেছে! পরিশ্রম করেছে কিন্তু এখনও পর্যন্ত ব্রহ্মাকুমারীরা কাজ করছে, ব্রহ্মাকুমারীদের জ্ঞান খুব ভালো। সেই জ্ঞান প্রদাতা কে! কে চালাচ্ছেন! সোর্স কে! তোমাদের সকলের মুখে বাবা শব্দ শুনে বলেও থাকে যে ইনি হলেন এদের বাবা কিন্তু তিনি আমারও বাবা, বাবার প্রত্যক্ষতা এখন গুপ্ত রূপে আছে। "বাবা বাবা" বলে, কিন্তু আমার বাবা, আমি বাবার, বাবা আমার - এটা কোটির মধ্যে কারো কারো মুখ থেকে বের হয়।


সঙ্গম যুগের লক্ষ্য কী? আমাদের সকল আত্মাদের বাবা এসে গেছেন, উত্তরাধিকার তো বাবার দ্বারাই প্রাপ্ত হবে তাই না! সেই প্রভাব ফরিস্তা অবস্থার দ্বারা বায়ুমন্ডলে ছড়িয়ে পড়বে। এদের দৃষ্টি থেকে লাইট প্রাপ্ত হয়, এনাদের দৃষ্টিতে আত্মিকতার লাইট নজরে আসে, তো এখন তীব্র পুরুষার্থের এই লক্ষ্য রাখো - আমি ডবল লাইট ফরিস্তা, চলতে-ফিরতে ফরিস্তা স্বরূপের অনুভূতি বাড়াও। অশরীরীভাবের অনুভবকে বাড়াও। সেকেন্ডে কোনও সংকল্পকে সমাপ্ত করতে, সংস্কার স্বভাবে ডবল লাইট। কিছু বাচ্চা বলে আমি তো হালকা থাকি কিন্তু আমাকে অন্যরা চিনতে পারে না। কিন্তু এমন ডবল লাইট ফরিস্তা, তো ডবল লাইটের লাইট কি লুকিয়ে থাকতে পারে? ছোটো স্থুল লাইট, সেটা টর্চ হোক বা দেশলাই কাঠি হোক, লাইট যেখানেই জ্বলবে, লুকিয়ে থাকবে না, আর এখানে তো হলো আত্মিক লাইট, তো নিজের বায়ুমন্ডলের দ্বারা তাদেরকে অনুভব করাও যে আমি কে! জগদম্বা বা দাদীরা কখনও বলেননি যে - না, আমাকে জানে না। নিজেদের বায়ুমন্ডলের দ্বারা সকলের প্রিয় ছিলেন। এইজন্য দাদীর উদাহরণ দিচ্ছেন কেননা ব্রহ্মা বাবার বিষয়ে ভেবে থাকে যে, ব্রহ্মা বাবার মধ্যে তো শিব বাবা ছিলেন, শিব বাবার বিষয়ে ভাবে যে তিনি তো হলেনই নিরাকার, ডিট্যাচ আর নিরাকার, আমরা তো হলাম স্থুল শরীরধারী। এত বড় সংগঠনে থাকছো, প্রত্যেকের সংস্কারের মাঝে আছো, সংস্কারের মিলন করো আর ফরিস্তা হয়ে যাও। সংস্কারকে দেখে কোনও বাচ্চা ভগ্নোৎসাহ হয়ে যায়, বাবা খুব ভালো, ব্রহ্মা বাবা খুব ভালো, জ্ঞান খুব ভালো, প্রাপ্তি খুব ভালো, কিন্তু সংস্কার স্বভাব মেলানো অর্থাৎ সকলের প্রিয় হওয়া। কিছু কিছু আত্মার প্রিয় নয়, কেননা কিছু বাচ্চা বলে যে কারো কারো বিশেষত্ব দেখেও ভালোবাসা হয়ে যায়। এর ভাষণ খুব ভালো, এর মধ্যে অমুক বিশেষত্ব খুব ভালো আছে, খুব ভালো কথা বলে - ফরিস্তা হওয়াতে এইসব বিঘ্ন আসে। প্রিয় স্টেজ বানাও, ক্ষতি নেই, কিন্তু আমি আত্মা ডিট্যাচ, ডিট্যাচ স্টেজে থেকে প্রিয় স্টেজ বানাও। বিশেষত্ব দেখে প্রিয় নয়। এর এই গুণ আমার খুব ভালো লাগে, সেটা যদিও ধারণ করো কিন্তু এর কারণে কেবল প্রিয় হওয়া, এটা হলো রং। ফরিস্তা হলো সকলের প্রিয়। প্রত্যেকে বলবে আমার, নিজের বলে অনুভব করবে। এইরকম ফরিস্তা অবস্থাতে বিঘ্ন দুটো জিনিস দেয়। এক তো দেহ বোধ, সেটা তো ন্যাচারাল সকলের অনুভব আছে, ৬৩ জন্মের দেহ বোধ প্রকট হয়ে যায় আর দ্বিতীয় হলো দেহ অভিমান, দেহ বোধ আর দেহ অভিমান। জ্ঞানে যত যত এগিয়ে যেতে থাকে ততোই নিজের প্রতিও কখনও কখনও দেহ অভিমান এসে যায়, সেই অভিমান নিচে নামিয়ে দেয়। কিরকম দেহ অভিমান আসে? যাকিছু বিশেষ গুণ আছে, সেগুলির অভিমান থাকে, আমি কম কিছু নই, আমার ভাষণ সকলের পছন্দ হয়। আমার সেবার প্রভাব পড়ে, কোনও কলা, আমার পরিচালন ক্ষমতা খুব ভালো, আমার কোর্স করানো খুব ভালো। এইরকম কোনও না কোনও অভিমান জ্ঞানে এগিয়ে যেতে, সেবাতে এগিয়ে যেতে, নিজের মধ্যে চলে আসে। আবার অন্যদের গুণ বা কলা বা বিশেষত্বের প্রতিও ভালোবাসা হয়ে যায়। কিন্তু স্মরণে কে আসবে? দেহ বোধই স্মরণে আসবে তাই না, অমুক ব্যক্তির বুদ্ধি খুব ভালো, আমার হ্যান্ডলিং খুব ভালো, এই অভিমান সেবা বা পুরুষার্থে সেই পুরুষার্থীর কাছে অভিমানের রূপে আসে। তো এটাও চেক করতে হবে আর অভিমানীদের মধ্যে অভিমান আছে সেটা চেক করার সাধন হলো অভিমানীদের কেউ যদি অল্প একটু অপমান করে, তার চিন্তা ভাবনার, তার রায়ের, তার কলার, তার হ্যান্ডলিঙের অপমান খুব তাড়াতাড়ি অনুভব হবে। আর অপমান অনুভব হবে, তার আরও সূক্ষ্ম লক্ষণ হলো ক্রোধের অংশের জন্ম হওয়া, তেজ দেখানো । সেটা ফরিস্তা হতে দেবে না। তো বর্তমান সময়ের হিসেবের দ্বারা বাপদাদা পুনরায় ঈশারা দিচ্ছেন যে, নিজের সঙ্গম যুগের লাস্ট স্বরূপ ফরিস্তা এখন জীবনে প্রত্যক্ষ করো, সাকারে নিয়ে এসো। ফরিস্তা হলে অশরীরী হওয়া আরও সহজ হয়ে যাবে। নিজের চেকিং করো যে নিজের বিশেষত্ব বা আর কারোও বিশেষত্বের দ্বারা সূক্ষ্ম রূপেও কোনও বন্ধন বা অভিমান নেই তো? কিছু বাচ্চার অবস্থা, কোনও ছোটো কথাও যদি হয় তো নিচে উপর হয়ে যায়। হৃদয়ে খুশী, চেহারাতে খুশী... এর পরিবর্তে চিন্তন চেহারা বা চিন্তিত চেহারা হয়ে যায় আর চলতে-চলতে হতোদ্যমও হয়ে যায়। হৃদয়ে খুশীর পরিবর্তে হতোদ্যম। তো বুঝেছো, এখন নিজের সঙ্গম যুগের লাস্ট স্টেজ ফরিস্তাভাবের সংস্কার ইমার্জ করো যেরকম ব্রহ্মা বাবাকে দেখেছো, ফলো ফাদার করতে হবে তাই না। কথা বলতে বলতে লাস্টে অনেক বাচ্চাদের অনুভব হতো যে, কোনো সমাচার শোনাতে এসেছিল, কিন্তু সেই সমাচারের ঊর্ধ্বে, আওয়াজের ঊর্ধ্বে যে স্থিতির অনুভব তোমরা করেছিলে, দেখেছো তো তোমরা তাই না! অনেক বিষয়ের সমাচার শোনানোর জন্য, অনেক প্ল্যান নিয়ে আসতো বাচ্চারা বাবাকে শোনানোর জন্য, একথাটা বলবো, ওটা জিজ্ঞাসা করবো...কিন্তু সামনে এলে কী বলবে, সেটাই ভুলে যেতো। তো এটাই হলো ফরিস্তা অবস্থা। তাহলে আজ কোন্ পাঠ পাকা করেছো? আমি কে? ফরিস্তা । যে কোনো বিষয় থেকে, কোনো ব্যক্তির বিশেষত্ব থেকে, নিজের বিশেষত্ব থেকে, দেহ-অভিমান থেকে ঊর্ধ্বে উঠে ডবল লাইট ফরিস্তা । কারণ ফরিস্তা না হলে দেবতা হতে পারবে না। সত্যযুগে তো এসে যাবে, কেননা বাবার বাচ্চা হয়েছো, উত্তরাধিকার তো প্রাপ্ত হবেই, কিন্তু শ্রেষ্ঠ পদ নয়। যে প্রতিজ্ঞা তোমরা করেছো সদা সাথে থাকবো, সঙ্গে সঙ্গে রাজত্ব করবো। সিংহাসনে হয়তো বসবে না, কিন্তু রাজ্যের অধিকারী হবে। সেখানকার রাজসভা তো দেখেছো না! যারাই রাজসভার অধিকারী হবে, তারা তিলক আর মুকুটধারী; রাজত্বের তিলক, রাজত্বের চিহ্ন - মুকুট। অতএব অনেক সময় ধরে স্বরাজ্যের অধিকারী, মাঝে মাঝে নয়। দীর্ঘ সময়ের স্বরাজ্য অধিকারী। সিংহাসনে যদি নাও বসে তবুও রয়্যাল ফ্যামিলির অধিকারী হয়ে যায়।


ভালো।


আচ্ছা, আজ যারা প্রথমবার এসেছে, তারা ওঠো। আচ্ছা । ভালো। যারা প্রথমবার এসেছে, তাদের সকলকে বাবার সাথে সাকার রূপে মিলনের, প্রথম বার জন্মের জন্য অভিনন্দন। বাপদাদা আজ উপস্থিত সকল বাচ্চাকে এটাই বরদান যে - তোমরা এসেছো টু লেট এর সময়, কিন্তু নতুন আসা বাচ্চাদের জন্য একটি বিশেষ বরদান হলো যে, কখনোই এই সংকল্প করবে না যে, “আমরা কীভাবে সামনে যেতে পারবো?” টু লেট যারা এসেছো, তারা এখন তো লেট এ এসেছো, টু লেট এ আসোনি আর তোমাদের সকলের জন্য বাপদাদা ও নিমিত্ত ব্রাহ্মণ পরিবারের ভাই-বোনদের বিশেষ সহযোগিতার ভাবনা এটাই যে, যদি তোমরা অল্প সময়কে, এক একটি সেকেন্ডকে সফল করতে শেখো। কারণ অল্প সময়ে অনেক কিছু পাওয়া যায়। একটি সেকেন্ডও অপচয় কোরো না।


কর্মযোগী হয়ে চলতে হবে। কর্ম ছাড়া যাবে না, কিন্তু কর্মের সঙ্গে যোগ অ্যাড করতে হবে। কর্ম ও যোগ - এই দুয়ের মধ্যে ব্যালেন্স রাখা জরুরি। যারা এই ব্যালেন্স বজায় রাখতে পারে, তারা এক্সট্রা ব্লেসিংস প্রাপ্ত করে থাকে।


সুতরাং যারা লেট এ এসেছে, তাদেরও এখনো এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ আছে। তোমাদের চান্স আছে। অল্প সময়ে অনেক পুরুষার্থ করা যায়। বাপদাদা বরদান দিচ্ছেন - সাহসী বাচ্চারা সদা বাবারই সাহায্য পায় ( হিম্মতে বচ্চে মদদে বাপ) ।


চারিদিকের সকল বাচ্চাদেরকে বাপদাদার হৃদয়ের শুভকামনা, পদমগুণ অভিনন্দন আর শুভেচ্ছা । শিব রাত্রি উপলক্ষে যারা সেবায় ব্যস্ত থাকে, তাদেরকে এখন থেকে শিব রাত্রির তোমাদের বার্থ ডে'র শুভেচ্ছা আর অভিনন্দন জানাচ্ছেন এবং যারা আসার জন্য যাচ্ছো বা যারা চিঠি কিংবা ই-মেইল পাঠিয়েছে, তাদের বার্তাও সেকেন্ডেরও কম সময়ে বাপদাদার কাছে পৌঁছে যায়। তাদের প্রতিও বাপদাদার, পিয়াসী আত্মাদের, বন্ধনে রয়েছে যে আত্মারা, যারা প্রহারকে গলার হার বানিয়ে দেয়, এমন আত্মাদেরকে স্মরণের স্নেহ-সুমন আর নতুন নতুন স্নেহী আত্মারা যারা এখন বেরিয়ে আসছে, যদিও সংখ্যায় কম। স্নেহী ও সহযোগী ডবল হওয়া উচিত।


অতএব চারিদিকের সকল যুবা, বৃদ্ধ, বাচ্চা, মাতারা, পাণ্ডব, সকলকেই ইনঅ্যাডভান্স তোমাদেরকে, বাবার বার্থ ডে'র অভিনন্দন।

বরদান:-সাকার এবং নিরাকার বাবার সঙ্গের দ্বারা প্রতিটি সংকল্পে বিজয়ী হওয়া সদা সফলমূর্তি ভব

যেমন নিরাকার আত্মা আর সাকার শরীর উভয়ের সম্বন্ধের দ্বারা সকল কাজ করতে পারো, তেমনই নিরাকার আর সাকার বাবা, উভয়কে সাথে বা সামনে রেখে প্রতিটি কর্ম ও সংকল্প করো। তাহলে সফলমূর্তি হয়ে যাবে। কারণ যখন বাপদাদা সম্মুখে থাকেন, তখন অবশ্যই তাঁর কাছ থেকে ভেরিফাই করিয়ে, নিশ্চয় আর নির্ভয়তার সাথে কাজ করবে। এতে সময় ও সংকল্পের সাশ্রয় হবে। কোনো কিছুই ব্যর্থ যাবে না, প্রতিটি কর্ম স্বাভাবিকভাবেই সফল হবে।

স্লোগান:-আত্মিক স্নেহ সম্পত্তির থেকেও অধিক মূল্যবান, সেইজন্য মাস্টার স্নেহের সাগর হও।

অব্যক্ত ইশারা :- একতা আর বিশ্বাসের বিশেষত্বের দ্বারা সফলতা সম্পন্ন হও ধর্মসত্তার অধিকারীদের সামনে পবিত্রতার শক্তি এবং রাজ্যসত্তার অধিকারীদের সামনে একতার শক্তিকে সিদ্ধ (প্রমাণ) করো। এই দুই শক্তিকে সিদ্ধ করলেই ঈশ্বরীয় সত্তার পতাকা খুব সহজেই উড়তে থাকবে। এখন এই দু’টি বিষয়ে বিশেষ অ্যাটেনশান প্রয়োজন। যত বেশি পবিত্রতা ও একতার শক্তির দ্বারা তাদের সমীপ সম্পর্কে আসতে থাকবে, ততই তারা নিজেরাই নিজে থেকে বর্ণন করতে শুরু করবে।

Monday, February 2, 2026

02-02-2026 BENGALI MURLI

 “শিব ভগবানুবাচ - মিষ্টি বাচ্চারা, তোমরা আমাকে স্মরণ করো এবং আমাকে ভালোবাসো, কারণ আমিই তোমাদের সদা সুখী করতে এসেছি”

প্রশ্নঃ -যে বাচ্চারা গাফিলতি করে থাকে, তাদের মুখ দিয়ে কোন্ কথাটি আপনা থেকেই বেরিয়ে আসে?

উত্তরঃ  ভাগ্যে যা আছে তাই পাবো। স্বর্গে তো যাবই। বাবা বলেন এই কথাটি পুরুষার্থী বাচ্চাদের নয়। উচ্চ পদ পাওয়ার জন্য পুরুষার্থ করতে হবে। যখন বাবা এসেছেন উঁচু পদ মর্যাদা প্রদান করতে তখন গাফিলতি ক'রো না।

গীতঃ-শৈশবের দিনগুলি ভুলে যেও না...


ওম্ শান্তি ।

মিষ্টি মিষ্টি আত্মা রূপী বাচ্চারা গানটির অর্থ বুঝেছে। এখন জীবিত থেকেই তোমরা অসীম জগতের পিতার আপন হয়েছো। সম্পূর্ণ কল্প তো দৈহিক পিতার সন্তান ছিলে। এখন শুধু তোমরা ব্রাহ্মণ সন্তান রা অসীম জগতের পিতার আপন হয়েছো। তোমরা জানো অসীম জগতের পিতার কাছ থেকে আমরা অসীম জগতের উত্তরাধিকার প্রাপ্ত করছি। বাবাকে যদি ত্যাগ করো তাহলে অসীম জগতের উত্তরাধিকার প্রাপ্ত হবে না। তোমরা যতই বোঝাও কিন্তু একটুতে কেউ রাজি হয় না। মানুষ ধন সম্পত্তির আশা করে। ধন ব্যতীত সুখ হতে পারে না। ধনও চাই, শান্তিও চাই, সুস্থ শরীরও চাই। তোমরা বাচ্চারাই জানো দুনিয়ায় আজ কি হচ্ছে, কাল কি হবে। বিনাশ তো সামনে উপস্থিত । আর কারো বুদ্ধিতে এই কথা নেই। যদি বুঝেও যায় বিনাশ দাঁড়িয়ে, তার জন্য কি করতে হবে তা জানা নেই। তোমরা বাচ্চারা জানো যে কোনো সময়ে যুদ্ধ লাগতে পারে, একটু আগুন লাগলেই মহা বিপদে পডতে দেরি লাগবে না। বাচ্চারা জানে এই পুরানো দুনিয়া শেষ হবে তাই এখন অতি শীঘ্র বাবার কাছ থেকে অবিনাশী উত্তরাধিকার প্রাপ্ত করতে হবে। বাবাকে সদা স্মরণ করলে খুব খুশীতে থাকবে। দেহ-অভিমানে এলেই বাবাকে ভুলে দুঃখ সহ্য কর। বাবাকে যত স্মরণ করবে অসীম জগতের বাবার কাছ থেকে ততই সুখ প্রাপ্ত করবে। এখানে তোমরা এসেছো লক্ষ্মী-নারায়ণ হতে। রাজা-রানী হওয়া এবং প্রজার চাকর হওয়া - অনেক ফারাক তাইনা। বর্তমানের পুরুষার্থ পরে কল্প-কল্পান্তরের জন্য ফিক্স হয়ে যায়। ভবিষ্যতে সবার সাক্ষাৎকার হবে - আমরা কতখানি পুরুষার্থ করেছি? এখনও বাবা বলেন নিজের অবস্থা দেখতে থাকো। মিষ্টি মিষ্টি বাবা যার কাছে স্বর্গের উত্তরাধিকার প্রাপ্ত হয়, তাঁকে আমরা কতখানি স্মরণ করি। তোমাদের সমস্ত কিছু স্মরণের উপরে নির্ভর করছে। যত স্মরণ করবে তত খুশী থাকবে। তোমরা বুঝবে এখন আরও কাছে পৌঁছেছি। কেউ ক্লান্তও হয়, আরও কত দূর চলতে হবে। পৌঁছালে তো পরিশ্রমও সফল হবে। এখন তোমরা যে লক্ষ্যের দিকে চলেছ, দুনিয়া জানে না। দুনিয়া এই কথাও জানেনা যে ভগবান কাকে বলা হয়। যদিও তারা বলে ভগবান। তারপরে বলে পাথরে নুড়িতে ভগবান বিরাজমান ।


এখন তোমরা বাচ্চারা জানো আমরা বাবার সন্তান হয়েছি। এখন বাবার শ্রীমৎ অনুসারেই চলতে হবে। বিদেশেই থাকো, বা অন্য কোথাও শুধু স্মরণ করতে হবে। তোমরা শ্রীমৎ প্রাপ্ত করেছ। আত্মা তমোপ্রধান থেকে সতোপ্রধান স্মরণ ব্যতীত হতে পারে না। তোমরা বলো বাবা আমরা তোমার কাছে সম্পূর্ণ উত্তরাধিকার নেব। যেমন আমাদের মাম্মা বাবা উত্তরাধিকার নিয়েছেন, আমরাও পুরুষার্থ করে তাদের সিংহাসনেই নিশ্চয়ই বসবো। মাম্মা-বাবা, রাজ-রাজেশ্বরী হন তো আমরাও হবো। পরীক্ষা তো সবার জন্য একই। তোমাদের খুব অল্প করে শেখানো হয় বাবাকে স্মরণ করো। একেই বলা হয় সহজ রাজযোগ বল। তোমরা বুঝেছো যোগের দ্বারা অনেক বল প্রাপ্ত হয়। বুঝেছো যে আমরা কোনো রকম বিকর্ম করলে দন্ড ভোগও করতে হবে। পদ ভ্রষ্ট হয়ে যাবে। স্মরণেই মায়া বিঘ্ন সৃষ্টি করে, গায়ন আছে সদগুরুর নিন্দুক কোথাও ঠাঁই পায় না। তারা তো বলে গুরুর নিন্দুক.... নিরাকারের কথা কেউ জানে না। বলাও হয়ে থাকে ভক্তদের ফল প্রদান করেন ভগবান। সাধু-সন্ন্যাসী সবাই ভক্ত। ভক্তরাই গঙ্গায় স্নান করে। ভক্তরা ভক্তদের ফল দিতে পারেনা। ভক্তরা ভক্তদের ফল দিলে ভগবানকে স্মরণ কেন করবে। এ হলই ভক্তি মার্গ। সবাই ভক্ত। ভক্তদের ফল প্রদান করেন ভগবান। এমন নয় যে বেশি ভক্তি করে সে কম ভক্তি করা ভক্তকে ফল দেবে। না। ভক্তি অর্থাৎ ভক্তি। রচনা, রচনাকে উত্তরাধিকার কীভাবে দেবে! উত্তরাধিকার রচয়িতার কাছেই প্রাপ্ত হয়। এই সময় সবাই হল ভক্ত। যখন জ্ঞান প্রাপ্ত হয় তখন ভক্তি আপনা থেকেই দূর হয়ে যায়। জ্ঞান জিন্দাবাদ হয়ে যায়। জ্ঞান ব্যতীত সদগতি হবে কীভাবে। সবাই নিজের হিসেব-নিকেশ মিটিয়ে ফিরে যায়। সুতরাং তোমরা বাচ্চারা এখন জানো যে বিনাশ সামনে দাঁড়িয়ে আছে। তার আগে পুরুষার্থ করে বাবার থেকে সম্পূর্ণ উত্তরাধিকার প্রাপ্ত করতে হবে।


তোমরা জানো আমরা পবিত্র দুনিয়ায় যাচ্ছি, যারা ব্রাহ্মণ হবে তারা নিমিত্ত হবে। ব্রহ্মা মুখ বংশী ব্রাহ্মণ না হলে তোমরা বাবার কাছে অবিনাশী উত্তরাধিকার প্রাপ্ত করতে পারবে না। বাবা বাচ্চাদের রচনা করেন উত্তরাধিকার প্রদান করার জন্য। আমরা তো হলাম শিববাবার আপন। সৃষ্টি রচনা করেন আত্মারূপী বাচ্চাদের উত্তরাধিকার প্রদান করতে। শরীরধারীদেরই উত্তরাধিকার দেবেন তাইনা। আত্মারা তো উপরে থাকে। সেখানে তো উত্তরাধিকার বা প্রালব্ধ নেই। তোমরা এখন পুরুষার্থ করে প্রালব্ধ প্রাপ্ত করছো, যা দুনিয়া এখনও জানে না। এখন সময় কাছে আসছে। বোমা ইত্যাদি রাখার জন্য নয়। প্রস্তুতি চলছে। এখন বাবা আমাদের আদেশ দিচ্ছেন যে আমাকে স্মরণ করো। তা নাহলে পরে কাঁদতে হবে। রাজ-বিদ্যার পরীক্ষায় কেউ ফেল করলে রাগে ডুবে মরে। এখানে রাগারাগির কথা নেই। ভবিষ্যতে তোমাদের অনেক সাক্ষাৎকার হবে। কেমন স্বরূপ ধারণ হবে সবই জানবে। বাবার কর্তব্য হল পুরুষার্থ করানো। বাচ্চারা বলে বাবা আমরা কর্ম করাকালীন স্মরণ করতে ভুলে যাই, কেউ বলে স্মরণ করার সময় পাই না, তখন বাবা বলেন আচ্ছা সময় করে বসে স্মরণ করো। বাবাকে স্মরণ করো। নিজেদের মধ্যে একসঙ্গে বসে চেষ্টা করো, যাতে আমরা বাবাকে স্মরণ করি। সবাই মিলে বসলে তোমরা ভালোভাবে স্মরণ করবে, সাহায্য প্রাপ্ত করবে। মুখ্য কথা হল বাবাকে স্মরণ করা। কেউ বিদেশে যায়, সেখানে গিয়েও শুধু একটি কথা স্মরণে রাখো। বাবার স্মরণ দ্বারাই তোমরা তমোপ্রধান থেকে সতোপ্রধান হবে। বাবা বলেন শুধু একটি কথা স্মরণে রাখো - বাবাকে স্মরণ করো। যোগবলের দ্বারা সব পাপ ভস্ম হয়ে যাবে। বাবা বলেন - 'মন্মনাভব' । আমাকে স্মরণ করো তাহলে বিশ্বের মালিক হবে। মুখ্য কথা হল স্মরণের। কোথাও যাওয়ার কথাই নেই। ঘরে থাকো, শুধুমাত্র বাবাকে স্মরণ করো। পবিত্র না হলে স্মরণ করতে পারবে না। এমন নয় সবাই ক্লাসে এসে পড়া করবে। মন্ত্র নিয়ে যেখানে ইচ্ছে যাও। সতোপ্রধান হওয়ার পথ তো বাবা বলেই দিয়েছেন। সেন্টারে এলে নতুন নতুন পয়েন্টস শুনতে থাকবে। যদি কোনো কারণে আসতে না পারো, বৃষ্টি পড়ছে, কার্ফু লেগেছে, কেউ বাইরে বের হতে পারবে না তখন কি করবে ? বাবা বলেন কোনো অসুবিধা নেই। এমন তো নয় শিবের মন্দিরে জল ঢালতে হবে। যেখানেই থাকো তোমরা স্মরণে থাকো। চলতে ফিরতে স্মরণ করো, অন্যদেরও এ'কথাই বলো যে বাবাকে স্মরণ করলে বিকর্ম বিনাশ হবে এবং দেবতায় পরিণত হবে। শব্দ মাত্র দুটি - রচয়িতা পিতার কাছে অবিনাশী উত্তরাধিকার প্রাপ্ত করতে হবে। রচয়িতা হলেন একজনই আছেন। তিনি কত সহজ পথ বলে দেন। বাবাকে স্মরণ করার মন্ত্র প্রাপ্ত হয়েছে। বাবা বলেন শৈশবের এই দিন গুলি ভুলে যেও না। আজ হাসছো কাল কাঁদতে হবে, যদি বাবাকে ভুলে যাও। বাবার কাছে সম্পূর্ণ উত্তরাধিকার প্রাপ্ত করা উচিত। এমন অনেকে আছে, যারা বলে স্বর্গে তো যাবই তাইনা, যা ভাগ্যে আছে.... তাদেরকে পুরুষার্থী বলা হবে না। মানুষ পুরুষার্থ করে উঁচু পদ মর্যাদা প্রাপ্ত করার জন্য। এখন যখন বাবার কাছে উঁচু পদ প্রাপ্ত হয় তখন গাফিলতি কেন করবে। স্কুলে যে পড়া করে না যারা পড়াশোনা করে, তাদের সামনে নত থাকতে হবে। বাবাকে পুরোপুরি স্মরণ না করলে প্রজায় গিয়ে চাকর-বাকর হতে হবে, এতেই খুশী হওয়া উচিত নয়। বাচ্চারা সম্মুখে এসে রিফ্রেশ হয়ে যায়। অনেকে বাঁধেলী (বন্ধনে আছে যারা), অসুবিধে নেই, ঘরে বসে বাবাকে স্মরণ করতে থাকো। কত বোঝানো হয় মৃত্যু সামনে দাঁড়িয়ে আছে, হঠাৎ যুদ্ধ লেগে যাবে। দেখতেই পাওয়া যাচ্ছে এই যুদ্ধ লাগল বলে। রেডিও দ্বারা সব কিছু জানা যায়। তারা বলে একটু ভুল করলেই আমরা এমন করবো। আগেই বলে দেয়। তাদের বোমা ইত্যাদির খুব অহংকার আছে। বাবাও বলেন বাচ্চারা এখনও যোগ বলে তো তীক্ষ্ণ হয়নি। যুদ্ধ লেগে যাবে, ড্রামা অনুযায়ী হবে না। বাচ্চারা সম্পূর্ণ অবিনাশী উত্তরাধিকার তো নেয়নি। এখনও সম্পূর্ণ রাজধানী স্থাপন হয়নি। একটু সময় চাই। পুরুষার্থ করানো হয়। কখন যে কি হয় বলা যায় না, বিমান, ট্রেন ইত্যাদি পড়ে যায়। মৃত্যু কত সহজ ভাবে উপস্থিত হয়ে যায় । ভূমিকম্প হয়। সবচেয়ে বেশি কাজ করতে হবে ভূমিকম্পকে। ভূমি কম্পন দিলে তো বাড়ি ঘর ইত্যাদি ভেঙে পড়বে। মৃত্যুর আগে বাবার কাছে সম্পূর্ণ উত্তরাধিকার নিতে হবে তাই খুব ভালোবেসে বাবাকে স্মরণ করতে হবে। বাবা তুমি ছাড়া আমাদের দ্বিতীয় কেউ নেই। শুধু বাবাকে স্মরণ করতে থাকো। কতখানি সহজ করে ছোট বাচ্চাদের বসে বোঝাচ্ছেন। অন্য কোনও কষ্ট নয়, শুধু স্মরণ করো আর কাম চিতায় বসে যে তোমরা পুড়ে মরেছ এখন জ্ঞান চিতায় বসে পবিত্র হও। কেউ যদি জিজ্ঞাসা করে তোমাদের উদ্দেশ্য কি? বলো, শিববাবা হলেন সকলের পিতা, তিনি বলছেন 'মামেকম্ স্মরণ করো তো তোমাদের বিকর্ম বিনাশ হবে এবং তোমরা তমোপ্রধান থেকে সতোপ্রধান হয়ে যাবে' । কলিযুগে সব হল তমোপ্রধান। সকলের সদগতি দাতা হলেন একমাত্র বাবা।


এখন বাবা বলছেন শুধু আমাকে স্মরণ করো তো জং দূর হয়ে যাবে। এইটুকু বার্তা তো সকলকে দিতে পারো, তাইনা। নিজেরা স্মরণ করলে তো অন্যদের স্মরণ করাতে পারবে। নিজেরা স্মরণ করলে তো অন্যদের সহজ ভাবে বলবে, তা নাহলে অন্তর থেকে বলতে পারবে না। বাবা বোঝান, যেখানেই হোক যতখানি পারো, শুধু স্মরণ করো। যার সঙ্গে দেখা হবে তাকেই এই শিক্ষা দাও - মৃত্যু সামনে দাঁড়িয়ে। বাবা বলেন তোমরা সবাই তমোপ্রধান পতিত হয়েছো। এখন আমাকে স্মরণ করো, পবিত্র হও। আত্মাই পতিত হয়েছে। সত্যযুগে থাকে পবিত্র আত্মা। বাবা বলেন স্মরণের দ্বারাই আত্মা পবিত্র হবে, অন্য কোনো উপায় নেই। এই সংবাদ সবাইকে দাও তাতেও অনেকের কল্যাণ হবে আর কোনো কষ্ট নেই । সব আত্মাদের পবিত্র করেন একমাত্র পতিত-পাবন বাবা। সবচেয়ে উত্তম পুরুষ বানিয়ে দেন বাবা। যারা পূজ্য ছিল তারাই আবার পূজারী হয়েছে। রাবণের রাজ্যে আমরা পূজারী হই, রামরাজ্যে পূজ্য ছিলাম। এখন রাবণ রাজ্যের শেষ সময়, আমরা পূজারী থেকে পুনরায় পূজ্য স্বরূপে পরিণত হই - বাবাকে স্মরণ করে। অন্যদেরও পথ বলে দিতে হবে, বৃদ্ধামাতাদেরও সার্ভিস করা উচিত। আত্মীয় পরিজনদের সংবাদ প্রদান করো। সৎসঙ্গ, মন্দির ইত্যাদিও অনেক প্রকারের আছে। তোমাদের তো হল এই এক প্রকার। শুধুমাত্র বাবার পরিচয় দিতে হবে। শিববাবা বলেন মামেকম্ স্মরণ করো তো তোমরা স্বর্গের মালিক হয়ে যাবে। নিরাকার শিববাবা সর্বজনের সদগতি দাতা বাবা আত্মাদের বলেন আমাকে স্মরণ করো তো তোমরা তমোপ্রধান থেকে সতোপ্রধান হয়ে যাবে। এই কথা বোঝানো তো সহজ তাইনা। বৃদ্ধারাও সার্ভিস করতে পারে। এটাই হলো মুখ্য কথা। বিবাহ ইত্যাদি অনুষ্ঠানে যেখানেই যাও, সকলকে এই কথাই শোনাও। গীতার ভগবান বলেন আমাকে স্মরণ করো। এই কথাটি সবাই পছন্দ করবে। বেশি বলার দরকারও নেই। শুধুমাত্র বাবার সংবাদ প্রদান করতে হবে যে বাবা বলেন আমাকে স্মরণ করো। আচ্ছা, এমন ভেবে নাও যে ভগবান প্রেরণা দিচ্ছেন। স্বপ্নেও সাক্ষাৎকার হয়। আওয়াজ কানে আসে যে বাবা বলেন আমাকে স্মরণ করো তো তোমরা তমোপ্রধান থেকে সতোপ্রধান হয়ে যাবে। তোমরা নিজেরাও শুধু এই চিন্তন করতে থাকো তাহলেও তোমার ভবসাগর পার হয়ে যাবে। আমরা প্রাক্টিক্যালে অসীম জগতের পিতার সন্তান হয়েছি এবং বাবার কাছে ২১ জন্মের উত্তরাধিকার প্রাপ্ত করছি সুতরাং খুশী তো থাকা উচিত। বাবাকে ভুলে গেলেই কষ্ট অনুভব হয়। বাবা কতখানি সহজ করে বলেন নিজেকে আত্মা নিশ্চয় করে বাবাকে স্মরণ করো তো আত্মা সতোপ্রধান হয়ে যাবে। সবাই বুঝবে এনারা সঠিক পথ পেয়েছে। এই পথ কেউ কখনো বলে দিতে পারে না। যদি তারা বলে শিববাবাকে স্মরণ করো তাহলে সাধু সন্ন্যাসীদের কাছে কে যাবে। সময় এমন আসবে যখন তোমরা বাড়ী থেকে বাইরে বের হতে পারবে না। বাবাকে স্মরণ করতে করতে দেহ ত্যাগ করবে। অন্ত সময়ে যে শিববাবাকে স্মরণ করে... সে নারায়ণ যোনিতে গিয়ে নামবে, লক্ষ্মী-নারায়ণের কুলে আসবে তাইনা। ক্ষণে ক্ষণে রাজার পদ প্রাপ্ত করবে। শুধু বাবাকে স্মরণ করো এবং বাবাকে ভালোবাসো। স্মরণ ব্যতীত ভালোবাসবে কীভাবে। সুখ প্রাপ্ত হলে তো ভালোবাসা যায়। যে দুঃখ দেয় তাকে কেউ ভালোবাসে না। বাবা বলেন আমি তোমাদেরকে স্বর্গের মালিক বানাই তাই আমাকে ভালোবাসো। বাবার মতানুযায়ী চলা উচিত তাইনা। আচ্ছা!


মিষ্টি - মিষ্টি হারানিধি বাচ্চাদের প্রতি মাতা - পিতা, বাপদাদার স্মরণের স্নেহ-সুমন আর সুপ্রভাত । আত্মাদের পিতা তাঁর আত্মারূপী বাচ্চাদেরকে জানাচ্ছেন নমস্কার ।


ধারণার জন্য মুখ্য সার :-

১ ) খুশীতে থাকার জন্য স্মরণ করার পরিশ্রম করতে হবে। স্মরণের বল আত্মাকে সতোপ্রধান বানিয়ে দেয়। ভালোবেসে একমাত্র বাবাকে স্মরণ করতে হবে।


২ ) উঁচু পদ মর্যাদা প্রাপ্ত করার জন্য পড়াশোনাতে পুরোপুরি মনোযোগ দিতে হবে। এমন নয় যে ভাগ্যে যা আছে তাই হবে, গাফিলতি ত্যাগ করে সম্পূর্ণ উত্তরাধিকার প্রাপ্তির অধিকারী হতে হবে।


বরদান:-পার্থিব জগতের দায়িত্বগুলিকে অসীমে পরিবর্তনকারী স্মৃতিস্বরূপ মোহমুক্ত ভব


মোহমুক্ত হওয়ার জন্য কেবল নিজের স্মৃতি স্বরূপকে পরিবর্তন করো। মোহ তখন আসে যখন এই স্মৃতি থাকে যে আমি হলাম গৃহস্থী, আমার ঘর, আমার সম্বন্ধ। এখন এই পার্থিব জগতের দায়িত্বগুলিকে অসীমের দায়িত্বে পরিবর্তন করে দাও। অসীমের দায়িত্ব পালন করলে লৌকিকের দায়িত্ব স্বতঃই পূর্ণ হয়ে যায়। কিন্তু যদি অসীমের দায়িত্বগুলিকে ভুলে কেবল লৌকিকের দায়িত্বগুলিকে পালন করতে থাকো তাহলে সেই দায়িত্বগুলিকে আরোই খারাপ করতে থাকো কেননা সেই দায়িত্ব মোহ-তে মার্জ হয়ে যায় এইজন্য নিজের স্মৃতি স্বরূপকে পরিবর্তন করে মোহমুক্ত হও।


স্লোগান:-এমন তীব্র উড়ান (জ্বালানী) ভরো যে পরিস্থিতি রূপী মেঘ সেকেন্ডে ক্রস হয়ে যায়।


অব্যক্ত ইশারা :- একতা আর বিশ্বাসের বিশেষত্বের দ্বারা সফলতা সম্পন্ন হও


কোনও কার্যের সফলতার দুটি শ্রেষ্ঠ ভুজ আছে :- ১) পরস্পরের প্রতি বিশ্বাস, ২) একতা, যেখানে সংগঠিত রূপে সকলের একমত থাকে, নিজেদের মধ্যে একে-অপরের প্রতি বিশ্বাস থাকে, সেখানে সফলতা হল গলার হার। সংস্কার ভিন্ন-ভিন্ন আছে আর থাকবেও কিন্তু যদি কারোর সংস্কার আঘাত করেও তো অন্য আত্মা তালি বাজাবে না। যদি প্রত্যেকে নিজেকে চেঞ্জ করে নেয় তাহলে একতা বজায় থাকতে পারে।

Sunday, February 1, 2026

01-02-2026 BENGALI MURLI

"এক রাজ্য এক ধর্মের ল' অ্যান্ড অর্ডার স্থাপনের সময় নিজের পরিবর্তন ক'রে বিশ্ব পরিবর্তক হও"

আজ বাপদাদা চতুর্দিকে নিজের রাজকুমার বাচ্চাদের দেখসিগেন। এই পরমাত্ম পরম স্নেহ কোটি কোটির মধ্যে কিছু সংখ্যকের প্রাপ্ত হয়। পরমাত্ম-পরম-স্নেহে বাপদাদা সব বাচ্চাকে তিন সিংহাসনের মালিক বানিয়েছেন। প্রথম স্বরাজ্য অধিকারের ভ্রুকুটি সিংহাসন, দুই বাপদাদার হৃদয় সিংহাসন আর তিন বিশ্বের রাজ্য অধিকারের সিংহাসন। এই তিন সিংহাসন বাবা তাঁর নিজের স্নেহি পরমাদরের বাচ্চাদের দিয়েছেন। তো এই তিন সিংহাসন সদা স্মৃতিতে থাকায় প্রত্যেক বাচ্চার আধ্যাত্মিক নেশা থাকে। তো বাচ্চারা সবাই বাবার দ্বারা প্রাপ্ত অবিনাশী উত্তরাধিকার দেখে খুশিতে থাকো তো না! হৃদয়ে আপনা থেকেই এই গীত বাজতে থাকে বাহ্ বাবা বাঃ! আর বাঃ আমার ভাগ্য বাঃ! যা স্বপ্নেও ছিল না তা ' প্র্যাকটিক্যাল জীবনে প্রাপ্ত হয়েছে। সিংহাসনের সাথে সাথে বাপদাদা এই সঙ্গমে ডবল মুকুট দ্বারা উড়তি কলার অনুভাবীও বানিয়েছেন। তো বাপদাদা চতুর্দিকের বাচ্চাদের এই ডবল মুকুটধারী পিওরিটির রয়্যালটি, ডবল মুকুটধারী রূপে দেখছেন। এক পিওরিটির রয়্যালটির মুকুট, আরেক সেবার দায়িত্বের মুকুট।


বাপদাদা আজ চতুর্দিকের বাচ্চাদের পুরুষার্থের গতি চেক করেছেন। কেননা, সময়ের গতি তো তোমরা সবাইও দেখছ আর জানছ। তো বাপদাদা দেখছিলেন যে প্রত্যেকের বাবার দ্বারা যে রাজ্য ভাগ্যের উত্তরাধিকার প্রাপ্ত হয়েছে, নিজের রাজ্যের, ফিউচার প্রাপ্তির, তো ফিউচারে তোমাদের সকলের সংস্কার যা ন্যাচারাল হবে এবং নেচার হবে তা' এখন থেকে বহুকালের সংস্কার হিসেবে অনুভূত হওয়া উচিত। কেননা, এই নতুন সংসার তোমাদের সবার নতুন সংস্কার দ্বারাই তৈরি হচ্ছে। সুতরাং নতুন সংসারের যে বিশেষত্ব আছে সেটাও অনুভব করো তো না! আমাদের রাজত্বে কী হবে, সেই নেশা আছে তো না! হৃদয় বলে তো না যে আমার রাজ্য, আমার নতুন সংসার এসে গেছে প্রায়! তো বাপদাদা দেখছিলেন নতুন সংসারের যে বিশেষত্ব আছে তা' বাচ্চাদের পুরুষার্থী জীবনে কতটা ইমার্জ আছে! তোমরা তো জানো, নতুন সংস্কার আর নতুন সংসারের বিশেষত্ব ইমার্জ আছে তো না! জানো তো তোমরা! গেয়েও থাকো, আর জানও তোমরা, প্রথম বিশেষত্ব, চেক করো প্রতিটি বিশেষত্ব আমার মধ্যে কতটা ইমার্জ আছে? মুখ্য বিশেষত্ব - এক রাজ্য, তো যেমন ওখানে এক রাজ্য আপনা থেকেই হয়, দ্বিতীয় কোনো রাজ্য নেই, তেমনই সঙ্গমে নিজের জীবনে দেখ যে তোমাদের জীবনেও এক রাজ্য আছে কিনা! নাকি কখনো কখনো দ্বিতীয় রাজ্যও থাকে? যদি চলতে চলতে স্ব এর রাজ্যের সাথে সাথে মায়ারও রাজ্য চলে তবে কি এক রাজ্যের সংস্কার হবে? এক রাজ্য থেকে দ্বিতীয় রাজ্যও তো চলে না? পরমাত্মার শ্রীমতের রাজ্য নাকি কখনো কখনো মায়ারও প্রভাব থাকে? হৃদয়ে মায়ার রাজ্য থাকে না তো? সুতরাং এটা চেক করো। এই বিষয়ে নিজের চার্ট চেক করো। এখন সঙ্গমে এক পরমাত্মার রাজ্য আছে, নাকি মায়ারও প্রভাব এসে যায়? চেক করেছ? এই মুহূর্তে চেক করো, নিজের চার্ট দেখতে থাকো তো না! তো যদি এখনো পর্যন্ত দুই রাজ্য থাকে তবে এক রাজ্যের অধিকারী কীভাবে হবে? শ্রীমতের সাথে মায়ার মতও মিক্স হয়ে যায় কি? এক ধর্ম এমনই - এক রাজ্যও হবে তো এক ধর্মও হবে। ধর্ম অর্থাৎ ধারণা। তো তোমাদের বিশেষ ধারণা কোনটা? পবিত্রতার ধারণা। তো চেক করো - সদা মন, বচন, কর্ম, সম্বন্ধ- সম্পর্কে সম্পূর্ণ আর সদা পবিত্রতার ন্যাচারাল নেচার হয়েছে? কেননা, তোমরা জানো যে তোমাদের অনাদি স্বরূপ আর আদি স্বরূপ পবিত্রতা। তো চেক করো - এক ধর্ম অর্থাৎ পবিত্রতা ন্যাচারাল হয়েছে? নেচার যেমন হয় সেই অনুযায়ী না চাইতেও কাজ করে নেয়। কেননা, বাচ্চারা অনেকে যখন আত্মিক কথোপকথন করে তখন কী বলে? খুব মিষ্টি মিষ্টি কথা বলে, তারা বলে চাই না, চাই না, কিন্তু কখনো মন্সাতে, কখনো বাচাতে কোনো না কোনো অপবিত্রতার অংশ ইমার্জ হয়ে যায়। অনেক অনেক জন্মের সংস্কার তো না! সেইজন্য হয়ে যায়। তো এক ধর্মের অর্থ হলো পবিত্রতার ধারণা নেচার হবে এবং ন্যাচারাল হবে। হতে পারে বাণী প্রবল হয়ে গেল, বলবে ক্রোধ ছিল না সামান্য জোরে হয়ে গেছে। তো জোর কী? ক্রোধেরই তো বাচ্চা। তো এক ধর্মের সংস্কার কবে ন্যাচারাল হবে? সুতরাং চেক করো কিন্তু চেকের সাথে বাবার দ্বারা প্রাপ্ত শক্তি দ্বারা চেঞ্জ করো। এখন তবুও চেক ক'রে চেঞ্জ করার তীব্র পুরুষার্থ যদি করবে তো মার্জিন আছে, কিন্তু কিছু সময়ের পরে হঠাৎ টু লেট এর বোর্ড লেগেই যাবে। তারপর ব'লো না যে বাবা তো বলেননি। সেইজন্য এখন পুরুষার্থের সময় তো চলে গেছে কিন্তু তীব্র পুরুষার্থের সময় এখনও আছে, সুতরাং চেক করো কিন্তু শুধু চেক ক'রো না, সাথে চেঞ্জ করো। অনেকে চেক করে কিন্তু চেঞ্জ করার শক্তি নেই। চেক আর চেঞ্জ দুইই সাথে সাথে হওয়া উচিত। কেননা, তোমাদের সবার স্বমান বা তোমাদের সবার মহিমা কী? টাইটেল কী? মাস্টার সর্বশক্তিমান। হও মাস্টার সর্বশক্তিমান? নাকি শক্তিমান? যারা বলো সর্বশক্তিমান তারা হাত উঠাও। আচ্ছা। তাহলে, মাস্টার সর্বশক্তিমান অভিনন্দন তোমাদের। কিন্তু মাস্টার সর্বশক্তিমান আর চেঞ্জ করতে পারে না, তবে কী বলা যাবে? নিজেরই সংস্কার, নেচার যদি পরিবর্তন করতে চায়ও আর করতে না পারে তবে কী বলবে? নিজেকে জিজ্ঞাসা করো মাস্টার শক্তিমান, নাকি মাস্টার সর্বশক্তিমান? মাস্টার সর্বশক্তিমান সঙ্কল্প করেছে - করতেই হবে, হয়েই আছে। হবে.... দেখবে... এরকম হয় না। তো এখন সময় অনুসারে রেজাল্ট এটাই হতে হবে যে, যা ভেবেছ সেই সঙ্কল্প আর তার স্বরূপ হওয়া একসাথে হতে হবে।


এখন নতুন বছর, অব্যক্ত বছর সমাগত প্রায়। অব্যক্ত পালনের ৪০ বছর পূর্ণ হচ্ছে। তো অব্যক্ত পালন আর ব্যক্ত রূপের পালনের ৭২ বছর হয়ে গেছে। তো উভয় বাবার পরিপালনের রিটার্ন বাপদাদাকে দেবে না! ভাবো - পরিপালন কী আর প্র্যাকটিক্যাল কী? বাপদাদা দেখেছেন এখনও গড়িমসি ভাব আর রয়্যাল আলস্য রয়েছে। রয়্যাল আলস্য হলো - হয়ে যাবে, তৈরি হয়েই যাবো, পৌঁছেই যাবো আর গড়িমসি ভাব হলো - করছি তো, তো তো... এটা তো হওয়ারই আছে, এটা তো করতেই হবে, বলায় আর করায় ফারাক হয়ে যায়। বাপদাদা এক দৃশ্য দেখে মৃদু মৃদু হাসতে থাকেন যে এরা কী বলে! এটা যদি হয়ে যায়! এটা ক'রে নাও, তাহলে খুব ভালো হয় আমি এগিয়ে যেতে পারি! অন্যকে বদলানোর বৃত্তি থাকে কিন্তু স্ব পরিবর্তনের বৃত্তি কোথাও কোথাও কম হয়ে যায়। এখন অন্যকে দেখার বৃত্তি চেঞ্জ করো। যদি দেখতেই হয় তবে বিশেষত্ব দেখ, এরকম তো হয়েই থাকে, এরকম তো চলতেই থাকে, এও তো করে... এই ভাবনা কম করো। নিজেকে দেখো, বাবাকে সামনে রাখো, অন্য তো আরও কেউ আছে; হয় মহারথী আছে, নয়তো মাঝখানের কেউ আছে, পুরুষার্থে কেউ না কেউ ত্রুটি বিচ্যুতি পরিবর্তন করছেই। সেইজন্য সি ফাদার, সি ডবল ফাদার, ব্রহ্মা বাবাকে দেখো, শিব বাবাকে দেখো। যখন বাবা তোমাদের নিজের হৃদয় সিংহাসনে বসিয়েছেন। তাছাড়া, নিজেরাও নিজেদের হৃদয় সিংহাসনে বাবাকে বসিয়েছো, তোমাদের স্লোগানও রয়েছে সি ফাদার। সি সিস্টার, সি ব্রাদার এই স্লোগান তো নেইই। কিছু না কিছু ত্রুটি সবার মধ্যে এখনও রয়েছে, কিন্তু যদি অন্যকে দেখতেই হয় তবে বিশেষত্ব দেখ, যা ত্রুটি তা' আপনা থেকে বের হচ্ছে, সেগুলো দেখো না। আরেকটা বিষয় - নিজের রাজ্য, স্মরণে আছে তো না নিজের রাজ্য! কাল ছিল আর কাল আবার হবে। তোমাদের বুদ্ধিতে, নয়নে নিজের রাজ্য স্পষ্টরূপে এসে গেছে তো না! কতবার রাজত্ব করেছো? গুনতি করেছো? অনেকবার রাজত্ব করেছ। বলার সাথে সাথেই সামনে এসে যায়। নিজের রাজ্য -অধিকারী রূপ আর শ্রেষ্ঠ রাজ্য। তো সেভাবে নিজের রাজ্যে ল' অ্যান্ড অর্ডার আপনা থেকেই চলে। সবাই নলেজফুল সংস্কারের। জানে ল' কী, অর্ডার কী, এভাবেই এখন নিজের জীবনে দেখ, বাবার অর্ডারে চলছ, নাকি কখনো মায়ার অর্ডারেও চলে যাও? শ্রীমত ব্যতীত কখনো পরমত, মনমত চলে না তো? আর ল' কী? ল' হলো নিশ্চিন্ত বাদশাহ, কোনো চিন্তা নেই। কেননা, সর্বপ্রাপ্তি রয়েছে। এভাবে চেক করো, সঙ্গমের শ্রেষ্ঠ জন্মেও সর্বপ্রাপ্তি আছে যা বাবা দিয়েছেন। এটা ভগবানের প্রসাদ যেমন হয় তেমনই তো না, তো প্রসাদের কত মহত্ত্ব থাকে! সুতরাং বাবার থেকে যে প্রাপ্তিই আছে, তা' প্রভু প্রসাদ হিসেবে প্রাপ্ত হয়, প্রভু প্রসাদের মহত্ত্ব আছে। উত্তরাধিকারও আছে আর প্রসাদও আছে। তো চেক করো - ল' আর অর্ডার দু'য়েতেই সম্পন্ন হয়েছো কিনা!


বাপদাদা দেখছিলেন, একটা বিষয়ে মেজরিটির পরিবর্তন করার যে শক্তি প্রাপ্ত হয়েছে, সেই পরিবর্তন শক্তি সময়মতো যদি কার্যে প্রয়োগ করা হয় তো কোনো পরিশ্রম নেই। দেখো, সবার অনুভব আছে - মায়ার থেকে কখনো, কোনও রকমের হার যদি হয়, তো সবাই তোমরা ভাষণে বলে থাকো, ক্লাসও করাও, এটাই বলে থাকো, দুটো শব্দ আছে যা অধঃপাতের দিকে ঠেলে দেয়, উপরেও চড়িয়ে দেয়, সেই দু'টো শব্দ তোমরা জানো, সবার মনে এসে গেছে! সেই দু'টো শব্দ হ'লো আমি, আমার। ভাষণে এটা বলো তো, তাই না! ক্লাসও তো করাও! বাপদাদা ক্লাসও শোনেন, তোমরা কী বলো! এখন এই দুটো শব্দকে পরিবর্তন শক্তি দ্বারা যখনই আমি শব্দে তোমরা বলো তখন বলছো আমি অমুক কিংবা আমি ব্রাহ্মণ, কিন্তু আমি কে? বাপদাদা যে স্বমান দিয়েছেন, যখনই আমি শব্দ বলবে তখন কোনো না কোনো স্বমানের সাথে বলো, কিংবা বুদ্ধিতে আনো। আমি শব্দ বলার সাথে সাথে যেন স্বমান স্মরণে এসে যায়। আমার শব্দ বললে বাবা স্মরণে এসে যান। এটা যেন ন্যাচারাল স্মৃতি হয়ে যায়। এটা পরিবর্তন ক'রে নাও, ব্যস্। এছাড়া, আরেকটা বিষয়, সচরাচর তোমরা যখন সম্বন্ধ সম্পর্কে আসো তখন দুই শব্দের দ্বারা মায়াও আসে, এক ভাব, আরেক ভাবনা। তো যখনই ভাব শব্দ বলো, ভাবো তখন বলার সাথে সাথে যেন আত্মিক ভাব প্রথমে স্মরণে আসে এবং ভাবনাতে যেন শুভ ভাবনা স্মরণে আসে। শব্দের অর্থ পরিবর্তন ক'রে নাও। তোমাদের টাইটেল কী? বিশ্ব পরিবর্তক। বিশ্ব পরিবর্তক কি এই শব্দ পরিবর্তন করতে পারবে না? সুতরাং সময়মতো পরিবর্তন শক্তি ইউজ ক'রে দেখ। পরে আসে, যখন হয়ে যায় আর মন ভালো লাগে না, নিজেই নিজের মনে ভাবে কিন্তু সময় তো অতিবাহিত হয়ে গেছে তো না! সেইজন্য এখন তীব্রগতির আবশ্যকতা রয়েছে। কখনো কখনোর নয়। এরকম ভেবো না, বহু সময় তো ঠিক থাকি, কিন্তু বাপদাদা বলে দিয়েছেন অন্তিম মুহূর্তের কোনো ভরসা নেই। আকস্মিকতার খেলা হবে। কিছু বাচ্চা বাবাকেও খুব মিষ্টি মিষ্টি বিষয়ে বলে, বলে সময় অল্প এবং অতির মধ্যে দিয়ে যাবে তো না, তো বৈরাগ্য তো হবে, সুতরাং বৈরাগ্যের সময় আপনা থেকেই গতি তেজিয়ান হয়ে যাবে। কিন্তু বাপদাদা বলে দিয়েছেন যে অনেক সময়ের পুরুষার্থ প্রয়োজন। যদি অল্প সময়ের পুরুষার্থ হয় তবে প্রালব্ধও অল্প সময়ের জন্য প্রাপ্ত হবে, ফুল (সম্পূর্ণ) ২১ জন্মের প্রালব্ধ তৈরি হবে না। বাপদাদার তিন শব্দ সদা স্মরণে রাখো - এক হঠাৎ, দুই এভাররেডি এবং তিন বহুকাল। এই তিন শব্দ সদা বুদ্ধিতে রাখো। যে কোনো কারও যে কোনো কোথাও যে কোনো সময় অন্তিম কাল হতে পারে। এখনই এখনই দেখ কত ব্রাহ্মণ চলে যাচ্ছে, তারা জানত কি! সেইজন্য বহুকালের পুরুষার্থ দ্বারা ফুল ২১ জন্মের উত্তরাধিকার প্রাপ্ত করতেই হবে, এই তীব্র পুরুষার্থ স্মৃতিতে বজায় রাখ। ফার্স্ট নম্বর, ফার্স্ট জন্ম নিজের রাজ্যে। কী ভেবেছো? ফার্স্ট জন্মে আসতে হবে তো না! আনন্দ কিসে হবে? ফার্স্ট জন্মে, নাকি যে কোনোটাতে? যারা মনে করো নিজের রাজ্যে ফার্স্ট জন্মে শ্রীকৃষ্ণের সাথে সাথে আমারও পার্ট হবে, তারা হাত উঠাও। ভালো, ফার্স্টে পার্ট! হাত দেখে বাবা খুশি হয়ে গেছেন। তালি বাজাও। কিন্তু ফার্স্ট জন্মে এসো, তার জন্য অভিনন্দন। কিন্তু বাবা তোমাদের বলবেন কি? বলবেন কি বলবেন না? তোমাদের আসতেই হবে ফার্স্টে, অন্য বিষয়ে বাবা তোমাদের কেন বলবেন! এটা ভালো, সবাই যারা এসেছো, তোমাদের সবাইকে ফার্স্ট জন্মে আসতেই হবে। তালি তো বাজিয়ে দিয়েছ ফার্স্ট জন্ম আর ফার্স্ট স্টেজের জন্যও। তো ফার্স্ট স্টেজ বানাতেই হবে, যার এই দৃঢ় সঙ্কল্প আছে ফাস্ট যেতেই হবে, যা কিছু বিঘ্ন হোক না কেন কিন্তু বিঘ্ন যেন বিঘ্ন না থাকে, বিঘ্ন বিনাশকের সামনে বিজয়ের রূপ যাতে বদলে যায়! কেননা, তোমরা সবাই বিঘ্ন বিনাশক। তোমাদের টাইটেল কী? বিঘ্ন বিনাশক। সুতরাং যদি আসেও খেলা খেলতে আসবে কিন্তু তোমরা দূর থেকেই জেনে যাও, রয়্যাল রূপে আসবে কিন্তু তোমরা বিঘ্ন বিনাশক দূর থেকেই জেনে যাবে যে এটা কী খেলা হচ্ছে, সেইজন্য বাপদাদাও এটাই চান যে বাচ্চারা সবাই যেন সাথে যায়। পিছনে যেন না থাকে। বাপদাদার বাচ্চাদের ছাড়া আনন্দ হয় না। তো দৃঢ়তাকে কখনও দুর্বল হতে দিও না। করতেই হবে। বো বো ক'রো না। করবো, দেখবো, হয়ে যাবো ... দেখো এই সব জিনিস যেন ক'রো না। দৃঢ়তা সফলতার চাবি, এই চাবি কখনো খুইয়ে ফেলো না। মায়াও চতুর তো না! সে চাবি খুঁজে নেয়। সেইজন্য এই চাবি ভালো ক'রে সামলে রাখো।


চতুর্দিকের লাভলি আর লাকি, দৃঢ় সঙ্কল্পের বাচ্চারা যারা ভাবার সাথে সাথে করে, করবে, দেখবে নয়, ভেবেছে আর তৎক্ষণাৎ করেছে, সদা নিজে নষ্টমোহ, শুধু সম্বন্ধের মোহ নয়, নিজের দেহবোধ আর দেহ অভিমানেরও মোহ নেই - এমন নষ্টমোহ এভাররেডি বাচ্চাদের সদা শ্রীমতে হাতে হাত দেয়, সাথে ওড়ে আর সেইসঙ্গে ব্রহ্মাবাবার সাথে নিজের রাজ্যে আসতে চলেছে, এমন তীব্র পুরুষার্থী, উড়তি কলার বাচ্চাদের বাপদাদার অনেক অনেক আশীর্বাদ আর স্মরণের স্নেহ-সুমন স্বীকৃত হোক এবং বালক তথা মালিক বাচ্চাদের নমস্কার।


বরদান:-

পরিবর্তন শক্তির দ্বারা সকলের ধন্যবাদের যোগ্য হয়ে বিঘ্নজিত ভব


কেউ যদি তোমার অপকার করে তবে তুমি এক সেকেন্ডে অপকার উপকারে পরিবর্তিত ক'রে দাও, কেউ যদি নিজের সংস্কার সম্বন্ধের রূপে পরীক্ষা হয়ে সামনে আসে তবে তোমরা একের স্মৃতিতে এমন আত্মার প্রতিও সহৃদয়তার শ্রেষ্ঠ সংস্কার-স্বভাব ধারণ ক'রে নাও, কেউ যদি দেহধারী দৃষ্টিতে সামনে আসে, তবে তার দৃষ্টিকে আত্মিক দৃষ্টিতে পরিবর্তন ক'রে দাও, এভাবে পরিবর্তন করার যুক্তি-বিচার যদি এসে যায় তবে বিঘ্নজিত হয়ে যাবে। তারপর সম্পর্কে যে সকল আত্মা আসবে তারা তোমাদের ধন্যবাদ জ্ঞাপন করবে।


স্লোগান:-অনুভবের স্বরূপ যদি হয়ে যাও তবে মুখমণ্ডল থেকে সৌভাগ্যবানের দীপ্তি প্রতীয়মান হবে।


অব্যক্ত ইশারা :- একতা আর বিশ্বাসের বিশেষত্বের দ্বারা সফলতা সম্পন্ন হও অনেক দেশ, অনেক ভাষা, অনেক রূপ- রঙ হওয়া সত্ত্বেও সকলের হৃদয়ে যেন একতা দৃশ্যমান হয়। কেননা, তোমরা এক বাবার বাচ্চা। সবাই একই বৃক্ষের ডালপালা, একই শ্রীমতে চলো তোমরা। ভিন্নতার মধ্যে একতা দর্শানো, যা কিছু অপ্রীতিকর তা' প্রীতিকর বানানো, বহুর মধ্যে একতা আনা এটা সবথেকে বড় সেবা। এটাই চমৎকার আর এটাই সাফল্যের আধার।

Saturday, January 10, 2026

11.01.2026 BENGALI MURLI

"সন্তুষ্টমণি হয়ে বিশ্বে সন্তুষ্টির লাইট ছড়িয়ে দাও, সন্তুষ্ট থাকো আর সবাইকে সন্তুষ্ট করো"


আজ বাপদাদা সদা সন্তুষ্ট থাকা নিজের সন্তুষ্টমনিদের দেখছেন। প্রত্যেক সন্তুষ্টমনির দ্যুতিতে চতুর্দিক কত সুন্দর! ঝলমল ঝলমল করছে! প্রত্যেক সন্তুষ্টমনি বাবার কত প্রিয়, প্রত্যেকের প্রিয়, নিজেরও প্রিয়। সন্তুষ্টি সকলের প্রিয়। সন্তুষ্টি সদা সর্বপ্রাপ্তি সম্পন্ন, কেননা যেখানে সন্তুষ্টি থাকে সেখানে অপ্রাপ্ত কোনো বস্তু নেই। সন্তুষ্ট আত্মার মধ্যে সন্তুষ্টির ন্যাচারাল নেচার রয়েছে। সন্তুষ্টতার শক্তি আপনা থেকেই সহজভাবে চতুর্দিকের বায়ুমণ্ডলে ছড়িয়ে যায়। তাদের মুখ, তাদের নয়ন বায়ুমণ্ডলেও সন্তুষ্টির তরঙ্গ ছড়িয়ে দেয়। যেখানে সন্তুষ্টতা আছে সেখানে অন্য বিশেষত্ব আপনা থেকেই এসে যায়। সন্তুষ্টি সঙ্গমে দেওয়া বাবার বিশেষ দান। সন্তুষ্টির স্থিতি পরিস্থিতির উপরে সদা বিজয়ী। পরিস্থিতি বদলাতে থাকে, কিন্তু সন্তুষ্টির শক্তি সদা নিরন্তর প্রগতি প্রাপ্ত করে। যত পরিস্থিতিই আসুক কিন্তু সন্তুষ্টমনির সামনে সব সময় প্রকৃতি এক পাপেট শো এর মতো প্রতীয়মান হয়। মায়া আর প্রকৃতির পাপেট শো। সেইজন্য সন্তুষ্ট আত্মা কখনো বিভ্রান্ত হয় না। পরিস্থিতির শো মনোরঞ্জন হিসেবে অনুভূত হয়। এই মনোরঞ্জন অনুভব করার জন্য নিজের স্থিতির সিট সদা সাক্ষীদ্রষ্টা স্থিতিতে স্থিত থাকে এবং যারা এই স্থিতিতে স্থিত তারা মনোরঞ্জন অনুভব করে। দৃশ্য যতই বদলাক কিন্তু সাক্ষীদ্রষ্টার সিটে স্থিত থাকা সন্তুষ্ট আত্মা সাক্ষী হয়ে সব পরিস্থিতিকে স্ব স্থিতির দ্বারা বদলে দেয়। তো প্রত্যেকে নিজেকে চেক করো আমি সদা সন্তুষ্ট? সদা? সদা, নাকি কখনো কখনো?

    বাপদাদা প্রায়শঃ বাচ্চাদের বলে থাকেন যে সব শক্তির জন্য, খুশির জন্য, ডবল লাইট হয়ে ওড়ার জন্য 'সদা' শব্দ সদা স্মরণে রাখো। কখনো কখনো শব্দ ব্রাহ্মণ জীবনের ডিকশনারিতেই নেই। কেননা, সন্তুষ্টির অর্থই হলো সর্বপ্রাপ্তি। যেখানে সর্বপ্রাপ্তি থাকে সেখানে কখনো কখনো শব্দ থাকবেই না। তো সদা অনুভব করো তোমরা, নাকি পুরুষার্থ করছ? প্রত্যেকে নিজেকে নিজে জিজ্ঞাসা করেছ চেক করেছ কি না! কেননা, তোমরা সবাই বাবার বিশেষ স্নেহী সহযোগী আদরের মিষ্টি মিষ্টি স্ব পরিবর্তক বাচ্চা। তোমরা এ'রকমই তো, তাই না? এরকমই তো তোমরা? বাবা তোমাদের যেভাবে দেখেন তোমরা সেভাবেই নিজেদের অনুভব করো? হাত উঠাও যারা সদা'র, কখনো কখনো নয়, সদা সন্তুষ্ট থাকো। সদা শব্দ স্মরণে আছে তো না! খুব ধীরে ধীরে উঠাচ্ছ! ভালো। খুব ভালো। অল্প অল্প উঠছো আর ভেবে ভেবে উঠছো। কিন্তু বাপদাদা বারবার অ্যাটেনশন দেওয়াচ্ছেন যে এখন সময় আর স্বয়ং উভয়কে দেখ। সময়ের গতি আর নিজের গতি দুটোই চেক করো। পাস উইথ অনার তো হতেই হবে তো না! প্রত্যেকে ভাবো যে আমি বাবার প্রিয় রাজকুমারি বা রাজকুমার। নিজেকে রাজকুমার মনে করো তো না! রোজদিন বাপদাদা স্মরণের স্নেহ-সুমন তোমাদের কী দিয়ে থাকেন? সবচাইতে প্রিয়, তো সবচেয়ে প্রিয় পাত্র কে? সর্বাধিক প্রিয় সেই হয় যে ফলো ফাদার করে আর ফলো করা অনেক অনেক অনেক সহজ হয়, কোনো কঠিন নয়। একটা বিষয়কেই যদি ফলো করো তবে সহজে সব বিষয়ে ফলো হয়েই যাবে। একটা লাইনই আছে যা বাবা প্রতিদিন স্মরণ করিয়ে দেন। সেটা স্মরণে আছে তো না? নিজেকে আত্মা মনে ক'রে আমি-বাবাকে স্মরণ করো। একটাই লাইন, তাই না! তাছাড়া, যে আত্মা নিরন্তর স্মরণ করে, যার বাবার ভাণ্ডার প্রাপ্ত হয়েছে সে সেবা ব্যতীত থাকতেই পারে না। কেননা, অক্ষয় ভাণ্ডার, অগাধ প্রাপ্তি। দাতার বাচ্চা! তারা দেওয়া ছাড়া থাকতে পারে না। আর তোমাদের মেজরিটির সকলের কী টাইটেল প্রাপ্ত হয়েছে? ডবল ফরেনার্স। তো টাইটেলই ডবল। বাপদাদাও তোমাদের সবাইকে দেখে খুশি হন আর অটোমেটিক্যালি সদা গীত গাইতে থাকেন বাহ্! আমার বাচ্চারা বাঃ! এটা ভালো, ভিন্ন ভিন্ন দেশ থেকে এসেছো, কোন বিমানে এসেছো? স্থূলভাবে তো যে কোনো বিমানে এসেছ কিন্তু বাপদাদা কোন বিমান দেখছেন? অতি স্নেহের বিমানে ক'রে নিজের ভালোবাসার ঘরে পৌঁছে গেছো। বাপদাদা সব বাচ্চাকে আজ বিশেষভাবে এই বরদান দিচ্ছেন - হে পরম আদরের প্রিয় বাচ্চারা সদা সন্তুষ্টমনি হয়ে বিশ্বে সন্তুষ্টির লাইট ছড়িয়ে দাও। সন্তুষ্টি থাকো আর সন্তুষ্ট করো। অনেক বাচ্চা বলে সন্তুষ্ট থাকা তো সহজ কিন্তু সন্তুষ্ট করা সেটা একটু কঠিন লাগে। বাপদাদা জানেন, যদি প্রত্যেক আত্মাকে সন্তুষ্ট করতে হয় তবে তার বিধি খুবই সহজে উপায়। যদি কেউ তোমার প্রতি অসন্তুষ্ট হয় কিংবা অসন্তুষ্ট থাকে তবে সেও অসন্তুষ্ট, কিন্তু তার অসন্তুষ্টির প্রভাব তোমার উপরেও কিছু তো পড়ে, তাই না! ব্যর্থ সঙ্কল্প চলে তো না! বাপদাদা শুভ ভাবনা শুভ কামনার যে মন্ত্র দিয়েছেন, যদি সেই মন্ত্রে তোমরা নিজেদের স্মৃতি স্বরূপ বজায় রাখো তবে তোমাদের ব্যর্থ সঙ্কল্প চলবে না। এ' এরকম, এ' ওরকম জানা সত্ত্বেও নিজেকে সদা স্বতন্ত্র, তার ভাইব্রেশন থেকে স্বতন্ত্র এবং বাবার প্রিয় অনুভব করবে। তো তোমাদের স্বাতন্ত্র্য এবং বাবার স্নেহপূর্ণ ভাবের শ্রেষ্ঠ স্থিতির ভাইব্রেশন সেই আত্মার কাছে যদি নাও পৌঁছায় তবে বায়ুমণ্ডলে অবশ্যই ছড়িয়ে যাবে। যদি কোনো পরিবর্তন না হয় আর তোমার ভিতরেও সেই আত্মার প্রভাব পড়তে থাকে ব্যর্থ সঙ্কল্প রূপে তবে বায়ুমণ্ডলে সবার সঙ্কল্প ছড়িয়ে যায়। সেইজন্য তোমরা স্বতন্ত্র হয়ে বাবার প্রিয় হয়ে সেই আত্মারও অকল্যাণের জন্য শুভ ভাবনা শুভ কামনা রাখো। অনেকবার বাচ্চারা বলে যে সে ভুল করেছে তো না, তো আমাকেও ফোর্স এর সাথে বলতে হয়। নিজের স্বভাবও মুখও ফোর্সিং হয়ে যায়। তো সে ভুল করেছে কিন্তু তুমি যে ফোর্স দেখিয়েছো সেটা কি ভুল নয়? সে আরও ভুল করলো, তুমি নিজেই মুখ থেকে ফোর্সের সাথে যা বলেছো যাকে ক্রোধের অংশ বলা হয় তাহলে কি সেটা রাইট? ভুল কী ভুলকে ঠিক করতে পারে? আজকালকার সময় অনুসারে নিজের বোল ফোর্সফুল বানাতে হবে এটা বিশেষভাবে অ্যাটেনশনে রাখো, কেননা, জোরের সাথে বলা কিংবা বিরক্ত হয়ে বলা - সে তো বদলায় না, কিন্তু এটাও দু' নম্বরের বিকারের অংশ। বলা হয়ে থাকে - মুখনিঃসৃত বোল এমনভাবে যেন বের হয় যেন ফুলের বর্ষা হচ্ছে। মিষ্টি বোল, সুস্মিত মুখ, মিষ্টি বৃত্তি, মিষ্টি দৃষ্টি, মিষ্টি সম্বন্ধ-সম্পর্ক - এটাও সার্ভিসের সাধন। সেইজন্য রেজাল্ট দেখ, ধরো, যদি কেউ ভুল করে সেটা ভুল, আরও তোমাদের বোঝানোর লক্ষ্যে অন্য কোনো লক্ষ্য নেই, তোমাদের লক্ষ্য খুব ভালো যে তাকে শিক্ষা দিচ্ছ, বোঝাচ্ছ, কিন্তু রেজাল্টে কী দেখা যায়? তার পরিবর্তন হয়? ভবিষ্যতে আরও এগিয়ে যেতে ভয় পায়। সুতরাং তোমরা যে লক্ষ্য রেখেছ সেটা তো হয় না! সেইজন্য নিজের মন্সা, সঙ্কল্প আর বাণী অর্থাৎ বোল আর সম্বন্ধ-সম্পর্ক সদা মিষ্টি মধুর অর্থাৎ মহান বানাও। কেননা, বর্তমান সময়ে লোকে প্র্যাকটিক্যাল লাইফ দেখতে চায়। যদি বাণী দ্বারা সেবা করো তো বাণী সেবা দ্বারা প্রভাবিত হয়ে কাছে তো আসে, এটা তো লাভ। কিন্তু প্র্যাকটিক্যাল মাধুর্য, মহত্ত্ব, শ্রেষ্ঠ ভাবনা, আচরণ আর মুখ দেখে নিজেও পরিবর্তন হওয়ার জন্য প্রেরণা নিয়ে নেয়। এছাড়া, পরবর্তীতে যেভাবে সময়ের অবস্থা পরিবর্তন হওয়ার আছে, তখন সেই সময় তোমাদের সবার মুখ আর আচরণ দ্বারা বেশি সেবা করতে হবে। সেইজন্য তোমরা নিজেদের চেক করো - আত্মাদের প্রতি তোমাদের শুভ ভাবনা শুভ কামনার বৃত্তি আর দৃষ্টির সংস্কারযুক্ত নেচার ন্যাচারাল?

    বাপদাদা প্রত্যেক বাচ্চাকে মালার দানা রূপে, বিজয়ী মালার দানা রূপে দেখতে চান। তো তোমরাও সবাই নিজেকে মনে করো যে, আমি মালার দানা হতে চলেছি। অনেক বাচ্চা মনে করে যে ১০৮-এর মালায় তো নিমিত্ত হওয়া যে বাচ্চারা আছে তারাই আসবে, কিন্তু বাপদাদা আগেই বলেছেন, ১০৮-এর এই গায়ন ভক্তির মালার কিন্তু যদি তোমরা প্রত্যেকে বিজয়ী দানা হও তবে বাপদাদা মালার ভিতরে অনেক নরী লাগিয়ে দেবেন। বাবার হৃদয়ের মালায় তোমরা প্রত্যেক বিজয়ী বাচ্চার স্থান রয়েছে, এটা বাবার গ্যারান্টি। শুধু নিজেকে মন্সা-বাচা-কর্মণায় এবং আচরণ ও মুখমণ্ডলে বিজয়ী বানাও। পছন্দ হয়েছে, হবে এইরকম? বাপদাদার গ্যারান্টি রয়েছে বিজয় মালার দানা বানাবেন তোমাদের। কে হবে? আচ্ছা, তাহলে বাপদাদা মালার ভিতরে মালা বানাতে শুরু ক'রে দেবেন। ডবল ফরেনারদের পছন্দ হয়েছে তো না! বিজয়ী মালায় নিয়ে আসা বাবার কাজ। কিন্তু তোমাদের কাজ বিজয়ী হওয়া। সহজ তো না! নাকি কঠিন? কঠিন লাগে? যাদের কঠিন লাগে তারা হাত উঠাও। লাগে কঠিন? অল্প অল্প কেউ কেউ আছে। বাপদাদা বলেন - যখন বাপদাদা বলছ তো বাবা

    বলাতে কি বাবার উত্তরাধিকার প্রাপ্ত হবে না! সবাই উত্তরাধিকারের অধিকারী তোমরা! আর কত সহজে বাবা উত্তরাধিকার দিয়েছেন, সেকেন্ডের ব্যাপার! তোমরা মেনেছো, জেনেছো আমার বাবা আর বাবা কী বলেছেন? আমার বাচ্চা। তো বাচ্চা তো আপনা থেকেই উত্তরাধিকারের অধিকারী। বাবা বলো তো না! সবাই একটা শব্দই বলো আমার বাবা। হয় এইরকম? আমার বাবা? এতে হাত তোলো। আমার বাবা, তাহলে আমার উত্তরাধিকার নয়? যখন আমার বাবা আছেন তখন আমার উত্তরাধিকারও বাঁধা হয়ে আছে, তাছাড়া উত্তরাধিকার কী? বাবা সমান হওয়া। বিজয়ী হওয়া। বাপদাদা দেখেছেন যে ফরেনারদের মধ্যে মেজরিটি হাতে হাত দিয়ে চলে। হাতে হাত দিয়ে ঘোরাফেরা এটা ফ্যাশন। তো এখন বাবা বলেন, বাবা শিববাবার হাত কী? এনার হাত তো নেই, তবে শিববাবার হাত ধরেছো তাহলে হাত কোনটা? শ্রীমৎ বাবার হাত। তো স্থূলভাবে যেমন হাতে হাত দিয়ে চলা তোমাদের পছন্দ, তেমনই শ্রীমতের হাতে হাত দিয়ে চলা - এটা কি কঠিন! ব্রহ্মা বাবাকে দেখেছ, প্র্যাকটিক্যাল প্রমাণ দেখেছ যে, প্রতি কদম শ্রীমৎ অনুসারে চলায় সম্পূর্ণ ফরিস্তা ভাবের লক্ষ্যে পৌঁছে গেছেন, তাই না! অব্যক্ত ফরিস্তা হয়ে গেছেন! তো প্রতিটা শ্রীমতে ফলো ফাদার। ওঠা থেকে শুরু ক'রে রাত পর্যন্ত প্রতি কদমের শ্রীমৎ বাপদাদা বলে দিয়েছেন। উঠবে, কীভাবে চলবে, কেমন কর্ম কীভাবে করবে, মনে সঙ্কল্প কী কী করবে এবং সময়কে কীভাবে শ্রেষ্ঠ রূপে যাপন করবে। রাতে ঘুমানো পর্যন্ত শ্রীমত প্রাপ্ত হয়েছে। ভাবারও দরকার নেই - এটা করবো নাকি করবো না! ফলো ব্রহ্মা বাবা। তো বাপদাদার গভীর ভালোবাসা আছে। একটা বাচ্চাও বিজয়ী হয়নি, রাজা হয়নি বাপদাদা এটা দেখতে চান না। প্রত্যেক বাচ্চা রাজা বাচ্চা। স্বরাজ্য অধিকারী। সেইজন্য নিজের স্বরাজ্য ভুলে যেও না। বুঝেছ।

    বাপদাদা অনেকবার ইঙ্গিত দিয়েছেন যে সময়ের আকস্মিকতা এবং জটিলতা এগিয়ে আসছে। সেইজন্য এভাররেডি অশরীরী বোধের অনুভব দরকার। যতই বিজি হও কিন্তু বিজি হয়েও এক সেকেন্ড অশরীরী হওয়ার অভ্যাস এখন থেকে করো। দেখ, তোমরা বলবে আমি খুব বিজি থাকি, মনে করো তোমরা খুব বিজি, যদি তোমাদের পিপাসা পায় কী করবে? জল খাবে তো না! কেননা তোমরা বুঝতে পারো পিপাসা পেয়েছে তো জল খাওয়া আবশ্যক। এইরকম মাঝে মাঝে আত্মিক স্থিতিতে স্থিত অশরীরী থাকার অভ্যাসও অত্যন্ত দরকারি। কেননা, যে সময় আসতে চলেছে তা'তে চতুর্দিকের অস্থিরতায় অটল স্থিতির আবশ্যকতা আছে। তো এখন থেকে বহুকালের অভ্যাস যদি না করবে তবে অতি অস্থিরতার সময় অটল কীভাবে থাকবে! সারাদিনে এক দু' মিনিট বের ক'রে চেক করো - সময় অনুসারে আত্মিক স্থিতি দ্বারা অশরীরী হতে পারো কিনা! চেক করো আর চেঞ্জ করো। শুধু চেক ক'রো না, চেঞ্জও করো। তাহলে এই অভ্যাস বারবার চেক করার ফলে রিভাইজ করলে ন্যাচারাল স্থিতি হয়ে যাবে। বাপদাদার প্রতি স্নেহ আছে, এতে তো সবাই হাত উঠায়! আছেনা স্নেহ! ফুল স্নেহ আছে, ফুল নাকি অপূর্ণ? অপূর্ণ তো নয়, তাই না! তো স্নেহ আছে, তাহলে তোমাদরর প্রতিজ্ঞা কী? কী প্রতিজ্ঞা করেছ? সাথে যাবে? অশরীরী হয়ে সাথে যাবে, নাকি পিছনে পিছনে আসবে? সাথে যাবে? আরও কিছু টাইম তাঁর সাথে বতনে থাকবে, অল্প সময়ের জন্য। তারপরে আবার ব্রহ্মা বাবার সাথে ফার্স্ট জন্মে আসবে। আছে এই প্রতিজ্ঞা? আছে না? বাবা তোমাদের হাত উঠাতে বলছেন না। এভাবে মাথা নাড়াও। হাত উঠাতে উঠাতে ক্লান্ত হয়ে যাবে তো না! যখন সাথে যেতেই হবে তখন পিছনে থাকা উচিৎ নয়, তা' নাহলে বাবা কা'কে সঙ্গে নিয়ে যাবেন? যারা বাবা সমান হবে তাদেরকেই তো নিয়ে যাবেন। বাবারও একলা যাওয়া পছন্দ নয়, বাচ্চাদের সাথে নিয়ে যেতে হবে। তো সাথে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত তো না! কাঁধ নাড়াও। আছ প্রস্তুত? সবাই যাবে? আচ্ছা সবাই যাওয়ার জন্য প্রস্তুত। যখন বাবা যাবেন তখন যাবে তো না! এখন যাবে না, এখন তো ফরেনে ফিরে যেতে হবে, তাই না! বাবা অর্ডার করবেন, নষ্টমোহ স্মৃতিলব্ধ-এর বেল বাজাবেন এবং সাথে চলে যেতে হবে। তো প্রস্তুত আছ তো না! স্নেহের লক্ষণ হলো সাথে যাওয়া। আচ্ছা।

    বাপদাদা প্রত্যেক বাচ্চাকে দূর থেকেও কাছে অনুভব করছেন। যখন সায়েন্সের সাধন দূরত্বকে কাছে অনুভব করাতে পারে, দেখাতে পারে, বলাতে পারে তো বাপদাদাও দূরে ব'সে বাচ্চাদের সবচাইতে কাছে দেখছেন। তোমরা দূরে নেই হৃদয়ে সমাহিত হয়ে আছ। তো বাপদাদা বিশেষ টার্ন অনুযায়ী আগত বাচ্চাদের নিজের হৃদয়ে, নয়নে সমাহিত হওয়া প্রত্যেককে সাথে চলছে, সাথে থাকছে, সাথে রাজত্ব করছে - এই রূপে দেখছেন। তো আজ থেকে সারাদিনে বারবার কোন ড্রিল করবে? এখন এক সেকেন্ডে নিজের শরীরকে দেখতে দেখতেও আত্ম-অভিমানী অশরীরী স্থিতিতে স্বতন্ত্র আর বাবার প্রিয় অনুভব করতে পারো তো না! তো এক সেকেন্ডে অশরীরী ভব! আচ্ছা। (বাপদাদা ড্রিল করিয়েছেন) এভাবেই মাঝে মাঝে সারাদিনে যেভাবেই হোক এক মিনিট বের ক'রে এই অভ্যাস পাক্কা ক'রে চলো। কেননা, বাপদাদা জানেন ভবিষ্যতে সময় অতি হাহাকারের হবে। তোমাদের সবাইকে সকাশ দিতে হবে। আর সকাশ দেওয়াতেই তোমাদের নিজেদের তীব্র পুরুষার্থ হয়ে যাবে। অল্প সময়ে সকাশ দ্বারা সর্বশক্তি দিতে হবে এবং যে এই সংবেদনশীল সময়ে সকাশ দেবে যত সংখ্যককে দেবে - তা' অনেক হোক বা অল্প হোক, ততো সংখ্যকই তার ভক্ত হবে দ্বাপর আর কলিযুগে। তো সঙ্গমে প্রত্যেকে ভক্তও তৈরি করছে, কেননা যে সুখ আর শান্তি তোমরা দিতে পারবে তা' তাদের হৃদয়ে সমাহিত হয়ে যাবে এবং ভক্তিরূপে তোমাদের রিটার্ন করবে। আচ্ছা।

    চতুর্দিকে, বাপদাদার নয়নের আলো বিশ্বের আধার এবং উদ্ধারকারী আত্মারা মাস্টার দুঃখহর্তা সুখ কর্তা বিশ্ব পরিবর্তক বাচ্চাদের হৃদয়ের অনেক অনেক স্নেহ। হৃদয়ের স্মরণের স্নেহ-সুমন আর পদম্ পদম্ বরদান স্বীকার করো। আচ্ছা।

    বরদান:-
    কম্বাইন্ড স্বরূপের স্মৃতি আর পজিশনের দ্বারা কল্প কল্পের অধিকারী ভব

    আমি আর আমার বাবা - এই স্মৃতিতে যদি কম্বাইন্ড থাকো তথা এই শ্রেষ্ঠ পজিশন যেন স্মৃতিতে থাকে আমি আজ ব্রাহ্মণ কাল দেবতা হবো। আমি সেই, সেই আমি এই মন্ত্র যেন সদা স্মরণে থাকে তবে এই নেশা আর খুশিতে পুরানো দুনিয়া সহজে ভুলে যাবে। সদা এই সত্য নেশা থাকবে যে আমিই কল্প কল্পের অধিকারী আত্মা। আমিই ছিলাম, আমিই আছি আর কল্প কল্প আমিই থাকব।

    স্লোগান:-
    নিজেই নিজের টিচার হ'লে সব দুর্বলতা আপনা থেকেই সমাপ্ত হয়ে যাবে।

    অব্যক্ত ইশারা :- এই অব্যক্তি মাসে বন্ধনমুক্ত থেকে জীবনমুক্ত স্থিতির অনুভব করো বাস্তবে বন্ধন কারও ভালো লাগে না। কিন্তু যখন তোমরা পরবশ হও তখন বাঁধা হয়েই যাও। তো চেক করো - তুমি পরবশ আত্মা নাকি স্বতন্ত্র? জীবনমুক্ত হওয়ার পরম আনন্দ তো এখনই। ভবিষ্যতে জীবনবন্ধ আর জীবনমুক্তির কন্ট্রাস্ট থাকবে না। এই সময়ের জীবনমুক্ত হওয়ার অনুভব শ্রেষ্ঠ। জীবনে আছ, কিন্তু মুক্ত, বন্ধন নেই।

 

10.01.2026 BENGALI MURLI

 "মিষ্টি বাচ্চারা - তোমাদের স্মরণের যাত্রা হলো একদমই গুপ্ত, বাচ্চারা তোমরা এখন মুক্তিধামে যাওয়ার জন্য যাত্রা করছো"

প্রশ্নঃ - স্থূললোক নিবাসী থেকে সূক্ষ্মলোক নিবাসী ফরিস্তা হওয়ার পুরুষার্থ কি?

উত্তরঃ   সূক্ষ্মলোক নিবাসী ফরিস্তা হতে গেলে আত্মিক সেবাতে সম্পূর্ণ অস্থি স্বাহা করো। অস্থি স্বাহা না করে ফরিস্তা হতে পারবে না। কারণ ফরিস্তা অস্থি মাংস ব্যাতীত হয়। এই অসীম জগতের সেবাতে দধিচি ঋষির মতো সকল অস্থি নিয়োজিত করতে হবে, তবেই ব্যক্ত থেকে অব্যক্ত হবে।

গীতঃ- ধৈর্য ধর রে মন (ধীরজ ধর মনুবা)...

ওম্ শান্তি ।
এই গানের দ্বারা বাচ্চারা ইশারা পেয়েছে যে ধৈর্য ধরো। বাচ্চারা জানে যে, আমরা শ্রীমৎ অনুযায়ী পুরুষার্থ করছি আর জানে যে আমরা এই গুপ্ত যোগের যাত্রাতে আছি। সেই যাত্রা নিজের সময় মতো সম্পূর্ণ হবে। মুখ্য হলোই এই যাত্রা, যেইটা তোমরা ব্যতীত আর কেউই জানে না। যাত্রাতে অবশ্যই যেতে হবে আর নিয়ে যাওয়ার জন্য পান্ডাও চাই। এর নামই রাখা হয়েছে পান্ডব সেনা। এখন যাত্রাতে চলছে। স্থূল লড়াই এর কোনো ব্যাপার নেই। প্রতিটি ব্যাপার হলো গুপ্ত। যাত্রাও হলো খুবই গুপ্ত। শাস্ত্রতেও আছে- বাবা বলেন আমাকে স্মরণ করো, তবে আমার কাছে এসে পৌঁছোবে। এইটা তো যাত্রা, তাই না ! বাবা সমস্ত শাস্ত্রের সার বলে দেন। প্র্যাকটিক্যালে অ্যাক্টে(প্রয়োগ করান) নিয়ে আসেন। আমাদের অর্থাৎ আত্মাদের যাত্রা করতে হবে আমাদের নির্বাণধামে। ভেবে দেখলে বুঝতে পারবে। এইটা হলো মুক্তিধামের জন্য সত্যিকারের যাত্রা। সকলেই চায় আমি মুক্তিধামে যাবো, এই যাত্রা করার জন্য কেউ মুক্তিধামের রাস্তা বলো। কিন্তু বাবা তো নিজের সময় মতো নিজেই আসেন, যে সময়কে কেউ জানে না। বাবা এসে বলে দেন, তখন বাচ্চাদের বিশ্বাস হয়। এইটা একদম সত্যিকারের যাত্রা, যে যাত্রার কথা প্রচলিত আছে। ভগবান এই যাত্রা শিখিয়েছিলেন। "মন্মনাভব", "মধ্যাজীভব" । এই শব্দ তোমাদেরও অনেক কাজের। কেবল কে বলেছেন - এইটাই ভুল করে দিয়েছে। বলে যে দেহ সহ দেহের সম্বন্ধকে ভুলে যাও। এঁনারও (ব্রহ্মা বাবার) দেহ আছে। এঁনাকেও বোঝানোর জন্য আর কেউ আছেন, যার নিজের দেহ নেই- সেই বাবা হলেন বিচিত্র, ওনার কোনো চিত্র নেই, আর সকলের তো চিত্র আছে। সমগ্র দুনিয়া হলো চিত্রশালা। বিচিত্র আর চিত্র অর্থাৎ জীব আর আত্মার এই মনুষ্য স্বরূপ তৈরী হয়ে আছে। তবে সেই বাবা হলেন বিচিত্র। বোঝান যে আমাকে এই চিত্রের আধার নিতে হয়। শাস্ত্রে ভগবান বরাবর বলেছেন - মহাভারত লড়াইও যখন শুরু হয়েছিলো। রাজযোগ শেখাতেন, অবশ্যই রাজত্ব স্থাপন হয়েছিলো। এখন তো রাজত্ব নেই। রাজযোগ ভগবান শিখিয়েছিলেন, নূতন দুনিয়ার জন্য, কারণ বিনাশ সামনে ছিলো। বোঝানো হয় এইরকম হয়েছিলো যখন স্বর্গ স্থাপন করা হয়েছিলো। সেই লক্ষ্মী-নারায়ণের রাজ্য স্থাপন হয়েছিলো। এখন তোমাদের বুদ্ধিতে আছে - সত্যযুগ ছিলো, এখন হলো কলিযুগ। বাবা আবার সেই কথাই বোঝান। কেউ তো এমন বলতে পারবে না যে, আমি পরমধাম থেকে এসেছি তোমাদের ফিরিয়ে নিয়ে যেতে। পরমপিতা পরমাত্মাই বলতে পারেন ব্রহ্মার দ্বারা, আর কারোর দ্বারাই এইটা ব্যক্ত হবে না। সূক্ষ্মলোকে থাকেনই ব্রহ্মা-বিষ্ণু-শঙ্কর। ব্রহ্মার ক্ষেত্রেও বোঝানো হয়েছে যে তিনি হলেন অব্যক্ত ব্রহ্মা আর ইনি ব্যক্ত। তোমরা এখন ফরিস্তা হচ্ছো। ফরিস্তা স্থূললোকে থাকে না। ফরিস্তার অস্থি-মাংস থাকে না। এখানে এই আত্মীক সেবাতে অস্থি ইত্যাদি সব নিঃশেষ করে দেয়, তারপর ফরিস্তা হয়ে যায়। এখন তো অস্থি আছে, তাই না ! এটাও লেখা হয়েছে - নিজের অস্থি সমূহও সার্ভিসে দিয়ে দাও। যদি নিজের অস্থি সমূহ সম্পূর্ণ সমর্পণ করে, তখন স্থূললোক থেকে সূক্ষ্ম লোক নিবাসী হয়। এখানে আমরা অস্থি সমর্পণ করে সূক্ষ্ম হয়ে যাই। এই সার্ভিসে সবকিছু স্বাহাঃ করতে হবে। স্মরণে থাকতে থাকতে আমরা ফরিস্তা হয়ে যাবো। এইটাও গাওয়া হয়েছে - শিকারের মৃত্যুতে শিকারীর আনন্দ (মিরুয়া মৌত মলুকা শিকার), মলুক ফরিস্তাকে বলা হয়। তোমরা মানুষ থেকে ফরিস্তা হও। তোমাদের দেবতা বলা যাবে না। এখানে তো তোমাদের শরীর আছে ! সূক্ষ্মলোকের বর্ণনা এখন করা হয়। যোগে থেকে আবার ফরিস্তা হয়ে যায়। শেষকালে তোমরা ফরিস্তা হয়ে যাবে। তোমাদের সব সাক্ষাৎকার হবে, আর খুশী হবে। মানুষ তো সব কালের(মৃত্যুর) শিকার হয়ে যাবে। তোমাদের মধ্যে যারা মহাবীর হবে তারা অটল থাকবে। এছাড়া কি কি হতে থাকবে! বিনাশের সিন্ সব, তাই না ! অর্জুনের বিনাশের সাক্ষাৎকার হয়েছিলো। এ কোনো একজন অর্জুনের কথা নয়। বাচ্চারা, তোমাদের বিনাশ আর স্থাপনার সাক্ষাৎকার হয়। প্রথমদিকে বাবারও বিনাশের সাক্ষাৎকার হয়েছিলো। সেই সময় জ্ঞান তো কিছুই ছিলো না। দেখতেন সৃষ্টির বিনাশ হচ্ছে। তারপর চতুর্ভুজের সাক্ষাৎকার হয়েছিলো। বুঝতে পারে এইটা তো ভালো। বিনাশের পরে আমরা বিশ্বের মালিক হই, তখন খুশী আসে। এখন এই দুনিয়া জানে না যে বিনাশ তো ভালো। পীস এর (শান্তির) জন্য কতো চেষ্টা করে, কিন্তু শেষকালে বিনাশ তো হতেই হবে। মানুষ স্মরণ করে - পতিত পাবন এসো, তো বাবা আসেন অবশ্যই, এসে পবিত্র দুনিয়া স্থাপন করবেন, যেখানে আমরা রাজত্ব করবো। এটা তো ভালো বেশ ! পতিত-পাবনকে স্মরণ করবো কেন? কারণ এখানে হল দুঃখ । পবিত্র দুনিয়াতে দেবতারা থাকে, পতিত দুনিয়াতে তো দেবতাদের পা পড়তে পারে না। তাই তো অবশ্যই পতিত দুনিয়ার বিনাশ হওয়া উচিত। গাওয়াও হয়েছে যে মহাবিনাশ ঘটেছে। মহাবিনাশের পর কি ঘটে? এক ধর্মের স্থাপনা, তো এইরকমই তো হবে। এইখান থেকে রাজযোগ শিখবে। বিনাশ হবে, এছাড়া ভারতে কে বাঁচবে? যারা রাজযোগ শিখছে, জ্ঞান প্রদান করছে তারাই বাঁচবে। বিনাশ তো সবারই হবে, এর জন্য ভয় পাওয়ার ব্যাপার নেই। পতিত-পাবনকে ডাকে যখন আর তিনি এলে তখন তো খুশী হওয়া উচিত, তাইনা ! বাবা বলেন বিকারে যেও না । এই বিকারের উপর বিজয় প্রাপ্ত করো বা দান করো, তবে গ্রহণ - মুক্তি পাবে। ভারতের গ্রহণ অবশ্যই মুক্তি পায়। কুৎসিত থেকে সুন্দর হতে হবে। সত্যযুগে পবিত্র দেবতারা ছিলো, তারা অবশ্যই এখানে থাকবে। তোমরা জানো যে আমরা শ্রীমৎ অনুযায়ী নির্বিকারী হচ্ছি। ভগবানুবাচ, এটা হলো গুপ্ত। শ্রীমৎ অনুযায়ী চলে তোমরা বাদশাহী প্রাপ্ত করো। বাবা বলেন, তোমাদের নর থেকে নারায়ণ হতে হবে। সেকেন্ডে রাজত্ব প্রাপ্ত হতে পারে। শুরুতে কন্যারা ৪ থেকে ৫ দিনও বৈকুন্ঠতে গিয়ে থাকতো। শিববাবা এসে বাচ্চাদেরকে বৈকুন্ঠেরও সাক্ষাৎকার করাতেন। দেবতারা আসতেন - কতো মান - সম্মানের সাথে। তাই বাচ্চাদের মনের মধ্যে থাকতো বরাবর গুপ্ত বেশে আসেন যে বাবা, তিনি আমাদের বোঝাচ্ছেন। ব্রহ্মার দেহে আসেন। ব্রহ্মার দেহ তো এখানে দরকার, তাই না! প্রজাপিতা ব্রহ্মা দ্বারা স্থাপনা । বাবা বুঝিয়েছেন - যে কেউই আসুক না কেন তাকে জিজ্ঞাসা করো - কার কাছে এসেছো? বি. কে র কাছে। আচ্ছা, ব্রহ্মার নাম কখনো শুনছো? প্রজাপিতা তিনি ! আমরা সবাই এসে ওনার হয়েছি। অবশ্যই পূর্বে হয়েছিলাম। ব্রহ্মা দ্বারা স্থাপনা তো অবশ্যই সাথে ব্রাহ্মণও চাই। বাবা ব্রহ্মার দ্বারা কাকে বোঝান? শূদ্রকে তো বোঝাবেন না। এ হলো ব্রহ্মা মুখ বংশাবলী ব্রাহ্মণ, শিববাবা ব্রহ্মার দ্বারা আমাদের আপন করেছেন। ব্রহ্মাকুমার-কুমারীরা সংখ্যায় অনেক, কতো সেন্টার আছে। সব জায়গায় ব্রহ্মাকুমারীরা পড়ান। এখানে আমাদের পিতামহের উত্তরাধিকার প্রাপ্ত হয়। ভগবানুবাচ - তোমাদের রাজযোগ শেখাচ্ছি। তিনি নিরাকার হওয়ার কারণে এনার শরীরের আধার নিয়ে আমাদের নলেজ শোনান। সবাই তো প্রজাপিতা, তাই না ! আমরা হলাম প্রজাপিতা ব্রহ্মাকুমার-কুমারী। শিববাবা হলেন পিতামহ। উনি আমাদেরকে অ্যাডপ্ট করেছেন। তোমরা জানো যে, আমরা দাদার কাছে বা পিতামহের কাছে পড়ছি ব্রহ্মা দ্বারা। এই লক্ষ্মী-নারায়ণ দুইজন হলেন স্বর্গের মালিক ! ভগবান তো হলেন- একই উচ্চতমের চেয়েও উচ্চ নিরাকারী। বাচ্চাদের ধারণা খুবই ভালো হওয়া উচিত। সর্বপ্রথমে বুঝিয়ে দাও বাবা হলেন দু'জন, ভক্তি মার্গে। স্বর্গে হলো এক বাবা। পারলৌকিক বাপ দ্বারা বাদশাহী প্রাপ্ত হয়েছে, এরপর (স্বর্গে শিববাবাকে) স্মরণ কেন করবে। দুঃখই নেই যে স্মরণ করতে হবে। কীর্তন করে, দুঃখ হরণকারী, সুখ প্রদানকারী। এ' সব তো এখনকার কথা। যা কিছু পাস্ট হয়ে যায় তার গায়ন হয়। মহিমা হলো একেরই। সেই এক বাবা এসেই পতিতকে পবিত্র করেন। মানুষ কি আর তা বোঝে! তারা তো পাস্টের কথা বসে লেখে । তোমরা এখন বুঝতে পারো- বরাবর বাবা রাজযোগ শিখিয়েছেন, যার জন্য বাদশাহী প্রাপ্ত হয়েছে। ৮৪ জন্মের চক্র আবর্তন করেছে। এখন আমরা আবার অধ্যয়ণ করছি, আবার ২১ জন্ম রাজত্ব করবো। এইরকম দেবতা হবো। এইরকম পূর্ব কল্পে হয়েছিলাম। তোমরা এখন বুঝেছো যে, আমরা পুরো ৮৪ জন্মের চক্র আবর্তন করেছি। এখন আবার সত্যযুগ- ত্রেতাতে যাবো। তাই তো বাবা জিজ্ঞাসা করেন - পূর্বে কতবার মিলিত হয়েছো? এইটা প্র্যাকটিক্যাল কথা যে ! নতুন যে, সেও যদি শোনে তো বুঝবে ৮৪ জন্মের চক্র তো অবশ্যই আছে। যারা সর্বপ্রথম থাকবে তাদেরই চক্র সম্পূর্ণ হবে। যুক্তিবুদ্ধির সাথে কাজ করতে হবে। এই বাড়ীতে, এই ড্রেসে বাবা আমি আপনার সাথে অনেকবার মিলিত হয়েছি আর মিলিত হবোও। পতিত থেকে পবিত্র আর পবিত্র থেকে পতিত হয়েই এসেছি। কোনো জিনিস সর্বদা নতুনই থাকবে, এইটা তো হতে পারে না। অবশ্যই পুরানো হবে। প্রতিটি জিনিস সতো-রজো-তমোতে আসে। বাচ্চারা, এখন তোমরা জানো যে নূতন দুনিয়া আসছে। সেইটাকে স্বর্গ বলা হয়। এইটা হলো নরক। সেইটা হলো পবিত্র দুনিয়া। অনেক ডাকে - হে পতিত পাবন এসে আমাদের পবিত্র করো, কারণ প্রচন্ড দুঃখ বেড়ে যাচ্ছে । কিন্তু এইটা বুঝতে পারে না যে আমরাই পূজ্য ছিলাম আবার পূজারী হয়েছি। অনেক ধর্ম হয়ে চলেছে। বরাবর পতিত থেকে পবিত্র, পবিত্র থেকে পতিত হয়ে এসেছো। ভারতের উপরই খেলা। বাচ্চারা, তোমাদের এখন স্মৃতি জেগেছে, এখন তোমরা শিবজয়ন্তী পালন করো। বাকি আর কেউ তো শিবকে জানে না। আমরা জানি। বরাবর আমাদের রাজযোগ শেখান। ব্রহ্মা দ্বারা স্বর্গের স্থাপনা হচ্ছে। অবশ্যই যারা যোগ শিখবে, স্থাপনা করবে, তারাই আবার রাজ্য - ভাগ্য প্রাপ্ত করবে। আমরা বলে থাকি বরাবর আমরা প্রতি কল্পে বাবার কাছে রাজযোগ শিখেছি। বাবা বুঝিয়েছেন - এখন এই ৮৪ জন্মের চক্র সম্পূর্ণ হচ্ছে । আবার নূতন চক্র আবর্তিত করতে হবে। চক্রকে তো জানা উচিত ! যদি এই চিত্র নাও থাকে তবুও তোমরা বোঝাতে পারো, এইটা তো একদমই সহজ ব্যাপার। বরাবর ভারত স্বর্গ ছিলো, এখন হলো নরক। শুধু তারাই মনে করে কলিযুগ হলো একদমই বাচ্চা। তোমরা বলো - এটা তো কলিযুগের শেষ। বাবা বোঝান আমি আসি পতিত দুনিয়াকে পবিত্র করে তুলতে। তোমরা জানো যে, আমাদের পবিত্র দুনিয়াতে যেতে হবে। তোমরা মুক্তি, জীবনমুক্তি, শান্তিধাম, সুখধাম আর দুঃখধামকেও বুঝতে পারো। কিন্তু ভাগ্যে না থাকলে তখন আবার এইটা খেয়াল করে না যে কেন না আমরা সুখধাম যাবো। বরাবর আমাদের অর্থাৎ আত্মাদের গৃহ হলো সেই শান্তিধাম। সেখানে আত্মাদের অরগ্যান্স না থাকার জন্য কথা বলে না। সেখানে সকলেরই শান্তি প্রাপ্ত হয়। সত্যযুগে হলো এক ধর্ম। এইটা হলো অনাদি, অবিনাশী ওয়ার্ল্ড ড্রামা যার চক্র আবর্তিত হতেই থাকে। আত্মার কখনো বিনাশ হয় না। শান্তি ধামে কিছু সময় থাকতেই হয়। এইটা খুবই বোঝার ব্যাপার। কলিযুগ হলো দুঃখধাম। কতো প্রকার ধর্ম এইখানে, কতো হাঙ্গামা হতে থাকে। যখন একদম দুঃখধাম হয় তখনই বাবা আসেন। দুঃখ ধামের পরে সম্পূর্ণ (ফুল) সুখধাম। শান্তিধাম থেকে আমরা আসি সুখধামে, আবার দুঃখধাম তৈরী হয়। সত্যযুগে সম্পূর্ণ নির্বিকারী, এখানে হলো সম্পূর্ণ বিকারী। এইটা বোঝানো তো খুবই সহজ। সাহস থাকা চাই। যে কোনো জায়গায় গিয়ে বোঝাও। এইটাও লেখা আছে- হনুমান সৎসঙ্গে গিয়ে পিছন দিকে জুতোর উপর বসতো। সুতরাং যে মহাবীর হবে সে যে কোনো জায়গায় গিয়েই যুক্তির সাথে শুনবে, দেখবে কি বলে। তোমরা ড্রেস পরিবর্তন করে যে কোনো জায়গায় যেতে পারো, ওদের কল্যাণ করতে। বাবাও তো গুপ্ত বেশে তোমাদের কল্যাণ করেন, তাই না ! যে কোনো জায়গায় মন্দিরে নিমন্ত্রণ পেলে গিয়ে বোঝাতে হবে। প্রত্যেক দিন তোমরা ক্রমশঃ সুবুদ্ধিসম্পন্ন হয়ে উঠছো। সবাইকে বাবার পরিচয় দিতেই হবে, ট্রায়াল করতে হয় । এইটা তো বলাও হয়েছে, শেষের দিকে সন্ন্যাসীরা, রাজারা (বড় বড় মাপের মানুষ) আসবে। রাজা জনকের সেকেন্ডে জীবনমুক্তি প্রাপ্ত হয়েছিলো। সে গিয়ে আবার ত্রেতাতে অনুজনক হয়েছিলো। আচ্ছা!

মিষ্টি-মিষ্টি হারানিধি বাচ্চাদের প্রতি মাতা-পিতা বাপদাদার স্মরণের স্নেহ-সুমন আর সুপ্রভাত। আত্মাদের পিতা তাঁর আত্মা রূপী বাচ্চাদেরকে জানাচ্ছেন নমস্কার।

ধারণার জন্য মুখ্য সার :-
১ ) অন্তিম বিনাশের সীন দেখার জন্য নিজের স্থিতি মহাবীরের মতো নির্ভয়, অটল বানাতে হবে। গুপ্ত স্মরণের যাত্রাতে থাকতে হবে।

২ ) অব্যক্ত বতনবাসী ফরিস্তা হওয়ার জন্য অসীম জগতের সেবাতে দধীচি ঋষির মতো নিজের সমস্ত অস্থি স্বাহাঃ করতে হবে।

বরদান:-
প্রথম শ্রীমতের উপরে বিশেষ অ্যাটেনশান দিয়ে ফাউন্ডেশনকে মজবুত বানানো সহজযোগী ভব

বাপদাদার নম্বরওয়ান শ্রীমৎ হলো - নিজেকে আত্মা মনে করে বাবাকে স্মরণ করো। যদি আত্মার পরিবর্তে নিজেকে সাধারণ শরীরধারী মনে করো তাহলে স্মরণ টিকতে পারবে না। এমনিতেও যখন কোনও দুটো জিনিসকে জোড়া হয় তখন প্রথমে দুটোকে সমান বানাতে হয়। এইরকমই আত্মা মনে করে স্মরণ করো তো সহজ হয়ে যাবে। এই শ্রীমতই হলো মুখ্য ফাউন্ডেশন। এই পয়েন্টের উপর বারংবার অ্যাটেনশান দাও তাহলে সহজযোগী হয়ে যাবে।

স্লোগান:-
কর্ম হলো আত্মার দর্শন করানোর দর্পণ, সেইজন্য কর্মের দ্বারা শক্তি স্বরূপকে প্রত্যক্ষ করো।

অব্যক্ত ঈশারা :- এই অব্যক্তিমাসে বন্ধনমুক্ত থেকে জীবন্মুক্ত স্থিতির অনুভব করো

ব্রাহ্মণ তথা ফরিস্তা অর্থাৎ জীবন্মুক্ত, জীবনবন্ধ নয়। না দেহের বন্ধন, না দেহের সম্বন্ধের বন্ধন, না দেহের পদার্থের বন্ধন। যদি নিজের দেহের বন্ধন সমাপ্ত করে থাকো তাহলে দেহের সম্বন্ধ আর পদার্থের বন্ধন নিজে থেকেই সমাপ্ত হয়ে যাবে। এমন নয় যে চেষ্টা করবে। চেষ্টা শব্দই প্রমাণ করে যে পুরানোর দুনিয়ার প্রতি আকর্ষণ আছে এইজন্য চেষ্টা শব্দকে সমাপ্ত করো। দেহভানকে ত্যাগ করো।

https://bkrajyogpathshala.blogspot.com/

01-04-2026 Bengali Murli

 মিষ্টি বাচ্চারা - বাচ্চারা, বাবা যা, বাবা ঠিক যেমন, তোমরা বাচ্চারাও তাঁকে নম্বর ক্রমানুসারেই চিনেছো, যদি সকলেই তাঁকে চিনে গেলে তবে তো অত্যন...